–খোঁজ নেব স্যার।
.
আলফ্রেড ক্রাকেনথর্পের বাড়ি পশ্চিম হ্যাঁম্পস্টেডে। আধুনিক ফ্ল্যাটবাড়ি।
সাদর অভ্যর্থনা জানালেও ক্রাডকের মনে হল আলফ্রেড কিছুটা বিচলিত হয়েছে।
ক্রাডক যথারীতি ক্রাকেনথর্পদের এই ভাইয়ের কাছেও ২০ ডিসেম্বরের বিষয়ে জানতে চাইলেন।
–সে তো একমাস আগের কথা। ২০ ডিসেম্বর বিকেলে এবং সন্ধ্যায় আমি কি করেছিলাম এখন আপনাকে মনে করে বলা কি সম্ভব?
বিশেষভাবে চিহ্নিত না হলে স্থানকালের প্রসঙ্গ আমার মনে থাকে না। ক্রিসমাসের দিনটির। কথা মনে করতে পারব। ওই দিনটা বরাবর বাবার সঙ্গে থাকি।
–হ্যাঁ, এবছরেও আপনারা গিয়েছিলেন।
–হ্যাঁ।
–আপনার বাবা শুনেছি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন?
-হ্যাঁ। সারা বছর খরচের ভয়ে পেটে কিছু দেবেন না, সেই অবস্থায় একদিন হঠাৎ করে অতিরিক্ত পরিমাণ ভোজ্য পানীয় সহ্য হতে চাইবে কেন?
–এটাই অসুস্থতার কারণ বলছেন?
এছাড়া আর কি হবে?
–ডাক্তারও খুব চিন্তিত ছিলেন।
–ওই একজন জুটেছেন। সেদিন তো তার জিজ্ঞাসাবাদের চোটে অস্থির করে মেরেছিলেন। বাবা কি খেয়েছেন, কি পান করেছেন, কে রান্না করেছে–এই সব আজেবাজে যত প্রশ্ন–কুইম্পারের জন্যই বাবার মন দুর্বল হয়ে পড়ে, নইলে বাবা মোটেই অথর্ব হয়ে পড়েন নি।
ভালো কথা, মৃত স্ত্রীলোকটির বিষয়ে আর কিছু জানতে পেরেছেন কি?
–খানিকটা এগিয়েছি।
-আমার বোনের যত উদ্ভট চিন্তাভাবনা, কোথাকার কে তাকে আমার ভাই এডমান্ডের বিধবা স্ত্রী ভেবে–আপনি আশাকরি বিভ্রান্ত হননি ইনসপেক্টর।
–সেই মার্টিন নামে মেয়েটি আপনাকে কখনো চিঠি লিখেছিল?
আমাকে? রক্ষে করুন মশাই।
-তাহলে ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার আপনি কি করেছিলেন মনে করতে পারছেন না? ক্রিসমাসের আগের শুক্রবার
সেদিন আমি কি করেছিলাম বলতে না পারলেও এটা বলতে পারছি, গুদামঘরে কোনো স্ত্রীলোককে হত্যা করিনি।
-একথা বলছেন কেন মিঃ ক্রাকেনথর্প?
