শেষ অবদি রাত এলো। বৈঠক ঘরে হুদা আর তাঁর বউ সাহানার সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয় রুদ্র বউ বলে। হুদার ছোট্ট মেয়েটি অবাক তাকিয়ে থাকে বউ নামক আমার দিকে। অনেক রাত না হলেও রুদ্র বলে, শুয়ে পড়ার সময় হয়েছে। শুয়ে পড়তে রুদ্র তার ঘরটিতে আমাকে নিয়ে যায়। শার্ট প্যান্ট খুলে কেবল একটি লুঙ্গি পরে বাতি নিবিয়ে চেয়ারে পাথর হয়ে বসে থাকা আমাকে শুইয়ে দেয় বিছানায়। নিজেকে বারবার বলি, তুই বিয়ে করেছিস, বিয়ে করলে স্বামীর সঙ্গে শুতে হয় বোকা মেয়ে। শুতে হয়!এরকম প্রতিটি মেয়েই শোয়। লজ্জা ঝেড়ে ফেল। আমি প্রাণপণে লজ্জা ঝেড়ে ফেলতে থাকি। জানালা দিয়ে আলো আসছে বাইরের ল্যাম্পপোস্টের, ভাবতে চাইছি এ চাঁদের আলো। রুদ্রকে আমি ভালবাসি, সে আমার স্বামী। আমার স্বামীর সঙ্গে আমার আমি প্রথম রাত কাটাবো। আজকের রাতে আমার যেন কোনওরকম আড়ষ্টতা না থাকে। আড়ষ্টতা না থাকার কথা নিজেকে সেই সকাল থেকে যদিও বলছি, তবওু রুদ্রকে রুদ্র বলা তুমি বলা আমার পক্ষে সারাদিনেও সম্ভব হয়নি। রুদ্রর দিকে পিঠ দিয়ে আমি এক কোণে জড়সড় পড়ে থাকি হাত পা গুটিয়ে। সেই গুটোনো আমাকে রুদ্র কাছে টানে। আমি নই, আমার শরীর রুদ্রর সেই আলিঙ্গনে জবুথবু পড়ে থাকে, বুকের ওপর আড়াআড়ি করে শক্ত হয়ে থাকা আমারই দুটি হাত, আমি সরিয়ে নিতে পারি না। ও থাকে। ওই হাতদুটিকে রুদ্র তার গায়ের শক্তি দিয়ে সরায়। আমি চাই না আমার ভেতরে কোনও কাঁপন, কিন্তু চাইলেও আমি থামতে পারি না ভেতরের কাঁপন, থামাতে পারি না সেই কাপঁ ন থেকে সঞ্চারিত সমস্ত শরীরের কাঁপন। ঠোঁটে গাঢ চুমু খায় রুদ্র। ঠোঁটজোড়া, আমি অনুভব করি ফুলে উঠছে, ভারি হয়ে উঠছে, আমি চাই না কিন্তু আমার হাত দুটো রুদ্রকে ঠেলে সরাতে চায়। ব্লাউজটির বোতাম খুলতে থাকে রুদ্র এক হাতে, অন্য হাতে শক্ত করে ধরে রাখে সরিয়ে দিতে চাওয়া আমার হাত। বোতাম খোলা ব্লাউজের ভেতরে রুদ্র মখু ডুবিয়ে দেয়, ভিজে জিভ ভেজাতে থাকে আমার স্তনজোড়া, চর্বচোষ্যলেহ্য স্তনজোড়া। আমি আলথুালু শাড়িতে রুদ্রর বন্ধনের ভেতর তড়পাচ্ছি। রুদ্র নিজের দুটো পা দিয়ে সরিয়ে দিতে থাকে আমার পা দুটো। আমার এক পা যত বেশি আরেক পার ঘনিষ্ট হতে চায়, ততই রুদ্র তার সমস্ত শক্তি খাটায় পা দুটোর ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিরুদ্ধে। পা দুটো তোমার স্বামী যেমন করে বলেছে, তেমন করে রাখো মেয়ে, রাখতে হয়, এ নিয়ম, রুদ্র যা করছে সব জেনে বুঝেই করছে, এই করে স্বামীরা, এই করতে হয়, নিজেকে বলি। বলে আমি শরীরের ভেতর থেকে আপনাতেই উঠে আসা প্রতিরোধের শক্তিকে সমস্ত শক্তিবলে নিস্তেজ করি, যেন আমি অবশ পড়ে থাকতে পারি। তাই করি, সজোরে চক্ষুদুটো বুজে, দুহাতে বোজা চক্ষুদুটো ঢেকে, যেন এ আমি নই, এ আমার শরীর নয়, যেন আমি ঘুমিয়ে আছি বাড়িতে আমার ঘরে, আর এখানে যা কিছু ঘটছে, যে অশ্লীল কাণ্ড ঘটছে, এ কাণ্ডের সঙ্গে আমি মোটেও জড়িত নই, আমার শরীরের ওপর জীবনের ওপর কিছু ঘটছে না, এ অন্য কেউ, এ অন্য কারও শরীর, ভাবি। এরপর রুদ্র আমার পুরো শরীরের ওপর উঠে আসে, এবার শুধু চক্ষুবন্ধ নয়, এবার আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। অবশ শরীরের দু পাও ঘনিষ্ঠ হতে চায়। আমার দুপাকে রুদ্র তার দু পা য়ের বাধঁ দিয়ে উরুসন্ধিস্থলে বাড়তি কিছু দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে, আমি শ্বাস বন্ধ অবস্থায় চাপটিকে স্বামীর সৃষ্ট স্বাভাবিক চাপ বলে ভাবতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমার ভাবনা ছিঁড়ে গিয়ে একটি আর্তচিৎকার আমি না চাইতেও আমার কন্ঠ থেকে বেরোয়। রুদ্র আমার মখু চেপে ধরে দু হাতে। চেপে ধরে, কিন্তু নিম্নচাপটি ওদিকে থেকে যায়। তীব্র যন্ত্রণায় আমি গোঙাতে থাকি, উর্ধচাপ নিম্নচাপ সমস্ত চাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা আমার লোপ পায়। রুদ্রর লৌহশরীরটি আমার শরীরে শত ভালবেসেও শত যুক্তিতেও প্রবেশ করতে পারে না। সারারাত ধরে রুদ্র ক্রমাগত যুক্তিমত স্বাভাবিক নিয়ম শৃঙ্খলামত প্রবেশের চেষ্টা করে গেছে, প্রতিবারই আমার না বোঝাতে পারা যন্ত্রণা ও মাগো ও বাবাগো বলে রাতকে জাগিয়ে তুলেছে। প্রতিবারই রুদ্র আমার চিৎকারের ওপর ঢেলেছে আরও চাপ। সেই চাপ ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে চিৎকার। একটি ভয়াবহ রাত শেষ হলে ক্লিষ্ট ক্লান্ত মানুষটি শাড়ি পাল্টো সালোয়ার কামিজ পরে নিয়ে বলি, আমি যাই। আমার নতমখু , আমার নতচোখ, আমার পরাজিত অক্ষম শরীরকে আমি দূরে সরিয়ে নিতে চাই। রাতের কণ্ঠুা, লজ্জা,ভয় আর ঘণৃা আমাকে সকালেও আঁকড়ে থাকে। একই সঙ্গে অপরাধবোধ। রুদ্রকে রুদ্র বলে মনে হয়, স্বামী বলে মনে হয় না। সেগুন বাগিচায় যাওয়ার পথে কেবল বলে, রাতে ওই নাটকটা না করলেই পারতে। সারাপথ আর কোনও কথা বলে না। আমিও না। আমি নিশ্চপু বসে ভাবি রাতটির কথা, এর চেয়ে যদি সারারাত আমরা গল্প করে কাটিয়ে দিতে পারতাম, এর চেয়ে যদি কবিতা পড়ে পড়ে, শুধু দএু কটি খুনসুটি, দুএকটি নির্ভেজাল চুমুতে আমাদের সময় কাটত!
সেই সকালে সেগুন বাগিচায় ফিরে ছোটদাকে কাঁপা কণ্ঠে বলি, রোকেয়া হলে রুনুখালার রুমে ছিলাম।
রুনুখালা তো এখন আর হলে থাকে না। ছোটদা বলেন।
বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্বামী স্ত্রীতে থাকেন। এ ছোটদা জানেন।
