সম্ভবতঃ সবচে আলোচিত বক্তব্য হল যে, এখানে থাকাটা তাদের কর্তব্য। ল্যাসানদের তাদের প্রয়োজন–প্রাযুক্তিক, সাংস্কৃতিক এবং জেনেটিক্যালি। লোরেন। অবাক হল, যদিও যুক্তিগুলো সে স্বীকার করছে, তবুও যে কোনভাবেই আগে ল্যাসানদের মতামত নিতে হবে। তারা নিশ্চয়ই সাম্রাজ্যবাদী নয়!
সবাইকে আবেদনটা পড়ার সময় দেয়া হলে ক্যালডর কেশে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। যেহেতু কেউ এর পক্ষে কিছু বলেনি অবশ্য পরেও বলা যাবে। আমি লেঃ এলগারকে বিপক্ষে বলার সুযোগ দিচ্ছি।
রেমন্ড এলগার চিন্তাশীল তরুণ, শক্তি ও যোগাযোগ প্রকৌশলী। লোরেন তাকে সামান্যই চেনে। তার সঙ্গীতে প্রতিভা আছে এবং বলা হয় যে এই যাত্রা সম্বন্ধে সে একটি মহাকাব্য লিখছে। যদিও একটা লাইনও যদি কেউ দেখতে চায়, তবে সে উত্তর দেয় সাগান-২ এ যাবার পরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। লেঃ এলগার যে তার ভূমিকার জন্য স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবে সেটা স্বাভাবিক। তার কাব্যিক স্বভাব তাকে এটাই করতে বলবে, আর হয়তো সে সত্যি সত্যি মহাকাব্যটা লিখছে।
-ক্যাপ্টেন, সহকর্মীরা আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার মনে হয় আমাদের মনের ভেতর সবাই স্বীকার করি যে, থ্যালসায় থেকে যাবার পরিকল্পনাটায় প্রচুর আকর্ষণ রয়েছে। কিন্তু একবার ভাবুন যে, আমরা মাত্র ১৬১ জন এখানে উপস্থিত। আমাদের কি কোন অধিকার আছে এমন একটা সিদ্ধান্ত নেবার যার প্রভাব ঘুমন্ত মিলিয়ন মানুষের উপর পড়বে। আর ল্যাসানদের ব্যাপারে বা কি হবে? বলা হচ্ছে আমরা তাদের সাহায্য করব। সত্যিই কি তাই? তাদের নিজস্ব একটা জীবনধারা আছে, এবং সেটা চমৎকারভাবেই চলছে। আর আমাদের ইতিহাস, ট্রেনিং এর কথা চিন্তা করি–যে উদ্দেশ্যে আমরা বহু বছর আগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনারা কি মনে করেন, আমাদের মিলিয়ন মানুষ ল্যাসানদের অংশ হয়ে যাবে তাদের ধ্বংস না করেই?
