হাসিনার খসখসে কণ্ঠটি তেতে ওঠে, তা তো বুঝলাম, কিন্তু আমি বলতাছি তৃপ্তির কথা, পাই না কেন!
হাতে কলম আমার, কলমটি দ্রুত নড়ে, কলমটি একবার গালে, একবার চিবুকে, একবার চুলে।
ইজাকুলেশন কি হয়?
বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে পা নাড়তে নাড়তে নিজের কর্কশ কণ্ঠটি থেকে চেষ্টা করে ফিসফিস আওয়াজ বের করতে ,পারে না। যে কোনও শব্দই তার গলা থেকে ঢোল বাজিয়ে বের হয়। কেউ যেন আচমকা ঘরে না ঢুকে এই গোপন কথা না শোনে, শব্দও যেন ঘরের বাইরে কম যেতে পারে, ভেতর থেকে ছিটকিনি এটেঁ দিই দরজায়।
ইজাকুলেশন কি?
সিমেন সিক্রেশান।
সিমেন কি?
কও কি? সিমেন বুঝো না? মেইল অরগানের যে সিক্রেশান, সেইটারে সিমেন বলে।
ওইটা হয়।
তাইলে ত কোনও অসুবিধা দেখতাছি না।
হাসিনা হতাশার শ্বাস ফেলে চলে যায়। চিকিৎসাবিদ্যার বই ঘেঁটে হাসিনার প্রশ্নের কোথাও কোনও উত্তর আছে কি না খুঁজি। সেক্সুয়াল রিলেশান সম্পর্কে যত কথা আছে সব সারারাত ধরে পড়ে পরদিন বিনে পয়সায় ডাক্তারির উপদেশ দেওয়ার জন্য তাকে ডাকি। হাসিনা দৌড়ে আসে উপদেশ লুফে নিতে। যত লজ্জা ছিল ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে আমি যেন দাদার বোন নই, হাসিনাার ননদ নই, একজন ডাক্তার কেবল, এভাবে জিজ্ঞেস করি,— আচ্ছা, তোমার স্বামীর কি ইরেকশান হয়?
তা হয়। হবে না কেন?
তোমার কি ভ্যাজাইনাল সিক্রেশান হয়?
ভ্যাজাইনাল সিক্রেশান মানে কি?
মানে তোমার ভ্যাজাইনা থেকে কি কিছু নির্গত হয়?
হ। সেইটা হয়।
প্রিম্যাচিয়র ইজাকুলেশন হয় কি? মানে ইরেকশানের পরই সিমেন বার হয় কি?
না না সেইরকম কিছু হয় না। টাইম তো অনেকক্ষণ নেয়। বরং আগের চেয়ে বেশি। কিন্তু তৃপ্তি পাই না।
তোমার কি ডিসপেরিনিয়া আছে? মানে কপুলেশানের সময় কি তোমার পেইন হয়? না।
ভ্যাজাইনিসমুস আছে কি? মাসল স্পাসম বেশি হওয়ার কারণে তা হয়। অথবা হাইপোথাইরোডিসম থাকলে সেক্সুয়াল ডিসফাংশান হইতে পারে।
তা তো জানি না, সব আগের মতই আছে, খালি এই দু সপ্তাহ হইল এই সমস্যা হইতাছে।
শুন, হাইপোথ্যালামাস নামে একটা জিনিস আছে, সেইটা ব্রেইন এর থার্ড ভেন্ট্রিক্যালের লোয়ার পাটের্ থাকে। এই হাইপোথ্যালামাসের সঙ্গে পিটিউটারি গ্ল্যান্ডের কানেকশান আছে। বাদ দেও, তোমারে সংক্ষেপে বলি, গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হরমোন হাইপোথ্যালামাস থেইকা আইসা পিটিউটারি গ্ল্যান্ডরে স্টিমুলেট কইরা লিউটিনাইজিং হরমোন আর ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন সিত্রে²ট করাচ্ছে। লিউটিনাইজিং হরমোন আবার টেসটিসের লেইডিগ সেলকে স্টিমুলেট করে টেস্টোস্টেরন রিলিজ করাচ্ছে। ওদিকে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন সেমিনিফেরাস টিবিউলসের সেলকে স্টিমুলেট করছে। এইভাবে স্পার্ম ডেভেলপ হচ্ছে। এসবের কোনও ফাংশানে যদি এবনরমালিটি দেখা দেয় তাইলে সেক্সুয়াল ডিসফাংশান হবে।
ডিসফাংশানের কিছু নাই। সব ফাংশান ঠিক আছে।
ঠিক থাকলে অসুবিধা কোথায়?
