দলপতি দ্রুত একটা মূর্তি তুলে নিল। মূর্তিটার পোশাক খুলে ফেলল। বিমুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল মূর্তিটার দিকে। তারপর হো হো করে হেসে উঠল। চারপাশেদাঁড়ানো যোদ্ধারাও হাসল। দলপতি যোদ্ধাটিকে বলল ক’টা মূর্তি আছেদ্যাখতো। যোদ্ধাটি গুণে গুণে বলল
–সাতটা।
–আমার কাঠের সিন্দুকে রেখে আয়। দলপতি বলল।
–আজ্ঞে চাবি? যোদ্ধাটি বলল।
–ওটা খোলাই থাকে। যোদ্ধাটি চলে গেল।
দলপতি এবার ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে বলল–তোমরা দুজনেই মিথ্যে বলেছে। তোমাদের কয়েদ করবো।
–আমি মিথ্যে বলেছিলাম আপনার শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে। শাঙ্কো বলল।
–আমাকেও বন্দী থাকতে হবে? পিরেল্লো বলল।
–হ্যাঁ আপনিও। দলপতি বলল।
দলপতি পাহারাদারদের বলল–যা, এই চারজনকেই কয়েদঘরে বন্দী করে রাখ।
কয়েদঘরে বন্দী হওয়ার মতো কোন কাজ করিনি। ফ্রান্সিস বলল।
–সে সব বিচার পরে হবে। দলপতি বলল। শাঙ্কো কিছুটা এগিয়ে এসে বলল– মর্তিগুলো তো নিলেন। মূর্তিদের পোশাকগুলো আমাকে দিন।
বেশ। দলপতি একজন যোদ্ধাকে ডাকল। বলল–ঐ পোশাকের বোঁচকাটা একে দে।
যোদ্ধাটি ডাঁই করে রাখা পোশাকগুলো শাঙ্কোকে দিল। কয়েকজন প্রহরী এগিয়ে এল ফ্রান্সিসদের দিকে। মাথা নেড়ে ইঙ্গিত করল ওদের সঙ্গে যাবার জন্যে। ফ্রান্সিসরা চলল কয়েদঘরের দিকে।
চারজনে কয়েদঘরে ঢুকল। প্রহরী বাইরে থেকে দরজার হুড়কোটা আটকে দিল।
ঘরে ঢুকেফ্রান্সিস টান টান হয়ে শুয়ে পড়ল। শুকনো লক্ষ্য লম্বা ঘাসের বিছানামতো। আর সবাই বসল। হ্যারি ডাকল–ফ্রান্সিস?
-বলো।
–এখন কী করবে? হ্যারি বলল।
–দলপতির মাথা কাটবো। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
–ইয়ার্কি করো না। কী করবে এখন তা ভেবেছো? হ্যারি বলল।
–ভাবছি। ভাবা এখনও শেষ হয়নি। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে তো অপেক্ষা করতে হবে। শাঙ্কো বলল।
–সে তো বটেই। ফ্রান্সিস পিরেল্লোর দিকে তাকাল। বলল পিরেল্লো আপনি কী বলেন?
–কোন ব্যাপারে? পিরেল্লো বলল।
এখান থেকে পালানোর ব্যাপারে ফ্রান্সিস বলল।
–অসম্ভব। এখান থেকে পালানো যাবে না। চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং সেটা বিপজ্জনক হবে। পালাতে গেলে ওরা বর্শা বুকে ঢুকিয়ে দেবে। কাজেই চুপ করে থাকুন। কী হয় দেখুন। তবে দেখে আর ভেবে কী হবে। পিরেল্লো বলল।
হবে। এরা কীভাবে পাহারা দেয়। কতজন একএকবার পাহারা দেয়। কেমন করে খেতে দেয় এসব দেখতে হবে। সব দেখে টেখে পালানোর উপায় ভাবতে হবে এবং সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখুন চেষ্টা করে। পিরেল্লো ঠোঁট উলটে বলল।
ফ্রান্সিস আর কোন কথা বলল না। হ্যারিও শুয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস চমকে উঠে বলল হ্যারি শরীর ভালো আছে তো?
