• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
রবিবার, জুন 7, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

নেই, কিছু নেই – তসলিমা নাসরিন

Nei Kichu Nei by Taslima Nasrin

.

হাশেম মামাকে ভালোবাসতে তুমি খুব। কাকে ভালো বাসতে না বলল। হাশেম মামার ক্যানসার ধরা পড়ার পর তুমি পাগলের মতো কেঁদেছো। তোমার মতো এত তো কেউ কাঁদেনি। তোমার ছোট ভাই, তার ক্যানসার তুমি মেনে নিতে পারোনি। হাশেম মামা আমাকে খুব স্নেহ করতো, আমি ঢাকা থেকে এলেই চলে আসতো আমার কাছে আমার নতুন কী বই বেরিয়েছে, নিতে। হাশেম মামা তুমি নিউইয়র্কে থাকাকালীনই মারা গেছে, খবরটা তোমার কাছে আমরা সবাই ইচ্ছে করেই লুকিয়েছি, জানলে তুমি কষ্ট পাবে তাই। কী দরকার কষ্টের এক দুঃসহ বোঝার ওপর নতুন কষ্টের বোঝা উপুড় করার। জেনে কী লাভ তোমার! এমন তো নয় যে, একদিন সুস্থ হয়ে উঠবে, আর নানিবাড়ি গিয়ে আবিষ্কার করবে হাশেম মামা নেই। আমরা তো সবাই জানি যে এরকম কোনও ঘটনা আদৌ ঘটবে না। আমরা তো সবাই জানি দিন দিন তুমি শরীরের সব শক্তি হারিয়ে ফেলছো, তুমি মিশে যাচ্ছো বিছানায়, উঠে বসারও শক্তি তোমার নেই, তুমি একটু একটু করে চলে যাচ্ছো, একটু একটু করে তোমার চেতন হারাচ্ছে, তুমি তলিয়ে যাচ্ছো, তুমি ফিরছো না। তুমি যে ফিরবে না, সে তো সবাই জানি। তোমাকে যদি না জানানো হয় হাশেম মামার মৃত্যুর খবর, তাতে তোমার কোনও ক্ষতি হওয়ার নেই কিছু। মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ তুমি করছো, তোমার প্রিয়জনের মৃত্যুর খবর তোমাকে দিয়ে তোমাকে কি আরও শক্তিময়ী করতে পারবো! কী করবে তুমি হাশেম মামার মৃত্যুর খবর জেনে? কী লাভ হবে তোমার! রুনু খালার স্বামী রাসু খালু একদিন এসে বসেছিলো তোমার সামনে। দিব্যি বলতে লাগলো, হাশেম ভাই যেদিন মারা গেল, সেদিন তো আমি.. কোনও দরকার ছিল না তোমাকে ওই গল্প শোনানোর। আসলে কারও মৃত্যুতে এই টুপি দাড়িঅলা মানুষগুলোর কোনও কষ্ট হয় না। তারা বিশ্বাস করে মৃত্যু মানে আল্লাহর কাছে যাওয়া। হাশেম মামা মারা গেছে এই খবরটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তুমি চমকে তাকালে আমার দিকে। কী যে অসহায় তুমি তখন! কী যে বোবা দৃষ্টি তোমার। মুহূর্তে আচমকা এক গাদা অন্ধকার তোমার ক্রমশ অন্ধকার হতে থাকা জগৎকে কোথাও ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আমি আর বলতে পারিনি যে রাসু খালু মিথ্যে কথা বলছে। বলতে পারিনি হাশেম মামা বেঁচে আছে এবং ভালো আছে। কারণ মিথ্যে হলে রাসু খালু ওভাবে বলতো না। আমি তোমার বিছানার পাশে হাঁটু গেড়ে বসে বললাম, মা, হাশেম মামা খুব কষ্ট পাচ্ছিল, হয়তো এ তার জন্য ভালোই হল যে ওই ভয়ংকর কষ্ট আর তাকে পেতে হচ্ছেনা। কষ্ট থেকে মুক্তি পাক হাশেম মামা, তুমি তো চাও, তাই না মা? অত কষ্ট মামা আর সইতে পারছিলো না। কী আর বলবো মা, কী বলে সান্ত্বনা তোমাকে দেব। আমি জানি না কতটুকু কী বুঝলে তুমি, তুমি শান্ত মেয়ের মতো শুয়ে পড়লে, ভেতরে কী হচ্ছিল তোমার, কী রকম যন্ত্রণা, জানি না। তোমার চোখের কিনার বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল অবিরল জল। তুমি কি তখন ভাবছিলে যে, তোমার কষ্ট থেকে তোমার মুক্তি হোক, সেও আমি মনে মনে চাইছি! মানুষ ঠিক ওরকম অবস্থায় মনে মনে কী ভাবে, আমার পক্ষে সম্ভব নয় অনুমান করা। মৃত্যুর নিশ্বাসের কাছে বসে দেখতে হবে কী ভাবছি আমি। জানি না, মা, তখন কি অন্য কারও মৃত্যুর জন্য কান্না পাবে আমার? নিজেই যখন যাচ্ছি, কে গেছে বা যাচ্ছে, তার কথা ভেবে আমি কি কাঁদবো! আমি কি বাঁচবো যে সে ছাড়া আমার খালি খালি লাগবে। কেন কাঁদছিলে মা? হাশেম মামার মৃত্যু তুমি সইতে পারছিলে না কেন মা? তোমার নিজের মৃত্যুর চেয়ে অন্যের মৃত্যু তোমাকে কাঁদায় কেন বেশি মা? কেন তুমি আমাকে বিরক্ত করার চেয়ে নিজের মৃত্যুকেই বেছে নিলে, মা? বাবা বিরক্ত হত, দাদা বিরক্ত হত, নিজের চিকিৎসার জন্য সামান্য সাহায্য চেয়ে তাই ওদের বিরক্ত করতে চাওনি আর। তাই আমার কাছে গিয়েছিলে, দেখলে তোমার অসুখের কথা শুনে আমিও বিরক্ত হচ্ছি। তাই আমাকেও চাওনি বিরক্ত করতে। নিজের অসুখ নিয়ে নিজেই একা পড়ে রইলে। বিরক্ত হওয়া থেকে আমাদের বাকি জীবনের জন্য বাঁচালে। পারো কি করে? জীবন তো তুমি জানতে একবারই আসে। যত ধর্মকর্মই তুমি করো না কেন, ভেতরে ভেতরে তো বুঝতে এই জীবনের পরে আসলে আর কোনও জীবন নেই।

