–দ্বিতীয় ফোনটা–মিসেস প্রাইস রেডলি
–ইনসপেক্টর রহস্যময় হাসি হেসে বললেন, হ্যাঁ, খোঁজ নিয়ে জেনেছি সেটা করা হয়েছিল লরেন্স রেডিং-এর বাড়ি থেকে।
–সেকি। ভারি অদ্ভুত কাণ্ড!
–হ্যাঁ, অদ্ভুতই বটে। রেডিং সেই সময় বাড়ি ছিল না। ডঃ স্টোনের সঙ্গে যখন সে ব্লুবারে যায় সেই সময়েই, ছটা তিরিশ নাগাদ, ফোনটা ওর ঘর থেকে করা হয়েছিল। রেডিং-এর ঘর ফাঁকা, এটা কোন লোক জানতো। তার ওপরে বাইরে যাবার সময় দরজায় তালা দেবার অভ্যাস তার ছিল না। সেই সুযোগেই কাণ্ডটা হয়েছে।
–ঠিকই বলছেন। আমি চিন্তিতভাবে বললাম।
–একই দিনে দুটো ফোন–অদৃশ্য একটা যোগাযোগের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না কি? আমার দৃঢ় ধারণা দুটো ফোন একই লোক করেছে।
–কিন্তু উদ্দেশ্য কি?
–সেটাই আমাদের খুঁজে বার করতে হবে। আচ্ছা, মিঃ প্রথেরো খুনের আগের সময়টায় মিসেস লেসট্রেঞ্জ কি করছিল, কখনো ভেবে দেখেছেন?
মিসেস লেসট্রেঞ্জ!
হ্যাঁ, আমার ধারণা ওই ভদ্রমহিলা মিঃ প্রথেরোকে ব্ল্যাকমেল করত।
আমি হেসে বললাম, মনে হচ্ছে এটা ঠিক ভাবনা নয়। কেননা যে হাঁস সোনার ডিম প্রসব করে, কোন বুদ্ধিমান সেটাকে মেরে ফেলতে চাইবে না।
ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ইনসপেক্টর স্লাক বললেন, এমন তো হতে পারে, অতীতে মহিলা ব্ল্যাকমেল করতেন, মাঝখানে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না। তারপর মিঃ প্রথেরোর খোঁজ। পেয়ে এখানে চলে এসেছেন। এবং যথারীতি ব্ল্যাকমেল শুরু করেন।
–বেশ, বলে যান। বললাম আমি, তারপর কি হল?
-ততদিনে দিনকাল আর আগের মত ছিল না। নতুন করে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করতে মিঃ প্রথেরো হয়তো সাফ-সুফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি পুলিসের সাহায্য নেবেন। সুতরাং নিজেকে বাঁচাবার সহজ পথটাই মহিলাকে বেছে নিতে হয়েছিল।
ইনসপেক্টরের যুক্তিগুলো খুবই জোলো মনে হল আমার। তাছাড়া মিসেস লেসট্রেঞ্জকে যেমন দেখেছি, তার সঙ্গে ইনসপেক্টরের কথাগুলো মেলাতে পারলাম না।
আরও দু-চার কথার পরে ইনসপেক্টর চলে গেলেন।
কি মনে হলো, ঘর থেকে বেরিয়ে লরেন্সের বাড়ির দিকে এগুলাম। আমাকে দেখতে পেয়ে বেরিয়ে এসে ও আমাকে ডেকে ঘরে নিয়ে গেল।
–তুমি কি ওল্ডহলে ঝিটার সঙ্গে কথা বলেছিলে? আমি জানতে চাইলাম।
–হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। মুখ খোলাতে অনেক কষ্ট হয়েছে।
–কিছু জানতে পেরেছ?
