ব্রানস্টোন আর ডেডিস লিন্ডার হাত চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে চলল প্রায় অন্ধকার প্যাসেজ দিয়ে। ধস্তাধস্তি করল মেয়েটি, গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিল। কোন লাভ হলো না। কেউ এল না সাহায্য করতে। ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যাওয়া হলো। ওকে, তারপর আরেকটা দরজা দিয়ে, যেটা আগে লক্ষ করেনি, সেখান থেকে একটা ঘরে ঢুকল, সিঁড়ির নিচে। ঘরে আসবাব বলতে শুধু একটা বিছানা। লিন্ডাকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে ওরা চলে গেল। পায়ের শব্দ শুনতে পেল ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছে।
পরবর্তী কয়েকটা হপ্তা আতঙ্ক, ভয়, নির্যাতন আর অনিশ্চয়তার এক ভয়ানক দুঃস্বপ্নের মধ্যে কেটে গেল। স্নোনের ল্যাবরেটরিতে লিন্ডার নানা শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা চলল। বাকি সময়টা ওই ঘরে বন্দী হয়ে রইল। দুই সাগরেদ পালাক্রমে ওর খাবার দিয়ে যায়, মাঝে মাঝে স্লোন নিজেও নিয়ে আসে। ওদের দেখলেই ভয়ে সিঁটিয়ে যায় লিন্ডা কপালে আরও কত দুর্ভোগ আছে ভেবে। মাঝে মাঝে জন, মার্টিন এবং প্রফেসর ম্যাক্সওয়েলের কথা চিন্তা করে। ভেবে পায় না ওরা এই শয়তানের পাল্লায় পড়ল কি করে।
একদিন জেসন স্নোন নিজেই ঘটনাটা খুলে বলল ; কোন কারণে মৃড় ভাল ছিল তার, কথা বলার নেশায় পেয়ে গেল। আর বক বক শুরু করলে সে তো থামতেই চায় না।
স্নোন বলল, তার সাগরেদ ব্রানস্টোন একজন ট্রেইনড় পাইলট, প্রফেসরদের যাত্রার দিন সে আসল পাইলটকে হাত-মুখ বেঁধে প্লেনের পেছনে লুকিয়ে রেখে নিজেই পাইলট সেজে বসে। জার্মানীর দিকে কোর্স সেট করলেও কোস্ট পার হবার পরে কোর্স বদলে সে স্কটল্যান্ডের দিকে যাত্রা শুরু করে। মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে চলছিল ওরা, ওদিকে নিচেটাও ছিল অন্ধকার, ফলে যাত্রীরা কেউ কিছু সন্দেহ করতে পারেনি। তাদের টনক নড়ে প্লেন স্রোনের বাড়ির ধারে, পুরানো এক এয়ারফিল্ডের ল্যান্ড করার পরে। ওরা প্রথমে ভেবেছিল বোধহয় কোন ঝামেলা হয়েছে যার কারণে প্লেন ওখানে নেমেছে। কিন্তু স্নোন এবং ডেভিস মাথায় পিস্তল ঠেকাতে তাদের ভুল ধারণা ভেঙে যায়। তারপর স্নোন প্রফেসরকে তার প্রস্তাব দেয় এবং প্রফেসর ঘৃণা ভরে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তারপরে কি হয়েছে সে কথা লিন্ডার জানা।
স্নোন বলল প্রফেসরদের এয়ার ক্রাফট সে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়। তারপর প্লেনের খানিক ধ্বংসাবশেষ নিয়ে আকাশ পথে ফিরে যায় অরিজিনাল রুটে, যে কোর্স ধরে প্রফেসরদের যাবার কথা ছিল। ওখানে, সাগরের পানিতে প্লেনের ধ্বংসাবশেষ ফেলে দেয় স্নোন। অনুসন্ধানকারীরা ওই জিনিসগুলোই পরে খুঁজে পেয়েছে।
একদিন শয়তান স্নোন সত্যি সত্যি ব্রানস্টোন আর ডেভিসকে লিন্ডার ওপর লেলিয়ে দিল। ওরা পালা করে ওকে ধর্ষণ করল। জঘন্য কাজটাতে ওরা মজা পেয়েছে ঠিকই, তবে পুরো ব্যাপারটাই ঘটল স্নোনের উপস্থিতিতে। সে যেভাবে যেভাবে বলে দিল ওরা ঠিক সেভাবে ওর ওপর চড়াও হলো।
