খেয়াল করো, এখানে সন্তান জন্মদানের কথা বলা হচ্ছে না কিন্তু। মৌচক নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে।
Karl Von Frisch আমাদের জানিয়েছেন, মৌচাক নির্মাণের কাজ করে থাকে স্ত্রী মৌমাছি। এখন আমাদের দেখতে হবে কুরআন কোন মৌমাছিকে এই নির্দেশ দিচ্ছে। স্ত্রীর মৌমাছিকে? নাকি পুরুষ মৌমাছিকে?
যদি পুরুষ মৌমাছিকে এই নির্দেশ দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে কুরআন ভুল। আরবি ব্যাকারনে পুরুষ মৌমাছি কে মৌচাক নির্মাণ কাজের নির্দেশ দিতে যে ক্রিয়া ব্যবহৃত হয় তাহলো ‘ইত্তাখিজ’ আর কি স্ত্রী মৌমাছিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ‘ইত্তাখিজি’।
অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, কোরআন এই আয়াতে মৌমাছিকে নির্দেশ দিতে ‘ইত্তাখিজ’ ব্যবহার না করে, ‘ইত্তাখিজি’ ব্যবহার করেছে। মানে, এই নির্দেশটা নিঃসন্দেহে স্ত্রী মৌমাছিকেই দিচ্ছে, পুরুষ মৌমাছিকে নয়।
বলতো দেবাশীষ, এই সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক ব্যাপারটি, মুহাম্মদ সা. কোন সম্পর্ক রাখে কোন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন? এমনকি, শেক্সপিয়ারের সময়কালেও যেখানে এটা নিয়ে ভুল ধারণা প্রচলিত ছিল?’
দেবাশীষ চুপ করে আছে। আর বলতে লাগল, -‘শুধু এই আয়াতে নয়, এরপরের আয়তে আছে ‘অতঃপর, শোষণ করে নাও প্রত্যেক ফুল থেকে, এবং চল স্বীয় রবের সহজ সরল পথে।’
চোষণ বা পান করার ক্ষেত্রে আরবিতে পুংলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয় ‘কুল’ শব্দ, এবং স্ত্রী লিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয় ‘ক্কুলি’। কুরআন এখানে ‘ক্কুল’ ব্যবহার না করে ‘ক্কুলি’ ব্যবহার করেছে। ‘সহজ সরল পথে’ চলার নির্দেশ এসেছে পুলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত শব্দ ‘ঊসলুক’, এবং স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয় ‘ঊসলুকি’। মজার ‘ঊসলুক’ ব্যবহার না করে ‘ঊসলুকি’ ক্রিয়া ব্যবহার করেছে। মানে, নির্দিষ্টটা পুরুষ মৌমাছিদের জন্য নয়, স্ত্রী মৌমাছির জন্য।
আরও মজার ব্যাপার, এই আয়াতে কুরআন মৌমাছিকে একটি সহজ সরল পথে চলার নির্দেশ দিচ্ছে। আচ্ছা, মৌমাছির কি পরকালের জবাবদিহিতার কোন দায় আছে? পাপ পুণ্যের? নেই। তাহলে তাদের কেন সহজ সরল পথে চলার নির্দেশ দেয়া হল?
খেয়াল কর, বিজ্ঞানী Karl Von Frisch মৌমাছিদের ব্যাপারে যে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটি লক্ষ্য করেছেন, তা হল তারা ঠিক যে পথে কোন ফুলের উদ্যানের সন্ধান পায়, ঠিক একই পথে, একই রাস্তায় অন্যদের বাতলে দেয়। কোন হেরফের করে না। অন্যরাও ঠিক সে পথ অনুসরণ করে উদ্যানে পৌঁছে। এটাই তাদের জন্য সহজ সরল পথ। বিজ্ঞানী Karl Von Frisch এটার নাম দিয়েছেন Waggle Dance, কোরআনও ঠিক এ কথাই বলছে না?
