ঠিক সে ভাবেই আমরা ম্যাগেলানকে পৃথিবী থেকে থ্যালসা পর্যন্ত নিয়ে এসেছি, আশা করি সাগান-২ পর্যন্ত নিতে পারব কিন্তু কিভাবে করছি, সেটা না জেনেই। তবে হয়তো একদিন, সম্ভবতঃ শতাব্দীর মধ্যেই আমরা কোয়ান্টাম ড্রাইভ তৈরীর মতো মেধাবীদের তৈরী করতে পারব।
আর-কে জানে? আপনারা হয়তো আমাদের আগেই পারবেন। ভবিষ্যতে একজন ফ্রান্সিস জোলান হয়তো থ্যালসায় জন্মাবে। তখন আপনারাই আমাদের দেখতে আসবেন। সে অবশ্য তা বিশ্বাস করে না। তবে শেষ করার জন্য এটা একটা সুন্দর উপায়-তুমুল করতালির মধ্যে দিয়ে।
২২. ক্র্যাকান
কোনো সমস্যা ছাড়াই এটা আমরা করতে পারব, ক্যাপ্টেন বে চিন্তিত স্বরে বললেন, পরিকল্পনা হয়ে গেছে কম্প্রেসারের কম্পনের সমস্যাটার সমাধান হয়েছে। এর পরে জায়গা দেখতে যাওয়া হবে।
বাড়তি মানুষ আর যন্ত্র আমাদের আছে-কিন্তু দেয়াটা কি ঠিক হবে? টেরানোভার কনফারেন্স রুমের উপবৃত্তাকার টেবিল ঘিরে বসা তারা পাঁচজন সিনিয়র অফিসারদের দিকে তিনি তাকালেন। তারপর সবাই ড. ক্যালডরের দিকে তাকালেন। তিনি হাত ছড়িয়ে বসে ছিলেন।
-তা হলে এটা কেবলমাত্র যান্ত্রিক সমস্যা নয়। আমার যেটা জানার দরকার সেটা জানাও আগে।
-এই হচ্ছে অবস্থা ডেপুটি ক্যাপ্টেন ম্যালিনা বললেন। বাতিগুলো ম্লান হয়ে গেল। আর টেবিলের মাঝখানে, সেন্টিমিটার খানেক উঁচুতে তিন দ্বীপ ভেসে উঠল। এটাকে একটা মডেলের মতো মনে হলেও এটা কোন মডেল নয়। যদি যথেষ্ঠ বড় করা হয় তাহলে কেউ ল্যাসানদের ব্যস্ততা দেখতে পাবে।
-আমার ধারণা ল্যাসানরা এখনও ক্র্যাকানকে ভয় পায়। যদিও এটা খুব লক্ষ্মী একটা আগ্নেয়গিরি। যাই হোক না কেন, এটা তো কাউকে মেরে ফেলেনি। আর এটাই হচ্ছে আন্তঃদ্বীপ যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল চাবি। সাগরপৃষ্ঠ হতে ছয় কিলোমিটার উঁচুতে এর চুড়াটা হচ্ছে গ্রহের সবচাইতে উঁচু জায়গা। তাই এটাই
হচ্ছে এ্যান্টেনা বসাবার আদর্শ জায়গা। দূরের যে কোন জিনিস এটায় ধরে আবার দ্বীপগুলোয় পাঠানো যাবে।
–আমার মাঝে মাঝে খুব অবাক লাগে যে, ক্যালডর বললেন–দু’হাজার বছর পরও আমরা বেতার তরঙ্গের চাইতে ভালো কিছু আবিষ্কার করতে পারিনি।
–মহাবিশ্ব কেবলমাত্র একটা বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বিচ্ছুরণ দিয়ে ভর্তি ড. ক্যালডর। আমাদের এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। আর ল্যাসানরা ভাগ্যবান–কারণ উত্তর ও দক্ষিণ দিকে সব শেষের বিন্দুটাও তিনশ কিলোমিটারের মধ্যে-ক্র্যাকান পর্বত তাদের দুটোকেই পুরোপুরি ঢাকতে পারে। কোন বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই কাজ চালাতে পারবে।
