*
‘খাজাসারা সবাইকে অবিলম্বে আঙিনায় সমবেত হতে বলেছে, নাদিয়া নামে কৃশকায়, তারের মত দেহের অধিকারী ছোটখাট দেখতে এক মহিলা ফাতিমা বেগমের পরিচারিকাদের একজন, বলে। মালকিন, এমনকি আপনাকেও অবশ্যই আসতে হবে, সে তার বয়স্ক গৃহকত্রীর দিকে শ্রদ্ধার সাথে মাথা নত করে পুনরায় যোগ করে।
‘কেন? কি হয়েছে? বিকেলের নাস্তার ব্যাপারটা বিঘ্নিত হওয়ায় ফাতিমা বেগমকে দেখতে মোটেই সুন্দরী মনে হচ্ছে না, মেহেরুন্নিসা ভাবে।
‘খোঁজাদের একজনের সাথে হাতে নাতে একজন উপপত্নীকে ধরা হয়েছে। অনেকেই বলাবলি করছে যেমনটা ভাব করে তার চেয়ে সে বেশি পুরুষ, অন্যদের ধারণা তারা কেবল চুমু দেয়া নেয়া করছিল। মেয়েটাকে চাবুকপেটা করা হবে।’
‘আমার যখন বয়স ছিল তখন এসব অপরাধের একমাত্র শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। ফাতিমা বেগমের আপাত কোমল মুখাবয়বে অননুমোদনের ছাপ স্পষ্ট। খোঁজাটার কি হবে?
‘তাকে হাতির পায়ের নিচে পিষে মারার জন্য ইতিমধ্যে কুচকাওয়াজের ময়দানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
‘ভালো, ফাতিমা বেগম বলেন। এটাই যথার্থ এমনটাই হওয়া উচিত।’
ফাতিমা বেগমকে অনুসরণ করতে, মেহেরুন্নিসা দেখে প্রাঙ্গণে ইতিমধ্যে গালগল্প করতে থাকা মহিলারা এসে ভীড় করেছে, তাদের কাউকে উদ্বিগ্ন মনে হয় বাকীদের যখন কৌতূহলী দেখায় এবং তারা বিভিন্ন কৌশলে প্রাঙ্গণের কেন্দ্রস্থলের দৃশ্য ভালোভাবে দেখার জন্য চেষ্টা করছে যেখানে হেরেমের পাঁচজন মহিলা রক্ষী ফাঁসিকাঠের মত দেখতে কাঠের তৈরি একটা কাঠামো স্থাপণ করছে। আমার পেছনে দাঁড়াও, ফাতিমা বেগম মেহেরুন্নিসাকে আদেশ দেন, এবং আমার রুমাল আর সুগন্ধির বোতল ধরে রাখো।
প্রহরীদের একজন এখন তার শক্তিশালী খালি হাতে শাস্তিদানের কাঠামোটা ধাক্কা দিয়ে, এর দৃঢ়তা পরীক্ষা করছে। সে সন্তুষ্ট হয়ে এক পা পিছিয়ে আসে এবং অন্য আরেকজন প্রহরীর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়তে সে ব্রোঞ্জের একটা বিষাণ ঠোঁটে রেখে ফুঁ দিতে সেটা একটা কর্কশ ধাতব শব্দে বেজে উঠে। মেহেরুন্নিসা শব্দের রেশ মিলিয়ে যেতে না যেতেই আঙিনার ডানদিক থেকে আপাদমস্তক টকটকে লাল রঙের আলখাল্লায় আবৃত হয়ে নিজের স্বভাবজাত মন্থর আর গম্ভীর ভঙ্গিতে হেঁটে খাজাসারাকে প্রবেশ করতে দেখে, সমবেত মহিলারা দু’পাশে সরে গিয়ে তাকে সামনে এগোবার জায়গা করে দেয়। মালার পিছনে, নাদুসনুদুস দেখতে অল্পবয়সী এক মেয়েকে, দুইজন মহিলা প্রহরী দু’পাশ থেকে ধরে টেনে নিয়ে আসে, যার। দু’চোখ থেকে ইতিমধ্যেই অঝোরে অশ্রু ঝরছে এবং তাঁর শোচনীয় অঙ্গস্থিতিই বলে দেয় যে সে নিজেও জানে কোনো ধরনের করুণা তাকে দেখান হবে না। খাজাসারা কাঠের ভয়ঙ্কর দর্শন কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাবার ফাঁকে সে আদেশের সুরে বলে, মেয়েটাকে নগ্ন কর। কশাঘাত শুরু করা যাক।
