ক আর ঙ দুজন দেশের যে সব কথা মুখে শোনালেন, হাতের পত্রিকা খুলে পড়ে শোনালেন আমাকে, তা হল, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যে যৌক্তিক, তা বলে বেড়াচ্ছেন চারদিকে। সরকারি আদেশেই বলছেন সব। যেসব পত্রিকায় আমার খবর ছাপা হচ্ছে, সবকটি পত্রিকায় চিঠি লিখে জানাচ্ছেন যে বাংলাদেশ সরকার যা করেছেন ঠিক করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে আমাকে নিয়ে লেখা একটি সম্পাদকীয় নিয়ে তিনি আপত্তি করছেন। অন্যের ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে আমি নাকি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ আইন অমান্য করেছি। একশ বছরের বেশি আগে ব্রিটিশ সরকার ২৯৫ ক নামক আইনটি চালু করেন। আইনটি আমার নয় তার নয়, একেবারে খোদ ব্রিটিশের আইন। সুতরাং এই আইন সভ্য হতে বাধ্য!
একবারও কি হুমায়ুন কবীর লোকটি ভেবেছেন যে একশ বছর আগের পুরোনো জিনিস সবসময় নতুন জীবনে আর জগতে খাটে না, সময় গেলে পুরোনো মূল্যবোধ, পুরোনো আইন, পুরোনো মানসিকতার সংস্কার করতে হয়! একবার কি খবর নিয়ে দেখতে চেয়েছেন, ইংরেজরা নিজেরা এই আইনটি আর ব্যবহার করে কি না! গণতন্ত্র কাকে বলে তাও শিখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব তসলিমার মৌলিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ আর অসন্তোষের ব্যাপারে সাড়া দেওয়া।
এদিকে সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ বিশাল এক সমাবেশের আয়োজন করেছে, ওতে যোগ দেওয়ার জন্য আর ২৯ জুলাইএর লং মার্চ সফল করার জন্য জনগণকে আহবান জানিয়ে বায়তুল মোকাররমের খতিব, শায়খুল হাদিস, চরমোনাইএর পীর, ব্যারিস্টার কোরবান আলী, আনোয়ার জাহিদ সকলে মিলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন, বিবৃতিটি এরকম। জ্ঞ৩০ জুনের হরতালের অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বারো কোটি মুসলমান এই রায় ঘোষণা করেছে যে বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র এবং এই রাষ্ট্রের কোনও নাগরিকের কোরান অবমাননা ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের লিপ্ত হওয়ার কোনও অধিকার নেই। এই হরতালের মাধ্যমে কোরান অবমাননাকারী নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তির দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। বারো কোটি মানুষ এই রায় দিয়েছে যে ধর্মদ্রোহীরাই রাষ্ট্রদ্রোহী। বাংলাদেশের মানুষ এই দাবিকে সমর্থন করেছে যে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কোনও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ভাল এবং জনহিতকর কাজের বিরোধী নয়, কিন্তু এনজিও নামধারী কিছু প্রতিষ্ঠান দেশের সংবিধান ও ধর্ম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। আমাদের জনগণের দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে তারা মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করা ও ইসলাম বিরোধী এবং সামাজিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টির অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ৩০ জুনের হরতাল পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ এই তথাকথিত এনজিওদের অপতৎপরতা বন্ধের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে ক্ষমতাসীন সরকার বারো কোটি মানুষের এই রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তি, এনজিওর অপতৎপরতা বন্ধ, ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের কোনও উদ্যোগই গ্রহণ করেননি। বরং আন্দোলনকারী নেতা ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। গণধিকৃত তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও তাকে আজ পর্যন্ত সরকার গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ সরকারের নাকের ডগায় বসে তসলিমা নাসরিন তার ধর্মদ্রোহী ও রাষ্ট্রদ্রোহী অপকর্ম সমানে চালিয়ে যাচ্ছে। আর সরকারের এই নতজানু নীতির সুযোগে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব বিরোধী ইসলামের শত্রু বৈদেশিক শক্তি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে চলেছে। তসলিমা নাসরিনকে কেন্দ্র করে মার্কিন সরকার ও পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশ অত্যন্ত আপত্তিকর ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ভয়েস অব আমেরিকাসহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তা আমাদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মারাত্মকভাবে বৈরীমূলক।
১৩টি ইসলামি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ তাই ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মার্কিন দূতাবাসের দিকে এক বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানের আয়োজন করেছে। দল মত নির্বিশেষে সকল নাগরিককে আমরা এই সমাবেশ ও মিছিল সফল করে তোলার আহবান জানাচ্ছি।’
তৌহিদী জনতা যে কোনও মূল্যে লং মার্চ সফল করবে। ঝ বললেন ইনকিলাব পত্রিকাটি হাতে নিয়ে।
লং মার্চ যদি সত্যি সত্যিই সফল হয়ে যায়!
আশঙ্কাটি আমার গা থেকে নেমে যেতে থাকে ক, ঙ, ঝর দিকে। আশঙ্কাটি ক্ষণকালের জন্য আমাদের স্তব্ধ করে রাখে।
ঝ বলে যাচ্ছেন, প্রতিরোধ মোর্চা থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে কোরানের ইজ্জত রক্ষার জন্য সারা দেশে যে নজিরবিহীন হরতাল পালন হয়েছে, সুতরাং আগামী ২৯ জুলাই কোরান দিবস পালন হবে, সারাদেশ থেকে ঢাকার দিকে লং মার্চ কর্মসূচীতে তার চেয়ে অনেক বেশি লোকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তৌহিদী জনতার এই ঈমানী জবাবকে কোনও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্তব্ধ করা যাবে না। ইসলাম বিরোধী নাস্তিক মুরতাদরা ইসলামের পুনরুত্থান দেখে শঙ্কিত হয়ে উঠেছে। শায়খুল হাদিসের দল দেখছি দেশের বিভিন্ন শহরে সফর করছে আর ভাষণ দিচ্ছে।
