বাইরে এল সবাই। হ্যারি বলল-ফ্রান্সিস রাজপুত্র পিসকোজ উনকা সৈন্যদের নিয়ে রাজবাড়ি আক্রমণ করেছে। জানি না এখনো ওখানে লড়াই চলছে কি না।
চলো আমরা রাজবাড়ি যাই। আমরা রাজপুত্র পিসকোজের হয়ে লড়াই করবো। লুপাকা শাঙ্কোকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। একটি তরুণ উনকাকে রাজার আদেশে আমি করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে দেখছি। মেস্তিজোর কাছে শুনেছি রাজা পাকা হত্যা, অত্যাচার, লুণ্ঠন এখানে কীভাবে চালিয়েছিল। কাজেই রাজা লুপাকাকে এসবের শাস্তি পেতে হবে। চলো-প্রয়োজনে আমরা লড়াই করবো। ফ্রান্সিস বন্ধুদের তাকিয়ে এসব কথা বললো। ভাইকিং একসঙ্গে চিৎকার করে উঠলো–ও-হো-হো। সবাই রাজবাড়ির দিকে চলল।
রাজবাড়ির কাছে পৌঁছে দেখল উনকা সৈন্যরা রাজবাড়ি ঘিরে ফেলেছে। সবাই বশ হাতে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে।
ফ্রান্সিস মেস্তিজো বলল-তুমি রাজবাড়ির মধ্যে যাও কী ঘটেছে বুঝতে পারছি না। সব জেনে এস। আমরা এখানে অপেক্ষা করছি।
মেস্তিজো দ্রুতপায়ে রাজবাড়িতে ঢুকে পড়ল। সৈন্যরা পথ ছেড়ে দিল। ফ্রান্সিসরা খোলা তরোয়াল হাতে অপেক্ষা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পরে মেস্তিজো ছুটতে ছুটতে এল। চিৎকার করে বলতে লাগল-ফ্রান্সিস আমাদের জয় হয়েছে। রাজা লুপাকা ও রানী রাজবাড়ির অন্দরবাড়ির বন্দী। রাজপুত্র পিসকোজ তোমাদের রাজবাড়ির ভেতরে আসতে অনুরোধ করেছে। ফ্রান্সিস ডাকল-হ্যারি?
-বলল।
–কী করবে এখন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল। রাজপুত্র যেতে অনুরোধ করেছে। চলো। হ্যারি বলল।
-বেশ।
মেস্তিজো ওদের পথ দেখিয়ে রাজসভায় নিয়ে এল। ফ্রান্সিসরা দেখল সিংহাসন শূন্য। একটা সাধারণ পাথরের আসনে রাজপুত্র পিসকোজ বসে আছে। ফ্রান্সিসরা কাছে আসতে পিসকোজ ফ্রান্সিসের দিকে এগিয়ে এল। হেসে ফ্রান্সিসের ডান হাত জড়িয়ে ধরল। আমার বিপদে আপনারা সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। আমার পক্ষে যথেষ্ট। লড়াই শেষ হয়নি। পুজোর প্রাঙ্গনে-নগরে নানা জায়গায় চিমু সৈন্যরা ছড়িয়ে আছে। আমরা রাজবাড়ি দখল করেছি। রাজারানী। বন্দী এই সব সংবাদ ওরা ওখানে এখনো পায়নি। আমি আশঙ্কা করছি ওরা আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সংবাদ পাবে। তখন নিশ্চই রাজারানীকে মুক্ত করতে এখানে আসবে।
