–বেশ তো। আপনাকে কোন ভাবে সাহায্য করতে পারলে খুশি হব।
–খুব একটা অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি মিঃ ক্লেমেট। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না। আমাকে আপনি সৎ পরামর্শ দিন।
আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মিসেস লেসট্রেঞ্জের মুখের দিকে তাকালাম।
ঠিক এই সময়েই বাড়ির ঝি এসে খবর দিল একজন পুলিস ইনসপেক্টর কি জরুরী প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন। শুনে মিসেস লেসট্রেঞ্জ চোখ বুজলেন। মনে হল কয়েকবার সেঁক গিললেন। পরে ঝিকে বললেন, ওকে নিয়ে এসো।
–আপনিও বসুন মিঃ ক্লেমেট। বললেন আমাকে। একটু পরেই ইনসপেক্টর স্লাক ঘরে ঢুকে সুপ্রভাত জানালেন। আমার দিকেও তাকালেন। কিন্তু বুঝতে পারলাম আমার উপস্থিতি তার অভিপ্রেত নয়।
ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মিসেস লেসট্রেঞ্জ বললেন, ইনসপেক্টর, মিঃ ক্লেমেট এখানে থাকলে আপনার কোন অসুবিধা হবে না আশাকরি।
-না, তেমন অসুবিধা নেই। তবে না থাকলেই ভাল হত।
ইনসপেক্টরের এই কথায় ভ্রূক্ষেপ না করে মিসেস লেসট্রেঞ্জ বললেন, বলুন, আপনাকে আমি কি ভাবে সাহায্য করতে পারি।
–মিঃ প্রথেরোর খুনের তদন্তের দায়িত্ব আমার ওপরেই রয়েছে। সেই কারণেই নিয়ম অনুসারে কিছু কাজ আমাকে করতে হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ছটা থেকে সাড়ে ছটা পর্যন্ত কে কোথায় ছিল, সে ব্যাপারে খোঁজ খবর করতে হচ্ছে।
মিসেস লেসট্রেঞ্জ বললেন, তার মানে আপনার জিজ্ঞাস্য হল, গতকাল সন্ধ্যাবেলা আমি কোথায় ছিলাম, তাই তো?
–হ্যাঁ তাই।
–সেই সময়টা আমি বাড়িতেই ছিলাম।
–ওহ, আপনার বাড়ির ঝিটাও নিশ্চয় সেই সময় বাড়িতেই ছিল?
–না গতকাল বিকেলে ও বাড়ি ছিল না।
–আচ্ছা।
মিসেস লেসট্রেঞ্জ বললেন, কাজেই বুঝতেই পারছেন, আমার কথাটাকেই সত্যি বলে। আপনাকে ধরে নিতে হবে।
ইনসপেক্টর স্লাক নড়েচড়ে বসে বললেন, তাহলে ধরুন কোন মহিলা, মানে মিস হার্টনেলের কথাই বলছি, তিনি যদি ছটার সময় এসে বেল বাজিয়ে কোন সাড়া না পেয়ে ফিরে গিয়ে থাকেন, আপনি কি তার ভুল বলবেন?
–বুঝতে পেরেছি, মাথা নেড়ে বললেন মিসেস লেসট্রেঞ্জ, ওই মহিলা বড়ই বিরক্তিকর। তিনি যাবার আগে অনেকবার বেল বাজিয়েছিলেন, আমি সাড়া দিইনি।
–কিন্তু কেউ যদি বলে ওই সময়টায় আপনাকে বাইরে দেখেছে?
কারুরই তা দেখা সম্ভব নয়, কেননা আমি বাড়িতেই ছিলাম। বেশ জোর দিয়েই মিসেস. লেসট্রেঞ্জ বললেন।
–তাহলে শুনুন মিসেস, মিঃ প্রথেরো খুন হবার আগের দিন রাত্রে আপনি তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, একথাও কি মিথ্যা বলতে চান?
