মিসেস রিডলে বিদায় নিলেন। ইনসপেক্টর স্লাক চিন্তিতভাবে বললেন, গুলির একটা শব্দ যে হয়েছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। মোট তিনজন শব্দটা শুনেছে বোঝা যাচ্ছে। শব্দটার উৎস এবার অনুসন্ধান করতে হবে।
তাছাড়া টেলিফোনের ব্যাপারটাও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিল।
পরে আবার বললেন, এরকম একটা চোরা টেলিফোন খুনের ঘটনার দিন ভিকারকে অকুস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।
মেলচেট মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে বললেন, হ্যাঁ, ওটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
ইনসপেক্টর বললেন, খুনের দিন ওই সময়টায় অর্থাৎ ছটা থেকে সাড়ে ছটা পর্যন্ত কে কোথায় ছিল সেটাও অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। আচ্ছা ভিকার, ফোনটা কখন এসেছিল?
আমি বললাম, সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হবে।
-কণ্ঠস্বরটা, নারী না পুরুষের?
–নারীকণ্ঠ বলেই মনে হয়েছে আমার। মিসেস অ্যাবোট বলেই ধারণা হল।
ফোন পেয়েই আপনি বেরিয়ে পড়লেন, না কিছুটা সময় নিয়েছিলেন?
সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে পড়ি। তবে বাইসাইকেল নিইনি।
–মিসেস অ্যাবোটের বাড়ি কতদূর?
–মাইল দুই হবে।
-ওদিকে যাবার সবচেয়ে সংক্ষেপ রাস্তাটা মনে হয় ওল্ডহল বনের মধ্য দিয়ে, আপনি সেই পথেই গিয়েছিলেন নিশ্চয়ই।
–না, সংক্ষিপ্ত হলেও ওটা চলাচলের উপযুক্ত নয়। আমি মাঠের মধ্য দিয়ে পায়ে চলা রাস্তাটা ধরে গিয়েছি। ফিরেছিও ওই পথে।
–এই রাস্তাটাই তো ভিকারেজের উল্টো দিক থেকে এসেছে?
–হ্যাঁ।
–আপনার স্ত্রী তখন কোথায় ছিলেন?
–তিনি সকালেই লণ্ডনে গিয়েছিলেন। ফিরেছেন ছটা পঞ্চাশের ট্রেনে।
–ঠিক আছে। ইনসপেক্টর কি যেন চিন্তা করলেন, পরে বললেন, এখন আমি পর পর কয়েকটা কাজ সারব। মেয়েটাকে কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করার জন্য একবার ভিকারেজে যেতে হবে।
সেখান থেকে যাব ওল্ডহল। তারপর যাব মিসেস লেসট্রেঞ্জের কাছে। খুনের আগের দিন এই মহিলা মিঃ প্রথেরোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। একটু খোঁজ খবর নিতে হবে।
ইতিমধ্যে লাঞ্চের সময় হয়ে গিয়েছিল। বিদায় জানিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম।
.
১৩.
