ফ্রান্সিস বলল–এবার সোনার ঘর খুঁজে বেরকর।
–কী মনে হয়? পারবে? হ্যারি বলল।
–কিছু সূত্র জানা নেই। যেমন পাঁচরিন্দেয় মাপকাঠিটা। দরজা জানালাহীন ঘরগুলো। ওখান থেকেই হদিস বার করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
সেদিন সন্ধেবেলা হ্যারি জাহাজে এসে ফ্রান্সিসের কাছে এল।
–কী ব্যাপার? তোমাকে বেশ চিন্তাগ্রস্ত দেখছি। ফ্রান্সিস বলল।
–চিন্তারই কথা ফ্রান্সিস আবার হিচকক আর ক্রীটের লড়াই। ক্রীটের রাজা বিদেশ থেকে বহু সৈন্য ভাড়া করে এনেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই হিচকক আক্রমণ করবে। হিচকক দ্বীপ জয় করবে।
–পারবে কী? ফ্রান্সিস বলল।
এবার মনে হয় পিরবো। শাঙ্কো বলল।
–দেখা যাক ফ্রান্সিস বলল।
দুদিন পরে গভীর রাতে ক্রীটের রাজা হিচকক দ্বীপ আক্রমণ করল। হাজার হাজার সৈন্য নিঃশব্দে ফালি সমুদ্র পার হয়ে আক্রমণ করল।
হিচককের সৈন্যরাও ঘুম ভেঙে ছুটল লড়াই করতে। লড়াই চলল। ক্রীটের সৈন্যরা সংখ্যায় অনেক বেশি। তারা হিচককের সৈন্যদের ঘিরে ফেলল।
হিচককের রাজা মামুন শয়নঘরে পায়চারি করছিলেন। মাঝে মাঝে দূতেরা এসে খবর দিয়ে যাচ্ছে। সেসব খবর সুখবর নয়। তিনি বুঝতে পারলেন লড়াইয়ে জিতবেন না। স্থির করলেন বন্দী হবেন না। আত্মগোপন করবেন।
একজন দূতকে ডাকলেন। বললেন–সমুদ্রতীরে যাও। দেখবে কিছু বিদেশী জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে। সেই জাহাজের ক্যাপ্টেনদের সঙ্গে কথা বলা চলল রাজা মানুন রানি ও পুত্রকন্যাসহ আশ্রয় চান। তারা আশ্রয় নিতে পারবেন কিনা।
দূত রাজপ্রাসাদের পেছনের গোপন দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। দেরি করার উপায় নেই। প্রায় ছুটে চলল সমুদ্রতীরের দিকে। প্রথমেই ফ্রান্সিসদের জাহাজটা পেল। জাহাজের সামনে এসেচিৎকার করে বলল–আপনাদের সঙ্গে কথাছিল। আমি জাহাজে উঠলে কথা বলবো।
ওদিকে লড়াই চলছে। তার চিৎকার হৈহুল্লায় ভাইকিংদের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। ওরা অনেকেই জাহাজের বানিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। ওরা দূতের কথা শুনল। ফ্রান্সিসকে ডাকল। ফ্রান্সিস রেলিং ধরে উঁচু হয়ে গলা চড়িয়ে বলল
–বিশেষ কোন কথা আছে?
–হ্যাঁ। আমাকে জাহাজে উঠতে দিন। দূত বলল।
-বেশ। ফ্রান্সিস বলল। তারপর বিস্কোকে বলল-লোকটি কী বলতে চায় জানি না। ওকে জাহাজে নিয়ে এসো।
বিস্কো হালের কাছে এল। দড়ি বেয়ে বেয়ে নৌকোয় নামল। সেটিকে ধরে তীরে নিয়ে এল। দূতটি দ্রুত উঠল। বলল–একটু তাড়াতাড়ি চলুন। বিস্কো একটু দ্রুতই বেয়ে দূতকে জাহাজে নিয়ে এল।
দূত জাহাজে উঠে বলল–আপনাদের ক্যাপ্টেন কে?
ফ্রান্সিস এগিয়ে এল। বলল–বলো কী ব্যাপার?
