ড. ভার্লে চেঁচামেচি সত্ত্বেও যে কাজ করেছেন তা তার যোগ্যতার পরিচয়ই দেয়; বিশেষতঃ মূল তথ্য ভান্ডারের বিশালত্বের পরিমাপে। একটা ব্যাপার অবশ্য এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, প্রাণীটার সমস্ত আগ্রহ চৌবাচ্চাটাকে ঘিরে, যারা আসছে যাচ্ছে বা তাকে পর্যবেক্ষণ করছে, সে ব্যাপারে তার কোন আগ্রহ নেই।
যদিও সে দেখতে ভয়ংকর, তার দাঁড়াগুলোই প্রায় এক মিটার লম্বা এবং এক আঘাতেই সম্ভবত যে কারও. মাথা পড়ে যাবে। তবে এটা মোটেও আক্রমণাত্মক নয়। এর পালাবার কোন ইচ্ছে নেই, সম্ভবতঃ প্রচুর খাবারের কারনেই। সাধারণভাবে ধরা হচ্ছে যে, সামুদ্রিক গুল থেকে বের হওয়া কোন রাসায়নিক নিঃসরণই তাকে এখানে আকৃষ্ট করেছে।
সে যদিও বা সাঁতার কাটতে জানে তা দেখাবার কোন চেষ্টা এখনও পর্যন্ত সে করেনি। ছয় দাঁড়া দিয়েই সে ক্রমাগত হেঁটে চলছে। এর চার মিটার লম্বা দেহটা রঙ্গীন বহিঃকঙ্কাল দিয়ে আবৃত। আর এর সংযোগগুলো একে বিস্ময়কর রকম নমনীয়তা দিয়েছে।
আরেকটা বিস্ময়কর জিনিস হচ্ছে এর ঠোঁটের মতো মুখের পাশে আঙ্গুলের মতো বা বলা যায় শুড়ের মতো জিনিসটা। এর অস্বস্তিকর রকমের সাদৃশ্য আছে মানুষের আঙ্গুলের সঙ্গে। খাবার নেয়াটাই যদিও এর প্রাথমিক কাজ বলে মনে হয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, এটা তার চাইতে অনেক বেশি কাজই করতে পারে। আর কাঁকড়াটা তার দাঁড়ার সঙ্গে যেভাবে সেটাকে কাজ করায় তাও আশ্চর্যজনক।
এর দুজোড়া চোখ আছে। এক জোড়া বড় এবং সম্ভবতঃ ম্লান আলোর জন্য, কারণ দুপুরের সময় সে দু’টো বন্ধ আছে–এবং সম্ভবতঃ খুব ভালো কাজ দেবে সেগুলো। সব মিলিয়ে, প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে এবং প্রভুত্ব করতে প্রয়োজনীয় সব অঙ্গই এর আছে, যা বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক চিহ্ন।
অবশ্য ডান দাঁড়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার লাগান না থাকলে কেউই এই কিস্তুত জীবটার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা খুঁজত না। তবে সেটাও কিছু প্রমাণ করে না। কারণ, রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীতেও মানুষের তৈরী জিনিসপত্র সংগ্রহ করে এবং ব্যবহার করে এমন বহু প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। ঠিকমতো প্রমাণ না দেয়া না থাকলে সম্ভবতঃ কেউই বিশ্বাস করত না অস্ট্রেলিয়ার দর্জি পাখী বা উত্তর আমেরিকার এক জাতের ইঁদুরের রঙ্গীন এবং উজ্জ্বল জিনিস সংগ্রহের বাতিক ছিল; এমনকি সেগুলো তারা বেশ শৈল্পিক ভাবেই সাজাত। পৃথিবীতে এমন বহু রহস্য ছিল। যার সমাধান অবশ্য আর কখনোই হবে না। থ্যালসার দানব কাঁকড়া সম্ভবত সেই মননশূন্য ধারারই এক দুর্বোধ্য অংশ মাত্র।
বেশ কয়েকটা তত্ত্ব এখন এসেছে। সবচে জনপ্রিয়টা হল যে এটা একটা গহনার মতো–যেহেতু এটাই এর মননশীলতাকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেয়। এটাকে এমনভাবে সাজাতে নিশ্চয়ই বেশ পরিমাণ দক্ষতা লাগে এবং তার জন্য কোন সাহায্যকারী লাগে কিনা তা নিয়ে বেশ ভালো রকম বিতর্ক চলছে।
অবশ্য সে সাহায্যকারী মানুষও হতে পারে। হতে পারে কাঁকড়াটা কোন প্রাচীন বিজ্ঞানীর পোষা প্রাণী। যদিও তা বাস্তবিকই অসম্ভব। যেহেতু থ্যালসায় সবাই সবাইকে চেনে, সেজন্য কোন গোপন ব্যাপারই দীর্ঘদিন গোপন থাকে না।
আরেকটা কষ্ট-কল্পিত তবে সেটাই সবচে দুশ্চিন্তার-তথাপি সম্ভাবনাময় ব্যাখ্যা-ব্রেসলেটটা কোন ধরনের পদমর্যাদার চিহ্ন!
