–পরের ঘটনা বলল। শাঙ্কো বলল।
এবার স্তিফানোর নজর পড়ল আমার ওপর। স্তিফানের আসল পরিচয় একমাত্র আমিই জানি। আমার ওপর রাজাকে বিরূপ করে তুলল। বলল–এক, আমি বিদেশী। দুই আমি জলদস্যু ছিলাম। অনেক নিরীহ মানুষ হত্যা করেছি। স্তিফানের পরামর্শে রাজা আমাকে কয়েদঘরে বন্দী করলেন। সার্ভো থামল।
–আমার মনে হয় রাজা বাধ্য হয়ে তোমাকে বন্দী করেছেন। শাঙ্কো বলল।
–ঠিক তাই। তবে রাজা আমাকে দেশত্যাগ করার শাস্তি দিতে পারতেন। তাহলে এই। কয়েদঘরে আমাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হত না। সার্ভো বলল।
–ঠিক আছে। ভাই সার্ভো–পরে কথা হবে। শাঙ্কো বলল।
তারপর ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল ফ্রান্সিস–তোমার অনুমানই ঠিক। স্তিফানো জলদস্যুদের দলে ছিল। সার্ভোকে দেখিয়ে বলল
–ও সার্ভো। ও নিজেও সেই জলদস্যুদের দলে ছিল। তারপর শাঙ্কো আস্তে আস্তে সার্ভোর কাছে যা শুনেছে সব বলল। সব শুনে ফ্রান্সিস বলল
–স্তিফানোকে দেখে ওর সঙ্গে কথা বলেই বুঝেছি ও সাংঘাতিক মানুষ।
সার্ভোকে যে এতদিনে মেরে ফেলেনি এটা সার্ভোর সৌভাগ্য। তারপর ফ্রান্সিস একটু ভেবে নিয়ে বলল–দেখবে–স্তিফানো সার্ভোকে এখান থেকে সরাবে।
-কেন? শাঙ্কো বলল।
–কারণ স্তিফানো জানে ওর আসল পরিচয় জানে একমাত্র সার্ভো। এখন এই ঘরেই ও আছে। আমরাও আছি। ও নিশ্চয়ই কথাপ্রসঙ্গে স্তিফানোর আসল পরিচয় আমাদের কাছে বলবে। এটা স্তিফানো চাইবে না। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে বলল।
ফ্রান্সিসের অনুমান যে সঠিক সেটা কিছুক্ষণ পরেই বোঝা গেল। একজন প্রহরী লোহার দরজায় ঢং ঢং শব্দ করে বলল–সার্ভো–তুমি বেরিয়ে এসো।
-কেন? বেশ তো আছি। সার্ভো বলল।
–না। মন্ত্রীর আদেশ–তুমি অন্য জায়গায় থাকবে। প্রহরী বলল।
–না। আমি অন্য কোথাও যাবো না। সার্ভো মাথা নেড়ে বলল।
–মন্ত্রীমশাই ডেকেছেন। তোমাকে যেতেই হবে। প্রহরী চেঁচিয়ে বলল।
ফ্রান্সিস বলে উঠল–মন্ত্রীমশাইকে এখানে আসতে বলো।
–কী বলছো? মন্ত্রীমশাই এলে তোমাদের দুজনেরই প্রাণ যাবে। প্রহরী বলল।
–ঠিক আছে। তুমি গিয়ে বলো তো। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। তোমাদের মরতে হবে। প্রহরী বলল। তারপর চলে গেল।
শাঙ্কো বলল–এটা কি ভালো হল? স্তিফানো চটে গেলে আমাদের বিপদই বাড়বে।
–আমি নিশ্চিত স্তিফানো সার্ভোকে মেরে ফেলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–ওদের ব্যাপার ওরা বুঝুক। সিনাত্রা বলল।
–তা হয় না। একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করবে–এটা নির্দ্বিধায় মেনে নেবো? ফ্রান্সিস বলল।
-তুমি সার্ভোকে বাঁচাতে পারবে? শাঙ্কো বলল।
–এখানে থাকলে ওর জীবন বিপন্ন হবে না। ফ্রান্সিস বলল।
অল্পক্ষণের মধ্যেই স্তিফানো এসে হাজির। ঢং ঢং শব্দে দরজা খুলে গেল। স্তিফান কয়েদঘরে ঢুকল।
সার্ভো–স্তিফানো প্রায় গর্জন করে উঠল–তোমার এত সাহস আমার হুকুম অমান্য করো।
সার্ভো ভয়ে কুকঁড়ে গেল। ভীতস্বরে বলল–আমি তো যেতেই চেয়েছিলাম। ফ্রান্সিসসকে দেখিয়ে বলল–ও আমাকে যেতে দিল না। ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে স্তিফানো বলল–তুমি সার্ভোকে যেতে দাও নি?
