কী হুকুম? সর্দার জিগ্যেস করল।
গুপ্তধনের সন্ধান করতে আমরা যে কোনো জায়গায় যখন খুশি যেতে পারব। এটা রাজার হুকুম। ফ্রান্সিস বলল।
অদ্ভুত হুকুম। সর্দার বলল।
হ্যাঁ, একটু অদ্ভুতই। পথ ছাড়ো।
সেনাপতির কাছে লোক পাঠাচ্ছি সেনাপতির হুকুম জানতে। সর্দার প্রহরী বলল।
বেশ। মিছিমিছি দেরি হবে এই আর কি। ফ্রান্সিস হতাশার ভঙ্গি করে বলল।
একজন প্রহরী বর্শা হাতে ছুটে গেল। কিছু পরে তাকে দেখা গেল মাঠের ওপার দিয়ে ছুটে আসছে। সর্দার প্রহরীর কাছে এসে সে হাঁপাতে লাগল। বলল, সেনাপতি বলেছেন, এঁরা যেখানে খুশি যেতে পারেন। আর আমরা যেন এঁদের সাহায্য করি।
ঠিক আছে। আপনি যান। সর্দার বলল।
ফ্রান্সিস বন্ধুদের বলল, প্রথমে আমি আর বিস্কো যাবো। তোমরা এখানেই থাকো। ফ্রান্সিস-বিস্কো পাথরের দরজার দিকে চলল।
পিরেল্লো ছুটে এসে বললেন, আমাকেও নিয়ে চলুন।
না, আপনি যাবেন না। শাঙ্কো বলল।
কেন যাব না? এ দেশ আমাদের। দেশের ভালো-মন্দ তো আমরাই দেখবো। আপনারা তো বিদেশী। পিরেল্লো উত্তর দিলেন।
ফ্রান্সিস ঢোকার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ল। বলল, ঠিক আছে। আপনারাই যান। রাজা হানমের গুপ্ত ধনসম্পদ খুঁজে বের করুন।
আমরা পারব না। আপনারা পারবেন। গুপ্তধন পেলে আপনারা সেটা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। পিরেল্লা বললেন।
সেটা দেখার জন্যে এই প্রহরীরা আছে। রাজা আছেন। ফ্রান্সিস বলল।
না। রাতের অন্ধকারে আপনারা সব মূল্যবান গুপ্তধন নিয়ে পালাবেন। পিরেল্লো বললেন।
ঠিক আছে। আপনার যখন এরকম সন্দেহ, আসুন আমাদের সঙ্গে। শুধু একটা কারণে আপনাকে সঙ্গে নিচ্ছি। রাজা হানমের ছড়াটা আপনি আমাদের দেখিয়েছেন। এতে গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজতে সুবিধে হবে। চলুন। ফ্রান্সিস বলল।
পাথরে রদরজার পাশে লোহার আংটায় আটকানো দুটো মশাল বিস্কো নিল। পিবেল্লো বললেন, একটা আমাকে দিন। বিস্কো ফ্রান্সিসের দিকে তাকাল। ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
চকমকি পাথর ঠুকে আগুন জ্বালিয়ে শাঙ্কো দুটো মশাল ধরাল। ফ্রান্সিস বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইসব, তোমরা অপেক্ষা কর। অধৈর্য হয়ো না।
শাঙ্কো একটা মশাল নিল। পিরেল্লো অন্যটা। সিঁড়ি দিয়ে ওরা নামতে লাগল। বেশ গরম লাগছে। তিনজনই ঘামছে।
সিঁড়ি শেষ। একটা পাথরের মেঝে। ফ্রান্সিস মশালের আলোয় চারদিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। দেখতে-দেখতে ছড়াটা ও আওড়াতে লাগল।
ছোট্ট সাজের ঘরে
রেখেছি বড় আদরে।
ধনসম্পদ কার তরে?
