–দেখি চেষ্টা করে কোনো খবর পাই কি না। মারিয়া বলল।
সকালের খাবার খেয়ে মারিয়া একজন পরিচারিকাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপ্রাসাদের বাইরে এলো। চলল সৈন্যাবাসের দিকে। সৈন্যাবাসের সামনে আসতে একজন প্রহরী এগিয়ে এলো। বলল
–আপনার এখানে কেন?
কাজ আছে। মারিয়া বলল।
কার সঙ্গে কাজ? প্রহরী বলল।
–সেনাপতির সঙ্গে। মারিয়া বলল।
দাঁড়ান। সেনাপতিকে কী বলবো? প্রহরী বলল।
–বলবেন যে ভাইকিং দেশের রাজকুমারী দেখা করতে এসেছেন। মারিয়া বলল। প্রহরীটি একটা ছোটো ঘরের দিকে চলল। ঘরটায় ঢুকল। একটু পরে বেরিয়ে এলো। মারিয়াদের কাছে এসে বলল–আপনি যান।
মারিয়া ঘরটায় ঢুকল। দেখল রোগা সেনাপতি একটা কালো কাঠের বাঁকা পায়ের চেয়ারে বসে আছে। সামনে একটা পাথর বাঁধানো ছোটো টেবিল। তাতে কিছু কাগজপত্র। ওপাশে একটা খালি চেয়ার। সেনাপতি ইঙ্গিতে বসতে বলল। মারিয়া চেয়ারটায় বসল। সেনাপতি বলল–কী ব্যাপার?
–ব্যাপার এমন কিছু নয়। আমার স্বামী ফ্রান্সিস–সে এখন কোথায়? মারিয়া বলল।
–গুপ্তচরের যেখানে জায়গা হয় কয়েদখানায়। সেনাপতি বলল।
–ফ্রান্সিস বা আমরা কেউ গুপ্তচর নই। যাকগে ফ্রান্সিসের সঙ্গে আমি একবার দেখা করতে চাই। মরিয়া বলল।
–কেন? সেনাপতি বলল।
–আমাদের সোনার চাকতিগুলো আমাদের জাহাজের কোথায় আছে সেটা জানতে চাইব। ফ্রান্সিস ছাড়া আর কেউ এটা জানে না। মারিয়া বলল।
–হুঁ। সেনাপতি মাথা ওঠাল নামালো। তারপর বলল–এতে আমার আপত্তি নেই। প্রহরীকে সঙ্গে দিচ্ছি। ওর সামনে আপনারা কথা বলবেন। বুঝতেই পারছেন এখন আমাদের অনেক সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কথাটা শেষ করে প্রহরীকে ডাকলেন। সব নির্দেশ বুঝিয়ে দিল।
প্রহরী আগে আগে চলল। পেছনে মারিয়া আর পরিচারিকা। মারিয়া তখন ভেবে চলেছে কীভাবে প্রহরীটাকে এড়ানো যায়। ও গলা নামিয়ে সমস্যার কথাটা পরিচারিকাকে বলল। বলল ঐ প্রহরীকে যেভাবে পারো একটু দূরে সরাবে যাতে আমরা ভালোভাবে সব কথা বলতে পারি। পরিচারিকাটি খুবই চালাক। হেসে বলল– আপনি কিছু ভাববেন না। আমিই ওকে জব্দ করবো।
তিন চারটে কয়েদঘর ছাড়িয়ে প্রহরী একটা কয়েদঘরের সামনে এসে হাজির হল। পাহারাদারের একজনকে বলল–ঐ যে বিদেশি ভূতটা-ওটা কি এখানে আছে?
–হ্যাঁ। পাহারাদার বলল।
–ডাকো তো ওকে। সৈন্যটি বলল।
লোহার গরাদের ফাঁকে মুখ রেখে পাহারাদার ডাকল–এই বিদেশি ভূত তোকে ডাকছে। ততক্ষণে দরজার কাছে ভিড় জমে গেছে। অবাক হয়ে সবাইমারিয়াকে দেখছে। মারিয়ার খুব অস্বস্তি হতে লাগল।
ফ্রান্সিস একটু পরেই লোহার দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। প্রহরীটি এগিয়ে আসতে যাবে তখনই পরিচারিকাটি প্রহরীটির প্রায় পথ আটকে দাঁড়াল। বলল–আচ্ছা আপনার দেশ কোথায় বলুন তো?