মিলনের সময় যে ফিলিংস, সেইটা পাইতাছি। কিন্তু একটা তৃপ্তি আসে একসময়, সেইটা আসতাছে না।
পার্থক্যটা কি?
মিলনের সময় একটা সুখ পাই। আর ওইটার সময় আরেক রকম। মিলন হওয়া আর ওইটা পাওয়া এক না।
তোমার পার্টনারও কি পায় না, যা পাওয়ার কথা বলতাছ?
আরে সে তো পায়ই।
সে পাইলে তুমি পাইবা না কেন?
তার পাওয়া আর আমার পাওয়া এক না।
এক হবে না কেন? জিনিসটা তো দুইজনের ব্যাপার।
এক না তো বললাম।
এইটা কোনও কথা হইল, এক হবে না কেন? ইরেকশান হইতাছে, এইদিকে ভ্যাজাইনাল সিক্রেশান ঠিক আছে। তার মানে হরমোনের একটিভিটিসগুলা ঠিক আছে। প্রিম্যাচুয়র ইজাকুলেশনও হয় না। তাইলে তো আমি কোনও সমস্যা দেখতাছি না।
আছে সমস্যা। কোথাও নিশ্চয় কোনও সমস্যা আছে। তা না হইলে আমি ওইটা পাইতাছি না কেন?
আবারও বই ঘেঁটে নতুন কিছু উদ্ধার করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না।
হাসিনা আশা ছেড়ে দিয়ে বলে, আমাকে গাইনির ডাক্তারের কাছে নিয়া চল।
হাসিনাকে গায়নোকলোজির অধ্যাপক, চরপাড়ায় নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখেন, আনোয়ারুল আজিমের কাছে নিয়ে যাই। ডাক্তারের সঙ্গে সে একা কথা বলে অনেকক্ষণ। বেরিয়ে আসে সমাধান-পাওয়া-হাসি মুখে নিয়ে।
জিজ্ঞেস করি, কি বলল ডাক্তার?
হাসিনা হাসল, দেঁতো হাসি সারা মুখে, রহস্যের এক পুকুর জলে টুপ করে ডুব দিয়ে বলল, তুমি বুঝবা না।
১৪. সুরতহাল রিপোর্ট
তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে যায় আমার। এই বষের্ বিষয়গুলো তেমন কঠিন কিছু নয়। ফার্মাকোলজি আর জুরিসপ্রুডেন্স। তবে পাশাপাশি সার্জারি মেডিসিন গায়নোকলজির ক্লাসও হচ্ছে, কেবল ক্লাস নয়, হাতে ধরে শেখা, টিপে টুপে চেপে চুপে শেখা, ঘাঁটাঘাঁটি করে শেখা। বর্হিবিভাগেও রোগী পড়তে যেতে হচ্ছে। চক্ষু কণর্ নাসিকা দন্ত যৌন চর্ম ইত্যাদি নানা বিভাগে কেবল ঢুঁ নয়, ওখানেও ঘাঁটাঘাঁটি। একা থিওরেটিক্যাল নলেজ এ কচু হবে, প্র্যাকটিক্যাল নলেজই হল আসল। মেডিকেল কলেজের ল্যাবরটরি হচ্ছে হাসপাতাল, এই ল্যাবরটরির জিনিসগুলো হচ্ছে মানুষ,শবব্যবচ্ছেদ কক্ষের মরা-মানুষ নয়, জীবিত মানুষ। তোমার আমার মত মানুষ। সারি বেধে বিছানায় শুয়ে থাকা, বিছানা না পেলে মেঝেয় শুয়ে থাকা মানুষ, ককাতে থাকা, কাতরাতে থাকা,গোঙাতে থাকা চেঁচাতে থাকা, ঝিম মেরে থাকা, হাতে স্যালাইন পায়ে স্যালাইন মুখে অক্সিজেনের নল মাথার কাছটা উঁচু করে রাখা বিছানায় চোখ উল্টো পড়ে থাকা মানুষ। এদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে, কি কষ্ট, কবে থেকে কষ্ট, কি রকম সেই কষ্টের চেহারা, ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়, কখন শুরু হয়,কোথায় কখন শেষ হয়, আগে এরকম কোনও কষ্ট উদয় হয়েছে কি না, এই কষ্ট ছাড়া আর কোনও কষ্ট আছে কি না কোথাও, আত্মীয় স্বজনের কারও এই কষ্ট আছে কি না, কখনও ছিল কি না ইত্যাদি ইত্যাদি। ইত্যাদি তথ্য নথিবদ্ধ করার পর আমাকে