–তারা কি সত্যি বলছে?
–ক্যালডর মিথ্যে বলবেন না- এটা নিশ্চিত। তবে সে হয়ত সবটা জানে না।
তারা অবশ্য আলাপ চালানোর জন্য সময় পেলেন না, কারণ বাকী দু’জন আলোচনার জন্য ঢুকে পড়েছে। ক্যাপ্টেন বে বললেন,
-মি. প্রেসিডেন্ট, ড. ক্যালডর এবং আমি মনে করি কিছু জিনিস আমাদের বলা উচিৎ। আমরা এটাকে থামিয়ে রাখার পক্ষপাতি-কারণ জিনিসটা লজ্জাজনক এবং আমরা ভেবেছিলাম ব্যাপারটা শেষ হয়ে গেছে। সম্ভবতঃ আমরা ভুল ভেবেছি এবং সেক্ষেত্রে আপনাদের সাহায্য আমাদের প্রয়োজন। তিনি তাদের কাউন্সিলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিলেন এবং শেষ উপসংহার টানলেন এই বলে যে, আপনারা চাইলে আমি রেকর্ড দেখাতে পারি। আমাদের লুকানোর কিছু নেই।
-সেটার দরকার নেই, সিরডার প্রেসিডেন্ট বললেন। স্পষ্টতই তিনি বিরাট ভারমুক্ত।
তবে প্রধানমন্ত্রী এখনও চিন্তিত।
–একমিনিট প্রেসিডেন্ট। এটা কিন্তু আমরা যে রিপোর্ট পেয়েছি তা বাতিল করে। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে সেটা বেশ ভালোভাবে তৈরী।
-আমি নিশ্চিত ক্যাপ্টেন সেটা ব্যাখ্যা করতে পারবেন?
–যদি আপনারা বলেন, তাতে কি আছে।
আবার একটা বিরতি। প্রেসিডেন্ট ওয়াইনের দিকে এগুলেন, ফুর্তিবাজের ভঙ্গিতে বললেন,
-প্রথমে পান করা যাক। তারপর আমি বলব, কিভাবে আমরা পেয়েছি।
৪১. রাতের আলাপ
এটা স্বচ্ছন্দে এগুচ্ছে–ফ্লেচার ভাবল। অবশ্যই ভোটের ব্যাপারটায় সে হতাশ, তবে সে অবাক হয়েছে এই ভেবে যে, এটা কত নিখুঁতভাবে মতামতকে তুলে ধরেছে। সে তার দু’জন ষড়যন্ত্রের সাথীকে বলেছিল তাদের স্বপক্ষের নোটগুলো হিসাব করতে-নব্য থ্যালসান আন্দোলনের শক্তি জানতে।
বরাবরের মতোই এরপর কি করব সেটা হচ্ছে সমস্যা। সে একজন প্রকৌশলী রাজনীতিবিদ নয় যদিও সেদিকেই সে যাচ্ছে। কারণ নিজেকে উন্মোচন না করলে আর নতুন সমর্থক পাওয়া যাবে না।
এখন দুটো উপায় আছে। প্রথমটি এবং সহজও বটে-মহাকাশযান থেকে পালিয়ে যাওয়া। যাত্রা শুরুর সময় রিপোর্ট এ ব্যর্থ হলেই হয়। ক্যাপ্টেন বে যথেষ্ঠই ব্যস্ত থাকবে। আর ল্যাসান বন্ধুরা তাকে লুকিয়ে রাখবে ম্যাগেলান না যাওয়া পর্যন্ত।
সেটা হবে দ্বৈত পলায়ন- অঘোষিত সুসংবদ্ধ স্যাব্রা সমাজ থেকেও।
তাকে তার ঘুমন্ত বন্ধুবান্ধব, এমনকি তার আপন ভাই এবং বোনকেও ফেলে পালাতে হবে। তিন শতাব্দী পরে কঠিন সাগান-২ এ বসে তারা কি ভাবে তার সম্পর্কে, যখন তারা শুনবে, তাদের সামনে স্বর্গের দরজা খুলে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য।
আর এখন সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন শিডিউলে বরফ তোলার গতি কম্পিউটারে একটাই অর্থ বহন করে। যদিও সে তার বন্ধুদের সঙ্গে এখনও কোন কথা বলেনি। কিন্তু আর একটি মাত্র উপায় হচ্ছে…
