আপনি কি আমাকে আজ দুপুরে খেতে দেখেছেন?
না, তা দেখিনি।
আমারও আজ দুপুরে খাওয়া হয়নি। কাছেই সার্দান অ্যাভনিউয়ে একটা ভালো চিনে রেস্তোরাঁ আছে। যাবেন নাকি?
এটা কি আরও একটা ষড়যন্ত্র?
খিদের মধ্যে ষড়যন্ত্রের কী আছে বলুন। আপনি আমার ওপর একটু ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন, তাই আমার খুব ইচ্ছে করছে আপনাকে কিছু খাওয়াই। চাইনিজ তো আপনি ভালোই বাসেন।
না মশাই, আমার অ্যাপেটাইট নেই। ধন্যবাদ।
প্রেমে পড়লে দুরকম হতে পারে। কারও খুব খিদে হয়, আবার কারও একদম খিদে থাকে। দুটোই এক্সট্রিম।
কিন্তু আমি প্রেমে পড়িনি তো!
দেশবন্ধু পার্কে রোজ সকালে যে স্বপ্নের মতো একটা মেয়ে ঘুরে বেড়ায়, তার দিকে কি আপনি খুব হতাশ চোখে চেয়ে থাকেন না?
অ্যাঁ!
আহা লজ্জা পাওয়ার কী আছে বলুন তো! আপনি তো আপনার প্রিয় বন্ধুদের বলেইছেন যে ওই স্বপ্নের মতো মেয়েটি এতটাই স্বপ্নের মতো যে, আপনি আজ অবধি তার সঙ্গে ভরসা করে। কথাটাও বলে উঠতে পারেননি। আর যতই তাকে দেখেছেন ততই মেয়েটিকে আরও অধরা মনে হচ্ছে। আপনার নাকি ধারণা হয়েছে মেয়েটি রিয়াল নয়।
ইয়ে…দেখুন…এসব…
ঘাবড়ানোর মতো কিছু তো নয়। এরকম তো হতেই পারে। প্রেমে পড়লে অনেক সময় আত্মবিশ্বাস কমে যেতে থাকে। কত কী মনে হয়। মনে হয়, আমি তো কুচ্ছিৎ, আমি তো আনস্মার্ট, আমি তো ভিতু, আমি তো মোটেই ওর যোগ্য নই, আমাকে নিশ্চয়ই পাত্তা দেবে না। হয় না বলুন!
ইয়ে, মানে আমি…
আহা, আরও একটু ধৈর্য ধরে শুনুন না।
আপনি এসব কী করে…
ওটা কোনও কথা নয়। ঘটনাটা সত্যি কি না সেটাই আসল কথা। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন নাকি?
হ্যাঁ। আসলে ও মেয়েটা সত্যিকারের রক্তমাংসের মানুষ নয়।
তাহলে তো চিমটি কেটে দেখতে হয়।
ছিঃ, কী যে বলেন! কিন্তু আপনি কী করে এসব…?
রবার্ট ব্লেক এজেন্সির নাম শুনেছেন?
রবার্ট ব্লেক এজেন্সি? না তো! তারা কারা?
একটা প্রাইভেট গোয়েন্দা সংস্থা।
ও বাবাঃ হঠাৎ তাদের কথা কেন?
আপনার সম্পর্কে গত এক মাসে তারাই সব তথ্য সংগ্রহ করেছে।
ও বাবা! কেন?
গূঢ় কারণ আছে যে!
কী কারণ?
ওই মেয়েটিই।
ওই মেয়েটি। কেন, সে কি আমাকে পুলিশে দিতে চায়? কিন্তু শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমি তো আর কোনও অসভ্যতা করিনি! তা ছাড়া, আমি ড্যাবড্যাব করেও তো চেয়ে থাকি না। খুবই বিশুদ্ধ চোখে তাকে আলতোভাবে দেখি। হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন, আমি খুব হতাশা নিয়েই চেয়ে থাকি। কারণ, তাকে আমার মর্তের মানবী বলেই মনে হয় না। কিন্তু আমি তাকে কখনও ডিস্টার্ব করিনি।
করেছেন বইকি! ডিস্টার্ব না করলে এত জলঘোলা করার দরকারই হত না।
তাহলে ঠিকই ধরেছিলাম। আপনি পুলিশের লোক।
আমি কথাটা অস্বীকার করছিনা।
মেয়েটি কি আমার নামেই অভিযোগ করেছে?