খালি চোখে দেখতে হবে কষ্টের জায়গাটি দেখতে কেমন, হাত দিতে হবে জায়গাটিতে, হাত দেওয়ারও নিয়ম আছে, সবগুলো আঙুলের মাথা দিয়ে চেপে চেপে এক কোণ থেকে আরেক কোণে যেতে হবে,অনুভব করতে হবে ঠিক কি রকম এই কষ্টের জিনিসটি, একটি গোলআলুর মত নাকি একটি তরমুজের মত এর আকৃতি, আমাকে অনুভব করতে হবে আশে পাশে নড়ছে কি না নাকি জগদ্দল পাথরের মত স্থির হয়ে আছে জিনিসটি, হাতে চাপ দেওয়ার সময় আমার এক চোখ থাকা চাই পেটের দিকে, আরেক চোখ রোগীর চোখে, দেখতে হবে রোগী চোখ কুঁচকোচ্ছে কি না ব্যথায়, কি থেকে এই গোলআলু বা তরমুজের উৎপত্তি হল তা বুঝতে আমাকে পেটের সর্বত্র দেখতে হবে যে জিনিসগুলো আছে পেটে তা ঠিক ঠিক আছে কি না, ডানদিকে চেপে চেপে লিভার, পেটের দু কিনারে কিডনি। এরপর বাঁ হাত পেটের ওপর রেখে পেটের আগাপাস্তলা দেখতে হবে ডান আঙুলে সেই হাতের ওপর টোকা মেরে, কি রকম শব্দ আসছে, এ কি জলের শব্দ, না কি মনে হচ্ছে কোনও কাঠের ওপর বা পাথরের ওপর টোকা দিচ্ছি। এরপর পকেট থেকে স্টেথোসকোপ বের করে কানে শুনতে হবে কি রকম শব্দ আসছে, পেটের নালি থেকে ভুরুৎ ভুরুৎ শব্দ আসা মানে নালির কাজ নালি করে যাচ্ছে, শব্দ না আসা মানে কোথাও বাধা পড়েছে চলাচল, কোথায় বাধা পড়েছে, তাহলে কি এই রোগটির নাম ইনটেসটিনাল অবস্ট্রাকশান! গোলআলুর মত যে পিণ্ডটি সেটি কি নালি পেঁচিয়ে জড়ো হয়ে যাওয়া কিছু তা যদি না হয় নালির ভেতর কি মল জমে পিণ্ড তৈরি করেছে, নাকি কৃমি! কেবল এটুকু করে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে ডায়াগনোসিস লিখে দিলে হবে না। রোগীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত পরীক্ষা করতে হবে। স্নায়ুতন ্ত্র ঠিক ঠিক আছে কি না, রোগীর ভেতরের সমস্ত প্রত্যঙ্গ এবং প্রণালি ঠিক কি না, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস সব ঠিক ঠিক চলছে কি না সব। আঙুলে যনণ্ত্রা নিয়ে কোনও রোগী এলেও মাথা থেকে পা পর্যন্ত পরীক্ষা করতে হবে। সার্জারি বর্হি িবভাগে সার্জারি ক্লাস করতে প্রথমদিন ঢুকেই দেখি লুঙ্গি খোলা এক লোক বিছানায় শুয়ে আছে। বর্হিবিভাগের ডাক্তার লোকের নিম্নাঙ্গর অসখু সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দেবেন। অসখু টির নাম হাইড্রাসিল। পুরুষাঙ্গের নিচের থলেতে জল জমে কুমড়োর মত ফুলে উঠেছে। ডাক্তারের উপদেশ হচ্ছে ফুলে ওঠা জিনিসটিতে তাকিয়ে থাকো। আমার চোখ বার বার সরে আসে কুমড়ো থেকে। সরে আসে বলেই সম্ভবত তিনি আমাকেই ডাকেন জিনিসটি হাতে ধরে পরীক্ষা করতে, ডাক্তারের জিজ্ঞাসা কনসিসটিনসি দেখ। আমি এক পা যাই তো দু পা পেছোই। কিন্তু উপায় নেই গোলাম হোসেন! তোমাকে স্পর্শ করতেই হবে জিনিসটি। দুহাতে ধরে চেপে চুপে আমাকে বলতে হচ্ছে থলেটি নরম নাকি শক্ত বোধ হচ্ছে। এরপর হাত রেখে হাতের পিঠে টোকা দিয়ে ঢুপ্পুস ঢপ্পুুস শব্দ শুনে বলে দিচ্ছি ভেতরে জল আছে। লোকটি, বয়স ত্রিশ পঁয়ত্রিশ হবে এদিক ওদিক সরিয়ে