–তুমি মৃত্যু-সায়রে নামবে নাকি? স্তিফানো ঠাট্টার সুরে বলল।
-আমি অত সহজে মৃত্যু মেনে নিতে রাজী নই। যাহোক মৃত্যু–সায়র তো দেখতে হবেই। ফ্রান্সিস বলল।
-কেউ ওর ত্রিসীমানায় যায় না। রাজা বললেন।
–আমরা সাবধানে দেখবো। ফ্রান্সিস বলল।
যাহোক–একটা মজার খবর পেলাম। স্তিফানো বলল।
–কী খবর? ফ্রান্সিস বলল।
–তোমাদের এক বন্ধু নাকি এক এদেশী মেয়ে বিয়ে করেছে? স্তিফানো বলল।
–হ্যাঁ। মানুষের মন বিশেষ করে যুবকের মন। ফ্রান্সিস বলল।
–সে কি? এই বিদেশে পড়ে থাকবে? রাজা বেশ অবাক হয়ে বললেন।
–তোমার বন্ধুকে এলুডার সর্দার করে দাও। ঠাট্টার সুরে স্তিফানো বলল।
–সে তার যোগ্যতায় যদি সর্দার হতে পারে হবে যেমন আপনি এখানকার মন্ত্রী হয়েছেন। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
স্তিফানো আর কিছু বলতে পারল না। মুখের মত জবাব ফ্রান্সিসের।
-যা হোক–আশা করি তোমরা সফল হবে। রাজা বললেন।
–দেখবো চেষ্টা করে। মাননীয় রাজা–কালকে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে আপনার বাড়ির অন্দরমহল গর্ভগৃহ দেখতে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ এসো। রাজা বললেন।
ফ্রান্সিস আর হ্যারি ফিরে এল। মারিয়া এগিয়ে এল। বলল–রাজার সঙ্গে কী কথা হল তোমাদের? ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে সব বলল। মারিয়া বলল–সেই মৃত্যুসায়র তাহলে ঐ লুভিনা পাহাড়েই আছে?
–হ্যাঁ সব দেখতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আমিও তোমাদের সঙ্গে যাবো। মারিয়া বলল।
–বেশ। যেও। ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করে বলল।
–এখন কী করবে? হ্যারি জানতে চাইল।
–দেরি করবো না। দুপুরেই চলো। আগে বনাঞ্চলটা দেখে আসি। ফ্রান্সিস বলল।
বনাঞ্চলটা দেখবে কেন? হ্যারি বলল।
রাজা প্রোফেন বলেছিল অতীতের রাজা মুণ্ডাকিম কখনও কখনও একা একা ঐ বনে লুভিনা পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতেন। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। উনি খেয়ালি রাজা ছিলেন। হ্যারি বলল।
ব্যাপারটার গুরুত্ব আছে। কেন একা একা ঘুরে বেড়াতেন? কোন উদ্দেশ্যই কি তার ছিল না? ফ্রান্সিস বলল।
-কী উদ্দেশে ঘুরে বেড়াতেন? হ্যারি বলল।
–সেটাই জানতে হবে। তাই প্রথমে বনভূমিটা দেখবো। দুপুরের খাওয়া সেরে তৈরি হয়ে নিও। ফ্রান্সিস বলল।
দুপুর হল। খাওয়াদাওয়া শেষ।
হ্যারি শাঙ্কো মারিয়াকে নিয়ে ফ্রান্সিস প্রান্তরে নামল। প্রান্তর পার হচ্ছে তখনই দেখল সেনাপতি ছুটে আসছে ওদের দিকে। ফ্রান্সিসরা দাঁড়িয়ে পড়ল। কাছে এসে সেনাপতি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল–তোমরা কোথায় যাচ্ছো?
