-হ্যাঁ। মেস্তিজো বলল-তবে বলতে পারো রাজা কোলার কৃতিত্বই বেশি। সমস্ত পরিকল্পনাটাই রাজা কোলার। উনিই পাথর কেটেছেন কুঁদেছেন আমরা শুধু পাথর মসৃণ করেছি।
দেবরক্ষীর কপালের কাছে এসেফ্রান্সিস বলল–ললাটের লিখন মানে কপালের লেখা। এবার মূর্তির কপালের সেই লেখাগুলো দেখাল। বলো তো ওগুলো কী লেখা? মেস্তিজো লেখাগুলো দেখল। লেখাগুলো দেখতে এমনি–
মেস্তিজো মনোযোগ দিয়ে লেখাগুলো দেখে বলল-এগুলো কোনো লেখা নয়। পর পর কয়েকটা উনকা ভাযায় অঙ্কের সংখ্যা কুঁদে লেখা। আমার মনে হয় রাজা কোলা এগুলো পরে কুঁদে লিখেছিলেন।
–বলো তো সংখ্যাগুলো কী?ফ্রান্সিস বলল।
মেস্তিজো পড়ে পড়ে বলল-০ ৪ ৮ ১২ ১৬। ফ্রান্সিস আশা করেছিল লুকানো স্বর্ণমূতির সম্বন্ধে কোনো সাঙ্কেতিক লেখা। এখন বুঝল এগুলো অঙ্ক। একটু হতাশই হলো। তবু অঙ্কগুলো মনে মনে মুখস্থ করল। বলল–আর কিছু লেখা নেই?
–না। কিন্তু এই অঙ্কগুলো দিয়ে তোমার কী হবে? মেস্তিজো বলল।
–হবে হবে। তবে অনেক ভাবতে হবে এই অঙ্কগুলো নিয়ে। তবেই রহস্য ভেদ করা যাবে। রাজা কোলা যখন নিজে এই অঙ্কগুলো কুঁদে লিখেছিলেন তখন নিশ্চয়ই এই অঙ্কগুলোর গুরুত্ব আছে। তাছাড়া ললাটের লিখনকথাটা ভুলে যেও না। ফ্রান্সিস বলল।
এবার ফ্রান্সিস নামতে লাগল। ও তখনও অংকের সংখ্যাগুলো নিয়ে ভেবে চলেছে। সঙ্গে মেস্তিজোও নামতে লাগল। মূর্তিটার মুখের কাছে এসে মুখটা দেখতে লাগল। মোটা ঠোঁট মূর্তিটার। প্রায় চৌকোনো। দাঁতগুলো পর পর সাজানো। ফ্রান্সিস কিছুটা অন্যমনস্ক ভঙ্গীতেই দাঁতগুলো দেখতে লাগল। হঠাৎ ওর মনে হলো-অঙ্কের ব্যাপার যখন, তখন দাঁতগুলো সংখ্যায় কটা দেখতে হয়। ও গুনলো। মোট ১৬টা দাঁত। এবার মুর্তিটার কপালের দিকে তাকাল। ঐ তো ওখানে শেষ সংখ্যা-১৬। আশ্চর্য! তাহলে তো সংখ্যাগুলোর সঙ্গে ষোলোটা দাঁতের একটা সম্পর্ক রয়েছে। কী সেই সম্পর্ক?
মই বেয়ে দুজনে নেমে এল। মারিয়া বিস্কো শাঙ্কো এগিয়ে এল। মারিয়া বলল কী ব্যাপার ফ্রান্সিস? তোমাকে বেশ উত্তেজিত মনে হচ্ছে।
একটু হাঁপাতে হাঁপাতে ফ্রান্সিস বলল-হ্যাঁ মারিয়া স্বর্ণমূর্তির রহস্যের সমাধান প্রায় হাতের মুঠোয়। তবে ভাবনাচিন্তা করতে হবে।
বিস্কো, শাঙ্কো জানে ফ্রান্সিস ওসব ব্যাপারে কখনও বাজে কথা বলে না। ও নিশ্চয়ই মূর্তি উদ্ধারের হদিস পেয়েছে।
ওদের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না। মারিয়া এই ব্যাপারে ফ্রান্সিসকে কোনো প্রশ্ন করল না। সময় হলে ফ্রান্সিস সব বলবে। ফ্রান্সিসরা নিজেদের আস্তানায় ফিরে এল। মারিয়াকে নিয়ে রক্ষী দুজন রাজবাড়ি চলে গেল।
ফ্রান্সিস ঘরে ঢুকে কিছুক্ষণ ঘাসের বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে রইল। মেস্তিজোর মনে তখনও সংশয়। ফ্রান্সিস কি পারবে? দেবরক্ষী মূর্তির কপালে কয়েকটা অঙ্কের সংখ্যা লেখা আছে। তা থেকে কি স্বর্ণমুর্তি কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে তা বের করা যাবে?