অবকাশের কালো ফটকে তালা দিয়ে বাবাকে আটকে রাখতে চেয়েছিলাম বাড়িতে। আমার ধমক, ভয় দেখানো, রাগ হওয়া কিছুই কাজ করেনি। যে করেই হোক বাবা যাবেই। তালাবন্ধ করে আর যাকেই যায়, বাবাকে আটকে রাখা যায় না। নিউইয়র্কে আর ঢাকায় তোমার পাশে যে বাবা ছিল দিন রাত, মনে হয় না এই বাবাই সেই বাবা। সব ভুলে আগের দিনের মতো বাবা চেম্বারে রোগী দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমি শত চেষ্টা করেও বাবাকে থামাতে পারিনি। তোমাকে বলিওনি বাবা সেই আগের মতো দিব্যি সুটেড বুটেড হয়ে চিরকালের মতো বাইরে যাচ্ছে। তুমি কি খেয়াল করেছো বাবা এসে কাছে আর খুব একটা বসছেনা। উঁকি দিয়ে তোমাকে দেখে চলে যাচ্ছে। কী আশ্চর্য, দুদিন সাহেব হয়ে বসে তোমার সঙ্গে কিছু ছবি তুললো। বিশ্বাস হয়নি এই বাবাকেই নিউইয়র্কের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম প্রায় ধরে বেঁধে। ডাক্তার সব পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দিলেন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখার ঠিকঠাক ওষুধ বাবা কোনওদিন খায়নি। আমি যা হাতে দিতাম, শিশুর মতো তাই খেয়ে নিত। আমি যে কত ভুল ওষুধ দিয়েছি। ডাক্তার লিখে দিয়েছে ওষুধ, কিন্তু কখন খাবে তার সময় লিখে দেয়নি। আমি সেগুলো একসঙ্গে বাবাকে খেতে দিতাম, বাবা খেয়ে নিত, জিজ্ঞেসও করতো না কী দিচ্ছি, কেন দিচ্ছি। আমাকে এত বিশ্বাস ছিল বাবার। এত অসহায় ছিল মানুষটা। ঢাকায় পর্যন্ত অসহায় ছিল। আর ময়মনসিংহে এসেই দিব্যি পূর্ণ তেজ ফিরে পেয়েছে। নিজের রক্তচাপ, ডায়বেটিস আর তোমার অসুস্থতা সব ভুলে বাবা এখন শহরের ব্যস্ত ডাক্তার, আগের মতো। মানুষের মনের শক্তিই বোধহয় সব চেয়ে বড় শক্তি। অন্তত বাবার বেলায়। তোমার মনে যত জোর আনছো, কোনও কাজেই তা লাগছে না। দিন দিন তুমি আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাবার কি এ কদিনেই ক্লান্তি এসে গেছে তোমার সেবা করতে করতে, তোমাকে সময় দিতে দিতে! তা না হলে ময়মনসিংহে ফিরে এসে বাবা কেন এভাবে বদলে গেল। মা, সত্যি কথা বলতে কী, সবাই কেমন যেন ক্লান্তই হয়ে পড়ছিলো। ছুতোনাতায় নিজের জীবনে ফিরতে চাইছিলো। তুমি চলেই যাবে যখন, না হয় চলেই যাও। তোমার জন্য যে সময় নির্ধারিত ছিল, সে সময়ের চেয়ে খানিকটা বেশি বেঁচে ফেলছো তুমি, মানুষ হতাশ হবে না কেন। চারপাশের মানুষগুলোর ক্লান্তি আমি টের পাই। আমারও কি ক্লান্তি আসেনি মা! এসেছে। আমারও মনে হয়েছে, অনেক হল, যে যাবার সে যাক। আমরা, সে যত আপনই হোক, খুব বেশি সময় খরচ করতে চাই না কারও জন্য। ভালোবাসায় আমাদের ক্লান্তি চলে আসে। তুমি কি টের পেয়েছিলে? টের পেয়েছিলে যে আমরা কেউ আর তুমি আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকো, চাইছিলাম না! টের না পাওয়ার কিছু তো ছিলো না। ধীরে ধীরে তুমিও লক্ষ করছিলে, দূর থেকে যারা এসেছে, তারা তোমাকে শেষ বিদায় জানিয়ে