আপনাদের সিয়েনডাটার নাম কখনও কি কনডর ক্যাসল ছিলো? কিশোর জিজ্ঞেস করল।
না, জবাব দিলো রিগো। এটার নাম সব সময়ই হাসিয়েনডা আলভারেজ।
তাহলে ওপরে ডর ক্যাসল লিখলেন কেন? ভুরু নাচালো মুসা। বিশেষ কোনো জায়গা না তো যেটা স্যানটিনো চিনতো?
সঙ্গে করে আনা ম্যাপটা খুললো কিশোর। বাই দেখার জন্যে ঝুঁকে এলো তার কাঁধের ওপর দিয়ে। কিছুক্ষণ দেখে জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেলে আবার হেলান দিলো কিশোর। নো কনডর ক্যাসল! তারপর হঠাৎ কি মনে পড়াতে আবার তাকালো ম্যাপের দিকে। দাঁড়ান দাঁড়ান, এটা আধুনিক ম্যাপ! পুরানো হলে, মানে আঠারোশো ছেচল্লিশ সালের…
আমার কাছে একটা প্রানো মাপ আছে, বললেন ডন হেরিয়ানো।
ওটা আনার জন্যে বেরিয়ে গেলেন তিনি। অস্থির হয়ে তার জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলো সবাই। হলদে হয়ে আসা পুরানো একটা ম্যাপ নিয়ে এলেন হেরিয়ানো। ১৮৪৪ সালে তৈরি করা হয়েছিলো, অর্ধেকটা স্প্যানিশে লেখা, অর্ধেকটা ইংরেজিতে। ভালোমতো ম্যাপটা দেখলো রিগো আর কিশোর।
কিছুই নেই, নিরাশই মনে হলো রিগোকে।
না, একমত হলো কিশোর।
পরাজিত হয়েই যেন রেগে গেল রিগো। বোকামি হচ্ছে! বুঝলে, পাগলামি! আমি আগেই বলেছি ফ্যান্টাসি দিয়ে আমাদের র্যাঞ্চ বাঁচানো যাবে না…
আস্তে করে বললেন হেরিয়ানো, এছাড়া আর কি-ই বা করার আছে তোমার, রিগো? একটা খারাপ খবর জানাতে এসেছি তোমাকে, আমি টাকাটা ধার করে নিয়ে দিয়েছিলাম তোমাকে। আমার টাকা নয়। বললে তুমি নিতে না, তাই দেয়ার সময় বলিনি। এখন আর না বলে পারছি না। ওই লোক টাকা ফেরত দেয়ার জন্যে চাপ দিচ্ছে আমাকে। টাকা দিতে না পারলে মিস্টার ডয়েলের কাছে জায়গা তোমাকে বিক্রি করতেই হবে।
হিঁসিয়ে উঠলো মুসা, শুঁটকিটার গলায় এজন্যেই এতো জোর ছিলো কাল!
অনেক করেছেন আমার জন্যে, ডন, বিষণ্ণ কণ্ঠে বললো রিগো। কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো আপনাকে…
কি আর করতে পারলামশোনো, তুমি যেও না এখান থেকে। আমার কটেজেই থেকে যাও। খুব খুশি হবো।
আপাতত তো আছিই। জায়গা বিক্রি করে দিলে পরে কি করবো সে তখন দেখা যাবে।
উলেন হেরিয়ানো। বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। চত্বরে কাদা হয়ে গেছে। বৃষ্টি থামেনি। মাথা নিচু করে হাঁটছেন বৃদ্ধ। সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রিগোও বেরিয়ে গেল। একটু পরেই লাকড়ি ফাড়ার শব্দ কানে এলো ছেলেদের।
সব গেল! দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো পিনটুর বুক চিরে।
না, কিছুই যায়নি! দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করলো কিশোর। করটেজ সোর্ড আমরা খুঁজে রে করবোই।
হ্যাঁ, করবো। প্রতিধ্বনি করলো যেন রবিন।
নিশ্চয় করবো! সুর মেলালো মুসা। আমরা… আমরা খাইছে, কিশোর, কিভাবে কাজটা করবো আমরা?