আর তাছাড়া আছে কর্তব্যের প্রশ্ন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের এই যাত্রার জন্য উৎসর্গ করেছে শুধু মানব জাতিকে আরো ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ দেয়ার জন্য। যত বেশী নক্ষত্রজগতে আমরা পৌঁছুবো তত মানব জাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে, ধ্বংসের বিপরীতে। আমরা জানি থ্যালসার আগ্নেয়গিরি কি করেছে। কে জানে ভবিষ্যতে এটা আরো কি করবে
মিছরির ছুরির মতো কেউ কেউ টেকটোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে নতুন ভূমি তৈরী করে বাড়তি জনসংখ্যার সংস্থানের কথা বলছে। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, হাজার বছর ধরে গবেষণার পরও এটি ঠিক বিজ্ঞ ন হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। ৩১৭৫ সালের নাজকা প্লেটের ভূমিধ্বসের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। থ্যালসার মাঝে খুঁচিয়ে নতুন ভূমি ওঠানোর মতো দুর্বুদ্ধি আর দুটো হতে পারে না।
বেশী কিছু বলার নেই। এ ব্যাপারে একটিই সিদ্ধান্ত হতে পারে। ল্যাসানদের তাদের নিজেদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আমাদের যেতে হবে সাগান-২ এ।
ধীরে ধীরে উঠে আসা তুমুল করতালিতে লোরেন অবাক হলো না। কেউ হাততালি না দিলেও অবাক হতে হবে। বিচারক হিসেবে বলা যায় দর্শকরা দুভাগে সমান ভাগ হয়ে গেছে। অবশ্য অনেকেই ব্যাপারটা সমর্থন না করলেও, উপস্থাপনার। সৌন্দর্যের জন্য করতালি দিয়েছে।
-ধন্যবাদ লেঃ এলগার, সভাপতি ক্যালডর বললেন। তোমার সাহসিকতার প্রশংসা করি। এখন এর বিপক্ষে কেউ কি বলবেন। একটা অস্বস্তি সবাইকে থমকে দিল, তারপর নেমে এল বিশাল নিস্তব্ধতা। প্রায় এক মিনিট কিছুই হল না। তারপর
পর্দায় শব্দগুলো ফুটে ওঠা আরম্ভ করল।
০০২, ক্যাপ্টেন কি মিশনের সাফল্যের সম্ভাবনার বর্তমান হিসেবটা দেবেন?
০০৩. যারা ঘুমিয়ে আছে তাদের একাংশের কাছ থেকে নমুনা মতামতের জরিপ নেয়া হোক।
০০৪. ল্যাসানরা কি ভাবে-সেটা জিজ্ঞেস করা হোক। এটা তো তাদের জগৎ।
কম্পিউটার পূর্ণ গোপনীয়তা এবং নিরপেক্ষতার মাঝে কাউন্সিল মেম্বারদের মধ্য থেকে মন্তব্য নিচ্ছে। দুই হাজার বছরের মধ্যে এর চাইতে ভালো করে কেউ মতামত নিতে ও তৈরী করার পদ্ধতি দেখাতে পারেনি। সবাই তাদের এক হাতের মধ্যে এটে যাওয়া কি প্যাডের সাতটা বোতাম দিয়ে মন্তব্য লিখছে। কিছু চিন্তা না করে সাত স্পর্শে লিখে যাওয়াটা সম্ভবত প্রথম অর্জিত দক্ষতা।
লোরেন দর্শকদের দিকে তাকিয়ে অবাক হল যে, সবার দুহাত পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। কেউ সেই পরিচিত দূরের দৃষ্টিতে তাকিয়ে নেই যাতে বোঝা যায় যে, একটা লুকানো কি প্যাড ব্যাবহার করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও অনেকেই কথা বলছে।
০১৫. একটা মধ্যপন্থা কেমন হয়? আমাদের কেউ কেউ হয়তো থাকতে চাইবে। বাকীরা যাত্রা করবে।
ক্যালডর আবার সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।
–এটা যদিও আলোচ্য সূচীর বাইরের প্রস্তাব, তবে এটাও বিবেচনায় থাকবে।
–০০২ এর জবাবে বলছি, সভাপতির কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার ব্যাপারটা ভুলে গিয়েই ক্যাপ্টেন বে বলে উঠলেন, এখানে ৯৮ ভাগ সম্ভাবনা আছে। আমি অবাক হব না যদি- এই সম্ভাবনা উত্তর বা দক্ষিণ দ্বীপের পানির উপর ভেসে যাবার চাইতে বেশী হয়।
০২১. ক্র্যাকান ছাড়া আর কি আছে যেখানে তারা অসহায়। ল্যাসানদের জীবনে কোন চ্যালেঞ্জ নেই। সম্ভবত আমাদের পক্ষ দিয়ে তেমন কিছু দেয়া উচিৎ।
কি. রা.
এটা নিশ্চয়ই দেখা যাক-হ্যাঁ কিংসলে রামসেন। তার নিজেকে লুকিয়ে রাখার কোন ইচ্ছাই নেই। দেখা যাচ্ছে সে অবশ্য এমন একটা কথা বলেছে যা সবার মনেই উঁকি দিয়েছে।