কেবল যাওয়াটা–অর্থাৎ আবহাওয়াটাই সমস্যা। আর চালু রসিকতা হচ্ছে যে ক্র্যাকানই হচ্ছে গ্রহের একমাত্র জায়গা যেখানে আবহাওয়া বলে কোন বস্তু আছে। কয়েক বছর পর পর কাউকে পাহাড়ে উঠতে হয়। অ্যান্টেনা ঠিক করে কিছু ব্যাটারী আর সৌর কোষ বদলায় এবং একগাদা বরফ নিয়ে নেমে আসে। কঠিন কাজ তবে ঝামেলা নেই।
-যেটা, সার্জন কমান্ডার নিউটন বললেন, ল্যাসানরা পারতপক্ষে এড়িয়ে চলে। অবশ্য আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না। কারণ তারা তো আবার আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যেমন খেলা বা শরীরচর্চার জন্য শক্তি জমিয়ে রাখে। সে অবশ্য ‘প্রেম করা শব্দটা যোগ করতে চাইছিল। কিন্তু সেটা ইতিমধ্যেই তার কয়েক জন সহকর্মীর জন্য যথেষ্ঠ সংবেদনশীল শব্দতে পরিণত হয়েছে সুতরাং ওটা ব্যবহার না করাই ভালো।
-তারা পাহাড়ে চড়বে কেন? ক্যালডর জিজ্ঞেস করলেন। তারা ওড়ে না কেন? তাদের কি সোজা উপরে উঠে যাবার মতো বিমান নেই?
–আছে, কিন্তু ওখানে বাতাস খুব পাতলা। কিছু বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর ল্যাসানরা কঠিন পথটাই বেছে নিয়েছে।
–আচ্ছা ক্যালডর চিন্তিত ভাবে বললেন, সেই পুরোনো হস্তক্ষেপ করা না করার প্রশ্ন। আমরা কি তাদের আত্মশক্তি কমিয়ে দিচ্ছি? অবশ্য খুব কম মাত্রায়, অন্ততঃ আমি বলব। আর আমরা যদি তাদের এই সামান্য অনুরোধটাও না শুনি তাহলে তিক্ততার জন্ম হতে পারে। তারা বরফ কলের জন্য যে সাহায্য করেছে তাতে এটা করা যেতে পারে।
-আমারও ঠিক তাই মনে হয়। কোন আপত্তি? বেশ। তা মি. লোরেনসন আপনি ব্যবস্থা নিন। যে কোন মশন্যবিমান প্রয়োজনে আপনি নিয়ে নিন। বরফের জন্যতো ওগুলোর দরকার নেই।
মোজেস ক্যালডর পাহাড় ভালোবাসেন। এটা তাকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যাবার অনুভূতি দেয়–যদিও ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতার ব্যাপারটাও সে এখন তিক্ততার সঙ্গে স্বীকার করে। চূড়া থেকে সে লাভার সমুদ্রের দিকে তাকালো। যেটা অনেক আগেই জমে গেলেও এখনও ধোয়া ছাড়ছে। তারও দূরে পশ্চিমে বড় দুটো দ্বীপই পরিষ্কার। দেখা যাচ্ছে।
ঠান্ডা আর নিঃশ্বাসের সক্রিয় চেষ্টা প্রতিটি মুহূর্তকেই আনন্দময় করে তুলেছে। বহু আগের প্রাচীন কোন ভ্রমণ বা অ্যাডভেঞ্চার বই এ ‘মাতাল করা বাতাস পড়ার সময় তার মনে হয়েছিল লেখককে জিজ্ঞেস করে সে নিজে কতটা গিলেছে। কিন্তু মনে হচ্ছে কথাটা মিথ্যে নয়।
–সবকিছু গুছিয়ে ফেলা হয়েছে মোজেস। আমরা ফিরব।
-ধন্যবাদ লোরেন। ইচ্ছে করছে সবাইকে সন্ধ্যায় নেয়ার সময়টা পর্যন্ত থাকি। তবে এত উচ্চতায় ততক্ষণ থাকাটা বিপদজনক।
-ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে অক্সিজেন আছে।
