দাদার সাজানো ঘর, বিছানায় ছড়ানো লাল গোলাপের পাপড়ি, ওর মাধ্যে লাল বেনারসি পরা বউ বসেছে। দাদা এঘর ওঘর করেন। দাদাকে দেখে আগের দাদাই মনে হয়, কিন্তু আবার ভাবি এ দাদা আগের দাদা নয়, এ বিবাহিত দাদা। ঠোটেঁ একটি কাঁপা কাপাঁ বিব্রত হাসি লেগে থাকে দাদার। রাতে সোফায় বসে পা নাড়ছিলেন তিনি, বাবা অন্যদিনের মতই বললেন, অনেক রাত হইছে, যাও শুইয়া পড় গিয়া। দাদা শুতে যাবেন তাঁর ঘরে, আগের রাতেও একা শুয়েছেন, আজ তাঁর বিছানায় আরেকজন, যার সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়নি, প্রেম হয়নি। আমি ভাবছিলাম কি কথা বলবে দুজন! দুটো অচেনা মানুষ! ইচ্ছে করে দাদার ঘরের দরজায় কান পেতে শুনি কী হচ্ছে ভেতরে! দাদা যদি বউএর কোনও খুঁত আবিষ্কার করেন এই রাতে, তবে আবার রাতেই সোফায় এসে বসে থাকেন কি না। অনেক রাত অবদি বিষম কৌতূুহলের যনণ্ত্রায় আমার ঘুম হয় না।
সকালে দাদা বেরোলেন আগে, পেছন পেছন হাসিনা। দাদার লজ্জা লজ্জা মখু , পেছনে হাসিনার নির্লজ্জ হাসি। বাড়ির সবার চোখ দুজনের মুখে।
ছোটদা চোখ নাচিয়ে বললেন কী বৌদি, নাকের ফুল খুলছিলা রাতে?
হাসিনা খসখসে গলায় বলল কিছু হয় নাই তো।
জিজ্ঞেস করি, নাকের ফুল খুলতে হয় কেন?
হাসিনা আমার পিঠে খোঁচা মেরে বলল, বিয়ের রাতে খুলতে হয়।
কেন খুলতে হয়?
জানো না?
না তো!
ওইগুলা হওয়া মানেই নাকের ফুল খোলা।
ওইগুলা কোনগুলা?
হাসিনা জোরে হাসল।
নিজেকে খুব বোকা মনে হয় আমার। হাসিনা খুব সহজে সহজ হয়ে যায়। ছোটদা বয়সে অনেক বড় হলেও ছোটদাকে দিব্যি নাম ধরে ডাকতে শুরু করেছে। গীতাকেও। অবলীলায় তুমি সম্বোধন করছে। সে বড় বউ বলেই নাকি দাদার যারা ছোট, তাদের তার ছোট হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। হাসিনাকে অবাক হয়ে দেখি, আমার মনে হয় না মুমিনুন্নিসা কলেজে পড়া এটি সেই মেয়ে, যে মেয়েটিকে দূর থেকে দেখতাম হাঁটছে চত্বরে, নাফিসার সঙ্গে হাতে হাত ধরে।
আনুর মা, বাড়ির নতুন কাজের মহিলা, বালতিতে পানি নিয়ে ঘর মুছতে এল, বললাম, দেখছ নতুন বউরে?
বউএর শইলে তো গোসত নাই।
তা ঠিক, হাসিনার শরীরে মেদমাংসের অভাব, আমার যেমন।
আর বউ তো সকালে গোসলও করল না, কাপড়ও লাড়ল না !
কেন, এই শীতের সময় সকালের ঠাণ্ডা পানিতে কেউ কি গোসল করে নাকি!
হ। সকালে ঘুম থেইকা উইঠাই গোসল কইরা,শইলের কাপড় ধইয়া পরে ঘরে যাইতে হয়।
কেন, দুপুরে গোসল করলে হয় না? আর কাপড় না ধইলে হয় না?
আনুর মা সজোরে মাথা নাড়ে, নিশ্চিত কণ্ঠে বলে, না।
কৌতূুহল আমাকে গ্রাস করছে। হাসিনাকে বলি, কী নাকি গোসল করতে হয়, আর কাপড় ভিজাইতে?
হাসিনা বলল, ওইগুলা হইলে হয়।
ওইগুলা কোনগুলা?
