বিয়ের বাইরের সম্পর্কের নাম শুধু পরকীয়া নয়। আসল পরকীয়া সঠিক অর্থে অবৈধ প্রণয়। বিয়ে করা স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি যে মমতা বন্ধন পরকীয়া মমতা কখনো কখনো আরও অনেক বেশি গাঢ় এবং গম্ভীর হতে পারে। যেহেতু সেখানে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করে। অনিশ্চয়তার যন্ত্রণা থেকে প্রেম আরো আকর্ষণীয় ও গম্ভীর হতে পারে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছু শেষ হলেও, শেষ হয় না চার অক্ষরের ভালোবাসা। ফলে অনেক দোটানার সংসারেই নেমে আসে ধস। পরকীয়া হোক আর যাই হোক এই যে সোনার কুলুপ, এই ডলার, পাওয়ার, এই পুঁজিবাদ অনেক রকম তেলেসমাতি দেখানোর ক্ষমতা রাখে। এমনকি, দূরে বসে সবরকম কুকীর্তিও। যা অর্থনৈতিক বন্ধন, স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক বন্ধনকেও ছাড়িয়ে যায়। বৈধর চেয়েও অবৈধের টান প্রবল। অর্থ, বিত্ত, বিবাহ সামাজিকতাকে তুচ্ছ করে, পরকীয়া নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে।
২৬. নারী খাদকেরা
(কাজের মেয়ে, সাধুসন্ত ও পীর ফকির)
ক. নরখাদক নয়। নারীখাদক। পুরুষ, যারা অনেকেই নারীদেহ থেকে নিজেকে আলাদা করে ভাবতে চায় না। পারেও না। কোনও না কোনওভাবে নারীদেহ তাকে উপভোগ করতেই হবে। তা সে যে-কোনও বয়সী হোক না কেন। মেয়ে। থেকে মায়ের বিভিন্ন বয়সী নারীদেহের প্রতি পুরুষের বিভিন্ন ধরনের বিকার থাকে। ছোটবেলায় মেয়েদের শরীরে পুরুষের এই বিকারের বিচরণ এত দেখেছি যে, তার সামান্য ক’টির উল্লেখই যথেষ্ট হবে বলে মনে হয়। এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন, যে বাড়ির পুরুষ কাজের মেয়ের মশারির তলায়, ঢোকেনি! ক’জন। পুরুষ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে তারা কোনও না কোনও অজুহাতে, কাজের মেয়ের শরীর ছোঁয়নি! এমনকি নাবালিকার স্তনের কুঁড়ি আর সদ্য ফোঁটা প্রত্যঙ্গে জননেন্দ্রিয় ছলে-বলে-কৌশলে একবারও তার হাত ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেনি এমন পুরুষ ক’জন আছেন বলা কঠিন! আমার বিশ্বাস, সংখ্যায় তারা নিতান্তই অঙ্গুলিমেয়।
একাধিক পুরুষের খবর জানতাম যারা একই বাড়িতে মা-মেয়ে দুজনকেই ভোগ করেছে। দেহ না দিলে ওদের চাকরি যাবে। কাজের মেয়েরা যারা অকাল বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা যৌনজীবনে অতৃপ্ত, তাদের অনেকেই স্বেচ্ছায় না হলেও পেটের তাগিদে তাদের প্রভুদের সঙ্গে গোপন জীবনযাপনে অংশ নেননি এর সংখ্যা নিরূপণ করা বেশ কঠিন। আর যারা বাধ্য হয়ে দেহদানের মতো কুকর্মে লিপ্ত হয় তাদের বেশির ভাগই দুর্বলচিত্ত, অভাবী কিংবা বিপদগ্রস্ত নারী। ওরা জীবন সংগ্রামে অর্থের প্রয়োজনে অনন্যোপায়। তবে অধিকাংশই জোর-জবরদস্তি, লুকিয়ে-চুরিয়ে, গোপনে, আড়ালে-আবডালে বাড়ির কর্তা ব্যক্তিদের হাতে নাবালিকা ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে অপরাধী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা প্রতিপত্তির জোরে কখনওই বাইরে জানাজানি হয় না।
