রুদ্রর এই বইটি তার আগের বইটির চেয়ে আকারে ছোট, বইয়ের পঈμচ্ছদে একটি হাত, হাতের তলায় গাছের শেকড়। ভেতরে নিউজপ্রিণ্টে ছাপা কবিতা। দেখতে বইটি দরিদ্র, কিন্তু ভেতরে কবিতাগুলো ঘুমের মানুষকে সজাগ করে দেয়। গ্রন্থসত্তে ্ব আমার নামটি। দেখে পুলক লাগে। গ্রন্থসত্ত ্ব ব্যাপারটির আসলে কোনও মানে নেই, এ দেশে যে কোনও লেখকই গ্রন্থসত্ত্বের জায়গায় প্রিয় একটি নাম বসিয়ে দেয়, এর মানে এই নয় যে প্রকাশক কখনও সেই গ্রন্থসত্তের মানুষকে বই বিক্রির টাকা দিয়ে আসবে। যাই হোক, আমার পুলক লাগে। রুদ্রর কবিতাগুলো উচ্চয়রে বাড়িতে পড়ি, ইচ্ছে হয় মঞ্চে উঠে তার কবিতাগুলো পড়ি, একশ মানুষ শুনুক। একশ মানুষ শিখুক প্রতিবাদের ভাষা। ময়মনসিংহের বিভিন্ন কবিতা অনুষ্ঠানে আমাকে প্রায়ই কবিতা পড়ার জন্য ডাকা হয়, মাঝে মাঝে গিয়ে কবিতা পড়ে আসি। রুদ্রর কখনও শোনা হয়নি আমার কবিতা পড়া, রুদ্রর পড়া আমি শুনেছি, ময়মনসিংহের একুশে ফেব্রুয়ারির এক অনুষ্ঠানে। চমৎকার আবৃত্তি করে রুদ্র। অনেক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কবিতা পড়ে এসে রুদ্র বলে, সবচেয়ে ভাল পড়েছি। আমার ভাল লাগে শুনে। বইটি ছাপা হওয়ার পর সে পুঁথি পড়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামের লোকেরা যেভাবে সুর করে পুঁথি পড়ে, সেভাবে পড়ার জন্য সে লিখেছেও রাস্তার কবিতা। রুদ্র দরিদ্র বঞ্চিত নিপীড়িত লাঞ্ছিত মানুষদের নিয়ে কবিতা লেখে, শাসকের বিরুদ্ধে শোষনের বিরুদ্ধে কবিতা। শ্রমজীবি মানুষের জন্য কবিতা। আমাকে উদ্বুদ্ধ করে রুদ্রর বোধ।
মনে করো তুমি যাচ্ছে!, তুমি একা ..
তোমার হাতে আঙুলের মত শিকড়, যেন তা আঙুল
তোমার হাড়ে সঙ্গীতের মত ধ্বনি, যেন তা মজ্জা,
তোমার ত্বকে অনার্যের শোভা মসণৃ আর তামাটে
তুমি যাচ্ছে!, মনে করো তুমি দুই হাজার বছর ধরে হেঁটে যাচ্ছে!।
তোমার পিতার হত্যাকারী একজন আর্য
তোমার ভাইকে হত্যা করেছে একজন মোঘল
একজন ইংরেজ তোমার সর্বস্ব লুট করেছেড্ড
তুমি যাচ্ছে!, তুমি একা, তুমি দুই হাজার বছর ধরে হেঁটে যাচ্ছে!।
তোমার দক্ষিণে শবযাত্রা, তোমার উত্তরে মৃত্যুচিহ্ন,
তোমার পেছনে পরাজয় আর গ্লানি—তোমার সামনে?