-বলছি আপনাকে। মিঃ প্রথেরো আর মিসেস লেসট্রেঞ্জ যখন ঘরে বসে কথা বলছিলেন, সেই সময় ওই বাড়ির রাঁধুনী তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে ফিরছিল। সেই সময় মিঃ প্রথেরোকে বেশ চড়া গলায় কথা বলতে শুনতে পায়।
ঝি আমাকে রাঁধুনীর কাছে নিয়ে যায়। রাঁধুনী বলল, মনিব খুব চড়া গলায় কথা বলছিলেন। মহিলাকে বলছেন, তাছাড়া তোমাকে তো আমি বারবারই বারণ করেছি। মহিলাটি কি বললেন বোঝা গেল না। তবে মনে হল মনিবকে দিয়ে তিনি কিছু করাতে চাইছিলেন। মনিব রাজি হচ্ছিলেন না।
পরে বলতে শুনলাম, তুমি এখানে এসে খুব অন্যায় করেছ। তারপর কয়েকটা কথা কি বললেন বুঝতে পারিনি, পরে কানে এলো, তুমি ওর দেখা পাবে না। আমি নিষেধ করেছি। শুনে আমার মনে হল মহিলাটি মিস প্রথেরোর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। কিন্তু মনিব রাজি হচ্ছেন না।
রাঁধুনি পরে বলল, সে মিঃ প্রথেরোকে একবার বলতে শুনেছে, আমি এ বিশ্বাস করি না।–ডঃ হেডক যাই বলুন না কেন।
মিসেস লেসট্রেঞ্জ সম্ভবত উঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আগে তিনি নাকি বলেছেন, আমি কিছুতেই ভুলতে পারব না। মনে রেখো। কাল তোমাকে ঠিক মরতে হবে–মরতে হবে। এরপরই তিনি চলে যান।
লরেন্স থামল। কয়েক মুহূর্ত দুজনেই নিশ্চুপ বসে রইলাম। আমি ভাবলাম, এটা বোঝা যাচ্ছে যে দুজনের সম্পর্কটা কোন ভাবেই মধুর নয়।
আর তাদের সাক্ষাৎকারের বিষয়টা এমনই নিষিদ্ধ যে মিঃ প্রথেরো সেটা মিসেস প্রথেরোকে জানতে দিতে চাননি। ডাক্তার হেডক যে তার প্রতি সহানুভূতিশীল তাও বোঝা যাচ্ছে। তবে মিসেস লেসট্রেঞ্জ যে খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা কিছুতেই ভাবতে পারছি না।
বাড়িতে ফিরেই দেখি তুলকালাম কাণ্ড! গ্রীসলডা, ডেনিস, মেরী তিনজনই একজায়গায়। সবারই মুখ থমথমে।
জানা গেল, লেটিস এসেছিল। সে নাকি একটা কানের দুল খুঁজে পাচ্ছে না। এখানেও খুঁজেছে, সকলকে জিজ্ঞেস করেছে। মেরীকে নাকি অহেতুক চোটপাট করেছে। তাতেই মেরীর গোসা হয়েছে, বাইরের লোক কেন তার ওপর চোখ রাঙাবে।
যথারীতি আমাকে মেরীর মান ভাঙাতে কিছু কথা বলতে হল। ডেনিস বলল, লেটিস বড় অন্যমনস্ক মেয়ে কাকা। কোথায় কখন কি রাখে তা নিজেই জানে না। সবাইকে উদ্ৰব্যস্ত করে মারে। আমি নিশ্চিত, ও এখানে কোন কানের দুল ফেলে যায়নি। বৃহস্পতিবার সেটা পরে ও খেলতে গিয়েছিল দেখেছিলাম।
-ওখানেই হারিয়েছে। আমি বললাম।
এরপর পড়ার ঘরে চলে এলাম। এখানে কি কিছু ফেলে গেল লেটিস? চারদিকটা তাকিয়ে দেখলাম।
লেখার টেবিলটার দিকে তাকালাম। ওটার ওপরেই কয়েকদিন আগে মিঃ প্রথেরো গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়েছিল।
টেবিলটার ওপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আনার সময়েই হঠাৎ তলার দিকে মেঝেয় চোখ আটকে গেল। ছোট মত কি একটা চকচক করছে। সরে গিয়ে নিচু হয়ে সেটা তুলে নিলাম।
.
১৫.
পরদিন সকালে প্রাতরাশের টেবিলেই মিসেস প্রথেরোর একটা চিঠি পেলাম। লিখেছে গ্রীসলডাকে। ওর চিঠিটা আমিও পড়লাম।