তার মনে যা আছে তার প্রকাশের শব্দটি হলো-অন্তর্ঘাত।
রোজ কিলিয়ান কখনো ডেলাইলার নাম শোনেনি এবং শুনলেও সে সম্ভবত আঁতকে উঠতো তার সঙ্গে তুলনায়। সে সরল এবং কিছুটা কাঁচাও, বহু ল্যাসানদের মতোই-যারা পৃথিবীর জৌলুসে ঘেরা পৃথিবীবাসীদের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহী। কার্ল বসেলির সঙ্গে তার ভালোবাসা শুধু তার জন্যই নয়, কার্লের জন্যও সেটা প্রথম প্রগাঢ় অনুভূতি। তাদের দু’জনেরই হৃদয় বিচ্ছেদের চিন্তায় ভেঙ্গে যায়। এক শেষ রাতে রোজ, কার্লের কাঁধে মাথা রেখে ফেঁপাচ্ছিল। কার্ল তার ব্যাথা সহ্য করতে পারছিল না। সে বলল-প্রতিজ্ঞা কর কাউকে বলবে না। আমি তোমার জন্য একটা খুব ভালো সংবাদ এনেছি। খুব গোপন কথা, কেউ জানে না। মহাকাশযান আর যাচ্ছে না। আমরা থ্যালসায় থাকছি।
রোজ বিস্ময়ে বিছানা থেকে পড়ে যাচ্ছিল প্রায়।
–আমাকে খুশি করার জন্য বলছ নাতো।
-না এটা সত্যি। কিন্তু আর কাউকে বলো না। এটা সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে।
-নিশ্চয়ই প্রিয়।
কিন্তু রোজের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ম্যারিয়েনও কাঁদছিল তার পৃথিবীর প্রেমিকের জন্য সুতরাং তাকে তো বলতেই হয়..
…এবং ম্যারিয়েন সুখবরটা পৌঁছে দিল পলিনের কাছে… সে সিভেটনাকে না বলে থাকতেই পারে না… সে গোপন সংবাদটা ভাঙ্গল ক্রিস্টালের কাছে… এবং ক্রিস্টাল হচ্ছে প্রেসিডেন্টের কন্যা।
৪২. বেঁচে যাওয়া
এটা একটা অপ্রিয় কাজ, ক্যাপ্টেন বে ভাবলেন। ইয়েন ফ্লেচার একজন ভালো মানুষ–আমি নিজে তার নিয়োগ অনুমোদন করেছিলাম। সে কিভাবে এই কাজ করল? সম্ভবতঃ কোন একক ব্যাখ্যা নেই। সে যদি একজন স্যাব্রা না হতো, এবং যদি নীচের ওই মেয়েটির ভালোবাসায় না জড়াত তাহলে হয়তো এটা ঘটতো না। একের সঙ্গে এক যোগ করে দুই এর বেশী হওয়াটাকে যেন কি বলে? কিসের সাইন ওহহো সাইনেরজি। তবে এটা তার মনে হয়, অন্য কিছু একটা–যেটা তার কখনোই জানা হবে না। ক্যালডরের একটা মন্তব্য মনে পড়ল। সে প্রতিটি ব্যাপারেই কোন মন্তব্য রাখবে-ক্রুদের মানসিকতার আলোচনার সময় সে একবার বলেছিল,
-আমরা সবাই পঙ্গু ক্যাপ্টেন। স্বীকার করো আর নাই করা। পৃথিবীর শেষ কয়েকটা বছর আমরা যারা সেখানে কাটিয়েছি তাদের প্রত্যেকেই এর শিকার। এবং আমরা সবাই একটা অপরাধবোধে ভুগছি।
-অপরাধবোধ? ক্যাপ্টেন অবাক হয়ে বলে উঠলেন।
-হ্যাঁ, যদিও আমাদের দোষ নয় সেটা। আমরা বেঁচে গেছি–একমাত্র রক্ষা পেয়েছি। এবং বেঁচে যাওয়া লোকেরা, বেঁচে যাওয়ায় সব সময়ই অপরাধবোধে ভোগে। এটা একটা অস্বস্তিকর মন্তব্য তবে ইয়েন ফ্লেচার এবং অনেক কিছুই এটা ব্যাখ্যা করে।