তুমি যাচ্ছে!, না না তুমি একা নও, তুমি আর ইতিহাসড্ড
মনে করো তাম্রলিপ্তি থেকে নৌবহর ছাড়ছে তোমার,
মনে করো ঘরে ঘরে তাঁতকল, আর তার নির্মাণের শব্দ
শুনতে শুনতে তুমি যাচ্ছে! ভাটির এলাকা মহুয়ার দেশে,
মনে করো পালাগানের আসর, মনে করো সেই শ্যামল রমণী
তোমার বুকের কাছে নতচোখ, থরো থরো রক্তিম অধর—
তুমি যাচ্ছে!, দুই হাজার বছর ধরে হেঁটে যাচ্ছে! তুমি……।
বইটি আগাগোড়া পড়ি, একবার দুবার নয়, বার বার। ইয়াসমিনের গানের গলা যেমন ভাল, আবৃত্তিও করতে পারে ভাল। হাড়েরও ঘরখানি কবিতাটি আমার সঙ্গে ইয়াসমিনও আবৃত্তি করে।
বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
রাজনীতিকের ধমনী শিরায় সুবিধাবাদের পাপ
বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
বুদ্ধিজীবীর রক্তে স্নায়ুতে সচেতন অপরাধ
বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
জাতির তরুণ রক্তে পুষেছে নিবীর্যের সাপ,
উদোম জীবন উল্টো রয়েছে মাঠে কাছিমের মত।
কোনো কথা নেই—কেউ বলে না, কোনো কথা নেই—কেউ চলে না,
কোনো কথা নেই—কেউ টলে না, কোনো কথা নেই—কেউ জ্বলে না—
কেউ বলে না, কেউ চলে না, কেউ টলে না, কেউ জ্বলে না।
যেন অন্ধ, চোখ বন্ধ, যেন খঞ্জ, হাত বান্ধা,
ভালোবাসাহীন, বুক ঘৃণাহীন, ভয়াবহ ঋণ
ঘাড়ে চাপানো—শুধু হাপাঁনো, শুধু ফাঁপানো কথা কপচায়—
জলে হাতড়ায়, শোকে কাতরায় অতিমাত্রায় তবু জ্বলে না।
লোহু ঝরাবে, সব হারাবে—জাল ছিঁড়বে না য়ড়যন্ত্রের?
বুক ফাটাবে, ক্ষত টাটাবে—জাল ছিঁড়বে না ষড়যন্ত্রের?
ঝোপে জঙ্গলে আসে দঙ্গলে আসে গেরিলার
দল, হাতিয়ার হাতে চমকায়। হাতে ঝলসায়
রোষ প্রতিশোধ। শোধ রক্তের নেবে,তখতের
নেবে অধিকার। নামে ঝনঝায়-যদি জান যায়
যাক ক্ষতি নেই, ওঠে গর্জন, করে অর্জন মহা ক্ষমতার,
দিন আসবেই, দিন আসবেই, দিন সমতার।
সমতার দিনের জন্যও আমার ভেতরেও স্বপ্ন জন্মে। রুদ্র শেখ মুজিবর রহমান কর্ণেল তাহের আর সিরাজ শিকদারকে উৎসগর্ করেছিল ওর প্রথম বইটি, হাড়েরও ঘরখানি কবিতায় লিখেছে হাজার সিরাজ মরে, হাজার মুজিব মরে, হাজার তাহের মরে, বেঁচে থাকে চাটুকার, পা চাটা কুকুর, বেঁচে থাকে ঘুণপোকা, বেঁচে থাকে সাপ। যদিও মুজিব তাহের আর সিরাজ শিকদার এক দলের লোক নন, মুজিবের সঙ্গে সর্বহারা পার্টির সিরাজ শিকদারের বিরোধ ছিল, তিনি খুনও হয়েছেন, বলা হয় মুজিবের ষড়যনে,্ত্র কিন্তু একটি জিনিস স্পষ্ট হয়ে ওঠে, রুদ্র যে কোনও মৃত্যুর বিরুদ্ধে, ঝড়ে বন্যায় ক্ষধুায় মন্বন্তরে পুষ্টিহীনতা জুলুমে জখমে দিতে তো হচ্ছেই প্রাণ, আর কত! এবার জাতির রক্তে ফের অনাবিল মমতা আসুক, জাতির রক্তে ফের সুকঠোর সততা আসুক।
অনেকদিন সেঁজুতি ছাপিনি। পড়া আর পরীক্ষার চাপে সম্ভব হয়নি। আবার উদ্যোগ নিই ছাপার। আবার রক্তে বান ডাকে। রুদ্র মানুষের মানচিত্র নামে সিরিজ কবিতা লিখে যাচ্ছে। ও থেকে কিছু নিয়ে আর নিজের কবিতা কিছু, কেবল দুজনের কবিতা দিয়ে সেঁজুতি। আগের সেঁজুতি, সেঁজুতির কাগজপত্র, লিটলম্যাগাজিনগুলো কোথায় কোন তলে পড়ে আছে, খবর নেই। টুকরো খবরের কিচ্ছু এবার আর থাকবে না, কারণ অনেক দূরে চলে এসেছি সেই জগত থেকে। কোথায় কে কোন লিটল ম্যাগ ছাপছে, কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কার