-ঐ একটু–হ্যারি বলল।
–কী হয়েছে বলো। ফ্রান্সিস বলল।
শরীরটা একটু দুর্বল লাগছে। তোমরা আমার জন্যে ভেবো না। হ্যারি বলল।
–ওষুধটষুধ সঙ্গে রেখেছো তো? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ হ্যাঁ ভেন আমাকে ওষুধ দিয়ে রেখেছে।
–হ্যারি বলল।
–তাহলে সময়মতো ওষুধ খেও। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। একটু জল খাবো। হ্যারি একটু দুর্বল স্বরে বলল। শাঙ্কো সঙ্গে সঙ্গে ঘরটার কোনার দিকে গেল। মশালের আলো এতদূর ভালোভাবে এসে পৌঁছয়নি। শাঙ্কো কাঠের গ্লাসে জল নিয়ে এল। হ্যারি এক গ্লাস জল খেয়ে আবার চাইল। শাঙ্কো আবার জল নিয়ে এল। হ্যারি খেল। তারপর জোরে শ্বাস ফেলল।
শাঙ্কো নিজের জায়গায় এল।
হঠাৎ ফ্রান্সিস উঠে বসল। ডাকল শাঙ্কো। শাঙ্কো ওর দিকে তাকাল।
ফ্রান্সিস বলল–মূর্তিগুলো পরানো কাপড়চোপড়গুলো কোথায়?
–গ্রামপতির ঘরেই পড়ে আছে। আমি আনি নি। শাঙ্কো বলল।
-খুব ভুল করেছে। এখন ঐ টুকরো কাপড়গুলো খুব দরকার। ফ্রান্সিস ডাকল– পিরেল্লো। পিরেল্লো বললেন–বলুন।
দেবমূর্তিতে পরানো কাপড়গুলো কোথায় জানেন? ফ্রান্সিস বলল।
— গ্রামপতির ঘরে। পিরেল্লো বললেন।
এখন আপনি আর শাঙ্কো গ্রামপতির ঘরে যান। গিয়ে গ্রামপতিকে বুঝিয়েসুজিয়ে কাপড়গুলো নিয়ে আসুন। ফ্রান্সিস বলল।
পিরেল্লো উঠতে উঠতে বলল কাপড়গুলো কোথায় ফেলেই দিয়েছে কিনা কেজানে।
গিয়ে দেখুন তো। ফ্রান্সিস বলল।
পিরেল্লো দরজার কাছে এল। পেছনে শাঙ্কো। গাছের ডাল কেটে তৈরি দরজার কাছে এল। পিরেল্লো প্রহরীকে ডাকল। প্রহরী এল। পিরেল্লো কী বলল। একটু পরেই দরজা খুলে গেল। পিরেল্লো আরশাঙ্কো ঘর থেকে বেরিয়ে এল। দুজন যোদ্ধা ওদের দুপাশে দাঁড়াল। ওরা চলল গ্রামপতির ঘরের দিকে।
ঘরের সামনে এল দুজনে। গ্রামপতির ঘরের সামনে দুজন প্রহরী। হাতে বর্শা। পিরেল্লো : ওদের কী বলল। একজন ঘরের দরজার কাছে গেল। দরজায় শব্দ করল। ভেতর থেকে গম্ভীর গলা শোনা গেল। –কে? প্রহরীটি কিছু বলল। একটু পরে দরজা খুলে গেল। গ্রামপতি দরজার কাছে এল। বলল–এসে নিয়ে যাও। শাঙ্কো ছুটে ঘরে ঢুকল। মশালের আলোয় দেখল কাপড়গুলো ঘরের এক কোণায় স্তূপাকার করে রাখা। শাঙ্কো প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল ঐ কাপড়ের স্তূপের ওপর। দ্রুতহাতে কাপড়গুলো বের করতে লাগল আর কোমরে পাঁচাতে লাগল। গ্রামপতি দেখল সেটা। কিন্তু কিছু বলল না। যখন শেষ হল শাঙ্কোর কাছে তখন গ্রামপতি বলল–কী করবে এই কাটা কাপড় দিয়ে?
-খুবই পবিত্র এই পোষাক। যথাস্থানে কাপড়গুলো রেখে দেওয়া হবে। নতুন পোশাক পরানো হবে। সেই উপলক্ষে খুব আনন্দ উৎসব হয় ঐ দেশে। পিরেল্লো বলল।
