৪. এই একশো জনের ভেতর এক যুবতীকে দেখে হিমলার রীতিমতো বিস্মিত হন। চেহারা, চুল নাক আদৌ ইহুদির মতো নয়। যে নরডিক (বিশুদ্ধতম আর্যরক্তের জৰ্মন) জাত হিটলার-হিমলার আদর্শ বলে ধরতেন তাদেরই মতো ব্লনড চুল, নীল চোখ, ব্রিজহীন সোজা নাক ইত্যাদি। হিমলারের ডাকে সে এগিয়ে এলে হিমলার তাকে বললেন, তুমি ইহুদি নও। গর্বিত উত্তর; না, আমি ইহুদি। তুমি বল, তুমি ইহুদি নও, আমি তোমাকে নিষ্কৃতি দেব। গর্বিততর কণ্ঠে, না, আমি ইহুদি। তার পর দৃঢ় পদক্ষেপে ফিরে গিয়ে আপন জায়গায় দাঁড়াল।
৫. ইনি হিটলারের ডেপুটি রুডলফ হেস (Hess) নন, যিনি সন্ধিপ্রস্তাব নিয়ে ইংলন্ডে যান। এর নাম Hoess।
৬. কোন্ প্রকারের গ্যাস, কেমিকেল ইত্যাদি সম্বন্ধে এ-লেখকের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। জর্মন এনসাইক্লোপিডিয়া বলেন Zyklon (ৎসাইক্লন) এক প্রকারের অতি মারাত্মক বিষাক্ততম প্রাসিক (হাই সায়েনিক) এসিড। হয়েস-এর উৎসাহে এক বৈজ্ঞানিক সাইক্লন বা Zyklon B আবিষ্কার করেন। এরই অন্য নাম Zyanwass erstoffkrisatle অর্থাৎ Zyankale
৭. যুদ্ধের পর হিটলারের প্রতি পোপের আচরণ নিয়ে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়– তামাম ইউরোপ-আমেরিকা জুড়ে। পোপবৈরীরা তাঁকে যে পরিমাণে দোষী সাব্যস্ত করেছেন সেটা সাধারণ রাজনৈতিকের পক্ষে মারাত্মক হত। এঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে হিটলার জর্মন রাষ্ট্রের চ্যানসেলর (সর্বাধিকারী) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পোপ জর্মনিতে আপন রোমান ক্যাথলিক চার্চ ও তস্য বিশ্বাসীগণকে নাৎসি নিপীড়ন থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে হিটলারের সঙ্গে একটি চুক্তি (কনকরডাট) করেন। এতে করেই বিশ্বজনসমাজ মাঝে হিটলারের জল চল হয়ে যায়। তার পর আর সে পাগল জগাইকে আর ঠেকায় কে? এই তাবৎ মামলা নিয়ে মধ্য-ইউরোপে ফিলমফ এবং নাট্যও দেখানো হয়। ক্যাথলিক সমাজ স্বভাবতই অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন। কলকাতাবাসীদের মনে থাকতে পারে, বহু বছর পূর্বে অংশতম পোপ-বিরোধী মারটিন লুথার নামক একটি ফিল্ম দেখবার সময় তথাকার ক্যাথলিকগণ ফিল্মটির বিরুদ্ধে রচিত ছাপা হ্যান্ডবিল বিতরণ করেন, এবং সেটাকে বয়কট করার জন্য অনুরোধ জানান।
৮. নাৎসি রাজত্বে ক্ষমতার ধাপগুলো ছিল : হিটলার হিমলার কালুটেন ব্রুনার আইষমান। হিটলার-হিমলার আত্মহত্যা করেন– আইষমান তখন ফেরার। ফলে সব চাপ গিয়ে পড়ে কালটেন ব্রুনারের ওপর। এরও ফাঁসি হয়। নিষ্ঠুরতায় এর সমকক্ষ লোক পাওয়া কঠিন।
৯, রোজেবেরুককে নাৎসি দলের চিন্ময় নেতা= স্পিরিচুয়াল ফুরার আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তার প্রখ্যাততম গ্রন্থ বিংশ শতাব্দীর মিথ গ্রন্থে তিনি উঠেপড়ে লাগেন, আর্যরাই যে পৃথিবীর সর্বোকৃষ্ট জাতি সেইটে প্রমাণ করার জন্যে।
