-জন-তিরিশ হাজার কিলোমিটার নীচে তার সেক্রেটারীকে তিনি ডাকলেন আমাকে বরফশীল্ড তৈরীর শেষ খবর জানাও। আর ক্যাপ্টেন ম্যালিনাকে জানাও যে আমি তার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে চাই।
দিনে একবারের বেশী বরফ তে« যাবে কিনা তিনি জানেন না। তবে তার চেষ্টা তিনি করবেন।
৩৫. ফিরে আসা
লে, হটন আমুদে মানুষ হলেও, ইলেকট্রোফিউশন পদ্ধতির মাধ্যমে ভাঙ্গা হাড় সেড়ে উঠায় তার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে লোরেন খুশিই হল। তারপর বিস্তারিত শুনল যে, তরুন প্রকৌশলী একদল উত্তরের খ্যাপার পাল্লায় পড়েছিল, যাদের জীবনের দ্বিতীয় প্রধান উদ্দেশ্যই হল উঁচু ঢেউয়ের মাথায় মাইক্রোজেট সাজেট নিয়ে সার্ফিং করা। হার্টন অবশ্য ভুক্তভোগী হয়ে শিখেছে যে, জিনিসটা যা দেখায় আসলে তার চেয়েও ভয়ংকর।
-আমি বেশ অবাক হলাম। লোরেন সাদামাটা ভাবেই বলল। আমি জানতাম তুমি নব্বই ভাগ বিপরীতকামী।
-আসলে বিরানব্বই। তবে মাঝে-মধ্যে রুচি পাল্টাতে আমার ভালই লাগে। হর্টন উৎফুল্লভাবে বলল।
লেফটেনেন্ট কিছুটা মজা করছিল। কোথায় যেন সে পড়েছিল যে, শতকরা একশভাগ এতই দুষ্প্রাপ্য যে তাকে অসুস্থতাই বলা যায়। সে অবশ্য তা বিশ্বাস করে না–তবে জিনিসটা ভাবতে তার ভাল লাগে না।
এখন লোরেন যখন একমাত্র রুগী সে ল্যাসান নার্সটিকে বোঝাতে পারল যে তার সার্বক্ষণিক উপস্থিতি আসলে অপ্রয়োজনীয় বিশেষত মিরিসার দৈনিক সাক্ষাতের সময়। সার্জন কমান্ডার নিউটন, অধিকাংশ ডাক্তারের মতোই যে লজ্জাহীনরকম খোলামেলা, শুধু ঠান্ডা গলায় বললেন- আরও এক সপ্তাহ লাগবে তোমার ঠিক হতে। যদি তোমার প্রেম করতেই হয়, তাহলে সব খাটুনি যেন সে করে।
অবশ্য আরও অতিথি ছিল। দুজন ছাড়া প্রত্যেকেই প্রত্যাশিত। মেয়র ওয়ার্ডেন নার্সকে তুড়ি মেরে ঢুকে পড়তেন। সৌভাগ্যক্রমে তার আর মিরিসার আসাটা কখনোই একসঙ্গে হতো না। প্রথমবার লোরেন মটকা মেরে পড়ে রইল কিন্তু চালাকীটা ঠিক ছিল না। লোরেনকে বাধ্য হয়ে কিছু ভেজা আদর নিতে হল। দ্বিতীয়বারে একটা পরীক্ষা চলছিল যার নল ছিল তার মুখের ভেতর। অতএব কোন কথা বলতে হয়নি। মেয়র যাবার তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যেই অবশ্য পরীক্ষাটা শেষ হয়ে গেল।
ব্র্যান্ট ফ্যাকনরের সৌজন্য সাক্ষাৎ তাদের দুজনের জন্যই পীড়াদায়ক। তারা ভাবে কাঁকড়া, বরফকল, উত্তর দ্বীপের রাজনীতি সবকিছু নিয়ে আলোচনা করে কিন্তু শুধুমাত্র মিরিসার প্রসংগ ছাড়া। লোরেন বোঝে যে, ব্র্যান্ট চিন্তিত এমনকি লজ্জিত। কিছুটা দুঃখিতও। যাবার আগে সে মুখ তুলে বলে- লোরেন তুমি জান, ঐ ঢেউ নিয়ে আমার কিছু করার ছিল না। আমরা যদি আগের পথে চলতাম, আমরা রীফে আছড়ে পড়তাম। ক্যালিপসো গভীর সমুদ্রে পড়লে কোন সমস্যাই আর হতো না।
-আমি জানি এরচে ভাল আর কেউ করতে পারত না। লোরেন সত্যিই বলে।
–তুমি বুঝেছো দেখে ভাল লাগছে।
ব্র্যান্ট অবশ্যই ভারমুক্ত হয়েছে। ব্র্যান্টের প্রতি তার কিছুটা করুণাও হয়। সম্ভবত তার নৌচালনার দক্ষতা নিয়ে কথা উঠেছে। নিজের কাজের প্রতি ব্র্যান্টের মতো দায়বদ্ধ কারও জন্য তা অসহনীয়।
-তারা জাহাজটা বাঁচিয়েছে।
–হ্যাঁ। মেরামতের পর ওটা এখন একদম নতুন।
–আমার মতো।
-দুজনে হেসে দিল। লোরেনের হঠাৎ মনে হল, কুমার যদি আরেকটু কম সাহসী হত তবে কি ব্র্যান্ট খুশী হত।
৩৬. কিমানজারো
কিলমানজারোর স্বপ্ন কে দ্যাখে?