–আপনার জানার আসল কথাটা তো তাই। নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট সময়টার ওপরে জোর দিচ্ছেন–তার মানেই সন্দেহের এলাকাকে সংকুচিত করে আনা। যাইহোক শুনুন, আমি ওই দিন লিডসে গিয়েছিলাম। টাউনহলের কাছে একটা হোটেলে ছিলাম–এই মুহূর্তে নামটা মনে করতে না পারলেও খুঁজে বার করতে আপনাদের কষ্ট হবে না।
-দেখব আমরা খোঁজ নিয়ে।
–আপনাদের মাথায় কি করে এমন একটা বাপার ঢুকল বুঝতে পারছি না। মৃতদেহটি সত্যই যদি এডমান্ডের বিধবা স্ত্রীরই হয়, আমরা তাকে খুন করতে যাব কেন? এরকম ক্ষেত্রে আমরা তো বাবাকে বলে তার মাসোহারা ও ছেলেটির স্কুলের খরচের ব্যবস্থা করার জন্যই এগিয়ে আসব।
তা যাক ইনসপেক্টর আমি দুঃখিত, এর বেশি সহযোগিতা করা আমার পক্ষে সম্ভব হল না।
বাইরে এসে সার্জেন্ট উত্তেজিত ভাবে বলে উঠল, স্যার, আমি ওকে চিনতে পেরেছি। লোকটি সেই কুখ্যাত ডিকি রজার্সের সঙ্গী, সংরক্ষিত খাদ্যের কেলেঙ্কারীতে জড়িত ছিল। তাছাড়া ঘড়ি আর ইতালির স্বর্ণমুদ্রার কেসেও সোজোর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে-খুব সেয়ানা তোক।
–ঠিকই বলেছ, মুখটা এজন্যই আমার পরিচিত লাগছিল। কিন্তু এ তো মহাঘুঘু। নানান সন্দেহজনক কারবারের সঙ্গেই এর যোগাযোগ পাওয়া গেছে, কিন্তু বরাবরই সুকৌশলে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। এই কারণেই বর্তমান ঘটনায় কোনো অ্যালিবি উপস্থিত করতে চায়নি।
–আপনার কি মনে হয় ও-ই আসল খুনী?
–এখনও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। আরও তদন্ত দরকার।
অফিসে ফিরে এসে গোটা ব্যাপারটা পর্যালোচনা করতে বসলেন ক্রাডক। পরে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাগুলোকে দেখার চেষ্টা করলেন।
গভীরভাবে চিন্তা করেও হত্যার কারণ সম্পর্কে কোনো সূত্র দাঁড় করাতে পারলেন না। অজ্ঞাত হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তিকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার ও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করলেন।
কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল। সমস্যার কোনো কিনারা করা সম্ভব হল না।
শেষ পর্যন্ত ভাবলেন, আপাততঃ যে কাজ শুরু করেছিলেন তা সম্পূর্ণ করা যাক। কেড্রিককে জিজ্ঞাসাবাদ বাকি।
চিন্তাক্লিষ্ট মুখে উঠে দাঁড়ালেন ক্রাডক। ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি মিস মারপলকে জানানো হয়নি। তার সঙ্গে আলোচনায় বসলে অগ্রসর হওয়ার মতো একটা পথ পাওয়া যেতে পারে।
৩. চায়ের নিমন্ত্রণে
১১.
–শুনলাম রাদারফোর্ড হলে আপনি চায়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন?
-হ্যাঁ, সকলকে একপলক দেখার ইচ্ছে হয়েছিল। প্রিয় লুসিই ব্যবস্থাটা করে দিয়েছিল। বৃদ্ধ ক্রাকেনথর্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি।
সেই সময় লুসি মিস মারপলের ঘরেই উপস্থিত ছিল। কাজের অবসরে সে তাকে সাহচর্য দিতে এসেছিল।
বর্তমান খুনের সম্ভাব্য কারণ হাতড়ে আমি তল পাচ্ছি না। বুঝলেন মিস আইলেসব্যারো
লুসির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন ক্রাডক, আমার ধর্মপিতা বলেছিলেন, ঈশ্বরের সৃষ্ট সমস্ত অপরাধসন্ধানী গোয়েন্দার মধ্যে মিস মারপল হলেন সবার সেরা। সহজাত প্রতিভা অনুকূল পরিবেশে বিকাশলাভ করেছে।
-বুঝলে লুসি, তোমাকে তো বলেছিলাম, ক্রাডকের ধর্মপিতা স্যার হেনরি ক্লিারিং আমার অনেক কালের পুরনো বন্ধু। বড় সহৃদয় মানুষ তিনি।
–আমি বুঝতে পারছি তিনি আপনার সম্পর্কে মিথ্যা প্রশস্তি করেননি। বলল লুসি।
-আসলে কি জান, আমার যেটুকু বিচক্ষণতা তাহল, মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে সামান্য কিছু ধারণা। অজ পাড়াগাঁয়ে থেকে বিদ্যেবুদ্ধি আর কি হবে বল। তা তোমার অগ্রগতি কতদূর বল।
