এটা কী আমাদের বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কিছু বাড়িয়ে বলা? না, মনে করি না। ”ছবিকে বড় করে আঁকলে তার প্রতি শ্রোতার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়,“ বলে এলবার্ট হুবাড যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন এটা তারই অনুসরণ মাত্র।
সংক্ষিপ্ত সার :
(১) বক্তৃতার সূচনা বড় কঠিন। শ্রোতার মনে আকর্ষণ সৃষ্টির জন্যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও। সুতরাং এটা এমন সুচিন্তিতভাবে তৈরি করা প্রয়োজন যাতে শ্রোতাকে আকর্ষণ করা সহজ হয়।
(২) সূচনা বা ভূমিকা সংক্ষিপ্ত হওয়া প্রয়োজন। এটা এক বা দুটি বাক্যে শেষ করা দরকার। সময় সময় এটাকে সংক্ষিপ্ততম করা প্রয়োজন? স্বল্পতম শব্দ দিয়ে আপনার মূল বিষয়টি প্রকাশ করুন। তাহলে কেহই বিরক্ত হবে না।
(৩) নবিশেরা মানবিক কাহিনী বলে অথবা ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে বক্তৃতা শুরু করতে চান। এই দুটি পদ্ধতিই অস্বাভাবিক ভুল। খুব কম সংখ্যক লোক, নগণ্যতম লোক মানবিক কাহিনী সাফল্যের সাথে ব্যক্ত করতে পারেন। এই ধরনের প্রচেষ্টা শ্রোতাদের প্রমোদ দানের পরিবর্তে বিরক্ত করে। গল্প বলতে হলে তা বিষয়ের সাথে সম্পর্ক যুক্ত হবে, শুধুমাত্র গল্পের জন্য গল্প বলা হয়। কৌতুক হতে হবে কেকের মসল্লা-স্বরূপ, কেক নয়।কখনো ক্ষমা প্রার্থনা নয়। এটা শ্রোতাদের অপমানিত করার সামিল, আপনি যা বলতে চান সরাসরি তাই বলুন এবং সংক্ষিপ্ত ভাবে বলে শেষ করুন।
(৪) একজন বক্তা সহজেই শ্রোতাদের মন আকর্ষণ করতে পারেন, যদি তিনি :
(ক) ঔৎসুক্য জাগাতে পারলে (উদাহরণ-ডিকেন্স এর বড়দিনের নীতি)।
(খ) মানবিক কাহিনী বলতে পারলে (উদাহরণ হীরা জহরতের কাহিনী)।
(গ) বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়ে শুরু করলে (উদাহরণ-এই বইয়ের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)।
(ঘ) কোনো কিছু প্রদর্শন করে (উদাহরণ–মুদ্রা প্রদর্শন);
(ঙ) প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে (উদাহরণ পথ ভ্রমণে কেহ কি এধরণের মুদ্রা পেয়েছেন?
