কি প্রমাণ পেয়েছো? ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো কিশোর।
চাবিটার কথা জানালো রবিন আর মুসা। ওটা হাতে নিয়ে ম্লান আলোয় দেখলো পিনটু। আমাদের না।
তাহলে ওই লোকগুলোরই কারো, কিশোর বললো। মনে হচ্ছে গোলাঘরে আগুন লাগার আগে ঢুকেছিলো ওখানে। চাবিটা হারিয়েছে। এবং কাউকে জানতে দিতে চায় না যে ওরা ঢুকেছিলো। হয়তো হ্যাটটা ওরাই চুরি করে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্পফায়ারের কাছে রেখে দিয়েছিলো।
কিন্তু ওরা কারা? খসখসে হয়ে গেছে মুসার গলা।
কি করে বলি? তবে ওই আগুন লাগা আর রিগোর অ্যারেস্টের পেছনে ওদের হাত আছে শশশশ!
রাস্তায় হুটন্ত পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আস্তে ঝোপ ফাঁক করে তাকালো ছেলেরা। দুপদাপ করে দৌড়ে ওদের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল তিন কাউবয়।
কখনও দেখিনি, ফিসফিসিয়ে জানালো পিনটু। মিস্টার ডয়েলের লোক হতে পারে। নতুন চাকরি নিয়েছে হয়তো।
এখানে কি করছে? মুসার প্রশ্ন।
সেটাই জানতে হবে, জবাব দিলো কিশোর।
আবার ফিরে না এলেই বাঁচি! রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো রবিন।
বসেই রইলো ছেলেরা। কান পেতে রয়েছে। আরও পনেরো মিনিট পর জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেলে কিশোর বললো, গিয়ে দেখা উচিত।
আমি যাচ্ছি, পিনটু উঠে দাঁড়ালো। মুসা আর রবিনের পিছে লেগেছে ওরা, আমার নয়। আমাকে সন্দেহ করবে না।
রাস্তায় উঠে বাঁয়ে মোড় নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল পিনটু। খাদের মধ্যে অপেক্ষা করতে লাগলো তিন গোয়েন্দা। শব্দটা প্রথম শুনতে পেলো রবিন। কে এসেছে দেখার জন্যে উঠতে গেল সে।
রাখো! বাধা দিলো মুসা। পিনটু না-ও হতে পারে।
খাদের কাছে এসে থামলো কেউ। ডেকে বললো, বেরিয়ে এসো।
পিনটু। খাদ থেকে উঠে এলো তিন গোয়েন্দা। ফিরে এলো সান্তা ইনেজ ক্রীকের ব্রিজের কাছে। হাত তুলে দেখালো পিনটু। সবাই দেখলো, উত্তরের কাঁচা রাস্তা ধরে ডয়েল র্যাঞ্চের দিকে চলে যাচ্ছে তিন কাউবয়।
গেছে, হেসে বললো পিনটু। এখান থেকেই আমাদের তদন্ত শুরু হবে, তাই না কিশোর?