কি লেখা বেরোলো, কোথায় কবিতা অনুষ্ঠানে কি আলোচনা হল, এসব এখন আমার আর জানা নেই। লিটল ম্যাগ আন্দোলন থেকে চিকিৎসাবিদ্যা আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। বাংলা ১৩৮৮র হেমন্তে দীর্ঘ দুবছর পর সেঁজুতি। বই আকারে নয়, আগের সেই জমাখরচের লম্বা খাতার আকারে, এর কারণ, হাতে অত টাকা নেই। এবার আর দাদা কোনও টাকা খরচ করছেন না। প্রশ্নই ওঠে না। লুকিয়ে আমাকে লেখা রুদ্রর প্রেমের চিঠি পড়ে রুদ্র এই নামটি তিনি আর সহ্য করতে পারেন না। পারেন না যে তার একটি প্রমাণও দেখিয়েছেন, আমার ঘরে ঢুকে আমার লাল ডায়রিটি, যেটি তিনি দিয়েছিলেন আমাকে কবিতা লিখতে, সেটি এবং আরও কবিতার খাতাপত্র ছুঁড়ে একদিন ফেলে দিলেন বৃষ্টি পড়ে কাদা হয়ে থাকা উঠোনে। প্রতিবাদ করতে গেলে এমন জোরে চড় কষিয়েছেন গালে যে গাল লাল হয়ে ছিল দুদিন। সুতরাং গাঁটের পয়সা খরচ কর। গাঁটে পয়সা এসেছে মেডিকেল কলেজ থেকে বৃত্তির টাকা পেয়ে। ইন্টারমিডিয়েটে ভাল ফলের কারণে এই বৃত্তি। কলেজে কোনও বেতন দেওয়ার দরকার হয় না, তার ওপর টাকাও জোটে। এই বৃত্তির টাকা কখন পাচ্ছি, টাকা দিয়েই বা কি করব, সে কথা বাবাকে জানাই না। মেট্রিকের ভাল ফলের কারণে ইন্টারমিডিয়েটে যে বুত্তি জুটেছিল, তাও বাবার হাতে লক্ষ্মী মেয়ের মত দিতে হয়েছে। এবার আর নয়। ঘটে বুদ্ধি এসেছে বলেই এখন বাড়ির সবার সামনে বৃত্তির টাকা পাওয়ার খবরটি ফলাও করে বলি, কেবল বাবার সামনে নয়। টাকা হাতে পেয়ে সেঁজুতি প্রেসে দিই। সি কে ঘোষ রোডের ছোটদার এক বন্ধুর প্রেস লিফা প্রিন্টাসের্ দিই। খালেককে বলে কয়ে পিপুলস টেইলার্সের একটি বিজ্ঞাপন আদায় করি। বিজ্ঞাপনের টাকা পেতে পিপুলসে যেতে রিক্সাভাড়া খরচ হতে থাকে, খালেকের দেখা পাওয়া যায় না। সেঁজুতিকে ভুলে থাকার স্পর্ধা করেছিলাম, আসলে তা ছিল নিজের ইচ্ছের সঙ্গে প্রতারণা করা। আর্থিক দৈন্যতায় কুষ্ঠরোগির মত কুঁকড়ে না থেকে প্রচণ্ড দাপটে প্রতিষ্ঠা করছি অনন্ত সুন্দর। বিক্ষোভের ভাষা না শিখে, দুমুঠোয় প্রতিবাদের শ্লোগান না তুলে যে কবি ভীরু কচ্ছপের মত নিজেকে আমূল গুটিয়ে নিয়ে সস্তা আবেগের মদ গিলে কবিতায় মাতলামি করে, আমি সেই স্বার্থলোভি সুবিধাভোগীকে আস্তাকুঁড় দেখিয়ে দেব, সেঁজুতি নয়। যে কবিতায় সাহসী উচ্চারণে লেখা শ্রমজীবী মানুষের জীবন যাপন, আমার নিদ্রার স্নায়ুতে লক্ষাধিক ঘণু ঢেলে প্রচণ্ড ক্ষধুায় গ্যাস্ট্রিক আলসার নিয়েও সংশোধন করব সেই কবিতার প্রুফ। দম্ভ আছে, তা ঠিক। আমার কবিতা, নিজেই লক্ষ করি বদলে গেছে অনেক, রুদ্রর অনুকরণ নয়, রুদ্রর কবিতার প্রখর প্রভাব। পরানের গপ্প নামে নিজের কয়েকটি কবিতা আছে এ সংখ্যায়, কবিতাগুলোয় শ্রমজীবি মানুষের ক্রন্দন, দরিদ্রের হাহাকার আর ধনী শোষকের বিরুদ্ধে তীব্র ঘণৃা থিকথিক করছে। রুদ্রর কটি মানুষের মানচিত্র আছে, আছে তার চৌকিদার।
বনের হরিণ নয়, বাঘ নয়, এত রাতে চৌকিদার চলে।
হোই কে যায়, কে যায়? গঞ্জের বাতাস ফেরে হিম নিরুত্তর,
কে যায়? কে যাবে আর!দশমির অন্ধকার একা একা যায়—
একা একা চৌকিদার আধাঁরের বাঁকে বাঁকে নিজেকে তাড়ায়।
নিজেকেই প্রশ্ন করে কে যায়? কী নাম তোর? কোথায় থাকিস?
