অস্পষ্ট স্টেটম্যান্ট। একটু বুঝিয়ে বলবে?
আমার কথা হচ্ছে, প্রচলিত যে ধারণা, যে হ্যারি সেলডন সাইকোহিন্ত্রীর গণিতের সাহায্যে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সূক্ষ্ম আচরণ বিশ্লেষণ করে আমাদের জন্য দ্বিতীয় এম্পায়ার তৈরির যে ছক বানিয়েছেন সেটা খুব বেশি সহজ সরল। এমন হওয়ার কথা না।
অর্থাৎ তোমার মতে, হ্যারি সেলডন বলে কেউ ছিলনা?
মোটেই না। অবশ্যই তিনি ছিলেন।
তিনি সাইকোহিস্টোরী বিজ্ঞানের জন্ম দেন নি?
না, এ ধরনের কোনো কথাই আমি বলিনি। দেখ ডিরেক্টর, সুযোগ পেলে কাউন্সিলে সব খুলে বলতাম। এখন তোমাকেই বলি। আমার বক্তব্য খুব সহজ
ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি শান্তভাবে রেকর্ডিং ডিভাইস বন্ধ করল।
ট্র্যাভিজের ভুরু কুঁচকে গেল। বন্ধ করলে কেন?
তুমি আমার সময় নষ্ট করছ কাউন্সিলম্যান। তোমাকে বক্তৃতা দিতে বলিনি?
কিন্তু তুমি আমাকে ব্যাখ্যা করতে বলেছ, বলনি?
মোটেই না। আমি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেছি–সরল, সোজা এবং সরাসরি উত্তর। অন্য কিছু না বলে শুধু যা জিজ্ঞেস করব তার জবাব দাও। তাহলে বেশি সময় লাগবে না।
অর্থাৎ আমার কাছ থেকে এমনভাবে কথা আদায় করবে যেন তোমাদের অবস্থান আরো শক্ত হয়।
তোমাকে শুধু সঠিক স্টেটম্যান্ট দিতে বলেছি। বিশ্বাস করো তুমি যা বলবে তার কোনো পরিবর্তন হবে না। আরেকবার চেষ্টা করতে দাও। হ্যারি সেলডনকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। রেকর্ডিং ডিভাইস আবার চালু করে কোডেল শান্তস্বরে একই প্রশ্ন করল, তিনি সাইকোহিষ্ট্ৰী বিজ্ঞানের জন্ম দেননি?
অবশ্যই তিনি একটা বিজ্ঞানের জন্ম দিয়েছেন যাকে আমরা সাইকোহিস্টোরী বলে জানি। ট্র্যাভিজ বলল, তার উত্তেজনা এবং অস্থিরতা চাপা থাকল না।
কিভাবে এই বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা দেবে?
গ্যালাক্সি! সাধারণ ভাষায় সাইকোহিস্টোরী হচ্ছে গণিতের সেই শাখা যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে নির্দিষ্ট উদ্দীপনায় বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক আচরণ বিশ্লেষণ করা যায়। অন্য কথায় এই বিজ্ঞান সম্ভবত ইতিহাস ও সামাজিক পরিবর্তনের পূর্বানুমান করতে পারে।
তুমি বলছ সম্ভবত, এর গাণিতিক শুদ্ধতা নিয়ে তোমার মনে কোনো সন্দেহ আছে?
না, ট্র্যাভিজ বলল। আমি কোনো সাইকোহিস্টোরিয়ান নাই। ফাউণ্ডেশন সরকারের কোনো সদস্যও তা নয়, টার্মিনাসের কোনো অধিবাসীও নয়, এমনকি কোনো
এক হাত তুলে নরম সুরে বলল কোডেল, প্লীজ, কাউন্সিলম্যান। ট্র্যাভিজ থেমে গেল।
তোমার সন্দেহ করার কোনো কারণ আছে যে হ্যারী সেলডন প্রথম এম্পায়ার থেকে দ্বিতীয় এম্পায়ারে পৌঁছানোর জন্য যে পথ তৈরি করেছেন সেখানে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা যুক্ত করে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ করতে পারেন নি?
