কি বলেছিলাম? জিনার দিকে চেয়ে হাসল কিশোর।
হাসিটা ফিরিয়ে দিল জিনা, কিন্তু তাতে প্রাণ নেই। শেরিফকে কি বলে ম্যাকআরথার কে জানে।
তোমার চাচাকে কি বলবে, তাই ভাববা, পথের দিকে নির্দেশ করল কিশোর। স্টেশন ওয়াগনটা ফিরছে।
গেটের কাছে পৌঁছে গেছে ছেলেরা, স্টেশন ওয়াগনও এসে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষল। জানালা দিয়ে মুখ বের করে ডাকলেন উইলসন, জিনা? শেরিফকে। দেখলাম। কিছু হয়েছে?
ম্যাকআরথারের খনিতে একটা লাশ পড়ে আছে, আরেক দিকে চেয়ে জবাব দিল জিনা।
লাশ? খনিতে?
মাথা ঝোঁকাল জিনা।
মাদ্রে দু দিও! বিড় বিড় করল ভিকি, বেরিয়ে আসছে গাড়ি থেকে। জিনা, তুমি জানলে কিভাবে?
অস্বস্তিকর নীরবতা। ভাইঝির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন উইলসন। জিনা, আবার ঢুকেছিলি খনিতে?
কোনমতে মুখ তুলে বলল জিনা, হ্যা…গতরাতে গুলির শব্দ শুনলাম তো…ভাবলাম…।
কোন কৈফিয়ত শুনতে চাই না, কড়া গলায় বললেন তিনি। যাও, বাড়ি যাও। খবরদার, আর বেরোবে না।
গাড়ি থেকে নেমে মাঠের ওপর দিয়ে ম্যাকআরবারের বাড়ির দিকে দৌড় দিলেন উইলসন। তার সঙ্গে যোগ দিলেন মিসেস ফিলটার, শেরিফের গাড়ি দেখেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন।
র্যাঞ্চ হাউসের দোতলায় এক জানালা থেকে আরেক জানালায় গিয়ে উঁকি দিতে লাগল চারজনেই। বাইরে, ম্যাকআরথারের বাড়িতে কি হচ্ছে দেখার জন্যে উদগ্রীব। আরও কিছুক্ষণ পর একটা অ্যামবুলেন্স গিয়ে থামল খনিমুখের সামনে। ঘন্টাখানেক পর চলে গেল শহরের দিকে। ইতিমধ্যে আরও কয়েকটা গাড়ি এসেছে। তার একটা হাইওয়ে পেট্রল পুলিশের।
বেলা তিনটায় পিকআপটা নিয়ে ফিরে এলেন উইলসন।
চাচা, দেখেই বলে উঠল জিনা, ম্যাকআরথারকে অ্যারেস্ট করেছে?
তাকে কেন করবে? খনির ভেতর লোকটা অনেক আগে মরেছে। ময়না তদন্তের পর বোঝা যাবে কয় বছর আগে ঘাড় ভেঙেছিল। এতে ম্যাকআরথারের দোষ কি? খনির মুখ শিক দিয়ে বন্ধ করার আগেই মরেছে লোকটা।
পাঁচ বছর, উইলসনের সাড়া পেয়েই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে ভিকি। আহা, বেচারা। পাঁচ-পাঁচটি বছর ধরে মরে পড়ে আছে ওখানে, কেউ জানে না।
মাত্র পাঁচ? মুসা বলল। আমি তো ভেবেছি চল্লিশ বছর।
খনি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই, জানাল ভিকি, তবে মুখ বন্ধ করা হয়নি, লোক যাতায়াত থামেনি। অ্যাকসিডেন্টের ভয়ে শেষে বছর পাচেক আগে, বসন্তকালেই বুঝি…হা, হ্যাঁ, বসন্তকালে শিক দিয়ে শক্ত করে বন্ধ করে দেয়া হয়।
মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে আছে কিশোর, আনমনে একটা কিছু ছুঁড়ছে আর লুফে নিচ্ছে।
কি, ওটা? জিজ্ঞেস করল জিনা।
খপ করে ধরল আবার কিশোর। খনিতে পেয়েছি। এটার জন্যেই আলো ধরতে বলেছিলাম তোমাকে। ডান হাতের তর্জনী জিভে ঠেকিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে পাথরের মত জিনিসটার গা ডলল। শুনেছি ওটা রুপার খনি ছিল। সোনাও ছিল নাকি?