আপনার নামেই।
আর কেউ নয় তো! মানে অনেক দুষ্টু লোক তো থাকে, সুন্দর মেয়েদের পিছনে লাগে। ওরকম কারও সঙ্গে আমাকে গুলিয়ে ফেলেনি তো!
না। লম্বা, ফরসা, হ্যান্ডসাম, বাঁ-গালে আঁচিল। আপনিই।
বুঝেছি। আমাকে অ্যারেস্ট করার আগে আমি আপনাকে একটা অনুরোধ করতে পারি কি?
পারেন।
আমাকে দয়া করে ইভ টিজার হিসেবে অ্যারেস্ট করবেন না। সেটা লজ্জার ব্যাপার হবে। আমাদের পরিবারটি সম্ভ্রান্ত, তাদেরও মান থাকবে না। দয়া করে আমাকে একজন উগ্রপন্থী বা তোলাবাজ বা সাট্টা ডন যা খুশি অভিযোগে গ্রেফতার করুন। ইভ টিজারের চেয়ে এসবও বরং ভালো।
তার মানে আপনি ইভ টিজিং-এর মতো পেটি ক্রাইমের আসামি হতে চান না! কিন্তু অভিযোগ করলেই তো হবে না। অভিযোগ প্রমাণ হবে কীসে?
আমি অভিযোগ স্বীকার করে নেব।
ও বাবা! আপনি তো ডেনজারাস লোক মশাই!
বিশ্বাস করুন, ইভ টিজার হিসেবে আমাকে আদালতে তুললে আমার মা বাবা আমার আর মুখদর্শন করবে না। মেয়েটা হয়তো আমাকে খানিকটা শাস্তি দিতে চায়। তা যে কোনও অভিযোগে আমি কিছুদিন জেল খাটলেই তো হল! কী বলেন?
কথাটা ভেবে দেখতে হবে।
পুলিশ তো ঘুষটুষ খায়, তাই না? এ বাবদে না হয় আমি দু-পাঁচ হাজার টাকা দেব।
বলছেন?
বলছি বলে কিছু মনে করবেন না যেন। খারাপ ভেবে বলিনি। চাইনিজ খেতে চাইছিলেন, চলুন আজ আপনাকে আমিই না হয় খাওয়াচ্ছি।
সেটা কি খুবই খারাপ দেখাবে না? আমি বয়সে বড়, সম্পর্কেও বড়।
বয়সে বড় মানছি। কিন্তু সম্পর্কেও বড়টা বুঝতে পারলাম না। তা সে না হয় না-ই বা বুঝলাম। চলুন, যাওয়া যাক।
আরে মশাই, ব্যস্ত হচ্ছেন কেন? কথাটা আগে খোলসা হোক।
বেশ খোলসা হোক। আপনি কত চান?
সেটা পরে ঠিক করা যাবে। তার আগে আজকের চাইনিজ ডিনারের দামটা কার দেওয়া উচিত সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার।
আমিই দেব।
সেটা যে হয় না।
কেন হয় না?
তাহলে একটু ব্যাকগ্রাউন্ডটা যে আপনার জানা দরকার।
ওর আর ব্যাকগ্রাউন্ড কী?
আছে মশাই। ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে ভোরবেলার দেশবন্ধু পার্ক। সেখানে আপনি একখানা বেঞ্চে বসে থাকেন আর সামনে একটা স্বপ্নের মেয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাই তো?
আজ্ঞে হ্যাঁ।
আপনি বলছেন মেয়েটাকে আপনি ডিস্টার্ব করেন না!
আজ্ঞে না।
অথচ মেয়েটা বলছে আপনি ওকে রীতিমতো ডিস্টার্ব করছেন।
যে আজ্ঞে।
ডিস্টার্ব করা বলতে আপনি কী বোঝেন?
পিছু নেওয়া, সিটি দেওয়া, ফলো করা, মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া। চিঠিচাপাটি পাঠানো। এইসব আর কি।