কাল, কিশোর জবাব দিলো, যতো পুরানো ম্যাপ পাওয়া যাবে সবগুলো দেখবো আমরা। কনভর ক্যাসল একটা সূত্রই। কি বোঝাতে চেয়েছেন ডন, জানার চেষ্টা করবো। রকি বীচে পুরানো ম্যাপের অভাব নেই।
আমি তোমাদের সঙ্গে আছি! উত্তেজিত হয়ে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো পিনটু। মেলাও হাত!
হাসি ফুটলো চারজনের মুখেই।
৭
রোববার সকালে ইলশে গুঁড়িতে পরিণত হলো বৃষ্টি। হেরিয়ানার কাছ থেকে একটা সাইকেল আর একটা রেনকোট চেয়ে নিয়ে শহরে রওনা হলো পিনটু। হিসটোরিক্যাল সোসাইটির সামনে কিশোরের সাথে দেখা করলো দুপুরের দিকে।
রবিন গেছে লাইব্রেরিতে খুঁজতে, কিশোর জানালো। কাউন্টি ল্যাণ্ড অফিসে গেছে মুসা।
কনডর ক্যাসল খুঁজে বের করবোই আমরা! দৃঢ় কণ্ঠে বললো পিনটু।
হিসটোরিক্যাল সোসাইটিতে ঢুকলো ওরা। অনেকে বসে পড়ছে। আজ বেশ ব্যস্ত অ্যাসিসট্যান্ট হিসটোরিয়ান। ম্যাপের কথা বললো কিশোর। ম্যাপ রাখার ঘর আলাদা। সেদিকে দুজনকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, আরেকজন এসে আলভারেজদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর করেছে। লম্বা, পাতলা।
শুঁটকি! হিসটোরিয়ানের কাছ থেকে সরে এসে নিচু গলায় পিনটুকে বললো কিশোর। আমরা কি করছি জানার চেষ্টা করছে।
ওর নিশ্চয় ভয়, তলোয়ারটা খুঁজে বের করে ফেলবে তোমরা।
আমারও তাই মনে হয়।
ম্যাপ-ঘরে আর লোক নেই। ১৮৪৬ সালের পঞ্চাশটা সাপ পাওয়া গেল। কোনো কোনোটা সমস্ত কাউন্টির, আর কোনোটা শুধু রকি বীচ এলাকার। কনডর ক্যাসল খুঁজে পেলো না ওরা।
এই যে আরেকটা, কিশোর বললো। এটা শুধু আলভারেজ র্যাঞ্চের।
আরিব্বাবা! কত্তোবড় ছিলো তখন দেখো!
কিন্তু ওটাতেও কনভর ক্যাসল খুঁজে পাওয়া গেল না।
ডন পিউটোর সময়কার আর কোনো ম্যাপ নেই! হতাশ কণ্ঠে বললো পিনটু।
নেই, তাতে কি? হাল ছাড়লো না কিশোর। ওই সময়কার না হোক, রকি বীচের যতো ম্যাপ পাবো, সব দেখবো।
১৮৪০-এর কয়েকটা পাওয়া গেল। ওগুলোতেও নেই কনডর ক্যাসল। আরও কিছু আধুনিক ম্যাপেও যখন পাওয়া গেল না, হাল না ছেড়ে আর উপায় থাকলো না ওদের। ফিরে চললো স্যালভিজ ইয়ার্ডের হেডকোয়ার্টারে।
দেখি, রবিন আর মুসা কিছু পায় কিনা, আশা করলো কিশোর।
দুই সুড়ঙ্গ দিয়ে ট্রেলারে ঢুকলো দুজনে। ভেতরটা দেখে অবাক হয়ে গেল পিনটু। বললো, দারুণ সাজিয়েছো তো!
জবাবে শুধু মৃদু হাসলো কিশোর।
রবিন আর মুসার অপেক্ষায় বসে রইলো ওরা। রবিন এলো প্রথমে।
নাহ, হলো না! ধপাস করে একটা চেয়ারে বসে পড়লো সে। কোথাও আর বাদ রাখিনি!
মুসা ঢুকলো কালো মুখটাকে আরও কালো করে। তার চেহারার দিকে একবার তাকিয়েই যা বোঝার বুঝে গেল সবাই। একটা টুলে বসতে বসতে বললো, কনডর ক্যাসলের যদি কোনো মানে সত্যিই থেকে থাকে, তাহলে সেটা জানে শুধু ডন পিউটো আর সানটিনো আলভারেজ!
