এছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য আজ দেশব্যাপী ফতোয়াবাজ প্রতিরোধ পালন করা ঘোষণা দিয়েছে। এ তো গেল ঘরের ঘটনা। ঘরে বসে ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা। ঘরের বাইরে কি ঘটছে? রাস্তায় কি ঘটছে? বড় বড় মাঠে ময়দানে ঘটছে কি?
সিলেটে ২৯ জুলাইএর লং মার্চ সফল করার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারী ময়দানে ভাষণ দেন ইসলাম ও রাষ্ট্রদোহী প্রতিরোধ মোর্চার মহাসচিব মাওলানা ফজলুল হক আমিনী। বিশাল ময়দান, বিশাল জমায়েত, বিশাল ভাষণ। সিলেট ঘুরে এসে বিবৃতি দিয়েছেন, সিলেটসহ সারা দেশে যে গণজাগরণ দেখে এসেছি তাতে প্রতীয়মান হয় যে আগামী ২৯ জুলাই পবিত্র কোরান দিবসে ঢাকায় তৌহিদী জনতার ঢল নামবে। সারা দেশ থেকে লাখ লাখ জনতা লং মার্চ করে ঢাকায় আসার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তৌহিদী জনতার ঈমানের জোয়ারে সেদিন নাস্তিক মুরতাদ চক্রের দাফন করা হবে। ৩০ জুন সফল হরতাল পালিত হওয়ার পর প্রায় ৯ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল, অথচ সরকার আমাদের একটি দাবিও পূরণ করেনি। এনজিওদের পক্ষে সরকারের কোন কোন মন্ত্রীর সমর্থন এবং আলেম উলেমাদের ঢালাওভাবে ফতোয়াবাজ আখ্যা দানে জনমনে আরও পরম ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকারের এহেন ভূমিকা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনবে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু আমাদের নিয়মতান্ত্রিকতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে।
চট্টগ্রামে নেছারিয়া আলিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে শাহাদাতে কারবালা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে আজকে এক শ্রেণীর মুরতাদ নাস্তিক ধর্মদ্রোহী দেশ হতে ঈমানী আওয়াজকে বন্ধ করার জন্য এবং দেশকে একটি নাস্তিক্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তসলিমার মত বেহায়া, নাস্তিক মহিলাকে এ কাজে লেলিয়ে দিয়ে কোরান হাদিস এবং দ্বীনি ধ্যান ধারণার ওপর নির্লজ্জ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শাহাদাতে কারবালার দীপ্ত শপথ নিয়ে সকল ধর্মদ্রোহী মুরতাদদের প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ১২ কোটি ইসলামপ্রিয় মানুষ দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সকল ইসলামদ্রোহীদের বিষদাঁত ভেঙে দেবেই।
আরও খবর। ঢাকা ভার্সিটির ২৬৫ জন ছাত্র ছাত্রীর বিবৃতি। তসলিমা নাসরিনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করুন। আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির ছাত্র শাখার পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৫ জন ছাত্র ছাত্রী এক বিবৃতিতে স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও জাতীয় উজ্জীবন নিশ্চিত করার জন্য দেশে বিদেশে নিন্দিত, চরম সাম্প্রদায়িক, আমাদের এই রাষ্ট্র ও তার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের শত্রু, ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপি, আনন্দবাজারীদের সেবাদাসী তসলিমা নাসরিনকে ধর্ম এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন এ লেখিকা দেশে বিদেশে মুদ্রিত তার লেখায়, সাক্ষাতকারে আলাপ আলোচনায় যে আন্তর্জাতিক সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিবৃতিতে তিন দিনের মধ্যে তসলিমাকে গ্রেফতার ও তার সমর্থক পত্রিকাগুলোকেও নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে বলা হয়, আমরা অবিলম্বে উক্ত লেখিকার সমস্ত