বাড়ির পথে দেখা হয়ে গেল ডাঃ হেডকের সঙ্গে। তিনি গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁকে বেশ চিন্তিত বলে মনে হল। বললেন, আমার বাড়ি চলুন। অগত্যা উঠতে হল তার গাড়িতে। ডাঃ হেডকের বাড়িতে এসে সার্জারি ঘরে বসলাম। আমরা যে গুলি করার সঠিক সময়টা জানতে পেরেছি তা তাকে জানালাম।
কথায় কথায় ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারলাম, সহকারী পাদ্রী হস বেশ কিছুদিন থেকে এনকেফেলাইটিস লেথার্জিতে ভুগছে। ব্যাপারটা আমি জানতাম না। তাই ঠিক করলাম সময় করে তাকে একবার দেখতে যেতে হবে।
আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে আমি বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।
ঘরে গ্রীসলভা আর ডেনিস গল্প করছিল। ওরা সব ঘটনা জানতে চাইল। আমি সংক্ষেপে সবই বললাম।
একটু পরেই মেরী এসে একটা চিরকূট হাতে দিয়ে জানাল ক্লেমেট, হস দেখা করতে এসেছে। বসার ঘরে অপেক্ষা করছে। এটা পাঠিয়ে দিল আপনাকে।
চিরকূটের লেখাটা পড়লাম–
প্রিয় মিঃ ক্লেমেট,
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যদি একবার আমার ওখানে আস তাহলে বাধিত হব। ভীষণ বিপদে পড়েছি। তোমার পরামর্শ দরকার।
বিনীত
এসটেটল লেসট্রেঞ্জ
একটু পরেই হসের কাছে এলাম। তার চোখ মুখে একটা ভীত সন্ত্রস্ত ভাব দেখে চমকে উঠলাম। হাতদুটোও কেমন কাঁপছিল। মনে হল অসুস্থ। ব্যস্ত হয়ে বললাম, তুমি কি অসুস্থ বোধ করছ? তাহলে কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নাও।
হস আমাকে আশ্বস্ত করে বলল, দরকার হবে না। আমি খুব ভালই আছি। শরীরের যা অবস্থা হয়েছে, কোনদিনই আর ভাল হয়ে উঠব বলে বিশ্বাস হয় না। এই অবস্থাতেই জীবন টেনে নিতে হবে।
একটু থেমে দম নিয়ে সে ফের বলতে লাগল, গ্রামে বিশ্রী একটা কাণ্ড ঘটে গেল। এজন্য খুব মানসিক চাপ পড়ছে। তাই তোমার সঙ্গে দেখা করতে এলাম।
-চাপ পড়াই স্বাভাবিক। বললাম আমি।
–ওরা কি মিঃ রেডিংকে গ্রেপ্তার করেনি?
–না। তার জবানবন্দি পুলিস মেনে নিতে পারেনি।
–তাহলে পুলিস বুঝতে পেরেছে মিঃ রেডিং সম্পূর্ণ নির্দোষ?
–হ্যাঁ সম্পূর্ণভাবে।
–তাহলে পুলিস কি অন্য কাউকে সন্দেহ করছে?
হস-এর কৌতূহল আমার মাত্রাতিরিক্ত মনে হল। কাজেই আমাকে সংযত হতে হল। বললাম, তা বলতে পারব না। তবে ইনসপেক্টর অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
হস নিজে থেকেই বলে চলল, এরকম একটা কাজ যে কে করল বুঝতে পারছি না। তবে মিঃ প্রথেরোর ব্যবহার তো মোটেই ভাল ছিল না। নিজেই লোককে শত্রু বানিয়ে ফেলত।
হতে পারে। বললাম আমি।
–কেন মিঃ ক্লেমেট, তোমার মনে নেই, আগের দিন সকালেই তো তোমাকে বলেছিল, আর্চার নামে লোকটা তাকে হুমকি দিয়েছে।
আমার মনে পড়ল কথাটা। মাথা নেড়ে সায় জানালাম।
–আমি সেই সময় কাছেই ছিলাম। তুমি পুলিসকে কি আর্চারের কথাটা বলেছিলে? মানে ওই হুমকি দেবার ব্যাপারটা।
-না, বলিনি।
–তাহলে এবার পুলিসকে জানাও।
বললাম, তুমিও তো কথাগুলো শুনেছিলে, পুলিসকে বলা উচিত মনে হলে তুমি নিজেই তো সে কাজটা করতে পার।
একথা বলে আমি উঠে দাঁড়ালাম। হসকে বিদায় জানিয়ে মিসেস লেসট্রেঞ্জের বাড়ির দিকে রওনা হলাম।
আমার অপেক্ষাই করছিলেন ভদ্রমহিলা। চিঠি পেয়েই চলে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, কথাটা ভেবেছিলাম পরে বলব। কিন্তু সেটা ঠিক হত না।