আমি তো তার সাথে ছিলাম না, ট্র্যাভিজ ব্যঙ্গ করে বলল। কি করে জানব।
সেলডন প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ করেছেন কি করেন নি, তুমি সেটা জানতে পারবে?
না।
তুমি হয়তো মানবে না যে গত পাঁচশ বছর ধরে বিভিন্ন ক্রাইসিসের সময় সেলডনের যে ইমেজ দেখা যায় সেটা সেলডন তার জীবনের শেষ বছরে নিজের হাতে তৈরি করেছেন, ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পূর্বে?
সম্ভবত আমি এই ব্যাপারটা অস্বীকার করি না।
তুমি বলছ সম্ভবত। তুমি বলতে চাও পুরো ব্যাপারটা এক ধরনের ছলনা। কোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অতীতের কেউ একটা উদ্ভট ডিভাইস তৈরি করেছে?
দীর্ঘশ্বাস ফেলল ট্র্যাভিজ। না, তাও বলছি না।
তোমার কি মনে হয়, হ্যারি সেলডন যে মেসেজ দেন সেটা কেউ একজন ম্যানিপুলেট করে নিজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে?
না, এমন মনে করার কোনো কারণ ঘটেনি। তাছাড়া ম্যানিপুলেট করা সম্ভব না।
আচ্ছা। তুমি সেলডন ইমেজ-এর সাম্প্রতিক আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করেছ। কি মনে হয়েছে? মনে হয়নি যে তার বিশ্লেষণ-পাঁচশ বছর আগে তৈরি-বর্তমান পরিস্থিতির সাথে একেবারেই মেলে না?
বরং, ট্র্যাভিজ হঠাৎ হাসি দিয়ে বলল, পুরোপুরি মিল আছে।
কোডেল প্রভাবিত হলো না। তারপরও কাউন্সিলম্যান, সেলডনের আবির্ভাবের পরও তুমি বিশ্বাস করো সেলডন প্ল্যানের অস্তিত্ব নেই?
অবশ্যই বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি, কারণ তার বিশ্লেষণ এত নিখুঁতভাবে মিলে যায়।
রেকর্ডার বন্ধ করে দিল কোডেল। কাউন্সিলম্যান, মাথা নেড়ে বলল, তুমি আমাকে সমস্যায় ফেলে দিচ্ছ। জিজ্ঞেস করলাম তোমার অদ্ভুত বিশ্বাস এখনো ধরে রেখেছ কি না, তুমি শুরু করলে ভাষণ। আবার জিজ্ঞেস করছি, সেলডনের আবির্ভাবের পরও তুমি বিশ্বাস কর যে সেলডন প্ল্যানের অস্তিত্ব নেই?
তুমি কিভাবে জানো? তার পরে তো আমার প্রাক্তন বন্ধু কম্পর-এর সাথে কথা বলার সুযোগ কারো হয়নি।
ধরে নাও আমরা অনুমান করেছি। আমিও ধরে নিচ্ছি যে তুমি জবাব দিয়েছ। অবশ্যই বিশ্বাস করি অন্য কোনো কথা না বলে আবার এই কথাটা বললেই চলবে।
অবশ্যই বিশ্বাস করি। ট্র্যাভিজ মুখ বাঁকা করে বলল।
বেশ, কোডেল বলল, দুটোর মধ্যে যেটা বেশি স্বাভাবিক শোনায় সেটাই রাখব। ধন্যবাদ কাউন্সিলম্যান। রেকর্ডার বন্ধ করে দিল।
হয়ে গেল? আর কিছু জানার নেই? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ট্র্যাভিজ।
আমার যতটুকু প্রয়োজন, হ্যাঁ।
আসলে তোমার দরকার আগে থেকে সাজানো কতগুলো প্রশ্নের উত্তর। যেন টার্মিনাস আর ফাউণ্ডেশন ফেডারেশনের সবাইকে দেখানো যায় যে আমি সেলডন প্ল্যান-এর কিংবদন্তী পুরোপুরি মেনে নিয়েছি। পরে যদি অস্বীকার করি তাহলে সবাই আমাকে পাগল ভাববে।
