সেটা জেনে তোমার কোন লাভ নেই, কড়া গলায় জবাব দিল জিনা। দোকানটার নাম ছিল টিড-বিট। প্রথমে মিসেস ফিলটারই দোকানটা দিয়েছিলেন, ব্যবসায় লালবাতি জ্বালিয়ে পরে বিক্রি করে দেন মিসেস ম্যালকম নামে আরেক মহিলার কাছে। সেই মহিলা মিসেস ফিলটারকে ওই দোকানের সেলসউম্যান হিসেবে রেখে দেয়। মিসেস ম্যালকমেরও টাকাপয়সা বিশেষ ছিল না, দোকানও যা চলত, তাতে বেতন খুব একটা দিতে পারত না।
তাই নাকি? মিসেস ফিলটার জমি কেনার টাকা পেলেন কোথায় তাহলে? খোঁজখবর করতে হয়।
কিশোর! খবরদার! গলা ফাটিয়ে চিৎকার করল জিনা। মিসেস ফিলটারের ব্যাপারে নাক গলাবে না। খুব ভাল মহিলা। আমি পছন্দ করি।
এবং ম্যাকআরথারকে অপছন্দ করো, শান্ত কণ্ঠে বলল কিশোর, জানি। তাতে প্রমাণিত হয় না, হ্যারি ম্যাকআরথার চোর-ডাকাত, আর মিসেস ফিলটার সাধু-সন্ন্যাসী। সত্যি কথা কি জানো, মহিলাকে আমিও পছন্দ করি। কিন্তু একজন রহস্যভেদী হিসেবে আবেগকে প্রশ্রয় দিতে পারি না, দেয়া উচিতও নয়।
তাই নাকি। তীব্র ব্যঙ্গ ঝরল জিনার কণ্ঠে। খুব নীতিবান। নির্দোষ একজন ভদ্রমহিলাকে চোর ভাবতে তোমার লজ্জা হওয়া উচিত।
হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল কিশোর, শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেলল, বলল, দেখো, জিনা, মিসেস ফিলটার কি করেছেন না করেছেন, আমি জানি না। কিন্তু এটা তো জানি ডাকাতিটার সময় তিনি ফিনিক্সে বাস করতেন, এবং ঠিক তার মতই একজন মহিলা অংশ নিয়েছিল ডাকাতিতে। তারপর একটা লোক পড়ে মরল এমন একটা খনিতে, যেটা মিসেস ফিলটারের অতি-পরিচিত। যোগাযোগগুলো খুব বেশি মাত্রায় হয়ে যাচ্ছে না? সেজন্যেই খোঁজ নিতে চাইছি। শুরুতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসতে চাই সেই দোকানটায়, টিড-বিটে। শুরুতেই জানা দরকার, টিড-বিটে সত্যি কাজ করতেন কিনা মহিলা।
ফোন করো না, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল জিনা। তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তোমারও মুখ বন্ধ হবে।
তাই করব, উঠে লিভিং রুমে রওনা হলো কিশোর, টেলিফোন করবে।
ডিরেকটরিতে নাম্বার পাওয়া গেল। ডায়াল করল কিশোর। ওপাশ থেকে সাড়া মিলতে নিজের কণ্ঠস্বর ভারি করে, বয়স্ক লোকের গলা নকল করে বলল, টিড-বিট? মিসেস ম্যালকমের সঙ্গে কথা বলতে পারি, প্লীজ?