হাসিনা এবারও জোরে হাসল। আমার জানা হল না ওইগুলা কোনগুলা। হাসিনা আর আমি যদিও মুমিনুন্নিসা কলেজে এক বর্ষেই পড়েছি, তাকে আমার মোটেও বান্ধবী গোছের কিছু বলে মনে হয় না, বরং দাদার বউ বলেই মনে হয়। দুদিন পর বউভাতের অনুষ্ঠান। দাদা সকাল থেকে বিসমিল্লাহ খাঁর সানাই চালিয়ে দিয়েছেন ক্যাসেটে। এক পাশ শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে উল্টো দিয়ে যান ক্যাসেট, সানাই বেজে চলে সারাদিন। সপুুরুষ দাদা দামি স্যুট পরেছেন, পায়ে বিদেশি জুতো, মেইড ইন ইটালি। মাঠে বিশাল শামিয়ানার নিচে টেবিল চেয়ার পেতে দেওয়া হয়েছে। ভেতরের উঠোনেও। টিনের ঘরের পাশে বিশাল গতর্ খুঁড়ে বাবুর্চিরা বিশাল বিশাল পাতিলে বিশাল বিশাল চামচে নেড়ে নেড়ে পোলাও মাংস রান্না করছে। হাসিনা বউভাতের নতুন শাড়ি পরে বিছানায় মাথা নুইয়ে বসে আছে। অতিথি আসছে উপহার নিয়ে, অতিথি বলতে আত্মীয় স্বজন, দাদার বন্ধু বাবার বন্ধু ছোটদার বন্ধু, আমার আর ইয়াসমিনের কিছু বান্ধবী। কেউ একজন কাগজে লিখে রাখছে উপহারদাতা বা দাষনীর নাম উপহারগুলো এক কোণে জমিয়ে রাখছে। অতিথিরা বউএর মখু দেখে এক এক করে খেতে চলে যাচ্ছে; পুরুষেরা মাঠে, মেয়েমহিলা উঠোনে। দুপুর থেকে বিকেল অবদি এই চলে। ভিড়ের মধ্যে আমার হাঁসফাঁস লাগে। রাত্তিরে ভিড় কমে আসে। তখন উপহার খোলার পালা। কাচের বাসনপত্র, পিতলের কলস, ঘড়ি, শাড়ি, সোনার গয়না ইত্যাদি উপহারে ঘর ভরে ওঠে। দাদা উপহারগুলো নিয়ে নিজের ঘরে গুছিয়ে রাখেন।
মাস গেলে হাসিনা আমার কাছে তার একটি সমস্যার কথা বলতে আসে। সমস্যাটি এক আমার কাছে ছাড়া আর কারও কাছে বলা যাবে না। সমস্যাটি কি? হবু ডাক্তার কান পাতে।
বিয়ের প্রথম প্রথম স্বামী স্ত্রীর মিলনের সময় আমি একটা জিনিস পাইতাম, সেইটা আজকাল আর পাইনা।
মিলন শব্দটি শুনে কান লাল হয়ে ওঠে। কানকে আমি যথাসম্ভব বাদামিতে ফিরিয়ে বলি,—কি জিনিস পাইতা?
একটা তৃপ্তি।
আগে পাইতা এখন পাও না, কেন?
তাই তো আমার জিজ্ঞাসা, পাই না কেন?
ইন্টারকোসর্ হইলে তো মেইল অরগান থেকে মানে টেসটিসের পেছন দিকের কয়েল্ড টিউব এপিডিডাইমিস থেকে ভাস ডিফারেন্স হয়ে স্পার্ম চলে যায় ব্লাডারের ওপর দিয়ে ব্লাডারের পেছনেই সেমিনেল ভেসিক্যাল নামের গ্ল্যান্ডে, সেমিনেল ভেসিকেলে সেমিনেল ফ্লুইডএর সাথে মিক্সড হয়ে সিমেন ফর্ম কইরা স্পার্ম ইউরেথ্রা দিয়া পাস করে।
আমি একটি কলম নিয়ে শাদা কাগজে ছবি এঁকে স্পার্মের গতি প্রকৃতি বুঝিয়ে দিই হাসিনাকে। এই হল টেসটিস, এই সেমিনাল ভেসিক্যাল, ভাস ডিফারেন্স, এই হল ইউরিনারি ব্লাডার, এই প্রসটেট, এরপর তীর চিহ্ন দিই ইওরেথ্রার দিকে।