ফ্রান্সিস উঠে বসল। বলল-মেস্তিজো তুমি দুটো কাজ কর। লেখবার জন্যে একটা সাদা চামড়া আর কালি কলম নিয়ে এসো। আর তামার হাতুড়ি ছেনি কোথায় আছে?
–ও দুটোও নিয়ে এসো। ফ্রান্সিস বলল।
মেস্তিজো চলে গেল। ঘন্টাখানেকের মধ্যে ফিরে এল। হাতে সাদা চামড়া আর পালকের কলম দোয়াতদান। হাতুড়ি ছেনিও সঙ্গে এনেছে।
ফ্রান্সিস নিল সে সব। মেস্তিজো বিস্কো শাঙ্কো সাগ্রহে এগিয়ে এল। দেখা যাক ফ্রান্সিস কী করে এসব নিয়ে। ফ্রান্সিস ভেড়ার চামড়ায় কালি কলমে লিখল–
০ ৪ ৮ ১২ ১৬
সংখ্যাগুলো লিখে ও ভাবতে লাগল এবং সংখ্যাগুলো নিশ্চয়ই কোনো একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করছে। সে সংখ্যাটা কত? ফ্রান্সিস ভাবতে লাগল। এই সংখ্যাগুলো দিয়ে কী হবে তা ওরা বুঝতেই পারল না। সংখ্যগুলো মুখে আওড়াতে আওড়াতে ফ্রান্সিস লক্ষ্য করল সব সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে চার অঙ্কের। তাহলে ৪ই সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো ইঙ্গিত করছে।
ফ্রান্সিস খুশির হাসি হাসল। উৎসাহের কারণ কী? ফ্রান্সিস বলল-মেস্তিজো চলো দেবরক্ষীর মূর্তিতে উঠবো।
–কেন? মেস্তিজো বলল।
–তুমি হাতুড়ি ছেনি দিয়ে দেবরক্ষীর চার নম্বর দাঁতটা তুলবে। ফ্রান্সিস বলল।
মেস্তিজো অবাক। বলল, তোমার কি মাথা খারাপ হলো?
–সেটা পরে বুঝবে? চলো। ফ্রান্সিস বলল।
সবাই দেবরক্ষীর মূর্তির সামনে এ। তখন রাত হয়েছে। বেদ প্রাঙ্গণ জনশূন্য। বেদীর সামনে প্রাঙ্গনের ধারে মশা জ্বলছে। চারপাশ মোটামুটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ফ্রান্সিস মইটার সামনে এল। মেস্তিজোকে ইঙ্গিতে মই বেয়ে উঠতে বলল। দুজনে মই বেয়ে উঠতে লাগল। মেস্তিজোর হাতে হাতুড়ি ছেনি। বিস্কো শাঙ্কে। নিচে দাঁড়িয়ে রইল।
মই বেয়ে উঠতে উঠতে দুজনে মুর্তিটার মুখের কাছে এল! ফ্রান্সিস বলল মূর্তির পথরটা কি খুব শক্ত?
–না-না। এটা বোসেটা পাথর কেটে তৈরি। বোসেট। পাথর সাধারণ, থরের চেয়ে নরম।
–তাহলে চার সংখ্যায় দাঁতটা ছেনি দিয়ে কেটে তোলো। ফ্রান্সিস বলল। মেস্তিজো হাতুড়ি ছেনি হাতে চার নম্বর দাঁতটার কাছে মইয়ে পা রেখে দাঁড়াল। এই মূর্তি তৈরির সময় ও পাথর কাটার কাজ করেছে। ওর অভ্যেস আছে এই ভাস্করের কাজে। ও চার সংখ্যার তটায় হাতুড়ি ছেনি চালাতে চালাতে হেসে বলল-তোমার ধারণা এই দাঁতের খোঁদলে স্বর্ণমূর্তি আছে?
