ইনকিলাবের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো হচ্ছে গ্রামে গঞ্জে, দেশের আনাচে কানাচে তৌহিদী জনতা ফুঁসে উঠছে আমার ফাঁিসর দাবিতে। গ্রাম গঞ্জে হরতাল সফল হয়েছে। হরতাল সফল হওয়া মানেই মনে প্রাণে এ দেশের জনগণ তসলিমার ফাঁসি চাইছে, ব্লাসফেমি আইন চাইছে। চারদিকে সভা হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মানুষের। তারা একটি কথাই বার বার বলছে, ধর্মদ্রোহী তসলিমার মুক্তি নেই, সরকার যদি তসলিমার পক্ষ নেয়, তবে সরকারকেও তারা দেখে ছাড়বে। গ্রামে গঞ্জে নাস্তিক মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ঈশ্বরগঞ্জে, যে ছোট্ট শহরটিতে আমার ছোটবেলার একটি সময় কেটেছে, যেখানে ইয়াসমিনের জন্ম হয়েছে, সে শহরের লোকেরা তসলিমার ফাঁসি চাই লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করছে। জমিয়াতুল মোদ−র্রছিনের ঈশ্বরগঞ্জ শাখা এই বিক্ষোভ মিছিলটি করেছে। বিরাট বিক্ষোভ মিছিল। ছবি দেখেই অনুমান করা যায়, কত শত লোক নেমেছিল সেই মিছিলে। সভায় মাদ্রাসার বড় বড় শিক্ষকরা বলেছেন, ইহুদি খ্রিস্টান ও ব্রাহ্মণ্যবাদের পদলেহী ইসলাম ও দেশদ্রোহী এক অশুভ শক্তি আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল ও পবিত্র কোরানের আয়াতের বিকৃত তরজমা করে তা নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে। কুলাঙ্গার তসলিমা নারী স্বাধীনতার নামে পবিত্র কোরানের আমূল পরিবর্তন দাবি করছে। যার ফলে বিশ্বাসী মানুষ সারা দেশে প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে এবং তসলিমাসহ সকল মুরতাদদের ফাঁসি দাবি করছে।
আমেরিকা ও বিবিসির ডবল স্ট্যাণ্ডার্ড নিয়ে ইনকিলাবের প্রতিবেদন — ৯৯ ভাগ মানুষ নয়, এক তসলিমার পক্ষ নিয়েছে খ্রিস্টান দুনিয়া। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তসলিমা নাসরিন চরমভাবে ধিকৃত ও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার উদ্ধার ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে আমেরিকা ও ভারতসহ খ্রিস্টান দুনিয়া। তাদের এই কাজে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে উৎকটভাবে মুসলিমবিরোধী, প্রবলভাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিরোধী এবং নির্লজ্জভাবে ভারতপন্থী ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বা বিবিসি। এই স্ব আরোপিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসব শক্তি অনেক অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার সুমহান নীতি চরমভাবে লঙ্ঘন ও পদদলিত করেছে। তসলিমা নাসরিনের ব্যাপারে রবাহুত দরদ ও একাত্মতা প্রকাশ করতে যেয়ে ভারত, আমেরিকা, পশ্চিমা বিশ্ব এবং বিবিসি মত প্রকাশের স্বাধীনতার আবরণে যে সব কথাবার্তা বলছে, তার ফলে তাদের অজ্ঞাতে তাদের ডবল স্ট্যান্ডার্ড রূপটি উৎকট হয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি গেছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থিত পশ্চিমা দূতাবাসগুলোর নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক আইন এবং এ দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, নিশ্চয়ই তারা তসলিমাকে অবৈধভাবে কোনও দূতাবাসে কোনও আশ্রয় দেয়নি।
ইনকিলাবের খবর, তসলিমা সম্পর্কে পশ্চিমা অনুরাগীদের বাড়াবাড়ি এক ভয়ানক বিকৃতি। বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের অনুরাগী পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বাড়াবাড়ি এশীয় গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে এক ভয়ানক বিকৃতি বলে চিহ্নিত হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ব্যাংকক পোস্ট এর পয়লা জুলাই সংখ্যায় ধর্মীয় সতর্কতার ক্ষেষেন অস্বস্তিকর ঘাটতি শীর্ষক সম্পাদকীয় নিবন্ধে ধর্মের সুস্থ প্রভাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেক্যুলারিজমের নামে ধর্মকে অস্বীকার করার প্রবণতা এক ধরনের উগ্রতা। পত্রিকাটিতে বলা হয় এই উগ্রতা সেক্যুলারিজম শব্দটিকেই বিকৃতিতে পর্যবসিত করেছে। ভারতীয় সাংবাদিক খুশবন্ত সিংএর উদ্ধৃতি দিয়ে তসলিমা নাসরিনের মত দ্বিতীয় শ্রেণীর কাল্পনিক উপন্যাস লেখিকার ব্যাপারে কিছু করাটা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই ঝুঁকি দেখা দিয়েছে সেক্যুলার ফান্ডামেন্টালিস্ট অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতাপন্থী মৌলবাদীদের তরফ থেকে। কেননা, এরা তাদের অসহিষ্ণুতা ছড়িয়ে দিচ্ছে যদিও ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে, আসলে তা পরিণামে সকল ধর্মেরই মূলে আঘাত হানছে। রুশদি সৃষ্ট যন্ত্রণাদায়ক হট্টগোলের শেষে এবার যে তসলিমা অ্যাফেয়ার এর উদ্ভব ঘটেছে এতে যেন সেক্যুলারিজম উগ্র বিকৃতির মধ্যে বিলীন হয়ে না যায়। এখনকার পরিস্থিতিকে আর রিলিজিয়াস ফাণ্ডামেন্টালিজম বলে বিষোদগার করার উপায় নেই। বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মৌলবাদ শব্দটিকেই এখন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। সততার সঙ্গে ধর্মের দিকে তাকালে কারও পক্ষেই মৌলবাদ মৌলবাদ বলে চিৎকার করা সম্ভব হবে না। তসলিমা নাসরিনের লেখালেখি এবং তার জীবন বৃত্তান্ত সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তা যদি ধর্তব্যের মধ্যে গণ্য নাও করা হয় তবু সে যে তার মত প্রকাশের ক্ষেষেন সীমা ছাড়িয়ে গেছে, এটা মানতেই হবে।
আরও খবর; খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের এক বৈঠকে কুখ্যাত তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে সাম্প্রতিক দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলা হয়, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে জাতির দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাবার জন্য সরকার একটি ভ্রষ্টা মেয়েকে নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি শুরু করেছে তার পরিণতিতে অবশেষে সরকারকেই ভুগতে হবে। সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতির আশু অবসানকল্পে অবিলম্বে তসলিমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেবার জন্য সরকার কাছে জোর দাবি জানানো হয়। সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয় যে সরকার যদি আগামী ১০ জুলাই রোববারের মধ্যে তসলিমাসহ চিহ্নিত সকল ধর্মদ্রোহী রাষ্ট্রদ্রোহীদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা না করে, তবে তৌহিদী দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আগামী ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সুগন্ধা কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। সভায় দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করা হয় যে, সরকার যদি তসলিমাকে দেশের বাইরে যাবার সুযোগ করে দেয়, তবে অবশ্যই দেশব্যাপী সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হবে।
