এসপির বাংলো থেকে বের হতেই তার ফোনটা বেজে উঠলো। পকেট থেকে মোবাইলফোনটা বের করে দেখলো একটা অপরিচিত নাম্বার। হাঁটতে হাঁটতেই কলটা রিসিভ করলো।
“হ্যালো, কে বলছেন?”
ওপাশ থেকে মৃদু নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেলো। তারপরই ভেসে এলো একটা নারীকণ্ঠ।
“আমি কি নুরে ছফার সাথে কথা বলছি?”
ডিবির জাঁদরেল ইনভেস্টিগেটরের গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো। কে
“হ্যা..আপনি কে বলছেন?”
“মুশকান জুবেরি।”
হাটা থামিয়ে দিলো সে। এই মহিলা তার নাম্বার পেলো কোত্থেকে? ওসি দিয়েছে? নাকি এসপি? যদি দিয়েও থাকে নিশ্চয় তার পরিচয় ফাঁস হবার আগে হবে সেটা।
“আশা করি চিনতে পেরেছেন।”
মুচকি হাসলো সে। “মুশকান জুবেরি নামের কারোর সাথে আমার কখনও কথা হয় নি.. পরিচয়ও হয় নি। সুতরাং ফোনে কণ্ঠ শুনে কিভাবে বুঝবো আপনি মিসেস জুবেরি?”
“সেজন্যেই ফোন দিয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছি আপনি আমার ব্যাপারে আগ্রহী। জানি না কেন…তবে বেশ আগ্রহী সেটা বোঝা যাচ্ছে। আমি চাই, কেউ যদি আমার ব্যাপারে জানতে চায়..কারোর যদি আমার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে সরাসরি আমাকেই সেটা বলুক। এতে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।” এক নাগারে বলে গেলো মিসেস জুবেরি।
ছফা কী বলবে বুঝতে পারলো না।
“আপনি চাইলে আরো অনেক আগেই আমার সাথে দেখা করতে পারতেন। ওভাবে চোরের মতো আমার বাড়িতে ঢোকার কোনো দরকারই ছিলো না।”
ছফা এবারও কিছু বললো না। সে খুব অবাক হয়েছে মহিলা তাকে ফোন করেছে বলে। এরকমটি ঘুণাক্ষরেও আশা করে নি।
“বুঝতে পেরেছি, আমাকে নিয়ে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন জমে আছে…সেগুলোর উত্তর দিতে আমি প্রস্তুত
“আপনি কি বুঝতে পেরেছেন, আমি কেন আপনার ব্যাপারে আগ্রহী?” অবশেষে মুখ খুললো ছফা।
“না। আর সেটা বুঝতে চাই বলেই ফোন দিয়েছি। আপনি আমার বাসায় এসে এককাপ কফি খেয়ে যেতে পারেন। আমি চেষ্টা করবো আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে।”
আমাকে কফির নেমন্ত্রণ দিচ্ছে! নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারলো নয়া সে।
“আমার বিরুদ্ধে যদি আপনার কোনো অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে নিশ্চয় সেটা জানার অধিকার আমার আছে?”
“আপনি কি এখনই আমার সাথে দেখা করতে চাইছেন?”
“হ্যাঁ। আমি এখন ফ্রি আছি। চাইলে আসতে পারেন।”
ছফা একটু দ্বিধায় পড়ে গেলো।
“আমি দারোয়ানকে বলে দিচ্ছি…ঠিক আছে?”
ছফার জবাবের অপেক্ষা না করেই কলটা কেটে দিলো মুশকান জুবেরি। কিছু বুঝতে না পেরে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো সে।
“এনিথিং রং?”
সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখতে পেলো বাংলোর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। এসপি। তার চোখেমুখে চিন্তার ছাপ।
“একটা ফোনকল এসেছিলো। তারপর একটু ভেবে আবার বললো সে, “আপনি কি আমার ফোন নাম্বারটা জানেন?”