এটা একটা অদ্ভুত শব্দ, নাম সে বোঝে, কিন্তু কার?
থ্যালসার গোধূলীর ধূসর আলোয় মোজেস ক্যালডর শুয়ে তারনার জেগে ওঠা শব্দগুলোর প্রতি মনোযোগ দিচ্ছিল। খুব বেশী কেউ নেই এসময়। একটা বালির স্লেজের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
সম্ভবত কোন মৎস্য শিকারীর অপেক্ষায়।
কিলমানজারো।
ক্যালডর দাম্ভিক নয় তবে অন্য কেউ তার মতো বিচিত্র বিষয়ের ওপর প্রাচীন বই পড়েছে কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। তার অবশ্য কয়েক টেরাবাইট তথ্য মাথায় ঢোকানো আছে, সেগুলো ঠিক জ্ঞান নয়, কেবল উপযুক্ত সংকেত দিলেই তা মনে আসবে।
এটা একটু দ্রুতই করা হয়ে যাচ্ছে, আর ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিনা তা নিয়েও তার সন্দেহ আছে। যদিও সে স্বপ্নকে অবজ্ঞা করে না। দু’হাজার বছর আগে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড এ ব্যাপারে বেশ খাঁটি কিছু কথা বলে গেছেন। আর যাই হোক, সে এমনিতেই আবার ঘুমাতে পারবে না। সে তার চোখ বন্ধ করল, ‘অনুসন্ধান কমান্ড চালু করল, এবং অপেক্ষা করতে লাগল। যদিও এটা পুরোটাই কল্পনা, পুরো ব্যাপারটাই অবচেতন মনে ঘটে–সে অসংখ্য পুরোনো ঘটনাকে মাথার ভেতরে দেখতে পায়। এখন তার শক্ত করে বন্ধ রাখা চোখের সামনে যে বিক্ষিপ্ত আকারের আলোর প্রভা ছিল সেখানে কিছু হচ্ছে। একটা কালো পর্দা অস্পষ্ট আলোর সামনে হঠাৎ যাদুর মতো চলে এল এবং সেখানে কিছু অক্ষর ফুটে উঠল।
কিলমানজারোঃ আগ্নেয়গিরি, আফ্রিকা, উচ্চতা ৫.৯ কি.মি।
পৃথিবীর প্রথম মহাকাশ বন্দর।
আচ্ছা! তার মানেটা কি? সে তার মনকে এই সামান্য তথ্য নিয়ে খেলা করতে দিল। আরেক আগ্নেয়গিরি ক্র্যাকানের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক আছে, যেটা নিশ্চয়ই বেশ কিছু চিন্তার জন্ম দিয়েছে।
প্রথম মহাকাশ বন্দর? সে এক প্রাচীন ইতিহাস। গ্রহ বসতির প্রথম পর্যায়কে এটা মনে করিয়ে দেয়, যা মানুষকে সৌরজগতে স্বাধীনভাবে ঘুরতে দিয়েছিল এবং তারা এখানেও সেই পদ্ধতি ব্যবহার করছে–অত্যন্ত শক্ত পদার্থে গড়া তার দিয়ে বরফ নিয়ে যাচ্ছে ম্যাগেলানের কক্ষপথে।