–আমাদের রাজা আমুন খুবই বিপদগ্রস্ত। আমরা ক্রীটদের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা প্রাসাদ দখল করবে। রাজা আমুন আমাকে সমুদ্রতীরে পাঠিয়েছেন কোন বিদেশী জাহাজে উনি আশ্রয় নেবেন। বিদেশী জাহাজেই ঠিক আশ্রয় পাওয়া যাবে।
ফ্রান্সিস একটু ভাবল। তারপর বলল–ভাই তোমাদের এই লড়াইয়ের সঙ্গে আমাদের তো কোন সম্পর্ক নেই। আমরা এর মধ্যে জড়াবো কেন?
–এটা মানবিকতার প্রশ্ন। স্ত্রী সন্তান সহ রাজাকে বন্দী করা হবে। বন্দীর জীবন কী কষ্টের হয় সে তো আপানদের জানা আছে। এটা একটা বিনীত আবেদন। দূত বলল।
ফ্রান্সিস হ্যারির দিকে তাকালো। বলল–হ্যারি কী করবে?
–দেখ রাজা মানমুনের জীবন সংশয়। যদি আমরা আমাদের জাহাজে আশ্রয় দিই তাহলে হয়তো বেঁচে যাবেন। হ্যারি বলল।
–কিন্তু ক্রীটদের রাজা কি চুপ করে বসে থাকবে? সব জাহাজে তল্লাশী চালাবে। রাজা মামুনকে খুঁজে বের করবে। শাঙ্কো বলল সেটা হতে পারে। আমরা জাহাজ নিয়ে দূরে গিয়ে নোঙর করবো। ক্রীটের দলনেতা এতদূর গিয়ে তল্লাশীনাও করতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ তা হতে পারে–ফ্রান্সিস বলল ঠিকআছে রাজা মামুনকে আমরা আশ্রয় দেব।
দূত বলল–আপনাকে কী বলে কৃতজ্ঞতা জানাবো। রাজা মামুনের জীবন বাঁচালেন আপনি।
তুমি বেশি দেরি করনা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাজা রানি আর পুত্রকন্যাকে নিয়ে এসো। ফ্রান্সিস বলল।
দূত দ্রুত হালের দিকে ছুটল। দড়ি বেয়ে বেয়ে নৌকোয় বেয়ে নেমে এল। বিস্কোও এল। নৌকো চালিয়ে তীরে ভেড়াল। দ্রুত তীরে নেমে রাজপ্রাসাদের দিকে ছুটল?
বিস্কো নৌকায় বসে রইল।
ওদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের চিৎকার চ্যাঁচামেচির শব্দ অনেক কমে গেছে।
কিছুক্ষণ পরে গায়ে দামি কাপড়ের চাদর জড়িয়ে রাজা ও রানি এলেন। দূত পথ দেখিয়ে নিয়ে এল।
তখন ভোর হয়ে এসেছে। সূর্য ওঠেনি। দূত রাজা রানি ও পুত্রকন্যাকে নৌকোয় তুলে দিয়ে নিজে উঠল। বিস্কো দ্রুত নৌকো বেয়ে এনে জাহাজের হালের কাছে লাগাল।
শাঙ্কো ওপর থেকে দড়ির মই ফেলে দিল। বিস্কো রাজপুত্র রাজকুমারীকে ধরে ধরে মইয়ের থাকে তুলে দিল। দুজনে মই বেয়ে বেয়ে উঠে পড়ল। তারপর রানি উঠতে লাগলেন। মইটা পাক খেল। রানি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন। বিস্কো দুহাত দিয়ে রানির কোমর ধরল। রানি টাল সামলালেন। আস্তে আস্তে উঠে পড়লেন।
ফ্রান্সিস নিজেদের কেবিন ঘর রাজা রানিদের ছেড়ে দিল। মারিয়া আগেই যা কিছু ভালো বিছানার জিনিস আছে সব পেতে দিল।
রাজা রানি বিছানায় বসলে। রাজকুমার রাজকুমারীকেশাল্কো জাহাজের সবকিছু দেখাতে নিয়ে গেল।
রাজা শুকনো মুখে বসে রইলেন। রানিও চুপ করে বসে রইলেন।