বুদ্ধিমান উদ্ধার করে
বোকারা হা-হুতাশ করে।
ফ্রান্সিস বলল, কী পিরেল্লো! ঠিক বলেছি।
হ্যাঁ। আশ্চর্য। আপনি ছড়াটা একবার দেখেই মুখস্থ করে ফেলেছেন।
ফ্রান্সিস কিছু বলল না। দেওয়ালগুলো খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। বেদীর মতো টানা পাথরের উপর ফুলপাতা।
ফ্রান্সিস পিরেল্লোকে বলল, এই বেদীটা কি বরাবর আছে নাকি আপনারা গেঁথে ছিলেন?
না। এই বেদী আমরা বরাবর এইরকমই দেখে আসছি।
হু। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল। তারপর পাথরের জোড়াগুলো খুব ভালো করে দেখতে লাগল। নাঃ, কোনো আলগা জোড়া নেই।
এবার ফ্রান্সিস পেছনের সাজঘরে ঢুকল। দেবতাদের পোশাকএকটা লম্ফটে পাথুরে পাটাতনের ওপর জড়ো করা। ফ্রান্সিস চারপাশে তাকিয়ে দেখল। পাথরের দেওয়াল। এবড়ো-খেবড়ো। শুধু দেবতাদের পোশাক যে পাথুরে পাটাতনের ওপর রাখা সেই, পাটাতনটা মসৃণ পাথরের।
ফ্রান্সিস ভাবতে লাগল কোথায় থাকতে পারে রাজী হানমের গুপ্ত ধনভাণ্ডার। ফ্রান্সিস বলল, পিরেল্লো–দেবতাদের পোশাক এখানেই থাকে।
হা। বছর অন্তর-অন্তর পুরোনো পোশাক খুলে ফেলে দেবতাদের নতুন সাজপোশাক পরানো হয়।
পুরোনো পোশাকগুলো ফেলে দেওয়া হয়? ফ্রান্সিস বলল।
না। সে-সব পোশাক রাজ্যের ধনীরা কিনে নেয়। খুব পবিত্র সেই পোশাকগুলো। পিরেল্লো বললেন।
এত পোশাক জমে আছে কেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
এখনও বিক্রি করার সময় আসেনি। পিরেল্লো বললেন।
ফ্রান্সিস পাথুরের পাটাতনে রাখা সাজপোশাক দেখতে লাগল। একটা পাটাতনে কুঁদে কুঁদে গোল দাগ তোলা হয়েছে। এর নীচে কী আছে? এখানে পাথুরে পাটাতনটা কি ফাঁপা? নীচে কিছু আছে? বিস্কোকে ডাকল। মশালটা বিস্কোর হাতে ছিল। বলল, মশালটা নিচু কর।
বিস্কো মশলাটা নীচু করে ধরল। ফ্রান্সিস গোল দাগটা ভালো করে দেখল।
বিস্কো মশাল হাতে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। একটু দ্রুতই পা ফেলে উঠতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিঁড়ি শেষ। বাইরে বেরিয়ে দেখল উজ্জ্বল জ্যোৎস্না। চারদিক বেশ ভালোভাবেই দেখা যাচ্ছে। বন্ধুদের দেখল মাঠটায় বসে আছে। দুজন ভাইকিং বন্ধু এগিয়ে এল। বলল, কী খবর বল।
ফ্রান্সিস খুব সম্ভব হদিস পেয়েছে।
তাহলে মনে হচ্ছে ফ্রান্সিস রহস্যের সমাধান করেছে। বন্ধুটি বলল।
তাই তো মনে হচ্ছে। বিস্কো বলল।
বিস্কো নিজেদের আস্তানায় চলল।
ওদিকে পিরেল্লো সর্বক্ষণ ফ্রান্সিসকে লক্ষ্য করে যাচ্ছেন। এতে ফ্রান্সিস বেশ অস্বস্তি বোধ করছিল। কিন্তু উপায় নেই।
এবার পিরেল্লো এগিয়ে এলেন, বললেন, কোনো হদিস পেলেন?
না। তবে চেষ্টা করছি। ফ্রান্সিস বলল।
মিথ্যে কথা। আপনি গুপ্তধনের হদিস পেয়েছেন।
না। হদিস পাইনি এখনও। তবে কিছুটা আন্দাজ করেছি। ফ্রান্সিস বলল।
তবে সেটা বলুন। পিরেল্লো বললেন।
