০২২. আমরা তো ক্র্যাকানের ডিপ স্পেস অ্যান্টেনাটা আবার তৈরী করে তাদের
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। র.ম.ম. ০২৩. বড়জোর দশ বছরের কাজ। কি.রা,
-ভদ্রমহোদয়গণ ক্যালডর একটু অসহিষ্ণু স্বরে বলে উঠলেন- আমরা বিষয়বস্তুর বাইরে চলে যাচ্ছি।
আমার কি কিছু বলা উচিৎ? লোরেন নিজেকেই জিজ্ঞেস করল। না এই বিতর্কের বাইরে আমি থাকব। আমি দুই পক্ষেই অনেক কিছু দেখছি। খুব শিগগিরি আমাকে কর্তব্য এবং আনন্দ এই দুয়ের মাঝে কোন একটা বেছে নিতে হবে। তবে সেটা এক্ষুনি নয়, এক্ষুণি নয়…
–আমি বেশ অবাক হচ্ছি, দুমিনিট যাবত স্ক্রীনে কোন লেখা না আসায় ক্যালডর বলে উঠলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে আর কারও কিছুই বলার নেই।
তিনি আশায় আশায় মিনিট খানেক আরো বসে রইলেন।
-বেশ। সম্ভবত আপনারা ব্যাপারটা নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করতে চান। আমরা এখনই ভোটাভোটিতে যাব না। আগামী আটচল্লিশ ঘন্টা পর্যন্ত আপনারা এভাবে আপনাদের মন্তব্য জানাতে পারবেন। ধন্যবাদ।
তিনি ক্যাপ্টেন বের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন। তিনি দ্রুত স্বস্তির ভাব নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।
-ধন্যবাদ ড. ক্যালডর। মহাকাশযানের কাউন্সিলের সমাপ্তি ঘোষণা করছি। এরপর বে দুশ্চিন্তার সঙ্গে ক্যালডরের দিকে তাকালেন। তিনি ডিসপ্লে স্ক্রীনের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিলেন যেন এই প্রথম তিনি সেটা দেখছেন।
-ড. ঠিক আছ তো?
-দুঃখিত ক্যাপ্টেন। ভালোই আছি। একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হঠাৎ মনে পড়ল কিনা।
হ্যাঁ, অবশ্যই হাজারবার সে তার অবচেতন মনে খুঁজে বেরিয়েছে একটা উত্তর যা ০২১ দিয়ে দিয়েছে–ল্যাসানদের কোন সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ নেই। সেজন্যই সে কিলমানজারোর স্বপ্ন দেখেছিল।
৩৯. বরফাবৃত
আমি দুঃখিত ইভলিন–অনেকদিন পর তোমার সাথে কথা বলছি। এটা কি এজন্য যে ভবিষ্যৎ আমার শক্তি এবং মনোযোগের অধিকাংশই বেশী বেশী করে গ্রাস করছে, আর সে সঙ্গে সঙ্গে তোমার স্মৃতি আমার মনে ধূসর হয়ে আসছে?