গেছে। কাছে যারা ছিল, তাদের উপস্থিতির ঘনত্ব দিন দিন কমছে। তুমি কি আমার মুখেও টের পেয়েছিলে, ক্লান্তি! তোমার কাছ থেকে বারবার আমি উঠে চলে গিয়ে অন্য কোথাও বসে গল্প করছি। আমারও আর ভালো লাগছেনা এভাবে মৃত্যুর সঙ্গে গায়ে গা লাগিয়ে বসে থাকতে, মৃত্যুর মতো নির্মম কিছুকে এত পলকহীন চোখে বেশিদিন দেখা যায় না। আমারও ইচ্ছে করছে নিজের জীবনে, জীবনের উৎসবে, উচ্ছলতায় ফিরে যেতে। এক বিকেলে বাড়ির কয়েকজনকে নিয়ে যেদিকে দুচোখ যায়, সেদিকে চলে যেতে যেতে দিব্যি হালুয়াঘাট থেকে ঘুরে এলাম। মুক্তি তো চাইছিলামই। বিদেশ থেকে আমন্ত্রণ এলে, ভেতরে ভেতরে আমার খুব লোভ হচ্ছিল যাওয়ার। ফ্রান্সের জাতীয় সংসদে বক্তৃতা করার আমন্ত্রণ। অনেকগুলো ফোন পেয়েছিফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের। ফরাসি সরকারের এই আমন্ত্রণ রক্ষা করার জন্য আমাকে ক্রমাগতই অনুরোধ জানানো হচ্ছে। আমি বলে দিয়েছিলাম, আমার মার অসুখ, কোথাও এ সময় আমি যেতে পারবো না। পরে আবার একদিন মনে হয়েছে, দুদিনের জন্য ঘুরে এলে কী এমন ক্ষতি। না, মা, এই লোভ আমি সামলাতে পারিনি। এমনকী বাবাও অবাক হয়েছে আমার গোপন পরিকল্পনার কথা জেনে, যে বাবা সবসময় চাইতো বিদেশের সম্মানগুলো নিতে যেন কোনও আলস্য না করি। যেদিন তোমাকে বললাম, খুব বড় আমন্ত্রণ এসেছে ফ্রান্স থেকে, না গেলেই নয়, কদিন পরই ফিরে আসবো। তুমি করুণ চোখে তাকিয়েছিলে আমার দিকে। সেই চোখে বিস্ময়ও ছিল। তুমি হয়তো বুঝে পাওনি কী করে আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইছি। কী করে অন্য কোনও কিছু, সে যত বড় আমন্ত্রণই হোক না কেন, মত্যুশয্যায় পড়ে থাকা মায়ের চেয়ে বড় হল। মাঝে মাঝে ভাবি কেন আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইছিলাম, বড় বড় আমন্ত্রণে কি আমি এ যাবৎ কম রক্ষা করেছি! জীবনে কি বিশাল সব মঞ্চে আমি কম বক্তৃতা দিয়েছি! কেন আমি তোমাকে ওই আজ আছে কাল নেই অবস্থায় ফেলে অন্য কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে এনেছিলাম। নিজেকে ক্ষমা করতে পারি না। নিজেকে ক্ষমা করা আমার সম্ভব নয়। তোমাকে যে আঘাত দিয়েছিলাম, সে আঘাত তুমি নিভে যেতে থাকা জীবনে ধারণ করতে বাধ্য হয়েছিলে, প্রকাশ করোনি কিন্তু বিস্ময় বোধটা তুমি লুকোতেও পারোনি। অবশ্য তারপরই মাথা নেড়ে বলেছিলে যেতে, যেন যাই, বড় আমন্ত্রণে যেন যাই আমি। আমাকে সুখ দিয়েছিলে মা। যতটুকু উদার তুমি হতে পেরেছিলে, আমি কেন তার ছিটেফোঁটাও হতে পারিনি। শেষ অবদি আমি যাইনি কোথাও, কিন্তু যেতে তো চেয়েছিলাম, যেতে চাওয়ায় এবং যাওয়ায় কতই আর পার্থক্য!

Page 37 of 94
Prev1...363738...94Next
Previous Post

সেইসব অন্ধকার – তসলিমা নাসরিন

Next Post

নির্বাসন – তসলিমা নাসরিন

Next Post

নির্বাসন - তসলিমা নাসরিন

দ্বিখণ্ডিত - তসলিমা নাসরিন

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In