“না,” মনোয়ারসাহেব বললো।
“থানার ওসিকে ফোর্স রেডি রাখতে বলবেন। আমি বলামাত্রই যেনো মুভ করতে পারে।” আর কিছু না বলে ছফা পা বাড়ালো মেইনগেটের দিকে।
মাথা নেড়ে সায় দিয়ে চুপচাপ বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলো সুন্দরপুরের এসপি।
.
অধ্যায় ৩৪
দুর থেকে একজন মানুষকে আসতে দেখে নড়েচড়ে উঠলো সাদা পোশাকের দু-জন পুলিশ। জমিদার বাড়ির মেইনগেট থেকে একটু দূরে গাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছে তারা।
এই বাড়ির ভেতরে যে-ইটুকুক না কেন তাকে কোনো রকম বাঁধা দেবে নয়া, তবে বের হলেই চেক করা হবে-এমনটাই বলা হয়েছে ওদেরকে। ফলে দু-জন পুলিশ আস্তে করে গাছটার আড়ালে চলে গেলো। কেউ ওদের দেখে ফেলুক সেটা যেনো না-হয়। খুবই সতর্কতার সাথে কাজটা করতে বলেছে। ওদের। নজর রাখা হচ্ছে কিন্তু কারোর নজরে পড়া চলবে না। এক জায়গায় এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে কারোর নজরে না পড়াটা অসম্ভব। কিন্তু ডিউটিতে আসার পর বাড়ি থেকে কেউ বের হয় নি, ঢোকেও নি। সে-কারণে কাজটা খুব সহজেই করা গেছে এতোক্ষণ ধরে।
আবছায়া অবয়বটি কাছে আসতেই বড় গাছটার দিকে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে লাগলো। আড়ালে থাকা দু-জন ভড়কে গেলো একটু। তারা যে এখানে আছে এটা ঐ আগন্তুক কিভাবে টের পেলো?
“তোমরা কি আছো?” আস্তে করে বললো আবছায়া অবয়বটি।
গাছের আড়ালে থাকা দু-জন পুলিশ বুঝতে পারলো না কী করবে। তাদের মধ্যে একজন নীচু কণ্ঠে বললো তার সঙ্গিকে, “আমাগো ঐ স্যার মনে হইতাছে!”
প্রথমে সে-ই বেরিয়ে এলো গাছের আড়াল থেকে, তাকে অনুসরণ করলো তার সঙ্গি।
“স্লামালেকুম, স্যার,” প্রথমজন এগিয়ে এসে বললো। দ্বিতীয়জনও একই কায়দায় সালাম ঠুকলো।
“কি অবস্থা?” একটু সামনে এগিয়ে এলো অবয়বটি।
এ হলো সেই নুরে ছফা। ঢাকা থেকে এসেছে। ওসিসাহেব যার ভয়ে তটস্থ হয়ে আছে এখন।
“কেউ বার হয় নাই,” প্রথমজন জবাব দিলো। “ঢুকেও নাই।”
“গুড
“তয় সন্ধ্যার দিকে একটা চিৎকারের আওয়াজ পাইছিলাম, স্যার।”
ভুরু কচকে ফেললো ছফা। “চিৎকার?”
“হ। একটা মহিলার চিৎকার।”
“কি বলো? তারপর?”
“তারপর আর কুনো আওয়াজ পাই নাই। বাড়ি থেইকাও কেউ বাইর হয় নাই।”
নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো ছফা। একটু ভেবে দু-জনের উদ্দেশে বললো, “আমি ঐ বাড়িতে যাচ্ছি। তোমরা নজর রেখো। আমি ভেতরে ঢোকার পর কাউকে ঐ বাড়িতে ঢুকতে দেবে না। আর তোমাদেরও লুকিয়ে থাকার দরকার নেই। গেটের সামনেই থেকো।”
“ঠিক আছে, স্যার,” প্রথমজন বললো।
“তোমাদের সাথে আমস আছে তো?”
