–না না। এখন রাজধানী পালমায় যাবো।
আলিমুদাইনা রাজপ্রাসাদে রামন লালের প্রথম পাণ্ডুলিপি খুঁজে বের করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ চলুন। সালভা বলল।
–কিন্তু তুমি তো এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নও। মারিয়া বলল।
–ওষুধ নিয়ে যাবো লাগাবো। আমি যেতে পারবো। সালভা বলল। ফ্রান্সিস বলল–এবার বলো তো রাজধানী পালমাতে আমরা কোন্ পথ দিয়ে যাবো?
–একটা তো রাস্তা, মানে বড়ো রাস্তা। পালমা নোভার ঐ দুর্গের পাশ দিয়েই রাস্তাটা এসে এখান থেকে একটু দূর দিয়ে সোজা রাজধানী পালমাতে চলে গেছে। সালভা বলল। ফ্রান্সিস একটু চুপ করে থেকে বলল
–কিন্তু আল আমিরির মূর সৈন্যরা নিশ্চয়ই রাস্তাটা পাহারা দিচ্ছে যাতে কেউ রাজধানীতে যেতে না পারে।
হ্যাঁ তা বটে। ঠিক আছে আমি যাচ্ছি গোপনে খোঁজ-খবর করে আসছি। সালভা বলল। তারপর চলে গেল।
দুপুরের আগেই সালভা ফিরে এলো। ও তখন বেশ হাঁপাচ্ছে। বলল-দুর্গের পর থেকেই অনেকদূর রাস্তার ধারে ধারে আল আমিরির মূর সৈন্যরা ঘাঁটি গেড়েছে। ফ্রান্সিস বলল–পালমার দিকে শেষ ঘাঁটিটা কোথায়?
–কিছু দূরে একটা কাঠের সাঁকোর পাশে। সালভা বলল।
–তাহলে ঐ একটা ঘাঁটি পার হতে পারলেই নিশ্চিন্ত। ফ্রান্সিস বলল। সালভা চলে গেল। মারিয়া বলল কী করে সাঁকোটা পার হবে?
–তাই ভাবছি। ফ্রান্সিস ছোটো ঘরটার মেঝেয় পায়চারি করতে করতে বলল। ফ্রান্সিস ভেবে চলেছে। হঠাৎ ও দাঁড়িয়ে পড়ল। শাঙ্কো বলে উঠল কী হল? ফ্রান্সিস বলল–সব ছক কষা হয়ে গেছে।
–শিগগির সালভাকে ডাকো। সালভাকে ডাকতে হল না? ও তখনই ডুমুরের ঝোল আর ক’টা গোল রুটি নিয়ে এলো কাঠের থালায় করে। সবাই খেতে লাগল। ফ্রান্সিস বলল
–সালভা–এখানে তো চাষবাস হয়?
–হ্যাঁ হা-বেশ কিছু ক্ষেতখামার আছে এখানে। সালভা বলল।
–কী কী বেশি চাষ হয়? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
ডুমুর বাদাম খুবানি এসব। সালভা বলল।
–ঐসব চাষিরা কোথায় বিক্রি করে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–এখান থেকে পালমা যাওয়ার রাস্তার ধারে কোস্তা বন্দর থেকেই এসব মজোরকা আর্মিনিয়া চালান যায়। সালভা বলল।
–এসব ফসলটসল কী করে কোস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়? ফ্রান্সিস বলল।
–খচ্চরের টানা গাড়িতে করে। সালভা বলল।
–বেশ বর্ধিষ্ণু চাষি–খচ্চর টানা গাড়িটাড়ি আছে।
মালপত্র চালান দেয়–তোমার চেনা এমন কেউ আছে এখানে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ, হ্যাঁ। সালভা বলল।
–চলো–তার সঙ্গে আমি কথা বলবো। ফ্রান্সিস বলল।