নিচ্ছিল শরীর। একটি মেয়ে তার গোপনাঙ্গ ঘাটাছে, লোকটির জন্য ঘটনাটি অস্বস্তিকর বটে। কিন্তু লোকটিকে গা পেতে দিতেই হয়। ডাক্তার অথবা হতে-যাওয়া-ডাক্তারদের কাছে লজ্জার কিছু নেই। চর্ম ও যৌনবিভাগের বর্হিবিভাগে রোগীদেরও লজ্জা ভেঙ্গে জীবনের গোপন কাহিনী আর কারও কাছে না বলুক আমাদের কাছে বলতে হয়। যৌনবিভাগের ডাক্তার শিখিয়ে দিচ্ছেন রোগীর পেট থেকে কি করে কথা বের করতে হয়। পুরুষাঙ্গে ঘা নিয়ে রোগি এল, ডাক্তারের প্রশ্ন কি, বাইরের মেয়েমানুষের সাথে মেলামেশা করেন নাকি? রোগী প্রথম বলবে না। কোনওদিন না। মেলামেশা যা করার সে তার বউএর সঙ্গে করে, আর বউ যদি তার না থাকে তবে তো কোনওরকম মেলামেশার প্রশ্ন ওঠে না। এরপর সত্য কথা না বললে যে চিকিৎসা হবে না সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলে লোক অনেকক্ষণ সময় নেয়, মাথা চুলকোয়, ঠোঁটে একটি না হাসি না কান্না ঝুলিয়ে বড় একটি শ্বাস নিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে বলেই ফেলে যে সে মেলামেশা করে অর্থাৎ গণিকাসঙ্গমে অভ্যস্ত সে। ডাক্তার বলেন, লিখে দাও হিস্ট্রি অব এক্সপোজার আছে। রক্তের ভিডিআরএল করতে পাঠিয়ে দাও। লিখে দিলে লোক কাগজ হাতে নিয়ে চলে যায়। পরীক্ষার ফল নিয়ে আসার পর ওষধু লেখা হবে। যৌন বহির্বিভাগে বসে মেলামেশা শব্দটি আমাদের রপ্ত করতে হয়। এসব রোগী আমরা দূর থেকে দেখি, ছুঁতে নেই, নোংরা সংক্রামক জিনিস কখনো ছুঁতে নেই, তাই রোগীর হাওয়াও যেন শরীরে না লাগে এমন দূরে নিরাপদে দাঁড়াতে হয় আমাদের। ডাক্তার রোগীর শরীর স্পর্শ করার প্রয়োজন মনে করলে হাতে গ্লাবস পরে নেন। সিফিলিস গনোরিয়ার রোগীরা দেখতে কৎু সিত, দাঁতাল, চোখে শেয়ালের চাউনি, দেখেই বলে দেওয়া যায় যে লোকের পুরুষাঙ্গের ঘাটি সিফিলিসের ঘা। ঘরে বউ আছে এমন লোক এসে যখন চিকিৎসা নিয়ে যায়, ডাক্তার বলে দেন, বউকে নিয়ে এসে চিকিৎসা করিয়ে যেতে। তারা কথা দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ রোগিই বউ নিয়ে দ্বিতীয়বার আসে না। তারা কথা দেয় কসম কেটে বলে জীবনে আর গণিকাসঙ্গমে যাবে না। কিন্তু এক রোগী আবারও আসে আবার সিফিলিসের ঘা নিয়ে। ঘরের নিরীহ বউদের কথা ভেবে এইসব দাঁতাল গুলোর ওপর আমার রাগ হয়। ডাক্তারকে একবার বলেও ফেলেছিলাম, এদেরকে জেলে পাঠানো যায় না? নিশ্চয়ই বউগুলো চিকিৎসাহীন থেকে থেকে নিউরোসিফিলিস বাধাঁচ্ছে। কে শোনে আমার কথা, ডাক্তারের কাজ ডাক্তারি করা। সিফিলিসের ঘা নিয়ে হঠাৎ হঠাৎ মেয়ে-রোগিও আসে। রোগ এসেছে স্বামীর কাছ থেকে। মেয়ের তো বটেই, কোলের বাচ্চার রক্ত পরীক্ষা করেও দেখা যায় ভিডিআরএল পজেটিভ। এই রোগীদের চিকিৎসা যখন দিই, সঙ্গে একটি উপদেশও জোর গলায় দিই, বদমাইশ স্বামীর সঙ্গে আপনি আর থাইকেন না। আপনের স্বামী আপনের সর্বনাশ করছে, স্বামীরে আপনি তালাক দেন। এরা আমার উপদেশ কতটা মানে তা আমার জানা হয় না, কিন্তু উপদেশটি না দিয়ে আমি পারি না।
