.
আর প্রেমের জন্য যেরকম পুরুষ আমার পছন্দ, সেরকম পুরুষ কি চাইলেই আমি পেতে পারি। অনেকেপায়। আমার পাওয়া হয়নি কোনওদিন। তুমি তো সারাজীবন পাওনি। বাবাকেইপাওনি। আর কাউকে তো পেতে চাওনি। বাবাকেই এক চেয়েছিলে। আর বাবা, তোমাকে ছাড়া পৃথিবীর সব মেয়েকেই চেয়েছিল। কতটা পেয়েছে কী পেয়েছে কে জানে, যাদের পেয়েছিল, তারা কি কেউ তোমার চেয়ে ভালো ছিল! তোমার প্রতি জানি না কী কারণে বাবার অনাসক্তি ছিল। একটা ভালোবাসাহীন সংসারে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত থেকে গেলে। তোমার মতো জীবন আমি যাপন করিনি। ভালোবাসাহীন কোনও সংসারে আমি থাকিনি। তার চেয়ে বরং একা থাকাটাকেই মেনেছি। এর মতো স্বস্তির কিছু আর নেই। কোনও পুরুষের সঙ্গে বাস করা কোনও সচেতন মেয়ের পক্ষে সম্ভব নয়, সে পুরুষ যদিনা মনে প্রাণে নারীর স্বাধীনতা একশ ভাগবিশ্বাস করে, এবং সেই বিশ্বাসকে নিজের জীবনে প্রমাণ না করে। কিন্তু খুব বেশি পুরুষের মধ্যে এই গুণটি আমি দেখিনি। অনেককাল আগে যেসব দেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত, সেসব দেশের অনেক পুরুষের মধ্যে এই গুণটি আছে, কিন্তু মনের মতো বিদেশি কোনও পুরুষ পাওয়া একটি দেশি মেয়ের পক্ষে খুব কি সম্ভব! প্রথম কথা, আমি তো খুঁজতে বসিনি কোনওদিন। ওসব আমার স্বভাবের বাইরে। স্বভাবের বাইরে বেরোনো আমার পক্ষে কোনওকালেই সম্ভব নয়। বিশেষ করে যে স্বভাবগুলো ভেতরে পুঁতে দেওয়া। এই স্বভাব বোধহয় তোমার কাছ থেকে পেয়েছিমা। তুমিও কোনও পুরুষের দিকে ফিরে তাকাতে না। যদিও বোরখার আড়ালে জীবনের প্রায় সবটা সময়ই কাটিয়ে দিয়েছে, কিন্তু আড়াল থেকে কাউকে হয়তো দেখেছো, কিন্তু তোমাকে তো দেখেনি কেউ। ’তোমাকে ভালোবাসি’ এই কথাটা তুমি কোনওদিন কারও কাছ থেকে শোনোনি। ভাবলে আমার খুব কান্না পায়। বাবা তো বলেইনি তোমাকে কোনওদিন। জানিনা কোনওদিন আমাণুদ্দৌলা বলেছিলো কিনা। আমার কেন যেন মনে হয়, বলেনি। আমাণুদ্দৌলার বিয়ে করার রোগছিলো। একইসঙ্গে কয়েকটা শহরে কয়েকটা বউ রাখতো। যেখানে বিয়ে করার সম্ভাবনা আছে, সেখানেই ভিড়তো। তোমার কাছে ভিড়তে চেয়েছিলো, সে তো বিয়ের জন্য নয় নিশ্চয়ই। আহ, জীবনে যদি তুমি কোনও সৎ পুরুষের দেখা পেতে মা! যদি জানতে, কেউ তোমাকে ভালোবাসে! ভালোবাসি শব্দটা আমি অনেক শুনেছিমা, আমার কোনও অতৃপ্তি নেই। তোমার শরীরটাকেও তুমি তৃপ্ত করতে পারোনি। চারটে সন্তান জন্মেছে বটে তোমার। সে খুব। সুখের মিলনে জন্মেছে বলে আমার মনে হয় না। জন্মানোর দরকার ছিল বলেই হয়তো জন্মেছে। সমাজের বাধা তো আছেই, মনের বাধাও কি কম? আমি সমাজের আর মনের সব বাধাই ডিঙিয়েছি। কিন্তু তারপরও কোথায় যেন হেরে যাই। জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে দেখি, আমি হয় নোবডি নয় সেলিব্রিটি। নোবড়ি আর সেলিব্রিটির প্রেমে