কী তুই পাহারা দিবি, জীবনের কতটুকু আগলাবি তুই!
ছিঁচকে সিঁদেল চোর, আর যেই চোর থাকে দিনের আলোয়?
আর যেই চোর থাকে দেহের ভেতর, শরীরের অন্ধকারে?
রাতের আধাঁরে খুঁজে তারে তুই পাবি, চৌকিদার পাবি তারে?
যে চোর পাহারা দেয়, পাহারার নামে করে ভয়ানক চুরি,
চুরি করে মানুষের ঘিল.ু মাংশ.রক্ত.হাড়.বুকের বাসনা,
তারে পাবি, যে তোর জীবন থেকে চুরি করে পূর্ণিমার রাত?
যে তোর জীবন থেকে চুরি করে রৌদ্রময় দিনের খোয়াব,
যে তোর শিশুর স্বাস্থ্য ,দধু ভাত, চুরি করে বোনের সিঁদুর,
তারে পাবি, যে তোর গতর থেকে খুলে নেয় মানব-শরীর?
কিসের পাহারা তবে,কেন তবে রাতভর রাতকে তাড়ানো?
অন্ধকার পৃথিবীতে শুধু কিছু তারা জ্বলে দূরের নক্ষত্র
ঝিঁঝি ডাকে, পাটের পচানি থেকে গন্ধ আনে রাতের বাতাস।
নোতুন কবর খুঁড়ে শেয়ালেরা বের করে আধপচা লাশ
হোই কে যায়, কে যায়…পৃথিবীর অন্ধকারে চৌকিদার চলে।
জীবন এভাবেই যাচ্ছিল, কিছুটা রুদ্রে কিছুটা হাসপাতালে,বইপত্রে, রোগিতে কিছুটা অবকাশের কোলাহলে আর বিষণ্নতায়। এমন সময় একটি খবর আমাকে চমকে দেয়, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছেন চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর কমান্ডার অফিসার মেজর জেনারেল মঞ্জুর। সম্পূর্ণই একটি ব্যথর্ উদ্যোগ। মঞ্জুরের পক্ষে জিয়াকে হত্যা ছাড়া আর কিছু করা অর্জন হয় না। ঢাকা না হয়ে চট্টগ্রাম বলেই হয় না। জিয়া নিজে খাল কেটে কুমির এনেছিলেন প্রচুর, মঞ্জুর নিতান্তই একটি বাচ্চা কুমির। কামড় দিয়েছেন ঠিকই, তবে কিছু দুধের দাঁত ছিল বলে কামড় তেমন লাগেনি। তা না হলে মঞ্জুরই সে রাতে কিছু একটা হয়ে যেতে পারতেন, সামরিক আইন জারি করে দেশের হর্তাকর্তা। কিবস্তু তা না হয়ে ঘটনা ঘটল অন্যরকম, উপরাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতির ভার গ্রহণ করতে হয়। গ্রহণ করা আর দেশ চালানো এক নয়, বুড়োকে সামনে বসিয়ে পেছনে বন্দুকঅলা জোয়ানেরা চালাচ্ছেন দেশ। দেশ কি আর চলছে!দেশ ভাসছে রক্তে। লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীনতার গায়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ, স্বাধীনতার শরীরে কেবল মৃত্যুর গন্ধ। বাবাকে যদি জিয়াউর রহমানের সুরতহাল রিপোর্ট দিতে হত, তিনি বুলেট কটি গায়ে, হিশেব নিতেন। কি ধরনের বন্দুকের কি ধরনের গুলিতে কতটা দূর থেকে কতবার গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলতে পারতেন। বাবা নিজের মন্তব্যে লিখতেন, ইহা সুইসাইড নহে, ইহা হোমিসাইড। যদি এই দেশটির সুরতহাল রিপোর্ট লিখতে বলা হয়, তবেও তো এরকম হোমিসাইড জাতীয় কিছু লেখা যায়। লেখা যায় আততায়ীরা দেশটির বক্ষ লক্ষ করে গুলি ছুঁড়ছে, ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে দেশটির পাঁজর। পাঁজরের হাড়গুলো ভেঙে গেছে, মাংস ছিদ্র হয়ে গুলি ঢুকে গেছে ভেতরে, হৃদপিণ্ড থেমে আছে। থেমে আছে অনেক অনেকদিন।
