এই রাতেও রুদ্র বাড়ি ফিরে আমাকে লক্ষীটি একটু সহজ হও, এত শক্ত করে রেখো না, একটু নরম করো শরীর বলে বলে প্রশস্ত করা পথে প্রবেশ করে। অন্ধকার ঘরটি চোখ বুজে থেকে আরও অন্ধকার করে আমি যখন রুদ্রর দেওয়া যন্ত্রণা শরীর পেতে নিচ্ছি, নিচ্ছি—হঠাৎ সারা শরীরে এক তীব্র ভাল লাগা মাথা থেকে পা অবদি বিদ্যুতের মত ছড়িয়ে যায়। আমি সেই বিদ্যুৎ-চমকে রুদ্রর পিঠ খামচে ধরি দশ নখে। হাপাঁতে থাকি, হাপাঁতে হাপাঁতে বলি, কি হল!
কি হল তার কিছু বলে না রুদ্র। আমার সোনা আমার মানিক আমার লক্ষ্মী বউ বলতে বলতে সে আমার ওপর এলিয়ে পড়ে। রাতে একবার নয়, বহুবার সে আমাকে তীব্র সুখ দেয়। এই সুখে যন্ত্রণার স্নায়ু নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। আমি সুখে, শীর্ষসুখে কাতরাতে থাকি। কাতরানো আমি একসময় লক্ষ করি রুদ্র আমার পাশে নেই। অনেকক্ষণ সে আমার পাশে নেই।
কোথায় তুমি!
অন্ধকারে লাল একটুকরো আগুন জ্বলছে। আগুনটি নড়ছে।
শোবে না?
আসছি।
লাল আগুন নিবে যায়, সিগারেট শেষ হয়ে যায় খাওয়া, রুদ্র তবু শুতে আসে না। আমার আবেশে অবশ তনু চাইছে তাকে নিবিড় করে কাছে, একটি হাত ফেলে রাখি তার বালিশে, এলে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোবো বাকি রাত, তার শরীরের ঘ্রাণ নিতে নিতে ঘুমোবো। আবারও ডাকি, কই গেলে!
ডেটলের গন্ধ ঘরে।
কি ব্যাপার ডেটলের গন্ধ কেন!
ডেটল লাগাচ্ছি আমি। অন্ধকার থেকে রুদ্রর কন্ঠ।
কেন, কি হয়েছে?
শরীরে চুলকোনি হয়েছে।
তা হলে বুঝি ডেটল লাগাতে হয়!
মলমও দিচ্ছি।
কি মলম?
জানি না।
আলোটা জ্বালো তো, দেখি কোথাও চুলকোচ্ছে, কি মলম লাগাচ্ছে! দেখি। রুদ্র আলো জ্বেলে আসছি বলে মলম নিয়ে চলে গেল পেচ্ছাবখানায়। আলোর নিচে আলথুালু শাড়ি গুছিয়ে বসে থাকি অপেক্ষায়। রুদ্র এলে হাত পা দেখি, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি, কোনও স্ক্যাবিসের চিহ্ন নেই।
কোথায় চুলকোচ্ছে?
রুদ্র কথা না বলে আলো নিবিয়ে শুয়ে পড়ে। পাশে শুয়ে, তার বুকের ওপর একটি হাত রেখে বলি, স্ক্যাবিস তো দেখছি না।
আছে।
কোথায়?
হয়েছে ওই জায়গায়।
ওই জায়গা কোন জায়গা?
পেনিসে হয়েছে।
কোথায়?
পেনিসে।
ডেটল দিচ্ছ কেন?
ডেটল দেওয়া ভাল তো।
কোনও ডাক্তার বলেছে দিতে?
না।
মলম দিয়েছে কে? কোনও ডাক্তার?
না। নিজে কিনেছি।
এই মলম কি কাজে দেবে?
জানি না।
তাহলে দিচ্ছ কেন! পারমেথ্রিন মলম লাগাতে হয় স্ক্যাবিস হলে। খুব চুলকোয় কি?
হ্যাঁ চুলকোয়। আবার গোটা হয়েছে।
ছোট?
অত ছোট না।
বড় হওয়ার তো কথা নয়। বড় হবে কেন?
বড়ই।
ডাক্তারি উৎসাহে উঠে বসে, আলো জ্বেলে, বলি, দেখি তো কিরকম!
