বহিঃস্থ যোনিঃ যোনিদ্বার থেকে শুরু হয়ে যোনিনালির বাইরে বিস্তৃত অংশকে বহিঃস্থ যোনির ভিতরে ধরা হয়। এই অংশটিকে বলা হয় ভালভা (Valva) বলে। ভালভা অনেকগুলো ছোটো অংশ নিয়ে তৈরি। এই অংশগুলো হল– যোনিমণ্ডপ; মন্স পিউবিস বা যোনিমণ্ডপ নারীদেহের নিম্নাঙ্গের একটি নির্দিষ্ট এলাকা মানব অঙ্গসংস্থানবিদ্যায় এবং সাধারণ স্তন্যপায়ী প্রাণীতে পিউবিক অস্থি, পিউবিক সিমফাইসিস সংযোগের উপর মেদ কলা জমে থাকা উঁচু ঢিপির (mound) মতো অংশটিকে ‘মন্স পিউবিস’ বা ‘যোনিমণ্ডপ’ বলে। এটি লাতিন শব্দ ‘pubic mound’ থেকে এসেছে, এছাড়া এটি মন্স ভেনেরিস (mound of venus) নামেও পরিচিত। মন্স পিউবিস ভালভার উপরের অংশ গঠন করে। মন্স পিউবিসে আকার সাধারণত শরীরের হরমোন ক্ষরণ ও মেদের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। বয়ঃসন্ধির পর এটি প্রসারিত হয়, এর উপরভাগে অংশ রোমে ঢেকে যায়, যা যৌনকেশ নামে পরিচিত। নারীদেহে এই উঁচু অংশটি মেদ কলা দিয়ে গঠিত এবং যথেষ্ট পরিমাণে বড়। যৌনমিলনের সময় এটি পিউবিক অস্থিকে রক্ষা করে।
মানুষের মন্স পিউবিস যে কয়েকটি অংশে বিভক্ত তার নিম্নভাগে আছে বৃহদ্দোষ্ঠ, এবং অন্য পাশে হলরেখার (লাঙ্গল ফলার দাগ) মতো অংশ, যা যোনিচিরল নামে পরিচিত। ক্লেফট অফ ভেনাস যে সকল অংশ পরিবেষ্টন করে রেখেছে সেগুলো হল– নিম্নোষ্ঠ, ভগাঙ্কুর, যোনির প্রবেশদ্বার এবং ভালভাল ভেস্টিবিউলের অন্যান্য অংশ। মন্স ভেনেরিসের মেদ কলা ইস্ট্রোজেন ক্ষরণে প্রতিক্রিয়াশীল, যা বয়ঃসন্ধি শুরুর সময় একটি স্বতন্ত্র উঁচু অংশের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এটি লেবিয়া মেজরার সামনের অংশে, পিউবিক অস্থি থেকে সরে যায়। যোনিওষ্ঠ (Labia) দুইটি মাংসল ভাঁজ যোনিপথকে আবৃত করে রাখে। এর বড়ো ভাঁজটিকে বলা হয় বৃহদ্দোষ্ঠ (Labia majora)। বৃহদ্দোষ্ঠের ভিতরের দিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র মাংসল ভাঁজকে বলা হয় ক্ষুদ্রোষ্ঠ (Labia minora)। বৃহদোষ্ঠ বহিঃস্থ অংশ, রঙিন এবং চুল বিশিষ্ট এবং অন্যটি ভেতরের অংশ, যা কোমল ও সেবাসিয়াস ফলিকল সমৃদ্ধ। এই বৃহদ্দোষ্ঠের ভিতরের দিকে থাকে। ভগাঙ্কুর (Clitoris): যোনিওষ্ঠের উপরের দিকে ছোটো বোতামের মতো একটি অংশ থাকে। একে বলা হয় ভগাঙ্কুর। এই অংশটি যোনিমুখ ও মূত্রনালির প্রবেশমুখের উপরাংশে অবস্থিত। এটি যৌন মিলনকালে তৃপ্তি প্রদান করা। যেহেতু এটি একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ তাই এর বর্ণ চামড়া মতো না-হয়ে ঝিল্লির মতো হয়। এটির উচ্চতা সিকি ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। তবে যৌন উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এটি শক্ত ও দীর্ঘ হতে থাকে। যোনিচ্ছদ : যযানিচ্ছদ বা সতীচ্ছদ (Hymen) : এটি মিউকাস মেমব্রেন দ্বারা সৃষ্ট একটি পর্দা। এই পর্দা যা যোনির প্রবেশমুখ আংশিক বা সম্পূর্ণ আবরিত করে রাখে। ভালভাল ভেস্টিবিউল (Vulval vestibule) বা ভালভার ভেস্টিবিউল (Vulvar vestibule)। এটি লেবিয়া মাইনরার মধ্যবর্তীস্থানে অবস্থিত ভালভার একটি অংশ, যেখানে ইউরেথ্রাল ও যযানির প্রবেশমুখ উন্মুক্ত। এর প্রান্ত হার্টের লাইন দ্বারা চিহ্নিত। যোনির সম্মুখে, গ্ল্যান্স ক্লিটোরিসের ২.