না, শুনিনি তো? উইলসন বললেন।
পাথরটা আলোর দিকে ধরল কিশোর। উজ্জ্বল একটা দাগ। আয়রন পাইরাইট হতে পারে। ফুলস গোন্ড বলে একে। বাংলায় বলল, বোকার স্বর্ণ…না না, সোনালি ফাঁকি।
আয়রন পাইরাইট না কিসের পাইরাইট, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই আমার,বলে উঠল জিনা। আমি জানতে চাই, আগে কেন লাশটার কথা পুলিশকে বলেনি ম্যাকআরখার? আমরা দেখে ফেলায় জানাতে বাধ্য হয়েছে।
ধৈর্য হারালেন উইলসন। ম্যাকআরথার জানত নাকি, লাশ আছে? গত হপ্তায় মাত্র শিকগুলো সরিয়েছে সে, খনির ভেতরে পুরোপুরি দেখার সময়টা পেল কই? পাঁচ বছর আগের একটা মড়া লুকানোর কোন দরকার আছে তার? দেখো জিনা, বেশি মাথায় উঠে গেছ।
বাইরে একটা গাড়ি এসে থামল। শব্দ শুনেই দরজা খুলে দিল ভিকি।
বারান্দা পেরিয়ে ঘরে ঢুকলেন শেরিফ। সরাসরি তাকালেন জিনার দিকে। জিনা, তুমি জানো, খনিটার নাম কেন ডেথ ট্রাপ রাখা হয়েছে?
মাথা ঝাঁকাল জিনা। ওখানে অ্যাকসিডেন্টুে লোক মারা যায়। যায় তো?
আবার মাথা ঝাঁকাল জিনা। যায়। জানি।
আবার যদি ওখানে যাও, ধরে নিয়ে গিয়ে সোজা হাজতে ভরবো। কোর্টে যেতে হবে তোমার চাচাকে, তোমাকে ছাড়াতে। ছেলেরা, তোমাদেরও হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি।
একটা চেয়ার টেনে বসলেন শেরিফ।
লোকটা কে, জানা গেছে? জিজ্ঞেস করলেন উইলসন।
বোধহয়, শেরিফ বললেন। পকেটে মানি ব্যাগ আর একটা আইডেনটিটি কার্ড পেয়েছি, তাতে স্যান ফ্রানসিসকোর ঠিকানা। ওখানে ফোন করলাম। পুলিশ জানাল, বছর পাঁচেক আগে জানুয়ারি মাসে বাড হিলারি নামে একটা লোক নিখোঁজ হয়েছে, রেকর্ড আছে। লোকটার অনেকগুলো ছদ্মনাম, এই যেমন, বেরি হারবার্ট, বন হিরাম, বার হুম্যান। ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়ে স্যান কুয়েনটিন-এ জেল খেটেছে ছয় বছর। ছাড়া পাওয়ার পর পুলিশ স্টেশনে নিয়মিত হাজিরা দিয়েছে মাত্র দুবার, তারপরই গায়েব। পুলিশের ওয়ানটেড লিস্টে আছে দীর্ঘ দিন ধরে। খনিতে পাওয়া লাশের সঙ্গে হিলারির চেহারার বর্ণনা মিলে যায়। বদ্ধ বাতাসে একই আবহাওয়ায় থেকে পচেনি দেহটা, মমি হয়ে গেছে। আরও শিওর হওয়ার জন্যে তার ডেন্টাল চার্ট চেক আপ করার নির্দেশ দিয়েছি।
বেচারা ম্যাকআরথার, ব্যঙ্গ প্রকাশ পেল জিনার কণ্ঠে, লাশটা যে আছে তার খনিতে, জানেই না।
জানেনা-ই তো। জানলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করত আমাকে, উঠে দাঁড়ালেন শেরিফ। তো, যা বলেছি মনে থাকে যেন, ইয়াং লেডি। খনির ধারে কাছে যাবে
