এগুলোর বুদ্ধিমত্তা সম্বন্ধে আমরা নিশ্চিত নই। আর হয়তোবা সেটা একটা অর্থহীন প্রশ্নও বটে। কিন্তু তারা অবশ্যই সুসংবদ্ধ সামাজিক প্রাণী, আদিম প্রাযুক্তিক জ্ঞানসম্পন্ন কথাটা হয়তো একটু বেশিই হয়ে গেল। যদিও তাদের আবিষ্কারের পর তারা পিঁপড়ে যা উইপোকার চাইতে বেশী কোন ক্ষমতা দেখায়নি, কিন্তু তাদের কাজের মাত্রাটা অন্যরকম এবং বেশ আকর্ষণীয়। সবচে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা ধাতু খুঁজে পেয়েছে। যদিও তা কেবল গয়না হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছে এবং তারও পুরোটাই ল্যাসানদের কাছ থেকে চুরি করা।
কিছুদিন আগেই একটা কাঁকড়া বরফ কলের একদম মাঝখান পর্যন্ত হেঁটে চলে এসেছিল। সহজ ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে এটা খাবারের খোঁজে এসেছিল। কিন্তু যেখান থেকে এটা এসেছে, সেখানেই প্রচুর খাবার আছে এবং তা পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে।
আমার জানতে ইচ্ছে করে কাঁকড়াটা এতো দূরে কি করছিলো। মনে হয় এ প্রশ্নের উত্তরটা ল্যাসানদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
যদি সাগান-২ এর যাত্রার দীর্ঘ শীতন্দ্রিার আগে উত্তরটা পেতাম।
৪০. মুখোমুখি
ক্যাপ্টেন বে প্রেসিডেন্ট ফারাদীনের অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই টের পেলেন কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। সাধারণত এডগার ফারাদীন ক্যাপ্টেনকে তার প্রথম নাম ধরেই সম্বোধন করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াইনের বোতল খোলন। কিন্তু এবার তিনি “সিরডার” বললেন না ওয়াইনও ঢাললেন না, তবে একটা চেয়ার এগিয়ে দিলেন।
-আমি একটা অস্বস্তিকর খবর পেয়েছি ক্যাপ্টেন বে। আপনি যদি কিছু মনে না করেন, প্রধান মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বসবেন।
এই প্রথমবারের মতো ক্যাপ্টেন বে প্রেসিডেন্টকে কোন একটা বিষয়ে সরাসরি আসতে দেখলেন, এবং তার অফিসে প্রথম বারের মতো প্রধামন্ত্রীকেও।
-সেক্ষেত্রে, মি. প্রেসিডেন্ট আমি কি অ্যামবেসডর ক্যালডরকে আসতে আমন্ত্রণ জানাতে পারি?
প্রেসিডেন্ট সামান্য ইতস্ততঃ করলেন। তারপর বললেন “অবশ্যই”। ক্যাপ্টেন ফ্যাকাসে হাসিটা দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলেন। এটা হলো কূটনৈতিক সূক্ষ্মতা-তারা হয়তো পদমর্যাদায় বেশী কিন্তু সংখ্যায় বেশী নয়।
ক্যাপ্টেন ভালোমতোই জানেন প্রধানমন্ত্রী বার্গম্যানই হচ্ছেন ক্ষমতার পেছনের মূল কলকাঠি নাড়াবার লোক। প্রধানমন্ত্রীর পেছনে আছে পুরো মন্ত্রীসভা এবং তাদের পেছনে আছে জেফারসন মার্ক-২ এর সংবিধান। জিনিসটা কয়েক শতাব্দী ধরে কাজ করছে। ক্যাপ্টেন বে অবশ্য টের পাচ্ছেন যে, সেটা এখন একটা হুমকির সামনে পড়েছে।
ক্যালডর নিজেকে দ্রুত মিসেস ফারাদীনের কাছ থেকে মুক্ত করলেন, যিনি ক্যালডরকে প্রেসিডেন্ট ভবন ঢেলে সাজানোর কাজে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রধানমন্ত্রী এলেন কয়েক মিনিট পরে তার স্বভাবসিদ্ধ দুর্বোধ্য ভঙ্গী নিয়ে।
সবাই বসলে প্রেসিডেন্ট টেবিলে হাত ছড়িয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে অনুযোগের দৃষ্টিতে অতিথিদের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
-ক্যাপ্টেন বে, ডক্যালডর-আমরা কিছু খুব অস্বস্তিকর সংবাদ পেয়েছি। আমরা শুনেছি যে আপনারা আপনাদের যাত্রা সাগান-২ এ শেষ না করে এখানেই শেষ করতে চাচ্ছেন? এটা কি সত্যি?