-না। আমি সত্যিই গিয়েছিলাম।
–কি প্রয়োজনে গিয়েছিলেন, তা কি দয়া করে বলবেন?
-সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার ইনসপেক্টর, তা বলা সম্ভব না।
–কিন্তু এই ব্যক্তিগত বিষয়টিকেই যে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
–আমি নিরুপায়। তবে এটুকু আমি বলতে পারি, খুনের ঘটনার সঙ্গে এই বিষয়ের কোন যোগ নেই।
–সেটা আপনার পক্ষে বিচার করা শক্ত মিসেস লেসট্রেঞ্জ।
-বললাম তো ইনসপেক্টর, আমি নিরুপায়। দয়া করে একই কথা পুনরাবৃত্তি করতে আমাকে বলবেন না।
ইনসপেক্টরের চোখ চকচক করে উঠল। তিনি বেশ ক্রুদ্ধস্বরেই এবারে বললেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তাই যে কোন প্রকারেই হোক আমি বিষয়টা পরিষ্কার করতে চাই–তা আমাকে করতে হবে।
মিসেস লেসট্রেঞ্জ, আপনি নিজেই নিজেকে বিপদে জড়িয়ে ফেলছেন।
মিসেস লেসট্রেঞ্জ একথার কোনই উত্তর করলেন না। তিনি নির্বিকার ভাবে তাকিয়ে রইলেন।
-আপনি কি কর্নেল প্রথেরোর পূর্বপরিচিত? ইনসপেক্টর এবারে তাঁর জেরার ধরন পাল্টালেন।
-হ্যাঁ। তবে অনেক বছর তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ ছিল না।
–তাহলে তো আপনি মিসেস প্রথেরোকে চিনতেন বোঝা যাচ্ছে।
–হ্যাঁ।
–আচ্ছা, মিসেস প্রথেরোর সঙ্গে দেখা হয়েছিল আপনার?
-না। আমি কেবল মিঃ প্রথেরোর সঙ্গেই দেখা করতে গিয়েছিলাম, অন্য কারোর সঙ্গে নয়।
–ওই বাড়িতে গেলেন অথচ মিঃ প্রথেরোর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন না কেন?
–সেটা আমার নিজের ব্যাপার ইনসপেক্টর।
–তাহলে এর বেশি আপনি কিছু বলবেন না? ইনসপেক্টরকে হতাশ শোনাল। –না।
–বেশ, আমি উঠছি। যাবার আগে আবারো বলে যাছি মিসেস লেসট্রেঞ্জ, ইচ্ছে করেই আপনি নিজেকে বিপন্ন করে তুলছেন।
একথার অর্থ অবশ্য এই নয় যে আমি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছি, তবে এটুকু জানিয়ে যাচ্ছি, খুব শিগগিরই আমরা প্রকৃত সত্য জানতে পেরে যাব।
ইনসপেক্টর চলে যাবার পরে আমিও উঠলাম। পথে দরজার সামনেই দেখা হয়ে গেল ডাঃ হেডকের সঙ্গে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইনসপেক্টর স্লাককে বেরতে দেখলাম, তিনি কি মিসেস লেসট্রেঞ্জকে জেরা করতে এসেছিলেন?
আমি ঘাড় নেড়ে সায় জানিয়ে গ্রামের পথে দ্রুত এগিয়ে চললাম।
ইনসপেক্টর কোন উদ্দেশ্যেই সম্ভবত ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি তাঁকে ধরে ফেললাম।
আমাকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, মিঃ ক্লেমেট, ওই মহিলাটি সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন?
বললাম, না, ইন্সপেক্টর।
-উনি কেন এখানে থাকতে এসেছেন, এ সম্পর্কে আপনাকে কিছুই বলেননি?
এবারেও আমাকে একই উত্তর দিতে হল।
-মহিলা খুবই প্যাঁচালো। ব্ল্যাকমেলের আভাস পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে।
আমি কোন উত্তর করলাম না। হাঁটতে হাঁটতে শুনে যেতে লাগলাম ইনসপেক্টরের কথা।