ছোটবেলায় আমার সমবয়সী কাজের মেয়ে যাদের নাম ছিল আকলি-রেনু-বুড়ি লতা ওদের মুখেও শুনেছি শহরের ছোটলোক-বড়লোক, একই বাড়িতে বাবা ছেলেদের মতো নষ্ট পুরুষদের গল্প। একই বাড়িতে কিংবা একই ঘরে মালিক, মালিকের ছেলে, কর্মচারী, প্রতিবেশী, অতিথি যে যেভাবে পারছে, করছে। ওদের সকলেরই চাহিদা তো স্রেফ একটি নারীর দেহপিণ্ড! ঘরে বৌ থাকলেও যা, নাথাকলেও একই রকম। আর বছরের পর বছর বা আজীবন, গ্রামে বৌ রেখে শহরে কাজ করতে এলে তো কথাই নেই। ওরা তো অতি সঙ্গত কারণেই যাবে। এটাই পুরুষের ধর্ম। ওদের নারীরাও জানে যে, এটাই সক্ষম পুরুষালির বড় পরিচয়। এবং এসব কাজের জন্যে বাড়ির নিরীহ কাজের মেয়েটিই সবচেয়ে সুলভ এবং নিরাপদ হিসেবে গণ্য হয়। উপরন্তু তুলনামূলকভাবে সস্তাও বটে। মা না হলে, মেয়ে। মেয়ে না হলে মা। অদল-বদলের একটা আলাদা স্বাদ। কচি-বুড়ো সবরকমের।
গ্রামের সুবিধে অতিরিক্ত। সেখানে রয়েছে ঝোঁপ-ঝাড়, পাটক্ষেত, গাছের আড়াল। রয়েছে অন্ধকার সঙ্গে নির্জনতা। কাজের শেষে সবাই ঘুমোতে গেলে ওরা যে যার সুবিধেমতো বেরিয়ে আসে। পা টিপে টিপে গীতার বাবা ঢেকে রেনুর মায়ের মশারির ভেতরে। রেনুর মা সব কাজশেষে নারকেল তেলের কৌটো নিয়ে অপেক্ষা করে বসে থাকে। শুষ্ক যোনিতে পুরুষাঙ্গটিকে তেল না খাওয়ালে কষ্ট হয়। কিংবা রেনুর মা যখন গভীর ঘুমে। মাত্র নতুন কাজে এসেছে। আর গীতার বাবা পা টিপে টিপে এসেই রেনুর মায়ের মশারি তুলে বলছে, চোপ, একটা কথাও কইবা না। কইলেই …, বলে বিশ টাকার নোটটি হাতে গুঁজে দিয়েই, স্তনে মুখ গুঁজে দেয়। আর রেনুর মাও স্বতশ্চল হয়ে যান্ত্রিকভাবে দু’পা বিযুক্ত করে দেয়। আর পুরুষটি প্রবিষ্ট হয় যোনিতে। রেনুর মা জানে কখন কি তার করণীয়। অবস্থা বুঝে। কারণ এই জীবন তার অজানা নয়।
প্রধানত অসহায়, গরিব, অশিক্ষিত বাপ-মায়ের মেয়েরাই পুরুষের এই নিষ্ঠুরতার শিকার। গ্রামে, শহরে, রাজধানীতে। পুরুষগুলোর নিরাপত্তা এই যে ওরা সহজেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে। বিছানা ছাড়া মাত্রই ওদের আর ধরা যায় না। ওদের অপকর্মের তাৎক্ষণিক কোনও চিহ্ন থাকে না। পেট ফোলাফুলির ব্যাপারটাও নেই ওদের। ওটা শুধু মেয়েদেরই। অনেক বাড়িতেই দেখা যায় কাজের মেয়েটা, বলা নেই কওয়া নেই তিন মাসের পোয়াতি। সে শুয়ে থাকে আর ওয়াক ওয়াক করে। জানাজানি হওয়ার আগেই স্বয়ং মালিকের আত্মঘাতী পরনির্ভরশীল, স্বার্থপর স্ত্রী নিজেই বাচ্চা নষ্ট করার ব্যবস্থা করে দেয় স্বামীর দুর্নাম ঘোচাতে। কেননা পরনির্ভরশীল নারী, স্বামীর অর্থনৈতিক শক্তির কাছে শৃঙ্খলিত নির্বোধ প্রাণীর মতো। দিনকে ওরা রাত করে দেয়, রাতকে দিন বানাতেও ওদের জুড়ি নেই। কখনো কখনো এধরনের অনেক পোয়াতির অকাল মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশও হয় না। হলেও তা ভূতের আছর হিসেবেই প্রচারিত হয়। সঙ্কীর্ণ পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থার মাহাত্ম এরকমই।
