এখানে ২০ বছর বয়স থেকে অনেকেই স্বাধীনভাবে ঠিকাদার যৌনকর্মী হিসাবে কাজ করেন। সেখানে প্রতিদিনকার রোজনামচা বলে, তাঁরা সকাল ৭ টায় ঘুম থেকে ওঠে। তাঁরা হাঁটতে বেরোয়। শুধু তাই নয়, তারপর তাঁরা মনোবিজ্ঞান শিক্ষায় প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্য নেয়। পড়াশোনা কখনোই বন্ধ থাকে না। মনোবিজ্ঞান, যৌনতা, সমাজবিজ্ঞান তাঁদের উপজীব্য বিষয়। অনলাইন ভিডিওগুলির সাহায্যে তাঁরা জনগণকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারে। আয়ারল্যান্ড এই বিষয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও যৌনকর্মীরা মনে করে তাঁদের বৈধতা আবশ্যক। তবে এটাও আশ্চর্যের বিষয় যে, এদের পরিবার এটাকে কেবল এক পেশা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পরিবাররাও উন্মুক্ত সমর্থন দিয়েছেন এবং তাঁদের প্রতি যত্নশীল। সত্যিই সময় অনেক এগিয়ে গেছে, এখানে প্রযুক্তির সাহায্য নিজের কুমারিত্বকে নিলামে বৃহত্তর অংশ বলতে তাঁদের দ্বিধাবোধ হয় না। এখানে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় নয়, ধর্ম নয়—বরং উন্মুক্ততা এসেছে মনে। তাই স্বীকৃতি গণিকাবৃত্তির।
তাঁরা মনে করে এই ধরনের কর্মজীবন সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অবশ্যই লাভজনক। একরাতে তাঁরা ১০,০০০ ডলার উপার্জন করতে পারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭,০৩,৮৫০ রুপি। তাঁদের মতে, বেডরুমের দরজা আর আত্মসমান সহ প্রত্যাশায় উন্মুক্ত। হালকা গোলাপি ম্যানিকিউর, অ্যান্ডারওয়্যার তাঁদের পেশায় ভালোই অনুরণন তোলে। এঁদের মধ্যে অনেকেই প্রথম জীবনে পর্নোগ্রাফিতে অভ্যস্ত। পরে তাঁরা স্ট্রিপ ক্লাবে কাজ করেন, আর তারপরই তাঁরা শরীর তথা যৌনতা বিক্রি করতে নেমে পড়েন। কারণ এখানে ক্ষমতাই হৃদয়ের খবরদারি করে, আর তা পর্যাপ্ত না-হলেই সম্পর্কের বাঁধন ক্ষুণ্ণ হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, উদাহরণস্বরূপ ব্লগিং কলগার্ল বেল্লে ডে জোর ( Belle de jour), উল্লেখযোগ্য। এরা ব্লগকে মাধ্যম করে, পিএইচডির সময় এই পেশায় আসে, আর যৌন-সম্পর্ক স্থাপনে সাফল্য লাভ করে পায়। শুধুমাত্র তাঁর উপার্জন একরাতে ১০,০০০ ডলার ছাপিরে ৪০,০০০ হাজার ডলার হয়ে যায়। কলগার্ল’ বেল্লে ডে জোর ১৯৬৭ সালে ক্যাথেরিন ডিনিউভের সঙ্গে একটি ছবিতে অভিনয়ও করেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি বিশ্বের সেরা হোটেলে ছিলেন। এমনকি প্রভাবশালী পুরুষদের হৃদয়ের আভিজাত্যের যৌনক্ষুধা মেটাতেন তিনি। যথার্থ রুচিপূর্ণ মানুষের সঙ্গিনী এঁরা। স্বীকারোক্তি বলে যে, ২০১২ সালে লিবিয়ার একনায়কতন্ত্রের ছেলের সঙ্গী হিসাবে যে অপরাধমূলক অভিযোগ ওঠে, সেখানে একরাতে এই পেশায় আয় ৪০,০০০ ডলার। স্বীকারোক্তিতে আরও অভিযোগ করে যে, সেন্ট ট্রোপজের মধ্যে এক নৌকাঁচালক আছেন। এই নৌকা তরতাজা মেয়েদেরকে বিনিয়োগে নামায়। তাঁরা মাদ্রাসায় নিয়োগ হয়, তবে সবই ধান্দার বাজারে বিকিয়ে যায়। বিকিয়ে যায় সিনেমার পরিচিত মুখ, টাকায় মুখে ঢাকা পড়ে অভিনয়। যৌনতার বয়স অর্থের কাছে তরুণ রক্তের উদ্দীপনা চায়। উল্লেখ্য, একজন সৌদি প্রিন্স এক মডেলের সঙ্গে রাত কাটালে, সেই মডেল এক রাতে ১০,০০০ ডলার লাভ করে, আবার তার থেকে বেশি অর্থ দিয়ে কেবল সেক্সর জন্য প্রায় ৯ থেকে ৯০ ভাগ সময় তাঁদের পুষতে পারে।