–ওপারের বনে। হ্যারি বলল।
–কেন? সেনাপতি জিজ্ঞেস করল।
–দেখি গুপ্ত ধনভান্ডারের কোন হদিশ করতে পারি কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু কথা ছিল গুপ্ত ধনভান্ডার খোঁজার সময় আমাকে সঙ্গে রাখতে হবে। সেনাপতি বলল।
–হ্যাঁ। চলুন তাহলে। ফ্রান্সিস বলল।
সবাই জেলেপাড়ার ঘাটের দিকে চলল। দু’টো নৌকোয় চড়ে খাঁড়ি পার হল। বনের মধ্যে ঢুকল। খুব গভীর বন নয়। ফ্রান্সিসরা বনে ঘুরে বেড়াতে লাগল। ফ্রান্সিস তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চারদিক দেখতে লাগল। গাছগাছালি লতা ফুল। ঘুরতে ঘুরতে সার্ভো আর বন্ধুর কবরের কাছে এল। ফ্রান্সিস হাত তুলে সবাইকে দাঁড় করালো। তারপর ফুলে ঢাকা গাছটা থেকে ফুল পাড়ল। কবরের ওপর ছড়িয়ে দিল। হ্যারিরাও এদিক ওদিক থেকে ফুল তুলে এনে কবরের ওপর ছড়িয়ে দিল।
সারা বনেই ফ্রান্সিসরা ঘুরে বেড়াল। কিন্তু গুপ্ত ধনভান্ডারের হদিশ পাওয়া যায় এমন কিছু পেল না। একটা কালো রোমশ ভালুকের দেখা পেয়েছিল। তবে ভালুকটা ওদের আক্রমণ করেনি। দেখা দিয়েই বনের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছিল।
বেশ ক্লান্ত হয়েই ফ্রান্সিসরা খাঁড়ির ঘাটে এল। নৌকোয় উঠতে উঠতে সেনাপতি মন্তব্য করল–ঘোরাই সার।
–হ্যাঁ। তবু সবকিছুই দেখতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিসরা যখন প্রান্তর পার হয়ে ওদের ঘরে ফিরল তখন বিকেল হয়ে গেছে।
ফ্রান্সিস বিছানায় শুয়ে পড়ল। হ্যারি এসে পাশে বসল। বলল–ঐ বনে তো কিছু হদিশ করা গেল না।
–না–এবার বাকি জায়গাগুলো দেখবো।
তখনই সেনাপতি এসে দরজায় দাঁড়াল। হেসে বলল–ভূতের বেগার খাটছেন। ফ্রান্সিস সে কথার কোন জবাব না দিয়ে বলল–আপনার সঙ্গে লোক দিচ্ছি। তিনটে মশাল পাঠিয়ে দেবেন।
–মশাল নিয়ে কী করবে? সেনাপতি বলল।
রাজবাড়িতে তল্লাশী চালাবো। ফ্রান্সিস বলল।
এবার তাহলে রাজবাড়ি। সেনাপতি হেসে বলল।
-হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল।
–গুপ্তধন উদ্ধারের আশা ছেড়ে দাও। সেনাপতি হেসে বলল।
–সে যখন আশা ছাড়ার ছাড়বো। ফ্রান্সিস বলল।
যাকগে–তোমাদের বেগার খাটার সঙ্গী হবনা আর। দু’জন যোদ্ধাকে দেব। তারাই তোমাদের ওপর নজর রাখবে যাতে তোমরা পালাতে না পারো। সেনাপতি বলল।
–বেশ তো। ওদের হাতেই মশাল পাঠিয়ে দিন। হ্যারি বলল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ বলিষ্ঠদু’জন যোদ্ধা মশাল নিয়ে এল। শাঙ্কো মশালগুলো নিল।
ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। বলল–হ্যারি তুমি থাকো। অন্দরমহলেই যাবো। তাই মারিয়াকে সঙ্গে নিচ্ছি। শুধু শাঙ্কোকে নিয়ে যাচ্ছি। হ্যারি কিছু বলল না।
যোদ্ধা দু’জনের পেছনে পেছনে ফ্রান্সিসরা রাজবাড়ির দিকে চলল। বর্শা হাতে প্রহরী দরজা ছেড়ে দিল। মন্ত্রণাকক্ষের পাশ দিয়ে ফ্রান্সিসরা অন্দরমহলে ঢুকল। ফ্রান্সিস যোদ্ধা দু’জনকে বলল–তোমরা অন্দরমহলে যেতে পারবে না। এখানে থেকেই আমাদের ওপর নজর রাখো।
