শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত অন্ধ ব্যক্তিও অনুভব করতে পারেন যে, বক্তব্য শেষ হয়েছে। কেননা, এটা সত্যি সত্যিই এভাবে শেষ হয়, তাই শেষ, অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি নয় মাঝপথে শেষ নয়।
লীগ অব নেশন্স এর ষষ্ঠ অধিবেশন উদ্বোধনীর পরের রোববার ড, হ্যারী এমারসন ফসডিক জেনেভার সেন্ট পীরের ক্যাথিড্রেলে এক বক্তৃতা করেন। তিনি বক্তৃতা শেষ করেন এই বাক্য দিয়ে, যারা তরবারি হাতে নেয় তরবারি হয়েই তারা শেষ হয়।” লক্ষ্য করুন তাঁর ধর্মোপদেশ সংক্রান্ত বক্তৃতা শেষে কথাটি।
আমরা যিশুখ্রিস্ট ও যুদ্ধের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কথা ভাবতেও পারি না। তাই আজ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সামনে চ্যালেঞ্জ স্বরূপ। যুদ্ধ হচ্ছে মানবতার বড় শত্রু। কেননা যুদ্ধ ধ্বংস করে মানবতা, মানব সভ্যতা। ইহা খ্রিস্টানদের আদর্শের পরিপন্থী। যিশু যা বলে গেছেন যুদ্ধ তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ভগবান সম্পর্কে খ্রিস্টানদের মনে যে বিশ্বাস আছে যুদ্ধ তারো বিরোধী। খ্রিস্টিয় গির্জার উচিত সরাসরি, সুস্পষ্ট ভাবে যুদ্ধের বিরোধিতা করা। কেননা, আমাদের পিতৃপুরুষের সময় তার বর্তমান সময় এক নয়। বর্তমান সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো অতীব প্রয়োজন।
আজ এখানে দাঁড়িয়ে একজন আমেরিকান হিসাবে আমি আমার সরকারের পক্ষে বলতে পারি না, কিন্তু একজন আমেরিকান ও একজন খ্রিস্টান হিসাবে আমি লাখ লাখ মানুষের পক্ষে কথা বলতে পারি, কামনা করতে পারি বিশ্ববাসীদের কল্যাণ। আমরা বিশ্ব শান্তির জন্য নানাভাবে কাজ করতে পারি। শান্তির পরিপন্থী যা তা মানবতার জন্যে বিপর্যয় স্বরূপ। শান্তি ছাড়া কোনো জাতির কল্যাণ হয় না, হতে পারে না। ”যারা তরবারি হাতে নেয় তরবারি দিয়েই তারা শেষ হয়।”
কিন্তু বক্তৃতার এই সমাপ্তি ও সর্বাঙ্গ সুন্দর সমাপ্তি নয়। এর সাথে লিংকনের দ্বিতীয় উদ্বোধনী বক্তৃতা সমাপ্তির সুর মিলিত হলে হতে পারে সুন্দরতম সমাপ্তি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন চ্যান্সেলর, আর্ল কার্জন একদা ঘোষণা করেছিলেন, এই নির্বাচন মানবতার, গৌরবও সম্পদ, মানুষের সর্বোত্তম বাকপটুতা, স্বর্গীয় বাকপটুতা।
আমরা মনে প্রাণে আশা করি, অন্তরের সাথে প্রার্থনা করি, যুদ্ধের অভিশাপ দূর হোক। কিন্তু ভগবান যদি ইচ্ছা করেন, সমস্ত সম্পদ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে পারে। চলতে পারে শত-শত বছর ধরে চলতে পারে অস্ত্রধারীর শেষ রক্তবিন্দু শেষ না হওয়া পর্যন্ত। এতৎসত্ত্বেও তিন হাজার বছরের পুরাতন কথার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।”খোদার বিচার সবসময় সঠিক ও খাঁটি।”
কারো প্রতি শত্রুতা নয় সকলের প্রতি সহানুভূতি, সত্যের প্রতি দৃঢ়তা রেখে আসুন আমরা আমাদের কর্তব্য সম্পন্ন করি। জাতির জন্যে যারা প্রাণ দিয়েছে, দিয়েছে আত্মাহুতি, তাদের বিধবা এবং সন্তানদের জন্যে শুধু কিছু করাই কর্তব্য নয় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই আসল কর্তব্য।
এতক্ষণ আপনি যা পড়লেন তা হচ্ছে আমার মতে জীবন্ত মানুষ প্রদত্ত বক্তৃতার সর্বশ্রেষ্ঠ সমাপ্তি।-আপনি কি আমার সাথে একমত? আপনি আর কোনো বক্তৃতায় এরূপ মানবতাবোধ, প্রেম এবং সহানুভূতি পাবেন?