প্যরিস তো আবার এককাঠি উপরে। সেখানে যৌনকর্মীদের যৌনতার পাঠ দেওয়া হয় যৌনবিদ্যালয়ে। কী থাকে সিলেবাসে? আসুন, জেনে নিই—(১) এখানে যৌনতা করার সময় দৈহিক অবস্থান দেখানো হয়। (২) যৌনতা করার সময় মৌখিক (Oral Sex) সেরা যৌন সঞ্চালন দেখানো হয়। গলার দিকে শিথিল পেশির চলন, আর অন্যান্য পুরুষের অন্তর্ভুক্ত যা কিছু তা সম্যকভাবে শেখানো হয়। (৩) প্রতিনিধিত্ব এবং দাসত্ব—দুই ধরনের শরীরী খেলায় তার প্রভাব শেখানো হয়। (৪) আধিপত্যের ক্ষেত্রে কোর পেশি, জাং পেশি ভারসাম্য বিকাশে কীভাবে ক্রিয়া করে, তার গুরুত্ব বোঝানো হয়। (৫) কখন কীভাবে আঙ্গুল আর জিভের ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো হয়। (৬) গ্রুমিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একান্ত প্রয়োজন। কারণ বিকিনির লাইনে কোনো চুল আছে কি না, আর কোনো অস্পষ্ট ক্ষত আছে কি না নিশ্চিত করার জন্য এই গ্রুমিংয়ের ব্যবস্থা। (৭) চোখে চোখ, প্রচণ্ড উত্তেজনায় চেহারায় উপভোগ, আর সঙ্গি বা সঙ্গিনীর সঙ্গে উত্তেজনায় উভয়পক্ষের ভোগ সম্পর্কে জানা। (৮) শরীরের কম্পন কীভাবে, কখন ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো। (৯) পরিতৃপ্তি সর্বাধিক করার জন্য একসঙ্গে কাজ করার পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়। (১০) অবশেষে শেখানো হয়, পরিতৃপ্তি হলেই কাস্টমার টিকে থাকবে। এই পদ্ধতি হল বাণিজ্যিক। আর এর দ্বারাই নিয়মমাফিক নিত্য স্বাভাবিক চলনের সার্থকতা। অর্থাৎ টিকিয়ে রাখার প্রক্রিয়াকরণ যথার্থ করতেই এই শিক্ষা।
“Prostitution: Prices and Statistics of the Global Sex Trade” থেকে বিশ্বব্যাপী পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে কিছু পরিসংখ্যান এবং তথ্য পাওয়া যায়। সারা বিশ্বে গণিকার সংখ্যা প্রায় ১৩,৮২৮,৭০০ টি। এটা সারা বিশ্বে কত গণিকা আছে তার আনুমানিক চিত্র। দেশগুলির গণিকার সংখ্যা বিপুল পরিমাণে পাবলিক উৎস থেকে সংগৃহীত হয়েছিল। উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে—নিরাপত্তা পরিসেবা অনুমান, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রতিবেদন এবং বিশ্বব্যাপী ফৌজদারি বিচার কার্যক্রম থেকে অন্যান্য পর্যবেক্ষণের তথ্য। এবার দেখে নিতে পারি, কোন্ দেশে কতজন গণিকা গণিকাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত–(১) চিন ৫,০০,০০০ জন (২) ভারত ৩,০০,০০০ জন (৩) আমেরিকা ১,০০,০০০ জন (৪) ফিলিপিনস ৮,০০,০০০ জন (৫) মেক্সিকো ৫,০০,০০০ জন (৬) জার্মানি ৪,০০,০০০ জন (৭) ব্রাজিল ২,৫০,০০০ জন (৮) থাইল্যান্ড ২,৫০,০০০ জন (৯) বাংলাদেশ ২,০০,০০০ জন (১০) দক্ষিণ কোরিয়া ১,৪৭,০০০ জন (১১) তুরস্ক ১,১৮,০০০ জন (১২) তাইওয়ান ১,০০,০০০ জন (১৩) কাম্বোডিয়া ৭০,০০০ জন (১৪) ইউক্রেন ৬৭,৫০০ জন (১৫) ব্রিটেন ৫৮,০০০ জন (১৬) কেনিয়া ৫০,০০০ জন (১৭) ভিয়েতনাম ৩৩,০০০ জন (১৮) দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০,০০০ জন (১৯) সংযুক্ত আরব শাহি ৩০,০০০ জন (২০) ফ্রান্স ২০,০০০ জন (২১) সুইজারল্যান্ড ২০,০০০ জন (২২) পোল্যান্ড ১৯,০০০ জন (২৩) মঙ্গোলিয়া ১৯,০০০ জন (২৪) ইসরায়েল ১৭,৫০০ জন (২৫) কোস্টা রিকা ১৫,০০০ জন (২৬) নেদারল্যান্ড (হল্যান্ড) ৭,০০০ জন (২৭) নিউজিল্যান্ড ৩,৫০০ জন (২৮) ডেনমার্ক ৩,২০০ জন (২৯) আয়ারল্যান্ড ১,০০০ জন।
