টুনি এখনো কিছু বলল না। ছোটাচ্চু তখন আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, সেটা আগেরটা থেকেও লম্বা, তারপর বলল, কিন্তু এই কেসটায় কোনো কু নাই। ষােলকোটি মানুষের মাঝ থেকে একজনকে খুঁজে বের করা কি সোজা কথা? যদি খালি একটা কু থাকত—
টুনি বলল একটা ক্লু তো আছে।
ছোটাচ্চু সোজা হয়ে বসে বলল, কী ক্লু?
সুমন তার ল্যাপটপ নিয়ে গেছে—তার মানে নিশ্চয়ই ইন্টারনেটে হাজির আছে।
ইন্টারনেটে বাংলাদেশের কতো মানুষ আছে, তুই জানিস?
কিন্তু সুমনের তো একটা আলাদা সখ আছে। সেই সখটা তো খুব। বেশি মানুষের নাই।
কী সখ?
বিজ্ঞান! তার মানে ইন্টারনেটে যারা বিজ্ঞান নিয়ে ঘাটাঘাটি করে তার মাঝে নিশ্চয়ই সুমন আছে।
থাকলে আছে। কিন্তু আমি খুঁজে বের করব কেমন করে?
টুনি সুমনের ডাইরিটা হাতে নিয়ে বলল, এই যে এই ডাইরিটা দিয়ে!
এই ডাইরিটা দিয়ে? কীভাবে?
এর মাঝে অনেক প্রশ্ন। তার মানে সুমন এই প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করে। তুমি এই প্রশ্নগুলো তোমার নিজের মতো করে ইন্টারনেটে দাও। জিজ্ঞেস কর। তাহলে একদিন যখন সুমনের চোখে পড়বে সে উত্তর দেবে।
সুমনের চোখে যদি না পড়ে?
তোমার পরিচিত একজন আছে না যে এইগুলো খুব ভালো বুঝে, তোমার ইনফেকশানওয়ালা ওয়েব সাইট তৈরি করে দিয়েছে?
ছোটাচ্চু মুখ শক্ত করে বলল, মোটেই ইনফেকশানওয়ালা না।
ঠিক আছে। তুমি সেই ছেলেকে বল সে যেন তোমার প্রশ্নগুলো এমন ভাবে ছড়িয়ে দেয় যেন অনেক মানুষের চোখে পড়ে। সে নিশ্চয়ই পারবে।
ছোটাচ্চুর মুখে প্রথমে একটা তাচিছল্যের ভাব চলে এল, আস্তে আস্তে তাচ্ছিল্যের ভাবটা চলে সেখানে উৎসাহের ভাব চলে আসতে থাকে। তারপর তার চোখ মুখ উত্তেজনায় চকচক করতে থাকে, হাতে কিল দিয়ে বলে, টুনটুনি! তুই একটা জিনিয়াস।
টুনি বলল, তোমার সাথে তুলনা করলে যে কোনো মানুষ জিনিয়াস।
ছোটাচ্চু তখন তখনই কাজে লেগে গেল। সে যেহেতু বিজ্ঞানের ব পর্যন্ত জানে না, তাছাড়া বিজ্ঞান নিয়ে তার একটা এলার্জির মতো ভাব আছে তাই সে সুমনের ডাইরিটা নিয়ে গেল তার বিজ্ঞান জানা একজন বন্ধুর কাছে। সে ডাইরি থেকে বেছে বেছে দশটা প্রশ্ন নিয়ে সেটা টাইপ করিয়ে নিল, তারপর সেগুলো নিয়ে গেল তার ইন্টারনেটের এক্সপার্টের বন্ধুর কাছে। সে ব্যবস্থা করে দিল যেন ইন্টারনেটে তার প্রশ্নগুলো অনেকে দেখতে পায়। যারা প্রশ্নের উত্তর দিতে চায় তাদেরকে উত্তর পাঠাবার জন্যে একটা ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে রাখা হল। তারপর ছোটাচ্চু সেই ই-মেইলে উত্তরের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকল।
প্রায় সাথে সাথেই উত্তর আসতে শুরু করে। বেশির ভাগই বাচ্চা, কেউ কেউ উত্তর হিসেবে কিছু একটা লিখে পাঠিয়েছে, কেউ কেউ জানতে চেয়েছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে ছোটাচ্চু কী করবে। দ্বিতীয় দিনে ছোটাচ্চু সুমনের কাছ থেকে উত্তর পেলো। ই-মেইল ঠিকানা বা চিঠির শেষে কোথাও সুমনের নাম লেখা নেই কিন্তু ছোটাচ্চুর বুঝতে কোনো অসুবিধা হল না এটা সুমন। কারণ এখানে লেখা
এই দশটা প্রশ্ন দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি কারণ এই প্রশ্নগুলো আমারও প্রশ্ন। আমি কয়েকটার উত্তর চিন্তা করে বের করেছি। অন্য প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করার চেষ্টা করছি। তুমি বের করতে পারলে আমাকে জানিও।
চিঠিটা পেয়ে ছোটাচ্চুর উত্তেজনার শেষ নেই। অনেক চিন্তা ভাবনা করে সে উত্তর পাঠালো
তুমি যে প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করেছ, সেগুলো কি আমাকে পাঠাবে?