(চ) আকর্ষণীয় কোটেশন দিয়ে শুরু করে (এলবার্ট হুবার্ড এর উদ্যোগ সংক্রান্ত বক্তব্য)।
(ছ) বিষয়টি কীভাবে শ্রোতাদের স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট তা উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে, (উদাহরণ–আপনার বর্তমান বয়সও ৮০ বছরের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে তার তিনভাগের দু’ভাগ সময় আপনি বাঁচবেন বলে আশা করতে পারেন। তবে সময়-সময় শরীর পরীক্ষা করে সঠিক ভাবে চলে আপনি এই সময় বাড়াতে পারেন, প্রভৃতি)।
(জ) অতিখ্যাত তথ্য দিয়ে শুরু করে (উদাহরণ-আমেরিকানরা সভ্য বিশ্বের সবচাইতে জঘন্যতম দুর্বৃত্ত)।
(৫) সুচনায় কোনো কিছুকে অস্বাভাবিক প্রথাসিদ্ধ করার চেষ্টা করবেন না? সূচনাকে স্বাভাবিক গতিশীল ও অবশ্যম্ভাবীরূপে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করুন। এটা করা যায় কোনো কিছু ঘটেছে বা বলা হয়েছে তার উদাহরণ দিয়ে (উদাহরণ, গত কাল এখান হতে বেশি দূরে নয়, এমন একটি শহরের পাশ দিয়ে যখন ট্রেন চলছিল তখন আমার স্মরণ হয়–)
০৯. বক্তব্য শেষ করবেন কীভাবে
আপনি কি জানতে চান বক্তব্যের কোনো-অংশে আপনি অনভিজ্ঞতা বা অভিজ্ঞতা, অনুপযুক্ততা অথবা আকর্ষণ প্রকাশ করবেন? তা হচ্ছে সূচনা ও শেষ। থিয়েটারে নায়ক নায়িকাঁদের সম্পর্কে একটি অতি পুরাতন প্রবচন প্রচলিত আছে। তা হচ্ছে, “প্রবেশ ও প্রস্থান দিয়ে আমরা তাদের চিনি।”
শুরু ও শেষ। যে কোনো কাজে দক্ষতা প্রকাশ অত্যন্ত কঠিন কাজ। উদাহরণ স্বরূপ, সামাজিক অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় প্রবেশ এবং আকর্ষণীয় প্রস্থান কী উল্লেখযোগ্য কাজ নয়? ব্যবসায়িক আলোচনায় শ্রোতাকে নিজমতে আনা এবং সাফল্য অর্জন করা কী অত্যন্ত কঠিন কাজ নয়?
যে কোনো বক্তৃতায় সমাপ্তি হচ্ছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক। বক্তা সব শেষে যা বলেন, যে সব শব্দ উচ্চারণ করেন তা শ্রোতাদের কানে অনুরণিত হয়, দীর্ঘ কাল জাগরুক থাকে, স্থায়ী হয়। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা এর গুরুত্ব সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। ফলে তাদের সমাপ্তি হয়-রন্ধ্রযুক্ত, ত্রুটিপূর্ণ।
তাদের সাধারণ ভুল কী? এক্ষেত্রে আমরা তার কিছু আলোচনা করব এবং এর প্রতিবিধান অনুসন্ধান করব।
প্রথম, এরূপ বক্তাও আছেন যারা বলেন, “এটাই এই বিষয়ে আমার মোটামুটি বক্তব্য, সুতরাং আমার মনে হয় এখানে শেষ করা উচিত, তাই আমি শেষ করছি,“ এটা সুষ্ঠু সমাপ্তি নয়। এরূপ সমাপ্তি ভুল, এটা আনাড়ীপনা? এটা ক্ষমার অযোগ্য, এটাই যদি আপনার বক্তব্য হয় তবে কেন তা বলে শেষ করছেন এই অভিমত প্রকাশ না করে বক্তব্য শেষ করছেন না? এরূপ করলে আপনার বক্তব্য শেষ হয়েছে তা শ্রোতারা বুঝবে, এতে আপনার অভিরুচিতে তেমন খারাপ কিছু দেখা যাবে না। আপনার বক্তব্য শেষ হয়েছে, এটা বলে না দিয়ে শ্রোতাদের তা উপলব্ধি করতে দিন।
এ ধরনের বক্তাও আছেন যারা বলেন, আমার যা কিছু বলার ছিল আমি বললাম। অতঃপর তিনি শেষ করেন, কিন্তু কীভাবে শেষ করা দরকার তা তিনি জানেন না। জোস বিলিং জনগণকে এই মর্মে উপদেশ দিতেন যে, ষাঁড় সম্পর্কে বলতে হলে তার লেজ নিয়ে শুরু করুন, শিং দিয়ে নয়। আমার মতে, লেজ দিয়ে অর্থাৎ শেষের দিক থেকে শুরু করলে শিং সম্পর্কে অর্থাৎ আগা সম্পর্কে যথাযথ বলা সম্ভব হয় না। এই ধরনের বক্তারা ঘুরেফিরে এক কথা বলেন। ফলে আসল কথা তাদের বলা হয় না, শ্রোতারা তাদের বক্তৃতা হতে কিছু বুঝতে পারেন না। তাদের বক্তৃতা শ্রোতামনে খারাপ ধারনার সৃষ্টি করে।