২৬. তুষার
লেঃ ইয়েন ফ্লেচারের কাজটায় যেমন দক্ষতার দরকার আছে, তেমনি এটায় আছে প্রচুর একঘেঁয়ে অবসর। যার ফলে লেঃ ফ্লেচার অনেক সময় ধরেই অনেক কিছু ভাবে।
তার কাজ হচ্ছে, প্রায় ছয়শ টন ওজনের অসম্ভব শক্তিশালী একটা তারকে গুটানো। যেটা দিনে একবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই থ্যালসায় নেমে যায়। সেসময় প্রায় তিরিশ হাজার কিলোমিটার লম্বা একটা বাঁকা, জটিল তারের পথ তৈরী হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটা নিচের অপেক্ষমান ওজনের সঙ্গে লেগে যায় এবং সব ঠিকঠাক হলে তা ওপরে ওঠানো আরম্ভ হয়।
এর মধ্যে তুষার ফলকগুলোকে বরফ কল থেকে ওঠানোর মুহূর্তটা আর ম্যাগেলানের এক কিলোমিটারের মধ্যে বিশাল তুষারফলকগুলোকে চূড়ান্তভাবে রাখার সময়টা হচ্ছে সবচেয়ে সূক্ষ্ম কাজ। ওঠানোর কাজ শুরু হয় মধ্যরাতে। ছয় ঘন্টার মধ্যে সেটা সম্পন্ন হয়।
এই কাজটা দিনে করা হয় না, কারণ তাহলে ওই বরফকে থ্যালসার সূর্যের তাপে বাষ্প হওয়া থেকে রক্ষা করতে আরেকটা বর্ম বানাতে হবে। তাই গ্রহের নিরাপদ ছায়ার নীচে রোবট পরিবহনকারীরা তাপ-নিরোধক পাত দিয়ে ঘেরা বরফগুলোকে উপরে নিয়ে যায়।
উপরে যাবার পর, ওঠানোর যন্ত্রটাকে বরফ থেকে সরিয়ে নিয়ে আবার ফেরত পাঠানো হয়। কখনো কখনো ওঠানোর যন্ত্রটা, যাকে দেখতে কোন দানবের রান্নাঘরের বিশাল ধাতব ছ’কোনা সসপ্যানের মতো লাগে, বরফের সঙ্গে এমনভাবে আটকে যায়, যে খুব সাবধানে সামান্য গরম করে সেটাকে ছাড়াতে হয়।
সবশেষে নিখুঁত ছ’কোনা বরফপাতগুলো ম্যাগেলান থেকে একশ’ মিটার দূরে নিশ্চল হয়ে ভেসে থাকে। এবং তখনই সত্যিকারের সূক্ষ্ম কাজ আরম্ভ হয়। ছয়শ’ টন বরফপাতকে মাধ্যাকর্ষণবিহীন অবস্থায় কোন মানুষ এক করতে পারে না। একমাত্র কম্পিউটারই বলতে পারে কতটুকু শক্তি কোনদিক থেকে দিতে হবে। তারপরও একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়, যে এমন কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে, যার সমাধান সবচে বুদ্ধিমান রোবটের পক্ষেও সম্ভব নয়। অবশ্য ফ্লেচারের সামনে এমন কোন পরিস্থিতি আসেনি, তবে সে তার অপেক্ষায় আছে।
