মৎস্যকন্যা! আসলে, সে সব সময় এমন কোনো প্রাণির দেখা পেতে চাইত, কিন্তু ধারণা ছিল সেগুলো সামুদ্রিক জীব। হয়ত মাঝে মাঝে, কোনো বিশেষ কারণে তারা স্রোতের বিপরীতে উঠে আসে; স্যামনের মতো করে। বাচ্চাদের পাবার জন্য? কোনো প্রশ্ন করার আগেই চলে গেল মেয়েটা; এই যুগান্তকারী তত্তের তোয়াক্কা না করেই।
একটা অর্ধস্বচ্ছ আলোকিত দেয়ালের কাছে এসে শেষ হয়ে গেল নদীটা। ধাপের পর ধাপ পেরিয়ে এলেই হাজির হয় ধু ধু মরুভূমি। উপরে গনগনে সূর্য দীপ্তি ছড়াচ্ছে। চিড়বিড় করে ওঠে শরীর। জ্বালা ধরে যায় ভিতরে। তার পরও, প্রখর দুপুরের বুক চিরে দৃষ্টি ফেলা সম্ভব।
সব মিলিয়ে গেল মিশকালো অন্ধকারে। ভূতুড়ে বাজনা ফিরে এল আবার। ফিরে এল ঘরের শান্ত, শীতল আবহাওয়া। চোখ খুলল সে (এতক্ষণ এগুলো বন্ধ ছিল তো?)। অবাক ব্যাপার, তার রিএ্যাকশন দেখার জন্য অনেকেই ভিড় করে আছে।
‘ওয়ান্ডারফুল,’ আটকে রাখা দম ছাড়ল সে, কিছু কিছু অংশ বাস্তবের চেয়েও বাস্তব।
এবার ইঞ্জিনিয়ারের কাছে চলে গেল তার দৃষ্টি।
‘অনেক ডাটা দেয়া যায় এর মাধ্যমে, মানি। কিন্তু কীভাবে সেগুলোকে স্টোর করা হয়?
‘এ ট্যাবলেটগুলোয়। আপনাদের অডিওভিজুয়াল সিস্টেম যেগুলো ব্যবহার করত, তেমনি, শুধু অনেক বেশি ক্ষমতাবান।
ব্রেইনম্যান হাতে ধরিয়ে দিল একটা ছোট চৌকো জিনিস, সম্ভবত কাঁচের তৈরি। এক পাশে রূপার পরত দেয়া। যৌবনের কম্পিউটার ডিস্কেটের মতো। পুরুত্ব দ্বিগুণ। সামনে পিছনে নিল সেটাকে পোল। ভিতরের জায়গাটায় রঙধনুর মতো আলোর খেলা। এই সব।
হাতের মুঠোয় হাজার বছরের ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল টেকনোলজির সর্বকনিষ্ঠ উপহার। আকৃতিটা নিয়ে প্রথমে একটু খটকা লাগে। আকৃতির খুব একটা হেরফের হয়নি কেন? কিন্তু এরও একটা ব্যাখ্যা থাকে। প্রতিদিনের জিনিসগুলোর একটা নির্দিষ্ট আকৃতি তো থাকবেই। ছুরি, কাঁটাচামচ, বই, হ্যান্ড টুল, আসবাব পত্র- আর কম্পিউটারের রিমুভেবল মেমোরি।
‘এর ক্যাপাসিটি কতটুকু? আমাদের আমলে এটুকু আকৃতিতে টেরাবাইট রাখা যেত। আশা করি আপনারা আরো অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন ব্যাপারটাকে।’
না, যতটা আপনি কল্পনা করতে পারেন, এখানে একটা সীমাবদ্ধতা কাজ করে; নির্ভর করছে বস্তুটার উপর। বাই দ্য ওয়ে, টেরাবাইটটা কী? ভুলে গেছি।
‘শেম অন ইউ। কিলো, মেগা, গিগা, টো… টেন টু দ্য টুয়েত্ব বাইট। তারপর পেটাবাইট- টেন টু দ্য ফিফটি- এর উপরে কিছুর কথা জানি না।
‘মোটামুটি এখান থেকেই আমাদের হিসাব শুরু। এক জীবনে একজন মানুষ যা চায় তার সবটুকু এতেই রেকর্ড করে রাখা সম্ভব।
আশ্চর্য করা ভাবনা। তবু, এতে অবাক হবার মতো তেমন কিছু নেই। কেজিখানেক জেলি যে মানুষ তার খুলির ভিতরে লুকিয়ে রাখে তার চেয়ে অনেক বেশি আছে হাতের তালুতে বন্দি এ জিনিসটার গায়ে। আসলেই, একটু একটু সব চেখে দেখতে গেলেও মানুষের জীবনটা ফুং করে উড়ে যাবে।
এই সব নয়,’ বলে যায় ব্রেইনম্যান, কিছু ডাটা কম্প্রেস করে এটা শুধু মেমোরি স্টোর করতে পারে না- পারে আসল মানুষটাকে জমা করে রাখতে।
আর তাদের রিপ্রোডিউসও করতে পারে?