তাই হওয়া উচিত, এবং যুক্তিযুক্তভাবে এটাকেই আমার স্বাগত জানানো উচিত। অতীত খুব বেশী আঁকড়ে থাকাটাও একটা অসুস্থতা–যেটা তুমি আমাকে প্রায়ই বলতে। কিন্তু আমি মনে প্রাণে এই তিক্ত সত্যকে গ্রহণ করতে চাই না।
গত কয়েক সপ্তাহে মহাকাশযানে অনেক কিছু ঘটেছে। মহাকাশযানে যা ঘটছে তার নাম দিয়েছি–অদৃশ্য যুদ্ধ। প্রথমে একটা কৌতুক হিসাবেই বলেছিলাম। কিন্তু ব্য: “টা এখন গুরুতর হয়ে গেছে। আশা করি খুব বেশি গুরুতর নয়।
কিছু কু থ্যালসায় থেকে যেতে চাইছে-তাতে অবশ্য দোষ দেয়া যায় না। তারা চাইছে সাগান-২ এর চিন্তা বাদ দিয়ে পুরো অভিযানের এখানেই সমাপ্তি ঘটাতে। অবশ্য এদের সংখ্যাটা আমরা জানি না। কারণ এদের পরিচয় এখনো গোপন।
কাউন্সিলের আটচল্লিশ ঘন্টা পরে আমরা ভোট নিয়েছিলাম। যদিও ভোটদানটা গোপন। কিন্তু আমি জানি না কিভাবে ফলাফলটাকে বিশ্বাস করব-১৫১ জন যাত্রার পক্ষে, মাত্র ৬ জন যাত্রা শেষ করার পক্ষে এবং ৪ জন সিদ্ধান্তহীন।
ক্যাপ্টেন বে খুশী। তার ধারণা অবস্থা তার আয়ত্তে। তবে কিছু সতর্কতা নিতে হবে। সে বুঝতে পেরেছে যত বেশী দিন আমরা এখানে থাকব, থেকে যাবার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। ওই কয়েকজনের ব্যাপারে তার মাথাব্যথা নেই- “তারা যদি চলে যেতে চায় যাক। আমার তাদের ধরে রাখার কোন ইচ্ছাই নেই।” এভাবেই সে জিনিসটাকে দেখছে। কিন্তু অন্য ক্রুদের ভেতরে ব্যাপারটা সংক্রামিত হতে পারে এই নিয়ে সে চিন্তিত।
তাই বরফের বর্ম বানানোটা তরান্বিত করা হয়েছে। এখন ব্যাপারটা স্বয়ংক্রিয়, সুন্দরভাবে চলছে। আমরা ঠিক করেছি দিনে একবারের বদলে দু’বার বরফপাত ওঠাব। যদি ব্যাপারটা করা যায় আমরা চার মাসের মধ্যে রওয়ানা দিতে পারব। এটা এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে মনে হয় না কেউ আপত্তি করবে, নব্য ল্যাসান অথবা অন্য কেউই।
আরেকটা ব্যাপার হলো, যেটার হয়ত কোন গুরুত্বই নেই কিন্তু আমার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। তোমার কি মনে আছে ইভলিন–আমাদের প্রথম দিকের পরিচয়ের সময়ে কিভাবে আমরা পরস্পরকে গল্প পড়ে শোনাতাম? হাজার বছর আগে যখন কোন ভিডিও বা সেনসরি সিস্টেম ছিল না, তখন মানুষ কিভাবে বাস করত তা জানার জন্য এটা বেশ ভালো উপায়।
সে সময় তুমি একবার আমাকে পড়ে শুনিয়েছিলে –যদিও সজ্ঞানে তার কোন স্মৃতিই আমি মনে রাখিনি-আফ্রিকার এক বিশাল পর্বত সম্বন্ধে, নামটা অদ্ভুত, কিলমানজারো। আমি মহাকাশযানের আর্কাইভ খুঁজে দেখলাম কেন এই নামটা আমাকে খোঁচাচ্ছে।
এই পর্বতের বহু উঁচুতে, বরফ লাইনেরও ওপরে এক গর্তে একটা লেপার্ডের জমাট শরীর পাওয়া গিয়েছিল। সেটা ছিল একটা রহস্য। কেন কিভাবে ওটা তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্রের এতো উপরে গিয়ে উঠেছিল কেউ বলতে পারেনি।
তুমি জান ইভলিন, যদিও অনেকেই ফালতু বলে কিন্তু আমি আমার ইনটুইশনের ব্যাপারে গর্ব অনুভব করি। আমার মনে হচ্ছে সেরকম এখানে কিছু একটা ঘটবে।
একবার নয়, বেশ কয়েকবার এক ধরণের বিশাল শক্তিশালী সামুদ্রিক প্রাণী তাদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্রের অনেক দূরে পাওয়া গিয়েছে। একটাকে সেদিন আমরা ধরেছি। এগুলো পৃথিবীর সমুদ্র কাঁকড়ার মতো।