ক্যাপ্টেন বে বিশাল স্বস্তি পেলেন-তারপরই বিরক্তিতে তার মনটা ভরে গেল। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ বড় গলদ রয়েছে। কাউন্সিলের আবেদনটা এরা হয়তো জানেনা।
যদিও এমন আশা করা বোধহয় এখন ঠিক নয়।
-মি. প্রেসিডেন্ট, মি. প্রধানমন্ত্রী আপনারা যদি এমন কোন গুজব শুনে থাকেন–তবে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি এর মধ্যে কোন সত্যতা নেই। আমরা যে। প্রতিদিন ছয়শো টন বরফ ওপরে নিয়ে যাচ্ছি, সেটা সম্বন্ধে আপনাদের কি ধারণা? এখানে থাকার ইচ্ছে থাকলে কি আমরা সেটা করতাম?
-হয়তোবা। যদি আপনারা কোন কারণে মন পরিবর্তন করেনই, বরফ ওঠানো বন্ধ করলে আমরা সতর্ক হয়ে যাব।
দ্রুত জবাবটা ক্যাপ্টেনকে মুহূর্তের জন্য থমকে দিল। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ মানুষগুলোকে তিনি একটু কমই হিসেব করেছিলেন। তারপর তিনি বুঝতে পারলেন যে, এরা এবং এদের কম্পিউটার ইতিমধ্যেই সব সম্ভাব্য হিসাব করেছে।
-সেটা সত্যি। তবে আমি আপনাদের যেটা বলতে চাই যদিও এটা এখনও অঘোষিত এবং গোপনীয়-আমরা উত্তোলন দ্বিগুন করছি, বরফ বর্ম তাড়াতাড়ি তৈরী করার জন্য। এখানে থাকা তো দূরে থাক আমরা তাড়াতাড়ি চলে যেতে চাইছি। আমার আশা ছিল যে তথ্যটা আপনাদের আরও আনন্দদায়ক পরিস্থিতিতে জানাব।
প্রেসিডেন্টতে তার বিস্ময় লুকাবার চেষ্টা করলেনই না, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও পুরোপুরি তা চেপে রাখতে পারলেন না এবং তারা হজম করার আগেই ক্যাপ্টেন বে। আবার আক্রমন করলেন,
-এবং মি. প্রেসিডেন্ট আপনার অভিযোগের স্বপক্ষে একটা প্রমাণ আমরা আশা করতে পারি। নাহলে আপনারা কিভাবে এটা প্রতিষ্ঠিত করবেন?
-আমার মনে হয় সেটা সম্ভব নয়। সেটা আমাদের তথ্যের উৎসকে উন্মোচন করে ফেলবে।
-তাহলে তো ব্যাপারটা ঝুলে থাকল। আজ থেকে একশ তিরিশ দিন পরে, আমাদের নতুন হিসাব অনুযায়ী আমরা না যাওয়া পর্যন্ত আপনারা বিশ্বাস করবেন না।
একটু চিন্তিত এবং হতাশ নিস্তব্ধতা জমে থাকল। তারপর ক্যালডর বললেন,
–আমি কি ক্যাপ্টেনের সঙ্গে একটু একান্তে আলাপ করতে পারি?
–অবশ্যই।
তারা বাইরে থাকা অবস্থায়, প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন,