‘অবশ্যই; ন্যানো এ্যাসেমব্লির কাছে বাঁ হাতের খেল।
তাই আমি শুনেছিলাম, ভাবে সে, কিন্তু কখনো বিশ্বাস করিনি।
তার আমলে এটুকুতেই মানুষ সন্তুষ্ট ছিল যে একজন মানুষের সমস্ত জীবনের কাজ হোট ডিস্কেটে আটকে রাখা যেত।
কিন্তু আজকের দিনে এরা শুধু কাজটাকেই ধরে রাখতে পারে না, চিরঞ্জীব করে তুলতে পারে স্বয়ং শিল্প স্রষ্টাকেও।
৭. ডিব্রিফিঙ
‘আমি খুব খুশি,’ বলল পোল, ‘যে, এই এত শতাব্দি পরেও স্মিথসোনিয়ান এখনো বেঁচে আছে।’
‘আপনি সম্ভবত এটা বুঝে উঠতে পারবেন না,’ বলল নিজেকে ডক্টর এ্যালিস্টার কিম নামে পরিচয় দেয়া এ্যাস্ট্রোনটিক্সের ডিরেক্টর লোকটা, বিশেষত যখন এটাকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে পুরো সৌরজগত জুড়ে। মূল অফ-আর্থ কালেকশন রাখা হয়েছে চাঁদ আর মঙ্গলের বুকে। বেশিরভাগ এক্সিবিট, যা আসলেই আমাদের মালিকানাধীন, চলে যাচ্ছে তারার রাজ্যে। একদিন তাদের ধরে ফেলব আমরা। তারপর ফিরিয়ে আনব আপন দেশে। এমনকি সৌরজগতের বাইরে মানুষের পাঠানো প্রথম বস্তু পাইয়োনিয়ার টেনের উপর কজা করারও অনেক ইচ্ছা ছিল আমাদের।’
‘মনে হয় আমিও সে কাজই করতে যাচ্ছিলাম, মহাশূন্যে ভেসে ভেসে। তার পরই তো তারা নাগালে পেয়ে গেল আমাকে।
‘আপনার এবং আমাদের সবার সৌভাগ্য। না জানা অনেক ব্যাপারে আলোকপাত করতে পারবেন আপনি নিঃসন্দেহে।
ফ্র্যাঙ্কলি বলতে গেলে, সন্দেহ আছে পারব কিনা। তবে চেষ্টা করব। রানওয়ে পোডটা গলাধাক্কা মেরে বের করে দেয়ার পর আর কিছুই মনে নেই আমার। বিশ্বাস হয় না ব্যাপারটা। তারা তো বলেছিল, হাল নির্ভরযোগ্য।
‘কথা সত্যি। কিন্তু কাহিনীটা অনেক প্যাচানো। বলে বোঝানো যাবে না এক কথায়। আপনি জানেন, ডেভ বোম্যান আপনার জন্য শিপের বাইরে গিয়েছিল? তারপর হাল তাকে ভিতরে ঢুকতে দিতে চায়নি।
‘কেন, ফর গডস সেক?
একটু যেন সঙ্কুচিত হয়ে গেল ডক্টর কিম। আগেও ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছে পোল।
(ভাষায় সংযত হও, ফ্র্যাঙ্ক পোল। এ যুগে ‘গড’ শব্দটা খুব একটা প্রচলিত নয় বোঝা যাচ্ছে- ইন্দ্রাকে জিজ্ঞেস করতে হয়।)