আব্রাহাম লিংকনের জীবনীকার উইলিয়াম ই. বার্টান লিখেছেন, গেটিসবার্গের ভাষণ একটি মহৎ সৃষ্টি। এটা মন্ত্রের চাইতেও বড় কিছু। এটা আব্রাহাম লিংকন প্রদত্ত সকল বক্তৃতা হতে শ্রেষ্ঠতম। এতে বুদ্ধিমত্তা ও আধ্যাত্ত্বিক শক্তি পরিপূর্ণ ভাবে প্রকাশিত।
”এটা পবিত্র কাব্যের মতো,” লিখেছেন কাল স্কুর্জ। আমেরিকার আর কোনো প্রেসিডেন্ট আমেরিকার জনগণের প্রতি এরূপ কথা বলেন নি। আমেরিকার আর কোনো প্রেসিডেন্টের হৃদয় হতে এরূপ শব্দ উৎসারিত হয় নি।
কিন্তু আপনি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের মতো অথবা অটোয়া বা ক্যানবেরার প্রধানমন্ত্রীর মতো কোনো অমর বক্তৃতা করতে যাচ্ছেন না। আপনার সমস্যা হচ্ছে, সম্ভবত একটা সামাজিক সমাবেশে কীভাবে আপনার বক্তৃতার উপসংহার টানবেন। আপনি কীভাবে বক্তৃতা শেষ করবেন? আসুন আমরা দেখি, দেখি এ সম্পর্কে কল্যাণকর কোনো সুপারিশ করা যায় কিনা।
আপনার পয়েন্ট সংক্ষিপ্ত করে নিন।
একজন বক্তা তিন বা পাঁচ মিনিটের একটি বক্তৃতায়ও এত বেশি পয়েন্ট আলোচনা করতে চান যে, শ্রোতারা তাঁর মূল বক্তব্য কী তাও বুঝতে ব্যর্থ হয়। তবে কিছু বক্তা এটা উপলদ্ধি করেন। তবে তাঁদের মনে এরূপ বদ্ধমূল ধারণা থাকে যে, সব পয়েন্ট তাদের মনে পরিস্কার হচ্ছে, শ্রোতারাও সে পয়েন্ট সহজে বুঝবে। এ ধারণা ঠিক নয়। বক্তা নিজে এগুলো জানলেও শ্রোতার কাছে এগুলো সম্পূর্ণ নতুন। কিছু তারা বুঝবেন, কিন্তু অধিকাংশ পয়েন্ট তাদের মনে দাগ কাটবে না কেননা, শ্রোতাদের অনেক পয়েন্ট শুনতে হয়, কিন্তু তাদের স্মরণ থাকে খুব সামান্যই।”
একজন খ্যাতনামা আইরিশ বক্তা বলেছিলেন, প্রথমে তাদের বলুন যে, বলা শেষ হয়েছে। এটা অবশ্য ভালো কথা যে, শ্রোতাদের বলে দেয়া যা বলার তা বলে দিয়েছেন, এই বক্তব্য হওয়া উচিৎ সংক্ষিপ্তসার স্বরূপ।
এখানে একটি উদাহরণ দিচ্ছি। বক্তা শিকাগোর রেলওয়ের একজন ট্রাফিক ম্যানেজার।
ভদ্রমহোদয়গণ, সংক্ষেপে বলতে গেলে আমার বক্তব্য হচ্ছে পূর্ব পশ্চিম ও উত্তরে আমাদের রেলপথ চালু করা হয়েছে এবং অভিজ্ঞ পরিচালন ব্যবস্থার ফলে গত এত বছরে দুর্ঘটনা পরিহার করে আমরা যে অর্থ পেয়েছি তা দিয়ে দক্ষিণ পথে লাইন চালু করা যায়। সুতরাং আমি দক্ষিণের পথে লাইন চালু করার সুপারিশ করছি।