রচনার মুদ্রণ, পুনঃমুদ্রণ ও অনুবাদ দেশে বিদেশে নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। তসলিমার মত রাষ্ট্রদ্রোহী, সমাজদ্রোহী, ধর্ম ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বদ্রোহীকে প্রতিহত করে স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও জাতীয় উজ্জীবন অব্যাহত রাখার সংগ্রামে এগিয়ে আসতে সচেতন ও দেশপ্রেমিক সকল ছাত্রছাত্রী ভাই বোনসহ সমগ্র জাতির প্রতিও আহবান জানাচ্ছি। বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে আছেন, মোঃ মনিরুজ্জামান, মোঃ আবদুল লতিফ, মোঃ ইউছুফ আলী, মোঃ ছফিউল্লাহ, মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ সেলিম রেজা, মোঃ ফজলুর রহমান, নার্গিস আখতার প্রমুখ।
ঢাকায় যুব কমাণ্ডের বিশাল সভায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের গণরায়কে পাশ কাটানোর পদক্ষেপ দেশবাসী মানবে না। ওদিকে দিনাজপুরে মুরতাদদের ফাঁসির দাবিতে জামাতে ইসলামীর ডাকে বিক্ষোভ দিবস পালন হয়। পবিত্র কোরান অবমাননাকারী ধর্মদ্রোহী মুরতাদদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সকালে প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে, পরে জেলা প্রশাসককে ৮ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি দেয় জামাতিরা।
এ সময় কী ঘটছে আমার জীবনে, কী হচ্ছে দেশে, তা পত্রিকার সংবাদগুলোই দেখিয়ে যাচ্ছে। আমি তো সারাদিন অন্ধকার ঘরে গা ঢেকে মাথা ঢেকে বসেই আছি। বসে থাকতে থাকতে পিঠে খিল ধরে যায়, পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরে। আমার তো আর বিশেষ কোনও খবর নেই। হঠাৎ হঠাৎ আমার বসে থাকার স্থবিরতায় কেউ কেউ তরঙ্গ তুলে উদয় হন। জ উদয় হলেন দুপুরবেলা। দেশের অবস্থা সম্পর্কে জর সঙ্গে খানিকক্ষণ কথা হওয়ার পর যখন চুপচাপ বসে আছি দুজনই একটি হতাশার দিকে তাকিয়ে, জ চুলের কথা তোলেন। ঙই নাকি জকে দিয়ে চুল কিনিয়েছেন। চুল! এই চুলটি কিছুতেই আসলে আমাকে স্বস্তি দিচ্ছে না। ভূত হয়ে দিনরাতই ভয় দেখাচ্ছে। গভীর রাতে আচমকা ঘুম ভেঙে যায় চুলের ভয়ে। চুলের প্রসঙ্গ আমাকে এত অস্বস্তি দিতে থাকে যে আমি প্রসঙ্গ পাল্টে দেশে কি হচ্ছে না হচ্ছের দিকে নজর দিই। দেশের কথা বলতে বলতেই সুফিয়া কামালের প্রসঙ্গ ওঠে। জ সুফিয়া কামালের প্রশংসা করছেন কারণ এই এত বয়স হওয়ার পরও তিনি সভায় যাচ্ছেন, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহবান জানাচ্ছেন। সুফিয়া কামালকে তিনি খালাম্মা বলে স−ম্বাধন করেন। শুধু জ নন, সুফিয়া কামালের বয়সে ছোট সবাই তাঁকে খালাম্মা বলে, তিনি হয়ে গেছেন জাতীয় খালাম্মা। জাহানারা ইমামকে ডাকা হয় আম্মা বলে। আম্মা আর খালাম্মা ডাক আমার মুখ দিয়ে কখনও বেরোয়নি। আমি পারি না হঠাৎ কাউকে আম্মা বলে ডাকতে। ওসব ডাকলেই যে সম্মান দেখানো হয়, না ডাকলে হয় না, তা আমি মানি না। সুফিয়া কামালকে সুফিয়া কামাল ডেকেই আমি যথেষ্ট সম্মান করতে পারি। তিনি জাতীয় সমন্বয় কমিটির এক সভায় মানুষকে বলেছেন, আল্লাহর নাম নিয়ে জেগে উঠুন, মৌলবাদীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করুন। সুফিয়া কামাল নিজে খুব ধর্মবিশ্বাসী মানুষ, তিনি তাঁর বিশ্বাস থেকেই মানুষকে আল্লাহর নাম নিয়ে জেগে উঠতে বলেছেন। আল্লাহর নাম নিয়ে মৌলবাদীরা জাগে, এখন আল্লাহর নাম নিয়ে অমৌলবাদীদেরও জাগতে হবে! সাম্যবাদের নাম নিয়েও তো জাগা যায়, অসাম্প্রদায়িকতার নাম নিয়েও তো যায়, মানবতার নাম নিয়েও তো যায়। কেন আল্লাহর নাম নিয়ে জাগতে হবে! আল্লাহ কি কোনও অসাম্প্রদায়িক কথা কোনওকালে বলে গেছেন কোথাও?