রুদ্র নিচের দিকে নামাতে থাকে লুঙ্গি। লোমশ শরীর আরও লোমশ হয়ে আসছে নিচে, লোমশ হতে হতে একটি শীতল পুরুষাঙ্গ। পুরুষাঙ্গের গোড়ায় একটি লাল ফুল। এই বাসরশয্যায় আমার প্রথম রাত্রিযাপনে কেউ কোনও ফুল বিছিয়ে দেয়নি। না গোলাপ,না গাঁদা, না জবা, না জুঁই। রুদ্রর পুরুষাঙ্গের ফুলটিই আমাকে ফুলশয্যা দেয়। কিন্তু এরকম পুরুষাঙ্গ আমি অনেক দেখেছি। পুরুষাঙ্গের এই ঘা খুব চেনা ঘা। হাসপাতালে, যৌনরোগ-বহির্বিভাগে পুরুষ-রোগীরা লুঙ্গি নিচের দিকে নামিয়ে ঠিক এমন ঘা ই দেখায়, যে ঘাগুলোকে যৌনরোগের ডাক্তার সিফিলিসের ঘা বলে চিহ্নিত করেন, যে ঘাগুলো নিরাপদ দূরত্ব থেকে অনেক দেখেছি। রুদ্রর ঘা যদিও সিফিলিসের ঘা এর মত দেখতে, কিন্তু একটি ঘা অন্য একটি ঘা এর মত দেখতে তো হতে পারে! নিশ্চয়ই অনেক নিরীহ ঘা আছে, দেখতে অন্য কুৎসিত ঘা এর মত। নিশ্চয়ই আছে, মন বলে, আছে।
কবে হয়েছে এটি?
এই তো দশ বারোদিন আগে।
রক্ত বেরোয়?
না।
রুদ্রর আর যে রোগই হোক, সিফিলিস হওয়ার কোনও কারণ নেই। আমি অন্য অন্য রোগের কথা ভাবতে থাকি। এ কি একজিমা নাকি সোরিওসিস! নাকি পিনাইল প্যাপিউলস! নাকি রেইটারস সিনড্রাম! নাকি পেমফিগাস!
পেইন আছে?
রুদ্র মাথা নাড়ে। নেই।
এই নেইটিই অন্য সব সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়। সিফিলিসের ঘাএ কোনও ব্যথা থাকে না।
পেইন কি একটওু নেই?
ভাবছে রুদ্র। ভাবো রুদ্র, আরও ভাবো, আরও একটু ভাবলে তুমি নিশ্চয়ই মনে করতে পারবে যে তোমার ব্যথা আছে।
রুদ্র মাথা নাড়ে আবারও। নেই।
আচ্ছা তুমি কি কোনও অচেনা লোকের কোনও নোংরা বিছানায় শুয়েছো? তোয়ালে ব্যবহার করেছো কারও!
মাথা নাড়ে এবারও। না।
রাজিয়া বেগম নামের এক লেখিকা চা বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার জন্য সিলেটের চা বাগানে তিন মাস ছিলেন। এরকম কি হতে পারে রুদ্র কোনও কবিতা লিখতে, বা কোনও গল্প, কোনও গল্পের প্রয়োজনে কোনও গণিকালয়ে গেছে, সেখানে কিছু ব্যবহার করেছে, তোয়ালে বা কিছু। পেচ্ছাবখানায় কিছু ছুঁয়েছে, ওসব জায়গা থেকে হাতে এসে লেগেছে সিফিলিসের জীবাণু ট্রিপোনেমা পেলিডাম। যদিও জানি ওভাবে সিফিলিস ছড়ায় না, তবু জিজ্ঞেস করি, যদি ছড়ায়! যদি কোনও না কোনও ভাবে কোনও ফাঁক ফোকড় দিয়ে প্রবেশ করে!
তুমি কি কোনও কারণে প্রস্টিটিউশানে গিয়েছো। ধর লেখালেখির কারণে বা কিছু?
কেন, না তো!
কক্ষনো যাওনি?
নাহ।
আমি খুঁজছি আরও আরও কারণ, এরকম দেখতে ঘা এর অন্য কারণ। খুঁজছি। খুঁজছি। রুদ্রর তো এই প্রথম কারও সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক, আমার যেমন। এমনই তো হওয়ার কথা। ভালবাসার নিয়মই তো এমন। যাকে ভালবাসি, তার জন্য শরীর খানা তোলা থাকে। শরীরের গোপন গভীর সখু গুলো তোলা থাকে। রুদ্রর ঘা-টির দিকে তাকিয়ে থাকি। তবে কেন এই ঘা? এই ঘা তো আর কোনও ঘা এর মত লাগছে না! হারপেস সিম−প্লক্স, বা জেনিটাল ওয়ার্টস যদি হয়, সেও তো সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ! ধরা যাক এটি সিফিলিস, কিন্তু সিফিলিস রুদ্রর শরীরে কোন পথে ঢুকবে! সে যদি কোনওদিন কোনও গণিকালয়ে না যায়! গভীর ভাবনায় মগ্ন আমি। ঘা-টিকে ছুঁয়ে দেখি, ডান থেকে দেখি, বাঁ থেকে দেখি। ঘা এর আকার আকৃতি দেখি। রং দেখি।