৫ সেন্টিমিটার ভিতরে বহিঃস্থ ইউরেথ্রাল অফিস অবস্থিত। সাধারণত এটিকে স্কিনির ডাক্টের প্রবেশমুখের নিকটে ছোটো, হালকা স্পষ্ট দাগ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। আর ভ্যাজাইনাল অরফিস হচ্ছে মূত্রনালির নীচে ও পিছনে অবস্থিত একপ্রকার মধ্যম। আকৃতিবিশিষ্ট চির; এর আকার সতীচ্ছদের আকৃতির সঙ্গে ব্যাস্তানুপাতিক হারে পরিবর্তিত হয়। বার্থোলিনের গ্রন্থি (Bartholin’s glands)। একে অনেক সময় বৃহৎ ভেসটিবিউলার গ্রন্থি (greater vestibular glands) বলা হয়। দুটি গ্রন্থি নারীর যোনির প্রবেশদ্বারের কাছে একটু নীচে ডানে ও বামে থাকে। খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকে এই গ্রন্থি দুটি সম্পর্কে প্রথম ড্যানিশ শরীরবিদ ক্যাসপার বার্থোলিন দ্য ইয়াঙ্গার (১৬৫৫-১৭৩৮) এদের বর্ণনা দেন। এই বিজ্ঞানীর নামে এই গ্রন্থদ্বয়ের নামকরণ করা হয়। গ্রাফেনবার্গ স্পট বা জি-স্পট : হচ্ছে। যোনিপথের একটি ক্ষুদ্র অংশবিশেষ। এই অংশটি মূত্রথলির নীচে অবস্থিত। এর নামকরণ করা হয়েছে জার্মান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ আর্নেস্ট গ্রাফেনবার্গের নামানুসারে। যোনিপথের শুরু হতে ১-৩ ইঞ্চির মাঝেই এর অবস্থান। সঙ্গমকালে যোনিমুখের ১-৩ ইঞ্চির ভিতরে নারী সবচেয়ে বেশি পুলক অনুভব করে। এই অধিক সংবেদনশীল অংশকেই জি-স্পট বলা হয়।
এ তো গেল নারী ও পুরুষের যৌনাঙ্গের বিবরণ। কিন্তু যাঁরা নারী-পুরুষ কোনো লিঙ্গেই অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, তাঁদের যৌনাঙ্গের পরিচয় কী? হিজড়ে বা হিজড়া? যৌনাঙ্গের গঠন-বিচারে কারা হিজড়ে? হিজড়ে সাধারণত তিনরকম –(১) প্রকৃত হিজড়ে ( True Hermaphrodite), (২) অপ্রকৃত পুরুষ হিজড়ে (Male Pseudo Hermaphrodite), এবং (৩) অপ্রকৃত নারী হিজড়ে (Female Pseudo Hermaphrodite)
(১) অপ্রকৃত হিজড়ে (Pseudo Hermaphrodite) : গর্ভে থাকাকালীন সময়ে অন্যান্য শারীরিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মতোই শিশুর যৌনাঙ্গ গঠিত হয়। যৌনাঙ্গ গঠনে ক্রোমোজোমের ভূমিকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ক্রোমোজোমের ত্রুটিবিচ্যুতির ফলেই জন্ম নেয় যৌন প্রতিবন্ধী শিশু। ক্রোমোজোমের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণের ব্যবস্থায় এই যৌন বিকলাঙ্গরা তাই হয়ে উঠে অপ্রকৃত। সাধারণত পাঁচ ধরনের অপ্রকৃত হিজড়ে দেখা যায় —