–হ্যাঁ। ও এখানেই থাকবে। ফ্রান্সিস শান্তভঙ্গীতে বলল।
সার্ভো আমার সম্পর্কে তোমাদের কিছু বলেছে? স্তিফানো জানতে চাইল।
—হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল।
কী বলেছে? স্তিফানো বলল।
–বলেছে–ও আর আপনি একসঙ্গে এক জলদস্যুর দলে ছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
–মিথ্যে কথা। স্তিফানো বলল।
–আমি সত্যি কথাটাই বললাম। ফ্রান্সিস বলল।
কথাটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তিফোনো তরোয়াল কোষমুক্ত করল। দাঁত চাপাস্বরে বলল–এই পাহারাদারদের সামনে আমাকে অপমান করছো। জানো তোমাদের দু’জনকে এক্ষণি আমি হত্যা করতে পারি।
–নিশ্চয়ই পারেন। আমরা নিরস্ত্র। ফ্রান্সিস বলল।
–অস্ত্র থাকলে কী করতে। স্তিফানো বলল।
বাঁচবার চেষ্টা করতাম। ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ। তোমাকে তরোয়াল দেওয়া হবে। আমি তোমাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করছি। স্তিফানো দাঁতচাপাস্বরে বলল।
–মিছিমিছি লড়াই–ফ্রান্সিসের কথা শেষ হতে দিল না।
কাপুরুষ। স্তিফানো সেঁতো হাসি হেসে বলে উঠল।
–ঠিকআছে। আমি রাজি। ফ্রান্সিস বলল।
–কাল সকালে তোমাকে ডাকা হবে। স্তিফানো বলল।
–বেশ তবে লড়াইয়ের জায়গায় আমার বন্ধুরা আর সাভো থাকবে। ফ্রান্সিস বলল।
–হুঁ। পাহারায় থাকতে হবে। স্তিফানো কটমট করে একবার সার্ভোর দিকে তাকিয়ে কথাটা বলল। তরোয়াল কোষবদ্ধ করল। তারপর চলে গেল। শাঙ্কো বলল
ফ্রান্সিস–এটা কী করলে? স্তিফান তোমাকে হত্যা করবে। তারপর সার্ভোকেও– শাঙ্কোর কথা শেষ হল না। ফ্রান্সিস বলল–
–জানি। জেনেশুনেই আমি রাজি হয়েছি। শোন–স্তিফানোকে তরোয়াল চালাতে দেখেছি। আক্রমন করার সময় ও বাঁদিকটা অরক্ষিত রাখে। ওখান দিয়েই আমি আক্রমন করবো। ফ্রান্সিস বলল।
রাতে খেতে বসে সার্ভো ফ্রান্সিসকেবলল
–ভাই–তুমি আমার জন্যে তোমার জীবন বিপন্ন করছো। ফ্রান্সিস মৃদু হেসে। সার্ভোর পিঠ চাপড়াল।
জানো না স্তিফানো কত বড় যোদ্ধা! তরোয়ালের লড়াইয়ে ওকে কখনও হারতে দেখিনি। সার্ভো বলল।
–দেখা যাক। ফ্রান্সিস খেতে খেতে মাথা ওঠা নামা করল।
পরদিন সকালের খাবার দিতে এসে প্রহরী বলল–
–খেয়ে দেয়ে তৈরী হয়ে নাও। তোমাদের সবাইকে যেতে হবে।
প্রান্তরের একপাশে সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। তার নীচে একটা কাঠের আসন পাতা হয়েছে। দ্বন্দ্বযুদ্ধের খবর রটে গেছে। দলে দলে লোক ভিড় করল। যোদ্ধারাও ভিড় করল এসে।