উত্তরে সুমন লিখল
পাঠালাম।
ছোটাচ্চু লিখল
ফ্যান্টাস্টিক। তুমি কী কর? কলেজ ইউনিভার্সিটির মাস্টার?
সুমন লিখল
হা হা হা। আমি কলেজ ইউনিভার্সিটির মাস্টার না। ইউনিভার্সিটিতে ঢুকব।
ছোটাচ্চু অবশ্যি শুধু ই-মেইল চালাচালি করে বসে রইল না, ইউনিভার্সিটির কয়েকজনের সাথে কথা বলে দুইটা প্রশ্নের উত্তর বের করে নিয়ে এসে সুমনকে লিখল
আমি আরো দুইটা প্রশ্নের উত্তর বের করেছি। তুমি কি দেখতে চাও?
সুমন লিখল
অবশ্যই।
ছোটাচ্চু তখন অনেক চিন্তাভাবনা করে লিখল
হাতে লেখা উত্তর। ই-মেইলে কেমন করে পাঠাব?
সুমন লিখল
স্ক্যান করে পাঠাতে পার।
ছোটাচ্চু লিখল
ধারে কাছে স্ক্যানার নাই। তোমার বাসা কোথায়? ধারে কাছে হলে হাতে হাতে দিতে পারি।
সুমন পুরো একদিন এর উত্তর দিল না। তারপরে লিখল
তুমি কে? কী কর?
ছোটাচ্চু তখন বিপদে পড়ে গেল। সে এখন কী লিখবে? যখন চিন্তা করতে করতে ঘেমে গেল তখন টুনি তাকে সাহায্য করল। বলল, লিখ তুমি বিজ্ঞানের একটা বই লেখার চেষ্টা করছ। সেইজন্যে বিজ্ঞানের মজার মজার
প্রশ্ন আর তার উত্তর খুঁজে বের করছ।
ছোটাচ্চু চিন্তিত মুখে বলল, যদি আমাকে বিজ্ঞানের কোনো একটা প্রশ্ন করে বসে?
সামনা সামনি তো তোমাকে পাচ্ছে না! কেমন করে প্রশ্ন করবে? ছোটাচ্চু বলল, তা ঠিক। তারপর সুমনকে লিখল
আমি একটা বিজ্ঞানের বই লিখছি। বই মেলায় বের করার ইচ্ছা। সেই জন্যে মজার মজার প্রশ্ন আর উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছি।
সুমন লিখল
আমার কাছে আরো মজার প্রশ্ন আছে।
ছোটাচ্চু লিখল
আমাকে দিবে?
সুমন লিখল হাতে লেখা প্রশ্ন। আমার কাছেও স্ক্যানার নাই। হা হা হা।
ছোটাচ্চু আবার তার বাসা বের করার চেষ্টা করল।
তোমার বাসা কোথায়? কাছাকাছি হলে হাতে হাতে দিতে পার।
সুমন যেখানেই তার বাসা লিখুক না কেন ছোটাচ্চু লিখবে তার বাসা ঠিক সেখানেই। তারপর সেখানে চলে যাবে। কিন্তু সুমন তাকে বিপদে ফেলে দিল, পাল্টা প্রশ্ন করল।
