২. হিটলার-পরিবারের কুলজীটি দেশি-বিদেশি কোনও ঘটক-ঠাকুরেরই অমলানন্দের কারণ হবে না। প্রথমত হিটলারের (Hitler, Hiedler, Huetler, Huettler–আমাদের দেশের অল্পশিক্ষিত চাষাদের মতো হিটলারের ঠাকুরদাদারা নানাভাবে এ নাম বানান করেছেন; স্বয়ং হিটলারের পিতা– তাঁর জন্ম জারজরূপে– সেকথা পরে হবে, গোড়াতে Hiedler, এবং পরে Hitler বানান করেছেন) পিতা এবং মাতা উভয়েই দুই ভাই, অর্থাৎ হিটলার পদবি ধরেন এমন দুজনার বংশগত, এবং এই কারণে হিটলারের পিতা যখন তাঁর মাতাকে বিয়ে করেন তখন চার্চের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়েছিল। দ্বিতীয়ত ফুরার আডলফ হিটলারের পিতামহ বিবাহ করেন Maria Anna Schicklgruber-কে ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে, কিন্তু তার পাঁচ বছর পূর্বে Schicklgruber একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন কুমারী অবস্থাতেই ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে ৭ জুন। এই পুত্রই ফুরার আডলফ হিটলারের পিতা। এবং যেহেতু নবজাত শিশুর মাতা বিবাহিতা নয় তাই রীতি অনুযায়ী তাকে দেওয়া হয় মাতা-মাতামহের পারিবারিক নাম Alois Schicklgruber। কিন্তু আশ্চর্যের কথা, বিয়ের পরও পিতা তার পুত্রের নাম Hiedler (তিনি এভাবেই বানান করতেন)-এ পরিবর্তন করার মেহন্নটুকু আপন স্কন্ধে তুলে নেননি। অবশ্য এ কথা যেমন প্রমাণ করা যায় না, তেমনি বাতিল করাও যায় না যে Alois সত্যই ফুরারের পিতামহ Johann Georg Hiedler-এর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কি না, তবে সে অঞ্চলের সাধারণজনের বিশ্বাস ছিল Alois-এর জন্ম Johann Georg-এর ঔরসেই। Alois-এর মাতা Maria ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে মারা যেতেই Johann Hiedler অন্তর্ধান করেন। ত্রিশ বছর পর তিনি পুনরায় দেখা দিলেন এবং তিনজন সাক্ষী ও নোটারির (উকিলের) সামনে শপথ নিলেন যে, Alois Schicklgruber তারই ঔরসজাত পুত্র বটে। ওইদিন থেকে তার নাম হল Alois Hitler (বা Hiedler)। ইনিও একাধিক দিক দিয়ে দেখতে গেলে তার পিতারই মতো। এদিক ওদিক বিস্তর ঘোরাঘুরির পর বিয়ে করেন শুল্ক বিভাগের এক পালিতা কন্যা Anna Glasl-Hoerer-কে। এ বিয়ে সুখের হয়নি। এবং একে তালাক দেওয়ার পূর্বেই Alois বন্ধুত্ব করেন কুমারী Franziska Matzelsberger-এর সঙ্গে। ফলে একটি পুত্রসন্তান হয়। এর নামও Alois। ইনিও জারজ; পরে আইনত পিতার নাম পান। এর পিতা তাঁর মাতা Franziska-কে বিয়ে করেন তার তালাকপ্রাপ্তা প্রথম স্ত্রী Anna Glasl-Hoerer-এর মৃত্যুর পর। বিয়ের তিন মাস পর Franziska একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন (এর নাম Angela এবং ইনিই পরবর্তীকালে হিটলারের নতুন বাড়ি দেখাশুনা করার ভার