খাওয়া সেরে চলল দু’জনে। একটা বাড়ির সামনে সালভা ফ্রান্সিসকে নিয়ে এলো। বাড়িটার পাশেই বেশ লম্বা একটা ঘর। সালভা বলল–এটা গুদোম ঘর, মালিক চাষি পাঁচ-ছ’টা খচ্চরকে দানাপানি খাওয়াচ্ছিল। ওদের দিকে এগিয়ে এলো। সালভা ফ্রান্সিসকে দেখিয়ে বলল–আমার বন্ধু। একটা ব্যাপারে আপনার সাহায্য চাইছে। চাষিটি ফ্রান্সিসের দিকে তাকাল। ফ্রান্সিস বলল–আপনার মালভর্তি গাড়ি নিয়ে যাবো আমরা। (কোস্তার আড়তে সব পৌঁছে দেব। চাষিটি দাড়ি চুলকোতে চুলকোতে হেসে বলল–এতো ভালো কথা। মূর সৈন্যদের জ্বালায় কোনো মালই পাঠাতে পারছি না গুদোমে সব ভঁই হয়ে জমে আছে।
–ঠিক আছে। আমরা খেয়েদেয়ে আসছি। আপনি চারটে বস্তায় মাল ভরিয়ে রাখুন। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ তো। আমার লোকই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাবে। চাষিটি খুশি হয়ে বলল। ফ্রান্সিস বলল–কে চালিয়ে নিয়ে যাবে সেটা পরে ঠিক করছি।
ফেরার সময় ফ্রান্সিস বলল–সালভা তোমার বাবাকে নিয়ে এসো। একটু কাজ আছে।
— খাওয়া-দাওয়ার পর ফ্রান্সিসরা তৈরি হয়ে গুদোম ঘরের দিকে চলল। ফ্রান্সিস দেখল মারিয়া সেই চাষি মেয়েদের ঢোলা পোশাকটাই পরে আছে। বললকী ব্যাপার? তোমার গাউনটা কী হল?
–ওটা সালভার বোনকে দিয়ে দিয়েছি। মারিয়া হেসে বলল। ফ্রান্সিস অর কিছু বলল না।
ফ্রান্সিস গুদোম ঘরে ঢুকে দেখল–চারটে ডুমুর বাদাম খুবানি ভর্তি বড়ো বস্তা রাখা হয়েছে। সালভার বাবাই এসব বস্তায় নোক এনে ভরিয়েছে। ফ্রান্সিস ঐ লোকগুলোকে চলে যেতে বলল। লোকগুলো চলে গেল। এবার ফ্রান্সস সালভার বাবাকে বলল দেখুন–আমরা চারজন চারটে বস্তার মধ্যে লুকোব। আমরা বস্তায় ঢোকার পর আপনি ডুমুর বাদাম এসব ঢেলে বস্তার মুখটা বেঁধে দেবেন। সালভার বাবা তো অবাক। ফ্রান্সিস বুঝিয়ে বলল–মুর সৈন্যদের শেষ ঘাঁটিটা আমাদের এভাবেই পার হতে হবে। ওরা বুঝতেই পারবে না। সালভার বাবা মাথা ঝাঁকাল। তারপর কাজে হাত লাগাল। প্রথমে একটা বস্তা থেকে ডুমুর বাদাম বের করল। ফ্রান্সিসের নির্দেশে মারিয়া বস্তাটায় বসে পড়ল। ফ্রান্সিস এগিয়ে এলো। বলল–চোখ বন্ধ করো। মারিয়া মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করল। ফ্রান্সিস এবার ডুমুর বাদাম এসব ঢালল। বস্তা ভরে গেল।
একইভাবে শাঙ্কো আর সালভাও বস্তাবন্দি হল। এবার ফ্রান্সিস সালভার বাবাকে বলল–একটি অল্প বয়েসের ছেলেকে ডেকে আনুন যে খচ্চরের গাড়ি ভালো চালাতে পারে। কিন্তু সাবধান ছেলেটিকে আমাদের কথা বলবেন না। বলবেন এইসব মাল তোকে কোস্তের আড়তে পৌঁছে দিতে হবে। ছেলেটা এলে কাজের লোকগুলো ডেকে গাড়িটার একপাশে প্রথমে আমাকে তার ওপরে মারিয়াকে রাখবেন। সালভার পিঠের ঘা এখনও সম্পূর্ণ সারেনি। আর একপাশেশাঙ্কোর ওপর সালভাকে রাখবেন। বুঝেছেন সমস্ত ব্যাপারটা? সালভার বাবা মাথা নেড়ে হাসল। এবার ফ্রান্সিস বস্তায় ঢুকল। সালভার বাবা ওকে বস্তাবন্দি করল।