মেয়েটাকে যে প্রহরীরা ধরে রেখেছিল তারা সামনের দিকে ধাক্কা দিয়ে জোর করে তাকে হাঁটু ভেঙে বসতে বাধ্য করে এবং রুক্ষভাবে তাঁর রেশমের অন্তর্বাস খুলে নেয় এবং সূক্ষ মসলিনের তৈরি লম্বা চুড়িদার পাজামার কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং পাজামা বাঁধার মুক্তাখচিত বেণী করা ফিতে ছিঁড়ে গিয়ে পুরো আঙিনায় সেগুলো ছড়িয়ে যায়। মেহেরুন্নিসার পায়ের কাছে এসে একটা থামে। প্রহরীরা নগ্ন অবস্থায় তাকে টেনে হিঁচড়ে কাঠের কাঠামোটার কাছে নিয়ে যেতে শুরু করতে মেয়েটা চিৎকার করতে শুরু করে, তার দেহ ধনুকের মত বাঁকা হয় আর টানটান হয়ে যায় এবং সে ধ্বস্তাধ্বস্তি করতে থাকলে তার ভারি স্তন আন্দোলিত হতে থাকে কিন্তু প্রহরীদের পেশী শক্তির সাথে তার তুলনায় চলে না এবং তাঁরা অনায়াসে কাঠামোর নিচের প্রান্তের সাথে তাঁর গোড়ালী আর উপরের প্রান্তের সাথে তাঁর দুই কব্জি জোড়া করে চামড়ার শক্ত সরু ফালি দিয়ে বেঁধে দেয়। মেয়েটার লম্বা চুলের গোছা তাঁর নিতম্বের বেশ নিচে পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রহরীদের একজন তার কোমর থেকে খঞ্জর বের করে গলার কাছে ঘাড়ের ঠিক উপর থেকে কেটে দেয় এবং চকচক করতে থাকা পুরো গোছাটা মাটিতে কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় পড়তে দেয়। মেহেরুন্নিসা তার চারপাশ থেকে একটা সম্মিলিত আঁতকে উঠার শব্দ শুনতে পায়। একজন মেয়ের কাছে তাঁর চুল পরিত্যাগ করাই–তাঁর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যের মধ্যে অন্যতম–একটা ভয়ঙ্কর আর লজ্জাজনক বিষয়।
মহিলা প্রহরীদের দু’জন এবার সামনে এগিয়ে আসে, তাঁদের আঁটসাট জামার বাইরের অংশ তারা খুলে রেখেছে এবং কোমরের কারুকাজ করা চামড়ার চওড়া কোমরবন্ধনী থেকে ছোট হাতলযুক্ত গিট দেয়া দড়ির চাবুক বের করে। কাঠামোর দু’পাশে নিজেদের নির্ধারিত স্থানে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের হাত উঁচু করে এবং পর্যায়ক্রমে বন্দির ইতিমধ্যেই কাঁপতে শুরু করা শিহরিত দেহে কশাঘাত শুরু করে। প্রতিবার আঘাত করার সময় তারা উচ্চস্বরে–এক, দুই, তিন–সংখ্যা গুনতে থাকে এবং প্রথমদিকে প্রতিবার বাতাস কেটে হিসহিস শব্দে চাবুকের গিঁটঅলা দড়ি মেয়েটার নরম, মসৃণ ত্বকে কামড় দেয়ার সময় সে চিৎকার করে উঠে যতক্ষণ না সেটা একটানা একটা প্রায় পাশবিক গোড়ানিতে পরিণত হয়। সে বেপরোয়াভাবে কিন্তু বৃথাই মোচড়াবার চেষ্টা করে নিজের দেহকে চাবুকের নাগাল থেকে সরিয়ে নিতে চায়। শীঘ্রই তাজা রক্ত তার মেরুদণ্ড আর পিঠ বেয়ে পড়তে শুরু করে এবং নিতম্বের মাঝ দিয়ে গড়িয়ে তার পায়ের কাছে পাথরের উপরে চকচক করতে থাকে। মেহেরুন্নিসা টের পায় তাঁর চারপাশের প্রাঙ্গণে একটা থমথমে নিরবতা নেমে এসেছে।