কিসের তদন্ত? বুঝতে পারলো না মুসা।
লেফটেন্যান্টের জার্নালের কথা মুসা আর রবিনকে জানালো কিশোর। ফটোকপি করে আনা লেখাটাও দেখালো।
খাইছে বলে উঠলো মুসা। ডন পিউটো তাহলে সত্যি সত্যি পালিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলো করটেজ সোর্ড।
হ্যাঁ, মাথা ঝাঁকালো কিশোর। তবে লেফটেন্যান্ট যেভাবে লিখেছে, তাতে জায়গা খুঁজে পাওয়ার ভরসা কম। জায়গাটার কোনো বর্ণনা দেয়নি।
কিন্তু কিশোর, বলেছে… প্রতিবাদ করতে গিয়েও থেমে গেল পিনটু।
ও তো বিশ্বাসই করেনি, বলবে কি? তবে যতদূর মনে হয় ওদিকটার কথা বলেছে। হাত তুললো কিশোর। বলেছে সান্তা ইনেজ ক্রীকের পাশের একটা শ্লৈাি ধরে গিয়েছেন। নিশ্চয় বেরিয়েছিলেন হাসিয়েনডা থেকে। তার মানে পশ্চিমে গেছে।
সেদিকে তাকালো সবাই।
কিছুই বোঝা গেল না, ওদিক দিয়ে কোথায় গিয়েছিলেন ডন।
মাথা গরম ছিলো তখন লেফটেন্যান্টের নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটলো কিশোর।
কি দেখতে কি দেখেছে। কিছু একটা ভুল করেছে, লিখতে গিয়ে। হয়তো যা দেখেছিলো ঠিকমতো লিখতে পারেনি।
আবার নিরাশা এসে ভর করলো ওদের মনে।
চলো ফিরে যাই, হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো গোয়েন্দাপ্রধান।
ধীরে ধীরে আবার ফিরে চললো ওরা। বাড়ি যাবে।
১৪
রাতে আবার জোর বৃষ্টি শুরু হলো। ঝরলো পরদিন সারাটা কেলা। ইস্কুলে যেতে হলো তিন গোয়েন্দাকে। ক্লাসে বসে তলোয়ারটার কথা আলোচনার সুযোগ পেলো না।
বিকেলে ভাইকে চাবিটা দেখাতে নিয়ে গেল রিগো। তিন কাউবয়ের কথা বললো। রিগোও চিনতে পারলো না ওদের। চাবিটাও না। পোড়া গোলাবাড়িতে কেন এসেছিলো ওরা, তা-ও বুঝতে না পেরে অনুমানে বললো, মিস্টার ডয়েল জোর করে আমাদের তাড়াতে চান আরকি। সেজন্যেই গুণ্ডাপাণ্ডা ভাড়া করেছেন।
ডিনারের পর আবার বেরোলো সেদিন তিন গোয়েন্দা। হিসটোরিক্যাল সোসাইটি আর লাইব্রেরিতে তথ্য খুঁজতে। আবার ঘাটতে লাগলো গাদা গাদা পুরনো খবরের কাগজ, জার্নাল, ডায়রি, মেমোয়ার, আর্মি রিপোর্ট। নতুন কিছুই পেলো না।
কোনোদিনই আর থামবে না বলে যেন জেদ ধরেছে বৃষ্টি। পড়েই চলেছে, পড়েই চলেছে, একটান। সেদিন রাতে পড়লে, পরদিন বুধবারেও কমতি নেই। বন্যা হতে পারেঃ জনগণকে হুঁশিয়ার করে দিলো কাউন্টি। ইস্কুল ছুটির পর বাড়িতে কাজ সারতে গেল রবিন আর মুসা। ভাইকে দেখতে গেল পিনটু। হিসটোরিক্যাল সোসাইটিতে গেল আবার কিশোর।
কাজ শেষ করে হেডকোয়ার্টারে চলে এলো রবিন আর মুসা। কিশোরফেরেনি। পিনটুও আসেনি। ভেজা রেনকোট ছড়িয়ে দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো ওদের জন্যে
রবিন, তলোয়ারটা পাবো তো? আর তেমন আশা করতে পারছে না মুসা।
জানি না,মুসার মতোই নিরাশায় ভুগছে রবিন।
আগে এলো পিনটু। দুই সুড়ঙ্গ দিয়ে এসে ট্র্যাপডোর দিয়ে ঢুকলো ট্রেলারে। গত দুই দিন তার সঙ্গে দেখা হয়নি গোয়েন্দাদের। বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে ছেলেটাকে।
কি ব্যাপার? শঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো রবিন। তোমার ভাইয়ের কিছু হয়েছে?
ভাইয়ার কিছু হয়নি, তবে আমরা শেষ! ভেজা জ্যাকেটটা খুলে ওদের পাশে বসে পড়লো পিনটু। আমাদের মর্টগেজের কাগজ ছিলো সিনর হেরিয়ানোর কাছে।
তিনি সেটা বিক্রি করে দিয়েছেন মিস্টার ডয়েলকে।
বলো কি কপাল কুঁচকে ফেললো মুসা।