-কেন বলুন তো? প্রহরী বলল।
–মানে আমার মনে হচ্ছে আপনাকে আপনার গ্রামে দেখেছি। পরিচারিকাটি বলল।
–ও। আমাদের বাড়ি মার্সিয়ার হিন্তাল গ্রামে
পরিচারিকাটি হেসে উঠে হাততালি দিল। প্রহরীটিও হেসে উঠল।
মারিয়া একনজর ব্যাপারটা দেখে নিল। তারপর নিম্নস্বরে বলল–উত্তরদিকেতলেদো নামে এক উপজাতি বাস করে। তারা যুদ্ধে নিপুণ। তেমনি সাহসী। তারা রাজা রিকার্ডোকে ভালোবাসে ভক্তিও করে। রাজা রিকার্ডো এদের এনে যুদ্ধে লাগাতে পারেন নি। যুদ্ধে হেরে যান তিনি।
–ও। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল।
–এখন রাজা রিকার্ডো বললেন–তোমার কাছে এসে একথা বলতে রাজা চাইছেন। যদি তুমি কোনোভাবে তলদো উপজাতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো আর ওদের এখানে আনতে পারো তাহলে এখানে আবার লড়াই হবে। রাজা ফার্নান্দোর সৈন্যরা হেরে যাবে।
ফ্রান্সিস একটুক্ষণ চুপ করে রইল। ভাবল। বলল–এটা এমন কিছু কঠিন কাজ নয়। কিন্তু তার আগে তো এই কয়েদখানা থেকে মুক্তি চাই।
–হ্যাঁ–তোমাকে এখান থেকে পালাতে হবে। মারিয়া বলল।
–আগে সেই চেষ্টাটা করি। তুমি রাজাকে বলো গে আমি এখান থেকে পালাবার উপায়টা ভাবছি। যদি শেষ পর্যন্ত পালাতে পারি আমি তলেদোদের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। আবার লড়াই হবে। ফ্রান্সিস বলল।
তখনই প্রাসাদের প্রহরী মারিয়ার কাছে এলো। বলল–আপনার কথা হয়েছে?
–হ্যাঁ–মারিয়া বলল।
–তাহলে এবার আপনাকে ফিরে যেতে হবে। প্রহরী বলল।
–ঠিক আছে। চলো। মারিয়া বলল।
মারিয়া আর কোনো কথা ফ্রান্সিসকে বলল না। পরিচারিকাটি এলো। মারিয়া ওর সঙ্গে প্রাসাদে ফিরে এলো। রানিমাকে সব কথা বলল। রানিমা যেন একটু আশার আলো দেখলেন।
সন্ধেবেলা রানি রাজার শয়নকক্ষে এলেন। ফ্রান্সিসের সব কথা বললেন। রাজা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল–যুবকটি বলশালী। সাহসী। ও যদি ওর বন্ধুদের নিয়ে আমার হয়ে লড়াইয়ে নামে তবে ফার্নন্দোর সৈন্যরা হার স্বীকার করতে বাধ্য। রাজা বললেন।
–এখন তুমি একটা কাজ করো। ফার্নান্দোর সেনাপতিকে অনুরোধ করো উনি যেন ফ্রান্সিসকে মুক্তি দেন। রানি বললেন।
–অসম্ভব। আমি রাজা। রাজা হয়ে আমি একজন সেনাপতিকে অনুরোধ করতে পারি না। রাজা বললেন।
–তাহলে ফ্রান্সিসকে কয়েদঘর থেকে পালাতে হয়। কিন্তু সেটা খুবই কঠিন। রানি বললেন।
দিন কয়েক থাক। দেখা যাক ফ্রান্সিস পালাতে পারে কিনা। রাজা বললেন।
–হ্যাঁ–এখন আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া অন্যকিছু করণীয় নেই। রানি বললেন।