১০. হিরোশিমার এটম বম্ বর্ষণ বাবদে জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী জাপানি চিকিৎসকের একটি বয়ান আমার হাতে এসে পৌচেছে– inspite of the sharks, popularly and mistakenly known in Calcutta as Foreign Book-seller সুযোগ পেলে সেটি পাঠকের হস্তে সমর্পণ করব। ডাক্তারটি বোমা পতনের ফলে আহত হয়ে কয়েক বছরের ভিতরেই অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে মারা যান।
ইস্ট ইজ ইস্ট অ্যানড–
ইজরাএল (ইসরাইল) নিমিত্ত মাত্র। অর-রইস জমাল আবদুন নাসিরও নিমিত্ত মাত্র। দুজনের পিছনে রয়েছে দ্বিধা বসুন্ধরা–যাকে আমরা এতদিন প্রাচী তথা প্রতীচী নামে চিনেছি। ইংরেজ-ফরাসি গয়রহ বলেছে, অরিএনট এবং অকসিডেন্ট। জরমনরা এ দুটো শব্দ ব্যবহার করে বটে, কিন্তু খাঁটি জরমনে বলা হয় মরগেলান্ট (উদয়াচল) ও আবেনট্রলান্ট (অস্তাচল অবশ্য লানট = ভূমি, দেশ); আরবরা হুবহু ওইরকমই মশরি ও মগরিব (মগরিব(১) বলতে আবার দক্ষিণ আফরিকাকেও বোঝায়) বলে থাকে।
এই দুই ভূখণ্ড নিজেদের ভিতর প্রায় সম্মিলিত হয়ে একে অন্যের সম্মুখীন হয়েছে– যুদ্ধং দেহি।
এ লেখা বেরুবার পূর্বেই হয়তো উভয়পক্ষ অস্ত্রসংবরণ করে নেবেন। কিন্তু এর শেষ অতি অবশ্যই এখানে নয়। এ শুধু আরম্ভ মাত্র।
প্রতীচীর শক্তিশালী যুযুধান বলতে উপস্থিত বুঝি জনসন, উইলসন(২) ও দ্য গল। প্রাচীর ভীষ্ম-কর্ণ বলতে বুঝি কসিগিন-মাও।
ইজরাএলের পিছনে দাঁড়িয়েছেন মারকিন ও ইংরেজ। আরব রাষ্ট্রপুঞ্জের পশ্চাতে রুশ ও চীন।
দ্য গল ব্যত্যয়। অনেকটা শ্রীকৃষ্ণের মতো। অনেকটা শ্রীকৃষ্ণেরই মতো তিনি একটা শান্তিসভার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন এবং সে প্রস্তাবের পশ্চাতে তার কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না, কিন্তু কূট কসিগিন সঙ্গে সঙ্গেই অনুমান করে নিলেন যে ধড়িবাজ মারকিন ইংরেজ এই সভাটাকেই মুষলে পরিবর্তিত করে আরব বংশ ধ্বংস করতে চাইবে। তাই কসিগিন যা বললেন, যার ব্যঞ্জনা দিলেন, এবং যা বললেন না কিন্তু মিন করলেন তার সবকটা একুনে দাঁড়ায় : শান্তির প্রস্তাব তো উত্তম প্রস্তাব, কিন্তু প্রশ্ন, তুমি জনসন, এবং উনি উইলসন যে দুটি আপন আপন খাসা নৌবহর ভূমধ্যসাগরে রোদ মারিয়ে ফেরাচ্ছ, দুনিয়ার সর্বত্র ছড়ানো বাদবাকিগুলোকে নোঙর ভেঙে ফেলে ফুল ইস্টিমে ওদিক-বাগে ধাওয়া করতে হুকুম দিচ্ছ (মুখে যদিও বলছ, ওরা তো চলাফেরা করছে কবেকার সেই ইস্যু করা প্রাচীন দিনের টাইম-টেবিল অনুযায়ী) তারা কি ওখানে আসছে ফেরেস্তাদের প্যাটারনে পিঠে ড্যানা গজিয়ে, হাতে হারপ যন্ত্র নিয়ে হাল্লেলুইয়া কীর্তনসহ যিশুদত্ত আপ্ত আপ্ত শান্তিসঙ্গীত গাইতে :