সাধারণত কেউ পড়ে না। নোবডিকে লোকে তুচ্ছ করে, আর সেলিব্রিটির কাছ ঘেঁষতে দ্বিধা করে, ভেবেই নেয় যে ও নিশ্চয়ই যে কারও প্রেমে পড়বে না। যত মনের জোর আর সাহস থাকুক না কেন আমার, লক্ষ করেছি, কোনও পুরুষকে আগ বাড়িয়ে আমি বলতে পারি না, না দেশে না বিদেশে, তোমাকে ভালো লাগে বা এধরনের কিছু। জগতে বোধহয় আর কোনও আধুনিক মেয়ে নেই, যে কিনা এত দীর্ঘদীর্ঘদিন যৌনগন্ধহীন সন্ন্যাস জীবন কাটায়। আমাদের বোধহয় সমস্যা একইরকম ছিলো, সত্যিকার প্রেম আমরা পাইনি। পাইনি বলে যেন তেন কাউকে মেনে নিতেও পারিনি। এ নিয়ে তুমি কি আফশোস করো নীরবে, নিভৃতে? আমি করি। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার এই জীবন যদি আবার শুরু থেকে পেতাম, অন্য রকম করে যাপন করতাম। আসলে অনেকেরই এই ইচ্ছেটা হয়, শুধু আমার নয়। সংবেদনশীল মানুষ হলে অতৃপ্তিটা মৃত্যু অবধি থাকে।
.
ফরাসি একটি ছেলের সঙ্গে আমার সম্পর্কহয়। সম্পর্কটা শুরু হয় শরীরের আকর্ষণের কারণে, একে প্রেম জানি না বলা যায় কি না। ছেলেটা সুন্দর দেখতে। সুদর্শন সুপুরুষ বলতে ঠিক যা বোঝায়, তা। বয়সে আমার চেয়ে ছ বছরের ছোট। একসময় ভাবতাম বয়সে ছোটর সঙ্গে বুঝি প্রেম হতে পারে না। ভাবতাম বাংলায় কথা যে না বলতে পারে, তার সঙ্গে কখনও প্রেম হতে পারে না। সম্পূর্ণ ভুল। যে কোনও ভাষাতেই প্রেম সম্ভব। ছেলেটা ইংরেজি জানে। ইংরেজিতেই কথা হয় আমার সঙ্গে। ফরাসি ভাষা যেটুকু শিখেছি তাতে বেশিক্ষণ কথা চালানো যায় না। যখন ফরাসিতে তার প্রেমের কথা শোনাতে থাকে, খুব ভালো লাগে শুনতে। ফরাসি ভাষা, অনেকে বলে, প্রেমের জন্য চমৎকার ভাষা। ছেলেটা সত্যি বলতে কী, মা, আমাকে শরীরের প্রেম শিখিয়েছে। কত যে অশিক্ষিত ছিলাম শরীরের ব্যাপারে। নিজের শরীর, অথচ এই শরীরই কত অচেনা ছিল আমার। ছেলেটা আমার প্রেম পাবার জন্য দিন দিন অস্থির হয়ে ওঠে। ছেলের বউ বাচ্চা আছে, কিন্তু বউএর সঙ্গে নাকি শারীরিক সম্পর্ক নেই। এসব আমি বিশ্বাস করি না। কারণ সব বিবাহিত পুরুষই অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করতে গেলে এসব কথা বলে। আমার কোনও অসুবিধে নেই সে ছেলে আর কারও সঙ্গে শুলে। আমি আমার একলা জীবনে মাঝে মাঝে যদি শরীরের তৃষ্ণা মেটাতে কোনও এক চমৎকার সুপুরুষকে পাই, যে আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসছে বলছে, কেন নয়, বলো? ছেলে দূরের একটা শহর থেকে প্রায়ই চলে আসতো, দু টো তিনটে দিন আমার সঙ্গে কাটিয়ে যেত। বিমানবাহিনীর পাইলট। আমিই প্যারিস শহরে তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। মেট্রো সবাই চড়ছে। আমার আবার পাতালে যেতে ইচ্ছে করে না। ট্যাক্সিতে সব জায়গায় যাওয়া চাই আমার। টাকা পয়সার প্রতি কোনও আকর্ষণ নেই বলেই হয়তো ওভাবে খরচ করতাম। ছেলেটা আমার কাণ্ড অবাক হয়ে দেখতে।