তখন লড়াই হবেই রাজপুত্রের কথা শেষ হতে না হতেই উনকা সৈন্যদের দলপতি ছুটে রাজপুত্রের সামনে এসে দাঁড়াল। মাথা নুইয়ে সম্মান জানিয়ে গড় গড় করে কী বলে গেল। রাজপুত্র মাথা নিচু করে একটু ভাবল। তারপর দলপতিকে কী যেন আদেশ দিল। মেস্তিজো ফ্রান্সিসকে বলল–ফ্রান্সিস রাজপুত্র যা আশঙ্কা করেছিল তাই হয়েছে। পূজা প্রাঙ্গনে রাজবাড়ি দখল ও রাজারানী বন্দী এ সংবাদ পৌঁছে গেছে। চিমু সৈন্যরা সবাই সেখানে জড়ো হয়েছে ওরা রাজবাড়ির দিকে আসছে। লড়াই হবেই। ওদিকে ফ্রান্সিসরা যখনই মুক্ত হল মেস্তিজো তখনই দুজন উনকা সৈন্যকে পাঠিয়েছিল তিতিকাবনে। ওরা দুটো পাহাড়ী ঘোড়ায় চড়ে গিয়েছিল। তিতিকায় বনের আস্তানায় পৌঁছল ওরা। স্ত্রীলোকদের যে ঘরে মারিয়া থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল সেখানে গেল ওরা। মারিয়াকে উনকা ভাষায় ফ্রান্সিসদের মুক্তিলাভের কথা বলল। কিন্তু মারিয়া ওদের উনকা ভাষা কিছুই বুঝল না। স্পেনীয় ভাষা বলতে পারে এমন কেউ সেখানে নেই। তবে সৈন্য দুজন হেসে কথাগুলো বলেছিল। তাতে মারিয়া বুঝল যে সংবাদ শুভ। সৈন্য দুজনের নির্দেশমত মারিয়া একটা ঘোড়ায় উঠল। অন্য ঘোড়াটায় একজন সৈন্য উঠল। সে পথ দেখিয়ে মারিয়াকে মেস্তিজোর নির্দেশমত রাজবাড়িতে নিয়ে এল।
মারিয়া রাজবাড়ির সামনে এসে দেখল চিকামার অধিবাসীদের ভীষণ ভিড় রাজবাড়ির সামনে। সবাই আনন্দে চিৎকার হৈ হল্লা করছে। ঘোড়ায়চড়া মারিয়াকে দেখে ওরা যাওয়ার পথ করে দিল। রাজবাড়ির সদর দেউড়িতে মারিয়া ঘোড়া থেকে নামল। সঙ্গী সৈন্যটি মারিয়াকে রাজসভাগৃহে নিয়ে এল। ফ্রান্সিসের বন্ধুরা মারিয়াকে দেখে চিৎকার করে উঠল। ও-হো-হো। ফ্রান্সিস ফিরে তাকাল। মারিয়া ফ্রান্সিসকে দেখল। হাসতে হাসতে ছুটে এসে ফ্রান্সিসের বাঁ হাতটা জড়িয়ে ধরল। সুস্থ মারিয়াকে দেখে ফ্রান্সিসও খুশি। বলল-মারিয়া-লড়াই কিন্তু এখনও শেষ হয় নি। চিমু সৈন্যরা রাজবাড়ি আক্রমণ করতে আসছে। তুমি অন্তঃপুরে যাও। মারিয়া মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-না-অমি তোমাদের সঙ্গেই থাকবো।
–বেশ তবে আমার বন্ধুদের পাশে থাকবে। অন্য কোথাও যাবে না?
–আচ্ছা মারিয়া বলল।
ওরা কথা বলছে তখনই বাইরে থেকে হৈ হল্লা শোনা গেল। পিসকোজ গলা চড়িয়ে বলে উঠল মেস্তিজো নিশ্চয়ই চিমু সৈন্যরা এসে গেছে। আমাদের সৈন্যরা তৈরি তো?
হ্যাঁ-আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। মেস্তিজো বলল-মেস্তিজো রাজপুত্রের সঙ্গে ওর যা কথা হল তা ফ্রান্সিসকে বলল। ফ্রান্সিস এবার রাজপুত্রকে বলল যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে আমি কয়েকটা কথা বলবো।
–বেশ বলুন?
–দেখুন চিমু সৈন্যরা এসে গেছে। যে কোন মুহূর্তে ওরা আক্রমণ করতে পারে। যাতে আরো মানুষেব মৃত্যু না হয়, রক্তপাত না হয় তার জন্য আমি একবার চেষ্টা করতে চাই। আশা করি আপনি আমাকে সেই সুযোগ দেবেন। রাজপুত্র ভাবল। বলল–কী ভাবে?
–রাজা লুপাকা ও রানীকে তাহলে মুক্তি দিতে হবে। ফ্রান্সিস বলল?