দেবাশীষ, এখন তোকে যদি প্রশ্ন করি, কুরআন কি এই জিনিসগুলো বিজ্ঞানী Karl Von Frisch থেকে নকল করেছে?
তোর উত্তর হবে ‘না’। কারন, তিনি এসব প্রমাণ করেছেন মাত্র সেদিন। ১৯৭৩ সালে। কোরআন নাজিল হয়েছে আজ থেকে ১৫০০ বছর আগে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন নিরক্ষর মুহাম্মদ সা. এই বৈজ্ঞানিক ব্যাপারগুলো ঠিক কোথায় পেলেন? কোরআন কেন এই নির্দেশগুলো পুরুষ মৌমাছিকে দিল না? কেন স্ত্রী মৌমাছিকে দিল?
যদি এই কোরআন সুপার ন্যাচারাল কোন শক্তি, যিনি এই মৌমাছির সৃষ্টিকর্তা, যিনিই মৌমাছিদের জীবনচক্রের জন্য উপযুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন, তার নিকট থেকে না আসে, তাহলে ১৫০০ বছর আগে আরবের মরুভূমিতে বসে কে এটা বলতে পারে?
যে জিনিসটার ১৯৭৩ সালে আবিষ্কার করে বিজ্ঞানী Karl Von Frisch নোবেল পেলেন, তা কুরআনে বহু শতাব্দী আগেই বলা আছে। কই মুসলিমরা কি দাবী করছে Karl Von Frisch কোরআন থেকে নকল করেছে? করে নি। মুসলিমরা কি তার নোবেল পুরষ্কারে ভাগ বসাতে গেছে? না, যায় নি। কারন, এর কোনটাই কোরআনের উদ্দেশ্য নয়।
আমরা কোরআনকে বিজ্ঞান দিয়ে বিচার করি না, বরং দিন শেষে বিজ্ঞানী কোরআনের সাথে এসে কাঁধে কাঁধ মিলায়।
এতোটুকু বলে সাজিদ থেমে গেল। দেবাশীষ কিছুই বলছে না। শাকিব আর রাকিবের চেহারাটা তখন দেখার মতো। তারা খুবই উৎফুল্ল এবং খোশমেজাজি একটা চেহারায় দেবাশীষের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন তারা বলতে চাইছে- ‘দে দে ব্যাটা। পারলে একবার কোন উত্তর দে………..
কোরবানির ঈদ এবং একজন আরজ আলী মাতুব্বরের অযাচিত মাতবরি
কোরবানির ঈদ এবং একজন আরজ আলী মাতুব্বরের অযাচিত মাতবরি
পদ্মার বুক চলে আমাদের লঞ্চ চলছে।
দুপাশ থেকে শুনতে পাচ্ছি পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। সাধারণত, লঞ্চগুলোর মাথার উপর বিশাল সাইজের একটি ছাউনি থাকে। কিন্তু আমাদের লঞ্চের উপরিভাগ খালি। কোন ছাউনি নেই।
আকাশটা একদম উদোম। তার ওপরে তারা-নক্ষত্র ভর্তি সুবিশাল আকাশ, নিচে আছে স্রোতস্বিনী পদ্মা।
চাঁদের প্রতিফলিত আলোতে নদীর পানি ঝিকমিক ঝিকমিক করছে। সে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য !
আমরা যাচ্ছি রসুলপুর গ্রামে। বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম।
সাজিদের অনুরোধ, এবারের কোরবানির ঈদটা তার সাথে তাদের বাড়িতে করতে হবে। তাই যাওয়া।
তাছাড়া যখন শুনলাম, পদ্মা-মেঘনা সঙ্গমস্থলের উপর দিয়ে যাওয়া হবে, তখন আর লোভ সামলানো গেল না। আমি এর আগে কখনো এই দুই নদীকে স্বচক্ষে দেখিনি। তাই বিনা অজুহাতে তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম।
