কীভাবে সাহায্য পেলে ওদের সাফল্য সুনিশ্চিত।
কীভাবে সাহায্য করবে সেটা সেটা বলো৷ ফ্রান্সিস বলল।
এই উনকা যোদ্ধাদের এই তিতিকাকা বনে আশ্রয় নিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে। সব উনকা যুবকদের একত্রিত করছে। শক্তি সংগ্রহ করে ওরা কিছুদিন পরেই রাজা লুপাকার সৈন্যবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। যে করেই হোক, ওরা উনকাদের রাজ্য থেকে সৈন্যসহ রাজা লুপাকাকে তাড়াবে। এটাই ওদের প্রতিজ্ঞা। দেশ ও জাতিকে যে করেই হোক শত্রুর হাত থেকে বাঁচাবে। সেইজন্য ওরা তোমাদের সাহায্য চায়। মেস্তিজো বলল।
ফ্রান্সিস একটুক্ষণ ভাবল ব্যাপারটা। হ্যারি থাকলে ভালো হতো। ওর পরামর্শ নেওয়া যেত। ফ্রান্সিসকে একাই ভাবতে হলো সব! ভেবে নিয়ে ও বলল–তার মানে ওরা চাইছে আমরা যেন ওদের দলে যোগ দিই, রাজা লুপাকার সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নামি।
–হ্যাঁ, তোমাদের সাহায্যে উনকাদের রাজ্য জয় করতে পারলে ওরা তোমাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। মেস্তিজো বলল।
ফ্রান্সিস বলল–কিন্তু মেস্তিজো–রাজা লুপাকা তো কখনও আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। অবশ্য গুপ্ত স্বর্ণমূর্তি উদ্ধারের পর রাজা লুপাকা অন্য চেহারা নিতে পারে। এমনকি আমাদের হত্যাও করতে পারে। আমি সেটা ভালো করেই জানি। রাজা
পাকা অসৎ ও লোভী। তবুএখনও তোও আমাদের বিপদে ফেলেনি। কাজেই আমরা কেন রাজা লুপাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে যাবো। এসব তোমাদের ব্যাপার। তোমরা মিটিয়ে নাও।
–তাহলে তোমরা এদের সাহায্য করবেনা? মেস্তিজো বেশ মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বলল।
–না, এই অবস্থায় পারবো না। তাছাড়া ভেবে দেখ, মারিয়া এখন রাজা লুপাকার হাতের মুঠোয়। মারিয়া বন্দিনী। আমরা যুদ্ধে উনকাদের সাহায্য করছি, এ সংবাদ রাজা লুপাকা পাবেই। তখন মারিয়ার জীবন বিপন্ন হতে পারে। সবদিক ভেবে বলছি এখন, আমাদের এসব ব্যাপারে না জড়ানোই ভালো। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে বলল।
মেস্তিজো ঘাসের বিছানায় শুয়ে পড়তে পড়তে বলল–আজ হোক, কাল হোক–লড়াই হবেই।
মেস্তিজোর এই দৃঢ় সংকল্পের কথা শুনে খুশি হল। যে কোন কাজে দৃঢ় মনোবল বজায় রাখা বিরুদ্ধ শক্তির সঙ্গে লড়াই করে জেতার মনোভাব এটা ফ্রান্সিস খুবই পছন্দ করে, ঘাসের বিছানায় শুতে শুতে ফ্রান্সিস বলল-মেস্তিজো তোমাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে কিন্তু ভাবছি এত অল্প সৈন্য নিয়ে চিমু সেনাবাহিনীর সঙ্গে তোমরা কতদিন লড়াই চালাতে পারবে? মেস্তিজো বলল-ফ্রান্সিস তোমাকে একটা কথা এখনও জানাইনি। কথাটা খুবই গোপনীয়। তোমাকে বিশ্বাস করি বলেই বলছি–রাজা কোলার যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গেলেন। তাঁর একমাত্র পুত্র পিসকোজকে যুদ্ধক্ষেত্রেই পিতার মৃত্যুসংবাদ জানানো হল। পিসকোজ বুঝল, এখন পশ্চাদপসরণ আর আত্মরক্ষা ছাড়া উপায় নেই। পরাজয় সুনিশ্চিত কয়েকজন বিশ্বস্ত সহরক্ষীকে নিয়ে পিসকোজ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালালো চাঙিনের দিকে। বেশ কিছুদিন রাজপুত্রের কোন সংবাদ কেউ জানতো না। মাত্র মাসখানেক আগে রাজপুত্র পিসকোজ এই তিতিকাকা আস্তানায় খবর পাঠিয়েছে সে সুস্থ আছে। চাঙিনের জঙ্গলে আত্নগোপন করে ঐ পাহাড়ি এলাকার উপজাতিদের একত্র করছে। সেখানে অস্ত্র তৈরি করে উপজাতিদের সুশিক্ষিত সৈন্য হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানেও সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজপুত্র পিসকোজ এখানে সংবাদ পাঠিয়েছে সে যখন রাজা লুপাকার সৈন্যবাহিনীকে আক্রমণ করতে বলবে তখনই আক্রমণ শুরু করতে হবে। তার আগে সবাইকে আত্মগোপন করে থাকতে হবে তিতিকাকার জঙ্গলে, চাঙিনের জঙ্গলে। রাজা লুপাকার গুপ্তচররা যেন তাদের হদিশও না পায়। একটু থেমে মেস্তিজো বলল-বুঝলে ফ্রান্সিস চিকামার মানুষেরা পিসকোজকেও যথেষ্ট শ্রদ্ধা ভক্তি করে নিরুদ্দিষ্ট রাজপুত্র যদি উনকা সৈন্যদের সামনে এসে আত্মপ্রকাশ করে তবে তাদের মনোবল হাজারগুণ বেড়ে যাবে। সেই শেষ লড়াইয়ে আমরা জিতবোই। রাজা লুপাকাকে এ দেশ ছেড়ে পালাতেই হবে।
–মেস্তিজো আমিও চাই-তোমরা স্বাধীনতা ফিরে পাও। ফ্রান্সিস বলল।
রাত বাড়ল। ফান্সিসরা ঘাসের বিছানায় শুয়ে পড়ল। সবাই ঘুমিয়ে পড়ল। শুধু ফ্রান্সিসের চোখে ঘুম নেই। ও তখন ভাবছে–গুপ্ত স্বর্ণমূর্তি উদ্ধার করা যাবে কি? কোনো সূত্ৰই তো পাচ্ছি না। এখানে বেশিদিন থাকাও চলবে না। দেরি দেখে হয়তো বন্ধুরা এসে হাজির হবে। আবার স্বর্ণমূর্তির সন্ধান করতে ওরা ব্যর্থ হলে লোভী রাজা লুপাকা কি চেহারা ধরে কে জানে? হয়তো ওদেরও মারিয়ার মতো বন্দী করে রাখতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতে ফ্রান্সিস ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন সকালেই ওরা চিকামায় নিজেদের আস্তানায় ফিরে এল। আসার সময় দলনেতা ফ্রান্সিসকে বেশ সুন্দর ফুল-পাতার কাজ করা একটা পঞ্চো উপহার দিল। ফ্রান্সিস খুব খুশি হলো। বারবার বলল-ধন্যবাদ। মেস্তিজো কথাটা বুঝিয়ে বলল দলনেতাকে। দলনেতা হাসল।
বিকেলে মারিয়া একা। সঙ্গে সেই দুজন চিমু পাহারাদার সৈন্য। মেস্তিজো সারা দুপুর টানা ঘুমিয়ে তখনই উঠল। আড়মুড়ি ভাঙতে ভাঙতে বলল-যাবে নাকিহুয়াকার উৎসবে?
–কোথায় হবে? বিস্কো জানতে চাইল।
–ঐ হুয়াকা দেবতার স্বর্ণমূর্তির বেদীর সামনে। নাচ গান হবে। রাজা লুপাকা ও রানী দুজনেই নাকি আসবে। রাজা সুপাকা এখন চেষ্টা করছে উনকাদের মন জয় করতে। যাবে তোমরা? ·