নেন ও সঙ্গে নিয়ে আসেন কন্যা, হিটলারের প্রেয়সী Angelica, ডাকনাম Geli)। কিন্তু Angela-র জন্মের এক বছর পরে Franziska ক্ষয়রোগে মারা যান। এর চার বছর পর ফুরার আডলফ হিটলারের পিতা Alois Hitler বিয়ে করেন তার ঠাকুদ্দার ভাইয়ের নাতনি শ্রীমতী Klara Poetzl-কে, ৭ জানুয়ারি ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে। এ বিয়ের চার মাস দশদিন পরে জন্মান ফুরারের সর্বজ্যেষ্ঠ সহোদর ভ্রাতা Gustav এবং বাল্যকালেই মারা যান, এবং তার পরের কন্যা Idao-ও অল্পবয়সে মারা যান। ফুরার অ্যাডলফ হিটলার তৃতীয় সন্তান (পিতার তৃতীয় বিবাহের)। তার ছোট ভাই Edmund এ পৃথিবীতে মাত্র ছ মাস ছিল। সর্বশেষ সন্তান– পঞ্চমা– Paula ফুরারের মৃত্যুর পর, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত চিরকুমারী অবস্থায় Salzburg-এ বাস করতেন। এই পাউলা একবার ভ্রাতার (হিটলার তখন ফুরার) বাড়িতে তাঁকে দেখতে আসেন কিন্তু দীর্ঘদিন (হিটলারের হিসেবে) থাকেন বলে ভ্রাতা অ্যাডল্ফ তাকে আর কখনও নিমন্ত্রণ জানাননি। সভাই (পিতার ২য় বিবাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র Alois) বার্লিনে মদ বেচতেন। তাঁর সম্বন্ধে হিটলার কখনও একটি বর্ণও উচ্চারণ করেননি। তাঁর ছোট বোন Angela বেশ কয়েক বছর হিটলারের গ্রামের বাড়ি চালানোর পরে ঝগড়া করে চলে যান এবং এক ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করেন। হিটলার এমনই চটে যান যে, বিয়েতে কোনও উপহার পর্যন্ত পাঠাননি।
৩. হিটলারের প্রখ্যাত জীবনীলেখক বুল বলেন–he (Hitler) discovered that she (Geli) had allowed Maurise to make love to her, ইংরেজিতে to make love হয়তো একাধিক অর্থ ধরে।
৪. লন্ডন পুলিশ নাকি বেশ্যাবাড়িতে হামলা চালালে মাঝে মাঝে চাবুক, লোহার গুলিওয়ালা রাইডিং বুট, ইত্যাকার যন্ত্রণাদায়ক সাজসরঞ্জাম পায়। বেশ্যাদের বক্তব্য, খদ্দের ভদ্রলোক। তিনি স্ত্রীকে এসব করতে আদেশ দিতে পারেন না– স্বাভাবিক লজ্জাবশত। তাই এ ধরনের লোক আমাদের কাছে আসেন। আমরাও সাজসরঞ্জাম তৈরি রাখি। স্ত্রীলোক ম্যাজোকিস্টও আছে, এবং যেসব রমণী স্বামী মারপিট করলে চিৎকার করে, কিন্তু যৌনানন্দ পায়, তাদের নরমতর ম্যাজোকিস্ট বলা হয়। অনেকের মতে অনেক রমণী বাড়িতে এমন সব কাজ করে থাকে বা করে না (যেমন ঘর ঝাঁট দিল না, রান্না করল না, বা স্বামীর গামছাখানা লুকিয়ে রাখল) যাতে করে স্বামী তাকে ঠ্যাঙায়।
৫. শাইরার বলেন, হিটলার ও ব্রাউনের পরিচয় হয় গেলির মৃত্যুর এক বা দুই বছর পরে। কিন্তু এ বিষয়ে হফমানের বক্তব্যই অধিকতর বিশ্বাস্য।
জেরুসলম
আইস, সুশীল পাঠক, যুদ্ধবিগ্রহ তথা রাষ্ট্রপুঞ্জের বৈঠকে যে মেছোহাটার গালাগালি এবং দরকষাকষি হচ্ছে সেগুলো ভুলে গিয়ে পুণ্যভূমি জেরুসলমে তীর্থ করতে যাই।