দীর্ঘ নীরবতা।
মিসেস ম্যালকম? অবশেষে বলল কিশোর। লর্ডবুর্গের বিউটি পারলার থেকে বলছি, আমি হ্যারি কোলম্যান। একজন সেলস-উওম্যান চেয়েছিলাম, দরখাস্ত পেয়েছি, নাম মিসেস রোজ ফিলটার। অভিজ্ঞতার জায়গায় আপনার দোকানের রেফারেন্স দিয়েছে। পাঁচ বছর আগে টিড-বিট ছেড়েছিল, হ্যাঁ হ্যাঁ রিজাইন দিয়েছিল
চুপ হয়ে গেল কিশোর। মনযোগ দিয়ে শুনছে ওপাশের কথা।
পনেরো বছর পর? এক সময় বলল সে।
অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে অন্যেরা।
বলেছিলাম না? ফিসফিস করে বলল জিনা। মহিলা বাজে কথা বলেন না। জিনার দিকে ফিরেও তাকাল না কিশোর, শুনছে। তাই?…হ্যাঁ, বিশ্বাস করা শক্তহ্যাঁ হ্যাঁ। থ্যাংক ইউ মিসেস ম্যালকম, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।
রিসিভার নামিয়ে রাখল কিশোর।
কি বলল? মুসা আর ধৈর্য রাখতে পারছে না।
পনেরো বছর কাজ করেছেন ওখানে, মিসেস ফিলটার, জানাল কিশোর। পাঁচ বছর আগে বসন্ত কালে চলে এসেছেন। মিসেস ম্যালকম বললেন, এপ্রিল কি মে মাসে হবে। পরিষ্কার মনে করতে পারলেন না। তবে, রিজাইন দিয়ে আসেনি মিসেস ফিলটার।
তাড়িয়ে দিয়েছে, যেন কিছুই না ব্যাপারটা, এমনি ভাবে বলল জিনা। তাতে কি?
তাড়ায়ওনি। ওয়ান ফাইন মরনিং জাস্ট কাজে যাননি। এমন কি টেলিফোনও করেননি। দোকানের এক লোক খোঁজ নিতে গিয়ে দেখে, বাসা ছেড়ে চলে গেছেন মিসেস ফিলটার। কোথায় গেছেন, কেউ বলতে পারল না। কাউকে জানিয়ে যাননি।
শূন্য চোখে তাকাল জিনা।
সোফায় হেলান দিয়ে ছিল রবিন, সামনে ঝুঁকল। পাঁচ বছর আগের বসন্তেই ডাকাতিটা হয়েছিল। কিশোর, বোধহয় তোমার কথাই ঠিক। হয়তো মিসেস ফিলটারই সাদা গাড়ি ড্রাইভ করেছিলেন। কিন্তু টিড-বিট ছাড়া ও টুইন লেকসে আসার মাঝের সময়টা কাটিয়েছেন কোথায়?
সেটা তাকেই গিয়ে জিজ্ঞেস করে দেখি না কেন? প্রস্তাব দিল কিশোর।
গল্পের ছলে কথা আদায়? মুসা হাসল। তা মন্দ হয় না। টেকনিকটা ভালই তোমার। চলো।
তোমাদের মন এত ছোট! কেঁদে ফেলবে যেন জিনা।
কিছু মনে করো না, জিনা, নরম গলায় বলল মুসা। তুমি থাকো।
না, জ্বলে উঠল জিনা, আমিও যাব। তোমাদের মুখ থুবড়ে পড়া না দেখে ছাড়ব ডেবেছ?
কিন্তু মিসেস ফিলটারের পিকআপটা গাড়িবারান্দায় নেই। ডেকে, দরজায় ধাক্কা দিয়েও সাড়া মিলল না।
মনে হয় শহরে গেছেন, জিনা অনুমান করল। এসো, ঢুকি। একটা নোট রেখে যাব, যেন আমাদের বাড়িতে দুপুরের খাওয়া খান।
দরজা ভেজানো রয়েছে। সোজা রান্নাঘরে চলে এল জিনা। পেছনে এল ছেলেরা।
মিসেস ফিলটার? ডাকল জিনা।
সাড়া নেই।
কাগজ-কলমের জন্যে লিভিং রুমে চলে গেল সে। গোয়েন্দারা রান্নাঘরেই রইল। রান্নাঘরটা আগের দিনের মত এত গোছানো নয়, অপরিষ্কার। স্টোডের ওপর হাঁড়ি চড়ানো, খাবারের টুকরো লেগে আছে। সিংকে ময়লা বাসন-কোসন, কোন কারণে ধোয়া হয়ে ওঠেনিবোঝা যায়।
কিশোর, লিভিং রুম থেকে জিনার ডাক শোনা গেল, মিসেস ফিলটার কোথাও বেড়াতে যাবেন মনে হচ্ছে।
দরজায় উঁকি দিয়ে কিশোর জিজ্ঞেস করল, কি করে বুঝলে?