লিন্ডার ধারণা, স্নোন ওর শরীরে ফার্টিলিটি ড্রাগ পুশ করেছে। মাস দুয়েক পরেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়ল। স্নোন বেশ খুশি। মা হতে পারা প্রতিটি মেয়ের পরম সৌভাগ্যের বিষয়, কিন্তু লিন্ডা মোটেও সুখী হতে পারল না। কারণ জানে, কিছুদিনের মধ্যেই জনের মত ওকেও বরফের মধ্যে কবর দেয়া হবে, জীবত অবস্থা হবে ওর, গর্ভের সন্তানও হিমায়িত হয়ে রইবে।
ঘরের মধ্যে বন্দী অবস্থায় দিন কাটছিল লিন্ডার। সারাক্ষণই পালাবার চিন্তা করত। কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিল না। মরিয়া হয়ে একটা বুদ্ধি আঁটল। তবে বুদ্ধিটা কাজে লাগানোর জন্যে দুটো কাঠের টুকরো দরকার। জিনিস দুটো ল্যাবরেটরি থেকে একদিন লুকিয়ে নিয়েও এল। ওরা লিন্ডার কি একটা টেস্ট করতে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে গিয়েছিল, সেই সময়। একটা টুকরোর সাইজ কিউবিক ইঞ্চি, অন্যটা চেটাল, চওড়ায় ইঞ্চি তিনেক। কাঠের টুকরো দুটোর ওপর লুকিয়ে লুকিয়ে কিছু কাজ চালাল। আসলে দেয়াল আর মেঝেতে ঘষে ও দুটোকে আরও মসৃণ করে তুলল।
সেদিন সন্ধ্যার অনেক পরে ব্রানস্টোন এল ওকে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যেতে, আর ও কিসব টেস্ট করাবে।
চলো, আমার সাথে, দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বলল সে, তারপর লিন্ডা পিছু পিছু। আসছে কিনা সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে ল্যাবরেটরির দিকে হাঁটা দিল।
দরজায় বাইরে থেকে ইয়েল লক লাগানোর ব্যবস্থা আছে, কী-হোলসহ। ভেতরের মেকানিজম নষ্ট। ঘর থেকে বেরুবার সময় কাঠের ছোট টুকরোটা গর্তের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল লিভা, এর ফলে দরজা বন্ধ করার সময় লকটা স্বাভাবিকভাবে উচু হয়ে থাকবে। ব্রানস্টোন এদিকে তাকাল না দেখে মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সে : কাঠের টুকরোটা শক্তভাবে লাগানো হয়েছে, সহসা পড়ে যাবার সম্ভাবনা নেই।
শ্রেন তার ল্যাবরেটরিতে মিনিট কয়েক পরীক্ষা করল লিন্ডাকে, কাজ শেষ করে ব্রানস্টোনের দিকে ঘুরল। ঠিক আছে, আমি লিস্ট তৈরি করছি। তুমি ডোভসকে বলো গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করতে। মেয়েটাকে ওর ঘরে নিয়ে যাও, তারপর তোমার কাজে যেয়ো! তোমরা ফিরে এলে, মাঝ রাত্তিরে কাজ শুরু করব।
স্নোন চলে গেল বরাবরের মত লিভার দিকে একবারও না তাকিয়ে। লিন্ডা কার্ডিগানটা গায়ে জড়িয়ে নিল, চেয়ে চেয়ে দেখল ব্রানস্টোন। তারপর নিয়ে চলল ওর ঘরে।
লিন্ডাকে ঘরে ঢুকিয়ে ব্রানস্টোন দরজা বন্ধ করছে, বিদ্যুৎগতিতে কাঠের গোঁজটা তালার নিচে, ফাঁকা জায়গাটাতে ঢুকিয়ে দিল, চেপে রাখল সর্বশক্তি দিয়ে। একটু পরেই শুনল ব্রানস্টোন চলে যাচ্ছে, জুতোর আওয়াজ উঠল মেঝেতে। আগে ভালভাবে দেখে যেত সে ঠিকঠাক তালা মারা হয়েছে কিনা। ইদানীং তেমন দেখে না। হতে পারে সে ভেবেছে লিন্ডা পালাবে না। আর পালালেও কোন লাভ হবে না। দুর্গম এই অঞ্চলের পথ-ঘাট তো আর সে চেনে না।
